কাহিনি

paap 17

পাপ – পর্ব ১৭

বেলা বাড়তে না বাড়তে বাড়িতে পাড়ার লোক ভেঙে পড়লো। মৃতার শরীর একটা শীতল পাটিতে করে তুলসী তলায় নামানো হয়েছে, মাথার কাছে মাটি সুদ্ধু তুলসী চারা। যত্ন করে চন্দনের ফোঁটা দিয়ে কপাল সাজিয়ে দিয়েছে কেউ। চোখের ওপর তুলসী পাতা। পাড়ার ছেলেরা বাঁশ কেটে চালা তৈরী করছে। শব দেহের দুর্গন্ধ চাপা দেয়ার জন্য অগরু ছড়ানো হচ্ছে, গোছা গোছা ধুপকাঠি ধরানো হয়েছে। 
বাড়ির বড় আর মেজ ছেলেরা খবর পেয়ে তড়িঘড়ি নিজের নিজের পরিবার নিয়ে চলে এসেছে। দেহ ঘর থেকে বের করার আগে মৃতাকে গঙ্গা জল খাওয়ানোর হিড়িক পড়ে গেল । শেষ সময় কে ছিল, মুখে জল দেওয়া হয়েছিল কিনা। অবস্থা এত খারাপ তাও কেন খবর দেওয়া হয় নি … এসব দোষারোপ চলতেই থাকলো। পাড়ার মহিলারাও তাতে যোগ দিল । আমি ওখান থেকে সরে এসে নিজের ঘরে দোর বন্ধ করে মেঝেতে বসলাম । উঠোনে সমস্বরে চিৎকার করে কান্নাকাটি শুরু হয়েছে, রোদনকারীনিদের কারও গলা আমার পরিচিত নয়।

পাপ – পর্ব ১৭ Read Post »

কাহিনি, ধারাবাহিক উপন্যাস
poramatir gram 3rd

পোড়ামাটির গ্রাম – তৃতীয় পর্ব

নিজের স্বপ্নকে তাড়া করে যে এভাবে ঘর ছেড়ে বেরোতে পারবে কোনোদিন, সে কথা মৃন্ময় বুঝতেই পারেনি প্রথমে। আসলে এ কথা বোঝা যায় না। কথায় বলে, যখন ডাক আসে, তখন একমাত্র বোঝা যায় সে ডাক কেমন। সে ডাক নাকি মনের ভিতরে এমন এক টান দেয়, যখন তাকে আর অগ্রাহ্য করা যায় না। মৃন্ময়ের প্রতিটি স্বপ্নে সুত্রধর পাল যখন তখন আসত, আসত সেই অপরূপ সুন্দরী শালভঞ্জিকা। কিন্তু শালভঞ্জিকা কোনও কথা বলত না। শুধু তাকিয়ে থাকত। একটি মূর্তি হিসেবে নয়, বরং এক জীবন্ত অস্তিত্ব হিসেবেই তার এই আকাশের মতো তাকিয়ে থাকা।

পোড়ামাটির গ্রাম – তৃতীয় পর্ব Read Post »

কাহিনি, ধারাবাহিক উপন্যাস
poramatir 2nd parbo

পোড়ামাটির গ্রাম – দ্বিতীয় পর্ব

হৈমন্তীদের কুটির থেকে পুকুরের দূরত্ব আধ কিলোমিটারের মতো। বাড়ি থেকে বেরিয়ে একটা কাঁচা মাটির রাস্তা। এই রাস্তা ধরে যেতে হৈমন্তীর খুব ভালো লাগে। তার কারণ রাস্তাটার দুপাশেই ক্ষেত। যখন ও কলসি কাঁখে এই রাস্তা দিয়ে হাঁটে, ওর মনে হয়, কেউ যেন ওকে অনুসরণ করছে। কিন্তু পিছন ফিরে দেখলে, হৈমন্তী কাউকে খুঁজে পায় না। প্রথম প্রথম হৈমন্তীর মনে ভয় ভয় করত। কিন্তু দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে একইরকম অনুভূতি নিয়ে চলতে চলতে হৈমন্তীর আর ভয় লাগে না। বরং মনে হয়, যে দেখছে, যে অনুসরণ করছে, সে হয়তো তার রূপেই মুগ্ধ। হৈমন্তী নিজে যেমন এই দুপাশের ক্ষেতের রূপে মুগ্ধ। কেন যে এমন ভাবে তাকিয়ে থাকতে ভালো লাগে, কে জানে! ভোরের তাজা সূর্যের আলো শিশিরভেজা বাংলার ক্ষেতের উপর এসে পড়লে, সব গাছগুলি যেন কেমন ঝিকঝিকিয়ে ওঠে। তরুণীর ডবকা হয়ে ওঠার ইচ্ছের মতো, কিশোরীর প্রমত্তা হয়ে ওঠার ইচ্ছের মতো, প্রকৃতির মধ্যে এক যৌবনের ডাক। হৈমন্তীর মনে পড়ে যায়, চন্দনের কথা। কী সব যে বিড়বিড় করে ওঠে। বলে, বাংলায় লেখা পদ্য। অবশ্য সে নিজে লেখে কিনা জানা নেই। তবে সে সেদিনই এই ক্ষেতের ধারে হৈমন্তীকে মুগ্ধ হয়ে ক্ষেতের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে বলে উঠল, এক গুরুর কবিতা মনে হচ্ছে শোনাও। শুনবে?

পোড়ামাটির গ্রাম – দ্বিতীয় পর্ব Read Post »

কাহিনি, ধারাবাহিক উপন্যাস
poramatir gram parbo ek

পোড়ামাটির গ্রাম – প্রথম পর্ব

[পোড়ামাটির মন্দিরের গায়ে শত শত বছর ধরে স্থির হয়ে থাকা নারী, পুরুষ, দেবতা, যোদ্ধা ও অজানা শরীর। কিন্তু সত্যিই কি তারা স্থির? বাংলার শিল্পের দীর্ঘ ইতিহাসের ভিতর দিয়ে এক সময় থেকে অন্য সময়ে যাতায়াত করতে করতে পোড়ামাটির গ্রাম খুঁজে ফেরে কয়েকটি মানুষের জীবন, আকাঙ্ক্ষা ও রহস্যময় যোগসূত্র। প্রাচীন শিল্পীর আঙুলে তৈরি এক নারীমূর্তি, বহু পরে অন্য এক শিল্পীর সামনে এসে দাঁড়ানো এক নারী, এবং বর্তমানের এক মানুষ—যে ক্রমশ আবিষ্কার করে, ইতিহাস কখনও শেষ হয়ে যায় না। পাল-সেন যুগ থেকে ঔপনিবেশিক বাংলা, টেরাকোটার মন্দির থেকে আধুনিক শিল্পের নিঃসঙ্গ স্টুডিয়ো—সময় এখানে সরলরেখায় চলে না। একই মুখ, একই শরীর, একই অসমাপ্ত আকাঙ্ক্ষা কি বারবার ফিরে আসে? নাকি বাংলার মাটি তার শিল্পের ভিতরে গোপন করে রাখে মানুষের এমন এক ইতিহাস, যা কোনও রাজবংশের ইতিহাসে লেখা হয়নি? পোড়ামাটির গ্রাম শিল্প, শরীর, প্রেম, স্মৃতি ও সময়ের ভিতর দিয়ে হারিয়ে যাওয়া এক রহস্যের অনুসন্ধান।]

পোড়ামাটির গ্রাম – প্রথম পর্ব Read Post »

কাহিনি, ধারাবাহিক উপন্যাস
paap16

পাপ – পর্ব ১৬

এমন সময়ে যদি দৌড়ে পালিয়ে যাওয়া যায় তাহলে যেন সব দিক রক্ষা করা যায়। কিন্তু আমার পা দুটো যেন পাথরের মতো ভারী হয়ে গেল । দরজাটা সশব্দে খুলে গেল, রুক্ষ গলায় শৈলেন বাবু ধমকে উঠলেন, “কী হয়েছে টা কী?”

প্রায় অস্ফুটে উচ্চারণ করলাম, “মা পড়ে গিয়ে কেমন যেন করছেন। এদিকে কঙ্কাকে কোথাও দেখতে পাচ্ছি না।”

প্রত্যুত্তরে যে বিজাতীয় শব্দ গুলো তাঁর ঝাঁজালো কটু গন্ধ যুক্ত মুখ থেকে বের হয়েছিল সে গুলো আমার চেনা না হলেও বুঝেছিলাম ভদ্র সভ্য কিছু নয়। কিন্তু সেসব আমার উদ্যেশ্যে না নিজের মায়ের উদ্যেশ্যে বর্ষণ হলো কে জানে। মাথা নিচু করে ফিরে আসার সময় দেখলাম এলোমেলো করে কোন রকমে থানটা গায়ে জড়িয়ে ওঁকে প্রায় ঠেলে কঙ্কা বের হয়ে এল। ও ওই অবস্থায় শাশুড়ির ঘরে ঢুকতেই আমি আঙ্গুল তুলে বললাম, “ওঁকে ছোঁয়ার আগে চান করে এসো।”

পাপ – পর্ব ১৬ Read Post »

কাহিনি, ধারাবাহিক উপন্যাস
joyshankar

বর্ষার মেয়ে বৃষ্টি

স্কুলে যাওয়ার আগে বেঁটেখাটো শ্যামলা মেয়েটা যখন এক দৃষ্টিতে উনোনে চড়ানো ভাতের হাঁড়িটার দিকে চেয়ে থাকত, তখন গীতার খুব কষ্ট হত। চেষ্টা করত তিন মেয়েকে সকালের খাবারটা অন্তত পেটপুরে দিতে। বর্ষা সবার বড়, তাই ক্ষিদেও বেশি, গোগ্রাসে গিলত। গীতার ভাগ্যের দোষ, রতনটা কত কম বয়সে চলে গেল। গ্রামে বাস, জমিজায়গা নেই, রতন পুকুরে জাল দিয়ে তবু কিছু উপার্জন করত। নেশাভাঙ যে করত না তা নয়, তা বলে লোকটা খারাপ ছিল না। সে কথা বলতে গেলে বাগদীপাড়ায় কোন পুরুষমানুষটা নেশা করে না? আগে গীতা দু-ঘর বাবুবাড়িতে কাজ করত, এখন সংখ্যাটা বাড়াতে হয়েছে। খাটত প্রচুর, তাও অভাবের সংসার।

বর্ষার মেয়ে বৃষ্টি Read Post »

Uncategorized, কাহিনি, গল্প
fc5c229e 8198 4453 91ab 6bed19d53fce

পাপ – পর্ব ১৪

এবারে কার্তিক মাসের মাঝামাঝি দুর্গা পুজো পড়েছিল। তারপর কালী পুজো পার হয়ে প্রায় অগ্রহায়ণ মাস পড় গেল। বাতাসে ভালো রকম শীতের শিরশিরানি, সন্ধের পরে হিম পরে। গায়ে তুষের চাদর জড়াতে হয়। মেঝেতে পা ফেলতে গেলে বেশ ঠান্ডা লাগে। এদিকে রোগীর অবস্থা ক্রমেই খারাপের দিকে যাচ্ছে। এত যত্ন করা সত্বেও শরীরের নানা জায়গায় ঘা হয়ে রস গড়াচ্ছে। পচা গন্ধে ও ঘরে টেঁকা দায়। দরজা খুললেই বিকট দুর্গন্ধ ঝাঁপিয়ে পড়ে। মানদা পর্যন্ত ঝাঁট দিতে বা মুছতে ও ঘরে ঢুকতে চায় না। বাধ্য হয়ে কঙ্কাকেই সে কাজ গুলো করতে হয়। খুব জোরে ডাকাডাকি করলে রোগী চোখ কখনো কখনো খুলছে বটে কিন্তু সে ঘোলাটে চোখের কোন দৃষ্টি নেই, ভাষা নেই। তাঁর চেতনা কোন অতলে তলিয়ে গেছে কে জানে। কানের কাছে জোরে শব্দ হলে হয়ত অভ্যেস বসত চোখ খুলে যায়। কঙ্কা আর আমি প্রাণপনে শাশুড়ির বিছানা পরিষ্কার করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

পাপ – পর্ব ১৪ Read Post »

ধারাবাহিক উপন্যাস
shobha sarkar

পাপ – পর্ব ১৩

জানলা কিভাবে যে খুলে গেছে কে জানে, পর্দাও সম্পূর্ণ গোটানো। খোলা জানলার ওপারে একটা মানুষের অবয়ব দাঁড়িয়ে আছে, জানলার লোহার শিক দুহাতে ধরে মুখ নিচু করে আমাকে দেখছে। বুকের মধ্যে ধড়াস করে উঠল! আমি গ্রামের মেয়ে আবাল্যের সংস্কারের বসে প্রথমেই ভুত প্রেতের কথা মনে হলো। বৃষ্টি কখন থেমে গেছে কে জানে। কিন্তু তখনও মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে, আবার মেঘ ফুটো করে চাঁদও উঠেছে। ভয়ে গলার আওয়াজ বন্ধ হয়ে গেলেও বিদ্যুৎ আর চাঁদের আলোয় অবয়বটাকে খুব ভাল ভাবেই চিনতে পারলাম। বিছানার ওপরে ধড়মড় করে উঠে বসতেই সে জানলা ছেড়ে দৌড়ে পালিয়ে গেল। চোরের মতো এলেও সে সাধারণ চোর নয়, তার চেয়ে অনেক বড় অপরাধী।

পাপ – পর্ব ১৩ Read Post »

কাহিনি, ধারাবাহিক উপন্যাস
intimate conversation

পাপ- পর্ব ১২

সেই ছোট বেলায় পিসি ঠাকমা বলতেন বেধবা মানুষ যতবার খোঁপা করার জন্য চুলে পাক দেবে তত যুগ তার মৃত স্বামী আর শ্বশুর কুলের সবাইকে নরক বাস করতে হয়।

পাপ- পর্ব ১২ Read Post »

কাহিনি, ধারাবাহিক উপন্যাস
Scroll to Top