অনুবাদ

murderonorientexpress18

মার্ডার অন দ্য ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেস (পর্ব – ১৮)

এরকুল: (চোখ মটকে) এই এতক্ষণে মঁসিয়ে বুঁকের মনোবাসনা পূর্ণ হবে। এবার ইতালীয়টির পালা।
ডাক পেয়ে ইতালীয় মি. ফসকারেল্লী এসে হাজির হলেন। সুঠাম চেহারার, চোখেমুখে শিশুর সারল্য, সঙ্গে একমুখ উজ্জ্বল হাসি।
এরকুল: (পাসপোর্ট হাতে নিয়ে) আপনি আন্তোনিও ফসকারেল্লী?
ফসকারেল্লী: ইয়েস স্যার।
এরকুল: আপনি এখন আমেরিকান নাগরিক, তাই না?
ফসকারেল্লী: হ্যাঁ। ব্যবসাসূত্রেই আমেরিকায় থাকা এবং সেই সূত্রেই নাগরিকত্ব।
এরকুল: আপনি ফোর্ড মোটর কোম্পানির একজন সেলস এজেন্ট?
ফসকারেল্লী: হ্যাঁ, আমি সেলস-এর দিকটাই দেখি। এই ইউরোপ এবং এশিয়ার এই দিকটাই আমার এলাকা। একটু বেশি ঘুরতে হয়, কিন্তু বিরাট সাড়া পাচ্ছি। গাড়ির বাজারে এদিকটায় আমরাই একচেটিয়া। কোম্পানিরও লাভ হচ্ছে, সঙ্গে আমারও, বুঝলেন না (বকেই চলতেন হয়তো)।
এরকুল: বেশ বেশ, কত বছর হলো আপনার আমেরিকায়? বছর দশেক?

মার্ডার অন দ্য ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেস (পর্ব – ১৮) Read Post »

অনুবাদ, ধারাবাহিক উপন্যাস
murderonorientexpressparbo17

মার্ডার অন দ্য ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেস- পর্ব – ১৭

এরকুল: আপনি ইস্তাম্বুল থেকে প্যারিস যাচ্ছেন?
হার্ডম্যান: ঠিক তাই।
এরকুল: কারণটা জানতে পারি?
হার্ডম্যান: প্লেন অ্যান্ড সিম্পল ব্যবসা।
এরকুল: আপনি কি বরাবর ফার্স্ট ক্লাসেই যাতায়াত করেন?
হার্ডম্যান: অবশ্যই। কোম্পানির পয়সায়—পরের ধনে। ওরাই যাতায়াতের খরচ বহন করে কি না।
এরকুল: আচ্ছা মি. হার্ডম্যান, গতকাল রাতের ঘটনা সম্পর্কে আপনি কি জানেন?
হার্ডম্যান: কিছুই না।
এরকুল: গতকাল রাতে ডিনারের পর থেকে আপনি ঠিক কী করেছিলেন একটু যদি বলেন। না না, এটা রুটিন, আমরা সবার কাছ থেকেই জানতে চাইছি।
হার্ডম্যান: (একটু অপ্রস্তুতভাব দেখিয়ে) উত্তর দেওয়ার আগে যদি কিছু মনে না করেন, আপনাদের পরিচয় জানতে পারি?
এরকুল: অবশ্যই। ইনি মঁসিয়ে বুঁ, এই রেল কোম্পানির অন্যতম ডিরেক্টর। আর (ডাক্তারের দিকে নির্দেশ করে) উনি ডা. কনস্টানটাইন। উনিই প্রথম লাশটিকে পরীক্ষা করেছিলেন।
হার্ডম্যান: আর আপনি?

মার্ডার অন দ্য ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেস- পর্ব – ১৭ Read Post »

অনুবাদ, ধারাবাহিক উপন্যাস
murderonorientexpressparbo16

মার্ডার অন দ্য ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেস- পর্ব-১৬

রকুল: মেসিয়ে বুঁ-র দিকে তাকিয়ে, মাই ডিয়ার ডিরেক্টর, একটু ধৈর্য ধরুন। আগে ফার্স্ট ক্লাসেরগুলো শেষ হোক, তারপর না হয়। এখন কর্নেল আর্বাথনটকে ডাকা যেতে পারে।
কিছুক্ষণ পরেই কর্নেল আর্বাথনট প্রবেশ করলেন ডাইনিং কোচে।
কর্নেল ফরাসি ভাষায় তেমন স্বচ্ছন্দ নন, ইংরেজিতেই কথাবার্তা শুরু হলো। নাম, ধাম, বয়স ইত্যাদির পর জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলেন।
এরকুল: ইন্ডিয়া থেকে দেশে ফিরছেন, ছুটিতে?
আর্বাথনট: হ্যাঁ।
এরকুল: জাহাজে না ফিরে এই পথে?
আর্বাথনট: দেখুন, সেটা আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার।
এরকুল: ইন্ডিয়া থেকে সোজা এখানে আসছেন?
আর্বাথনট: বাগদাদ হয়ে, সেখানে একটা কাজ ছিল। (একটু বিরক্ত হয়ে) ব্যক্তিগত ব্যাপার তবু বলছি, বাগদাদে আমার এক পুরনো বন্ধুর কাছে দিন তিনেক কাটিয়ে আমি লন্ডন রওনা দিয়েছি।
এরকুল: বাগদাদে তিনদিন ছিলেন। ঐ ইংলিশ লেডি মিস্ ডেবেনহ্যামের সঙ্গে কি বাগদাদে আলাপ?
আর্বাথনট: না। ওনার সঙ্গে আমার আলাপ ট্রেনে। কিরকুক থেকে নিসবিন যাওয়ার পথে।
এরকুল: কিছু যদি মনে না করেন। মিস্ ডেবেনহ্যামের সম্পর্কে আপনার ধারণা কেমন?

মার্ডার অন দ্য ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেস- পর্ব-১৬ Read Post »

অনুবাদ, ধারাবাহিক উপন্যাস
murder on the orient express15

মার্ডার অন দ্য ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেস – ​পর্ব-১৫

পাসপোর্টগুলো নাড়াচড়া করতে করতেই এরকুল পোয়ারো ডেকে পাঠালেন কাউন্ট এবং কাউন্টেস আন্দ্রেনীকে। কাউন্ট কিন্তু একাই এলেন। চেহারা ও বেশভূষায় এক্কেবারে ইংরেজ। ছফুটের মতো হাইট, চওড়া কাঁধ।
​প্রারম্ভিক পারস্পরিক অভিবাদন বিনিময় শেষ হলো।
​কাউন্ট: বলুন, আপনাদের জন্য কী করতে পারি?
​এরকুল: আপনি শুনেছেন হয়তো গতকাল রাত্রে এই ট্রেনে একটা ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড ঘটে গেছে। রেল কর্তৃপক্ষের তরফে সেই হত্যাকাণ্ডের তদন্তের দায়িত্ব আমাকে দেওয়া হয়েছে। সেই কারণেই—
​কাউন্ট: নিশ্চয়ই, তদন্ত তো করতেই হবে। কী নৃশংস হত্যা! তবে আমরা বোধ হয় তেমন কোনো সাহায্যই করতে পারব না। গতকাল রাত্রে আমি ও আমার স্ত্রী একটু তাড়াতাড়িই ঘুমিয়ে পড়েছিলাম।
​এরকুল: আপনি কি নিহত ব্যক্তিটির আসল পরিচয় জানেন?
​কাউন্ট: (কোণের টেবিলের দিকে আঙুল বাড়িয়ে) গতকাল লাঞ্চের সময় ওই কোণের টেবিলে যে আমেরিকান ভদ্রলোক বসেছিলেন, তিনিই কি?
​এরকুল: হ্যাঁ হ্যাঁ, ঠিকই ধরেছেন, তিনিই গত রাতে খুন হয়েছেন। ওনার নামটা কি আপনি জানেন?

মার্ডার অন দ্য ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেস – ​পর্ব-১৫ Read Post »

অনুবাদ, ধারাবাহিক উপন্যাস
k. satchidanandan photocropped.jpg

কে. সচ্চিদানন্দনেরকবিতা

কে. সচ্চিদানন্দন সমকালীন ভারতীয় সাহিত্যের এক উজ্জ্বল নাম—কবি, অনুবাদক, সমালোচক ও প্রাবন্ধিক হিসেবে যাঁর অবদান গভীর ও বহুমাত্রিক। ১৯৪৬ সালে কেরালায় জন্মগ্রহণ করা এই মালয়ালম কবি তাঁর রচনায় মানবিকতা, স্বাধীনতা, ভাষা-সংস্কৃতির বহুত্ব, নির্বাসন ও রাজনৈতিক চেতনার সূক্ষ্ম দিকগুলোকে আধুনিক সংবেদনশীলতায় তুলে ধরেছেন। তাঁর কবিতায় ব্যক্তিগত অনুভূতি ও সামাজিক দায়বদ্ধতার এক অনন্য সংলাপ তৈরি হয়, যা পাঠককে গভীরভাবে স্পর্শ করে। তাঁর কবিতা ইংরেজি, হিন্দি, বাংলা সহ প্রায় ৩০টিরও বেশি ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক ভাষায় অনূদিত হয়েছে l বিভিন্ন দেশ থেকে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর কবিতার বই l ফলে তিনি বিশ্বসাহিত্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান অর্জন করেছেন l পাশাপাশি তিনি নিজেও নানা ভাষার কবিতাকে মালয়ালমে অনুবাদ করে আন্তঃভাষিক সাহিত্য-সংলাপকে সমৃদ্ধ করেছেন। সাহিত্য অকাদেমির প্রাক্তন সচিব হিসেবে তিনি দেশের বহুভাষিক সাহিত্যধারাকে সমুন্নত রাখার জন্য নিরলস কাজ করেছেন। তাঁর অসামান্য সাহিত্যকীর্তির স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি Sahitya Akademi Award, Kerala Sahitya Akademi Award, Vayalar Award, Odakkuzhal Award সহ বহু সম্মানে ভূষিত হয়েছেন। মানবিক মূল্যবোধ ও সৃজনশীল স্বাধীনতার পক্ষে তাঁর দৃঢ় অবস্থান তাঁকে সমকালীন ভারতীয় সাহিত্যে এক অনন্য ও প্রভাবশালী কবি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে

কে. সচ্চিদানন্দনেরকবিতা Read Post »

অনুবাদ, কবিতা
muder on orient express

মার্ডার অন দ্য ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেস – পর্ব-১৪

হাতে ধরা প্যাসেঞ্জার লিস্টের দিকে তাকিয়ে

এরকুল: এবার যে দেখছি রাজকুমারীর পালা।

বুঁঃ (এরকুলকে থামিয়ে) মনটা বড় খচখচ করছে। বোতামের ব্যাপারটা মিটিয়ে ফেললে হয় না। মিশেলকেই একবার ডাকা যাক। বোতাম দিয়েই মনে হচ্ছে বেচারি ফেঁসে গেল।

ডাক পেয়ে মিশেল এসে হাজির হল।

এরকুল: (মিসেস হার্বাডের জমা দেওয়া বোতামটি হাতে নিয়ে) এই বোতামটা সম্ভবত তোমার। ইউনিফর্ম পোশাক থেকে খুলে গেছে। মিসেস হার্বাডের কূপে থেকে পাওয়া গেছে।

মিশেল: (নিজের বুকে ইউনিফর্মের উপর হাত রেখে) কখনো না। আমার তো কোনো বোতাম হারায়নি।

বুঁ: অদ্ভুত ব্যাপার, তবে রেল কর্মচারীর ইউনিফর্মের বোতাম ওনার কূপেতে এলো কিভাবে?

মার্ডার অন দ্য ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেস – পর্ব-১৪ Read Post »

অনুবাদ, ধারাবাহিক উপন্যাস
murder on the orient express

মার্ডার অন দ্য ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেস, পর্ব-১৩

আমি তো ব্যাপারস্যাপার কিছুই বুঝতে পারছি না। তাহলে কি মিশেল এই হত্যাকাণ্ডের সাথে…

পয়রো: দাঁড়ান দাঁড়ান। ওত তড়বড় করবেন না। আগে যাত্রীদের জবানবন্দিগুলো সব শেষ করি। হ্যাঁ, এরপর তাহলে ওই সুইডিশ মহিলাকে ডাকা যাক। ওনার পাসপোর্টটা…… (পাসপোর্টটা হাতে নিয়ে) নাম তো দেখছি আলে, গ্রেটা আঁলে। বয়স ৪৯।

ভদ্রমহিলাকে ডাকা হল। ভালো মানুষ চেহারার, ধীরস্থির নম্র। মাথার চুল চুড়ো করে বাঁধা, চোখে চশমা। ফরাসি বুঝতে পারেন, বলতেও পারেন। নাম, ঠিকানা, বয়স ইত্যাদি পাসপোর্টেই ছিল।

মসিয়ে র টুকটাক জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলেন। জানা গেল, ভদ্রমহিলা অবিবাহিত, এবং একজন প্রশিক্ষিত নার্স, নার্সিং-এ গ্র্যাজুয়েট। বর্তমানে ইস্তাম্বুলে একটি মিশনারি স্কুলে মেট্রন হিসেবে কাজ করছেন। ছুটিতে দেশে ফিরছেন।

মার্ডার অন দ্য ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেস, পর্ব-১৩ Read Post »

অনুবাদ, ধারাবাহিক উপন্যাস
gemini generated image mychnfmychnfmych

মার্ডার অন দ্য ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেস, পর্ব-১২

হুবার্ড: আরে আমি কার সাথে কথা বলব? কে? কে? আপনাদের মধ্যে অথরিটি কে আছেন? কার সাথে আমি কথা বলব? আমার কাছে অকাট্য প্রমাণ আছে, খুব গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও। আমি জানতে চাই কার সাথে আমায় কথা বলতে হবে।

মার্ডার অন দ্য ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেস, পর্ব-১২ Read Post »

অনুবাদ, ধারাবাহিক উপন্যাস
agatha christi

মার্ডার অন দ্য ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেস (পর্ব-১১)

এরপর একজন সাদাসিধা ইংরেজ ভদ্রলোক ডাইনিং কোচে প্রবেশ করলেন। টেবিলের কাছে এসে চুপচাপ দাঁড়িয়েই রইলেন।

​এরকুল: বসুন, আপনি সম্ভবতঃ মিঃ রাশেটের পরিচারক। ​হ্যাঁ, স্যার।

​এরকুল: আপনার নাম? এডওয়ার্ড হেনরি মাস্টারম্যান।

মার্ডার অন দ্য ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেস (পর্ব-১১) Read Post »

অনুবাদ, ধারাবাহিক উপন্যাস
3

মার্ডার অন দ্য ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেস, পর্ব- ১০

পোয়ারো মিনিট কয়েক গভীর চিন্তায় ডুবে রইলেন। এরপর বললেন— পোয়ারো: মিঃ রাশেটের সচিব ম্যাককুইনের সাথে আর একবার কথা বলাটা জরুরি,

মার্ডার অন দ্য ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেস, পর্ব- ১০ Read Post »

অনুবাদ, ধারাবাহিক উপন্যাস
01

মার্ডার অন দ্য ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেস, পর্ব-৯

​ডাইনিং কোচে তিনজনে এসে হাজির হলেন। ​মঁসিয়ে বুঁ এবং এরকুল পোয়ারো পাশাপাশি বসলেন, ডাক্তার কনস্ট্যানটাইন একটু দূরে, একাকী। ​সামনের টেবিলে

মার্ডার অন দ্য ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেস, পর্ব-৯ Read Post »

অনুবাদ, ধারাবাহিক উপন্যাস

মার্ডার অন দ্য ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেস, পর্ব- ৮

মিঃ রাশেটের কূপে থেকে এরকুল পোয়ারো এবং ডাক্তার কনস্ট্যানটাইন এসে হাজির হলেন মসিয়ে বুঁ-এর কূপেতে। তাঁদের দেখে বুঁ অভ্যর্থনা জানিয়ে

মার্ডার অন দ্য ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেস, পর্ব- ৮ Read Post »

অনুবাদ, ধারাবাহিক উপন্যাস
Scroll to Top