কাহিনি

paap16

পাপ – পর্ব ১৬

এমন সময়ে যদি দৌড়ে পালিয়ে যাওয়া যায় তাহলে যেন সব দিক রক্ষা করা যায়। কিন্তু আমার পা দুটো যেন পাথরের মতো ভারী হয়ে গেল । দরজাটা সশব্দে খুলে গেল, রুক্ষ গলায় শৈলেন বাবু ধমকে উঠলেন, “কী হয়েছে টা কী?”

প্রায় অস্ফুটে উচ্চারণ করলাম, “মা পড়ে গিয়ে কেমন যেন করছেন। এদিকে কঙ্কাকে কোথাও দেখতে পাচ্ছি না।”

প্রত্যুত্তরে যে বিজাতীয় শব্দ গুলো তাঁর ঝাঁজালো কটু গন্ধ যুক্ত মুখ থেকে বের হয়েছিল সে গুলো আমার চেনা না হলেও বুঝেছিলাম ভদ্র সভ্য কিছু নয়। কিন্তু সেসব আমার উদ্যেশ্যে না নিজের মায়ের উদ্যেশ্যে বর্ষণ হলো কে জানে। মাথা নিচু করে ফিরে আসার সময় দেখলাম এলোমেলো করে কোন রকমে থানটা গায়ে জড়িয়ে ওঁকে প্রায় ঠেলে কঙ্কা বের হয়ে এল। ও ওই অবস্থায় শাশুড়ির ঘরে ঢুকতেই আমি আঙ্গুল তুলে বললাম, “ওঁকে ছোঁয়ার আগে চান করে এসো।”

পাপ – পর্ব ১৬ Read Post »

কাহিনি, ধারাবাহিক উপন্যাস
joyshankar

বর্ষার মেয়ে বৃষ্টি

স্কুলে যাওয়ার আগে বেঁটেখাটো শ্যামলা মেয়েটা যখন এক দৃষ্টিতে উনোনে চড়ানো ভাতের হাঁড়িটার দিকে চেয়ে থাকত, তখন গীতার খুব কষ্ট হত। চেষ্টা করত তিন মেয়েকে সকালের খাবারটা অন্তত পেটপুরে দিতে। বর্ষা সবার বড়, তাই ক্ষিদেও বেশি, গোগ্রাসে গিলত। গীতার ভাগ্যের দোষ, রতনটা কত কম বয়সে চলে গেল। গ্রামে বাস, জমিজায়গা নেই, রতন পুকুরে জাল দিয়ে তবু কিছু উপার্জন করত। নেশাভাঙ যে করত না তা নয়, তা বলে লোকটা খারাপ ছিল না। সে কথা বলতে গেলে বাগদীপাড়ায় কোন পুরুষমানুষটা নেশা করে না? আগে গীতা দু-ঘর বাবুবাড়িতে কাজ করত, এখন সংখ্যাটা বাড়াতে হয়েছে। খাটত প্রচুর, তাও অভাবের সংসার।

বর্ষার মেয়ে বৃষ্টি Read Post »

Uncategorized, কাহিনি, গল্প
fc5c229e 8198 4453 91ab 6bed19d53fce

পাপ – পর্ব ১৪

এবারে কার্তিক মাসের মাঝামাঝি দুর্গা পুজো পড়েছিল। তারপর কালী পুজো পার হয়ে প্রায় অগ্রহায়ণ মাস পড় গেল। বাতাসে ভালো রকম শীতের শিরশিরানি, সন্ধের পরে হিম পরে। গায়ে তুষের চাদর জড়াতে হয়। মেঝেতে পা ফেলতে গেলে বেশ ঠান্ডা লাগে। এদিকে রোগীর অবস্থা ক্রমেই খারাপের দিকে যাচ্ছে। এত যত্ন করা সত্বেও শরীরের নানা জায়গায় ঘা হয়ে রস গড়াচ্ছে। পচা গন্ধে ও ঘরে টেঁকা দায়। দরজা খুললেই বিকট দুর্গন্ধ ঝাঁপিয়ে পড়ে। মানদা পর্যন্ত ঝাঁট দিতে বা মুছতে ও ঘরে ঢুকতে চায় না। বাধ্য হয়ে কঙ্কাকেই সে কাজ গুলো করতে হয়। খুব জোরে ডাকাডাকি করলে রোগী চোখ কখনো কখনো খুলছে বটে কিন্তু সে ঘোলাটে চোখের কোন দৃষ্টি নেই, ভাষা নেই। তাঁর চেতনা কোন অতলে তলিয়ে গেছে কে জানে। কানের কাছে জোরে শব্দ হলে হয়ত অভ্যেস বসত চোখ খুলে যায়। কঙ্কা আর আমি প্রাণপনে শাশুড়ির বিছানা পরিষ্কার করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

পাপ – পর্ব ১৪ Read Post »

ধারাবাহিক উপন্যাস
shobha sarkar

পাপ – পর্ব ১৩

জানলা কিভাবে যে খুলে গেছে কে জানে, পর্দাও সম্পূর্ণ গোটানো। খোলা জানলার ওপারে একটা মানুষের অবয়ব দাঁড়িয়ে আছে, জানলার লোহার শিক দুহাতে ধরে মুখ নিচু করে আমাকে দেখছে। বুকের মধ্যে ধড়াস করে উঠল! আমি গ্রামের মেয়ে আবাল্যের সংস্কারের বসে প্রথমেই ভুত প্রেতের কথা মনে হলো। বৃষ্টি কখন থেমে গেছে কে জানে। কিন্তু তখনও মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে, আবার মেঘ ফুটো করে চাঁদও উঠেছে। ভয়ে গলার আওয়াজ বন্ধ হয়ে গেলেও বিদ্যুৎ আর চাঁদের আলোয় অবয়বটাকে খুব ভাল ভাবেই চিনতে পারলাম। বিছানার ওপরে ধড়মড় করে উঠে বসতেই সে জানলা ছেড়ে দৌড়ে পালিয়ে গেল। চোরের মতো এলেও সে সাধারণ চোর নয়, তার চেয়ে অনেক বড় অপরাধী।

পাপ – পর্ব ১৩ Read Post »

কাহিনি, ধারাবাহিক উপন্যাস
intimate conversation

পাপ- পর্ব ১২

সেই ছোট বেলায় পিসি ঠাকমা বলতেন বেধবা মানুষ যতবার খোঁপা করার জন্য চুলে পাক দেবে তত যুগ তার মৃত স্বামী আর শ্বশুর কুলের সবাইকে নরক বাস করতে হয়।

পাপ- পর্ব ১২ Read Post »

কাহিনি, ধারাবাহিক উপন্যাস
bari theke ghar

বাড়ি থেকে ঘর

থতমত খেয়ে সে বলল—কেন পারব না? নিশ্চয়ই পারব। কিন্তু ওষুধের দোকান করতে গেলে কী কী সব লাগে বলে শুনেছি যে!

এবারে নীলাদ্রি ওকে বলল—সে সব ব্যবস্থা হয়ে যাবে। তুমি শুধু দোকান চালাবে কি না, বলো! ফলের দোকানটা না হয় কাউকে লিজ দিয়ে দেবে।

—ওটা নিয়ে চিন্তা করি না। তোমাদের কাছাকাছি থাকতে পারব, এটাই তো অনেক।

বাড়ি থেকে ঘর Read Post »

কাহিনি, ধারাবাহিক উপন্যাস
Scroll to Top