শোভা সরকার

paapparbo20

পাপ -পর্ব ২০

মেজ জ্যেঠাইমা চুপিচুপি বেদেনী বুড়ির থেকে যোগাড় করা শেকড় আর কিছু কালো কালো বড়ি দিয়ে গেল। শেকড় গুলো শরীরের ভেতরে পুঁতে দিলে আমার পাপ গলে গলে বের হয়ে আসবে। বড়ি গুলো এই পাপের আত্মা পর্যন্ত পুড়িয়ে ঝামা করে দেবে। আর কখনো সে কোন বিধবা বা কুমারীর গর্ভে অনধিকার আশ্রয় নেওয়ার সাহস করবে না । সমাজের ব্যাভিচার তো থামবে না । মানুষের কুপ্রবৃত্তি রোখা ভগবানেরও অসাধ্য। 
সকাল থেকেই বাড়িতে করুন সুরে সানাই বাজছে। এ প্রজন্মের শেষ মেয়ে মালতীলতার বিয়ে হচ্ছে। পাত্রের কোন দাবি দাওয়া নেই, কেবলমাত্র পাত্রী সুন্দরী হলেই হবে। যদিও সে একটু খুঁতো … দোজবরে, বিপত্নীক। তা হোক, সোনার আংটির আবার সোজা আর বাঁকা! আইন ব্যবসায়ী ছেলের মাস গেলে রোজগারখানা তো কম নয়। আবার আগের পক্ষের বউ বড়লোক বাড়ির মেয়ে ছিল। তারও মেলা গয়না গাঁটি আছে। শহরের কেন্দ্রে নিজেদের বসত বাড়ি, অভাব তো কিছুই নেই। মেয়ে খেয়ে পড়ে সুখে থাকবে। বড় ভাইরা পৃথগন্ন এবং আলাদা থাকে, শ্বশুর তো অনেক কাল নেই, শাশুড়ী মাগীও হালে মরেছে। বাড়িতে দু দুটো কাজের মেয়ে।

পাপ -পর্ব ২০ Read Post »

কাহিনি, ধারাবাহিক উপন্যাস
paap19

পাপ – পর্ব ১৯

মেজ জ্যেঠাইমা চুপিচুপি বেদেনী বুড়ির থেকে যোগাড় করা শেকড় আর কিছু কালো কালো বড়ি দিয়ে গেল। শেকড় গুলো শরীরের ভেতরে পুঁতে দিলে আমার পাপ গলে গলে বের হয়ে আসবে। বড়ি গুলো এই পাপের আত্মা পর্যন্ত পুড়িয়ে ঝামা করে দেবে। আর কখনো সে কোন বিধবা বা কুমারীর গর্ভে অনধিকার আশ্রয় নেওয়ার সাহস করবে না । সমাজের ব্যাভিচার তো থামবে না । মানুষের কুপ্রবৃত্তি রোখা ভগবানেরও অসাধ্য। 

পাপ – পর্ব ১৯ Read Post »

কাহিনি, ধারাবাহিক উপন্যাস
paap18

পাপ -পর্ব ১৮

চিঠিটা শেষ পর্যন্ত লিখতে পেরেছিলাম অনেক কষ্টে। অশৌচ বাড়ি বলে পুরুষ মানুষেরা একটা ঘরে বিচালি বিছিয়ে তার ওপর কম্বল পেতে এক সঙ্গে শুচ্ছিল। জায়েরা তো আমাকে গ্রহণ করতে পারছিল না , তাই আমি আর ওদের সঙ্গে একসঙ্গে বসে গল্পে যোগ দিচ্ছিলাম না। সেদিনের পর আর ওদের সঙ্গে কথা বলার প্রবৃত্তি হয়নি। খুব কেজো কথা ছাড়া ওরাও আমার সঙ্গে কথা বলতে আগ্রহী হয়নি। এক সুযোগে দুপুরে সবার অলক্ষ্যে শৈলেন বাবুর ঘরে ঢুকে একটা নীল রঙের চিঠির কাগজ আর পোষ্ট কার্ড নিয়ে এলাম । হব্যিষ‍্যি দিতে আসা এক প্রতিবেশিনীর হাতে দিয়ে অনুরোধ করেছিলাম যেন সেটা ডাক বাক্সে দেওয়া হয়। পরে জেনেছিলাম সে চিঠি ঠিকানায় পৌঁছায় নি। হয়তো অতি কৌতূহল বসত আঠা খুলে পড়ে দেখতে গিয়ে সেখানা আর পাঠানোর যোগ্য ছিল না।

পাপ -পর্ব ১৮ Read Post »

কাহিনি, ধারাবাহিক উপন্যাস
paap 17

পাপ – পর্ব ১৭

বেলা বাড়তে না বাড়তে বাড়িতে পাড়ার লোক ভেঙে পড়লো। মৃতার শরীর একটা শীতল পাটিতে করে তুলসী তলায় নামানো হয়েছে, মাথার কাছে মাটি সুদ্ধু তুলসী চারা। যত্ন করে চন্দনের ফোঁটা দিয়ে কপাল সাজিয়ে দিয়েছে কেউ। চোখের ওপর তুলসী পাতা। পাড়ার ছেলেরা বাঁশ কেটে চালা তৈরী করছে। শব দেহের দুর্গন্ধ চাপা দেয়ার জন্য অগরু ছড়ানো হচ্ছে, গোছা গোছা ধুপকাঠি ধরানো হয়েছে। 
বাড়ির বড় আর মেজ ছেলেরা খবর পেয়ে তড়িঘড়ি নিজের নিজের পরিবার নিয়ে চলে এসেছে। দেহ ঘর থেকে বের করার আগে মৃতাকে গঙ্গা জল খাওয়ানোর হিড়িক পড়ে গেল । শেষ সময় কে ছিল, মুখে জল দেওয়া হয়েছিল কিনা। অবস্থা এত খারাপ তাও কেন খবর দেওয়া হয় নি … এসব দোষারোপ চলতেই থাকলো। পাড়ার মহিলারাও তাতে যোগ দিল । আমি ওখান থেকে সরে এসে নিজের ঘরে দোর বন্ধ করে মেঝেতে বসলাম । উঠোনে সমস্বরে চিৎকার করে কান্নাকাটি শুরু হয়েছে, রোদনকারীনিদের কারও গলা আমার পরিচিত নয়।

পাপ – পর্ব ১৭ Read Post »

কাহিনি, ধারাবাহিক উপন্যাস
paap16

পাপ – পর্ব ১৬

এমন সময়ে যদি দৌড়ে পালিয়ে যাওয়া যায় তাহলে যেন সব দিক রক্ষা করা যায়। কিন্তু আমার পা দুটো যেন পাথরের মতো ভারী হয়ে গেল । দরজাটা সশব্দে খুলে গেল, রুক্ষ গলায় শৈলেন বাবু ধমকে উঠলেন, “কী হয়েছে টা কী?”

প্রায় অস্ফুটে উচ্চারণ করলাম, “মা পড়ে গিয়ে কেমন যেন করছেন। এদিকে কঙ্কাকে কোথাও দেখতে পাচ্ছি না।”

প্রত্যুত্তরে যে বিজাতীয় শব্দ গুলো তাঁর ঝাঁজালো কটু গন্ধ যুক্ত মুখ থেকে বের হয়েছিল সে গুলো আমার চেনা না হলেও বুঝেছিলাম ভদ্র সভ্য কিছু নয়। কিন্তু সেসব আমার উদ্যেশ্যে না নিজের মায়ের উদ্যেশ্যে বর্ষণ হলো কে জানে। মাথা নিচু করে ফিরে আসার সময় দেখলাম এলোমেলো করে কোন রকমে থানটা গায়ে জড়িয়ে ওঁকে প্রায় ঠেলে কঙ্কা বের হয়ে এল। ও ওই অবস্থায় শাশুড়ির ঘরে ঢুকতেই আমি আঙ্গুল তুলে বললাম, “ওঁকে ছোঁয়ার আগে চান করে এসো।”

পাপ – পর্ব ১৬ Read Post »

কাহিনি, ধারাবাহিক উপন্যাস
fc5c229e 8198 4453 91ab 6bed19d53fce

পাপ – পর্ব ১৪

এবারে কার্তিক মাসের মাঝামাঝি দুর্গা পুজো পড়েছিল। তারপর কালী পুজো পার হয়ে প্রায় অগ্রহায়ণ মাস পড় গেল। বাতাসে ভালো রকম শীতের শিরশিরানি, সন্ধের পরে হিম পরে। গায়ে তুষের চাদর জড়াতে হয়। মেঝেতে পা ফেলতে গেলে বেশ ঠান্ডা লাগে। এদিকে রোগীর অবস্থা ক্রমেই খারাপের দিকে যাচ্ছে। এত যত্ন করা সত্বেও শরীরের নানা জায়গায় ঘা হয়ে রস গড়াচ্ছে। পচা গন্ধে ও ঘরে টেঁকা দায়। দরজা খুললেই বিকট দুর্গন্ধ ঝাঁপিয়ে পড়ে। মানদা পর্যন্ত ঝাঁট দিতে বা মুছতে ও ঘরে ঢুকতে চায় না। বাধ্য হয়ে কঙ্কাকেই সে কাজ গুলো করতে হয়। খুব জোরে ডাকাডাকি করলে রোগী চোখ কখনো কখনো খুলছে বটে কিন্তু সে ঘোলাটে চোখের কোন দৃষ্টি নেই, ভাষা নেই। তাঁর চেতনা কোন অতলে তলিয়ে গেছে কে জানে। কানের কাছে জোরে শব্দ হলে হয়ত অভ্যেস বসত চোখ খুলে যায়। কঙ্কা আর আমি প্রাণপনে শাশুড়ির বিছানা পরিষ্কার করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

পাপ – পর্ব ১৪ Read Post »

ধারাবাহিক উপন্যাস
shobha sarkar

পাপ – পর্ব ১৩

জানলা কিভাবে যে খুলে গেছে কে জানে, পর্দাও সম্পূর্ণ গোটানো। খোলা জানলার ওপারে একটা মানুষের অবয়ব দাঁড়িয়ে আছে, জানলার লোহার শিক দুহাতে ধরে মুখ নিচু করে আমাকে দেখছে। বুকের মধ্যে ধড়াস করে উঠল! আমি গ্রামের মেয়ে আবাল্যের সংস্কারের বসে প্রথমেই ভুত প্রেতের কথা মনে হলো। বৃষ্টি কখন থেমে গেছে কে জানে। কিন্তু তখনও মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে, আবার মেঘ ফুটো করে চাঁদও উঠেছে। ভয়ে গলার আওয়াজ বন্ধ হয়ে গেলেও বিদ্যুৎ আর চাঁদের আলোয় অবয়বটাকে খুব ভাল ভাবেই চিনতে পারলাম। বিছানার ওপরে ধড়মড় করে উঠে বসতেই সে জানলা ছেড়ে দৌড়ে পালিয়ে গেল। চোরের মতো এলেও সে সাধারণ চোর নয়, তার চেয়ে অনেক বড় অপরাধী।

পাপ – পর্ব ১৩ Read Post »

কাহিনি, ধারাবাহিক উপন্যাস
intimate conversation

পাপ- পর্ব ১২

সেই ছোট বেলায় পিসি ঠাকমা বলতেন বেধবা মানুষ যতবার খোঁপা করার জন্য চুলে পাক দেবে তত যুগ তার মৃত স্বামী আর শ্বশুর কুলের সবাইকে নরক বাস করতে হয়।

পাপ- পর্ব ১২ Read Post »

কাহিনি, ধারাবাহিক উপন্যাস
playful moments by the tropical pond

পাপ- পর্ব ১০

পাতি হাঁস গুলো কেমন হেলতে দুলতে সার বেঁধে ছানা পোনা নিয়ে প্যাঁক প্যাঁক করে জলে নেমে যাচ্ছে, কত দিন পরে যে আবার এমন দৃশ্য চোখে পড়লো!

পাপ- পর্ব ১০ Read Post »

কাহিনি, ধারাবাহিক উপন্যাস
Scroll to Top