ধারাবাহিক উপন্যাস

bipashar tire 3rd issue

বিপাশার তীরে – ৩য় পর্ব

দশটা দিনে বিপাশা দিয়ে বহু জল গড়িয়ে গিয়েছে। চন্দ্রাবলীর স্বামী রাজার আইন বিভাগের প্রধানের জেরার কাছে পুরোপুরি ভেঙে পড়ে স্বীকার করেছে যে চন্দ্রাবলীকে সে ছেড়ে দিলে তার পিতার সম্পত্তিতে ভাগ পেত না কিন্তু দুর্ঘটনা বা অপঘাতে চন্দ্রাবলীর মৃত্যু হলে সেই অর্থ পেতে অসুবিধা হত না। তার প্রচুর অর্থ প্রয়োজন। ইংরেজ বণিকদের সাথে যোগাযোগ হয়েছে তার। জাহাজ কিনে নতুন ব্যবসা করতে চায়। চন্দ্রাবলীকে বহুবার বলা সত্ত্বেও সে বিদেশী বণিকদের বিশ্বাস করতে রাজি নয়। তাছাড়া দেশভ্রমণ, গরীব দুঃখী প্রতিপালন, দুঃস্থ আত্মীয়দের সাহায্য এসব করে তার স্ত্রী প্রচুর অর্থ নষ্ট করে তাই পথের কাঁটা দূর করার দারুণ সুযোগ সে পেয়েছিল দেশ ভ্রমণে আসার অছিলায়। কিন্তু প্রতিবারই অলৌকিক ভাবে বেঁচে গিয়েছে সে। আকেশের মুখে এসব শুনে রূপচাঁদ, সোমরাং, চামেলি হতবাক হয়। মানুষ এত নিষ্ঠুর হতে পারে? বন্দী করা হয়েছে সেই শয়তানকে। কিন্তু ওকে সাহায্য করতে চেয়েছিল যারা তাদের খোঁজ পাওয়া যায়নি এমনকি ভীম শর্মাও গায়েব। রূপচাঁদ আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আকেশের কাছে।

বিপাশার তীরে – ৩য় পর্ব Read Post »

কাহিনি, ধারাবাহিক উপন্যাস
poramatir gram8th

পোড়ামাটির গ্রাম – অষ্টম পর্ব

‘আব্বাকে আমি মেরে ফেলতে চাইনি।‘ বিড়বিড় করে করে বলতে থাকলেন গিয়াসউদ্দিন। বাইরে সন্ধ্যা নেমে এসেছে। এই সন্ধ্যাটিকে সন্ধ্যা না বলে রাত বলাই বরং ভাল। চারপাশে কোথাও এক বিন্দু আলো জ্বলছে না। এতটাই দূরে, জঙ্গলের মধ্যে চলে এসেছেন, যে  মনে হচ্ছে, সভ্যতা থেকে অনেক দূরে তাঁদের আর কেউই খুঁজে পাবে না। এখানে আসার উদ্দেশ্য আসলে শিকার করা নয়। শিকার করতে তিনি পছন্দ করেন না। নিরীহ জন্তুদের মেরে কার যে কী আনন্দ হয়, তা তিনি জানেন না। তিনি জঙ্গলে ঘুরে বেড়ান নিজের মনের সঙ্গে নিজেই কথা বলার জন্য। সুফি কবি হাফিজ যেমন বলেন, নিজের মনের মধ্যেই আছে এই জন্নত। তার সঙ্গে দেখা করো, সে তোমায় দেবে অধরা মাধুরী। আহা কী কথা। গিয়াসউদ্দিন পানপাত্রখানি পাশে রেখে। তাঁবুর বাইরে চলে এলেন। রক্ষীরা একটু দূরে দাঁড়িয়ে আছে। তাদের আসলে বলা আছে তাঁবুর চেয়ে একটু দূরেই দাঁড়াতে। কারণ গিয়াসউদ্দিন তাঁর এই একলা থাকাটা উপভোগ করতে চান। অনেকটা ঘুরে তাঁরা এসে পড়েছেন জঙ্গলের এক প্রান্তে। হরিণীর কথা বারবার মনে পড়ছে তাঁর। মনে আছে, এক অপূর্ব কবি এসে তাঁর রাজসভায় প্রথম হাফিজের কবিতা শুনিয়েছিল। হাফিজের কবিতা যেন রুমির কবিতার এক পুনর্জন্ম। আহা কী সে কবিতা, তিনি প্রথমে শুনেছিলেন—“ হে হাফিজ! তোমার বক্ষে ধারণকৃত এই কুরআনের চেয়ে/সুন্দর ও সুমিষ্ট বাণী আর কিছুই দেখি নি।”

পোড়ামাটির গ্রাম – অষ্টম পর্ব Read Post »

কাহিনি, ধারাবাহিক উপন্যাস
bipasar tire dwityo parbo

বিপাশার তীরে – ২য় পর্ব

সৈন্য শিবির থেকে আকেশ বেরিয়ে পড়েছে যখন তখন আকাশে নরম আলো। আজ তার পরনে সাধারণ পোষাক। জঙ্গলের রাস্তা পেরিয়ে দ্রুত গ্রামের দিকে আসে। বিপাশার তীর ছুঁয়ে এই গ্রামের শুরু, যেন এক নব যৌবনবতী। গৃহস্ত বাড়িতে মেয়েরা সাংসারিক কাজে মগ্ন। আকেশ চোখ কান খোলা রেখে এগোতে থাকে। সহসা চোখ যায় একটি বাড়ির উঠোনে সভা মতো বসেছে। চুপচাপ ভীড়ের ভিতর বসে পড়ে আকেশ। পরিস্থিতি সবটুকু নিঃশব্দে অনুভব করে। মুগ্ধ হয়ে দেখতে থাকে সোমরাংকে। ওর কাঁধের উপর উজ্জ্বল নীল রঙের পাত্তু যেন গোটা উপত্যকার আকাশকে জড়িয়ে রেখেছে।নির্ভয়ে সকলের সামনে কথা বলে চলছে। ওর অনুভূতি প্রবণ মন যেন প্রবদর গাছের মতোই সুন্দর। সকলে যখন বেরিয়ে আসছে ওদের বাড়ি থেকে তখন আকেশে উঠে পড়ল। তবে ধর্মরাজ মানুষটিকেও তার বেশ লেগেছে। সোমরাং তার পিতাজির যথার্থ প্রতিচ্ছবি। ওদের বাড়ি থেকে বেরিয়ে সে পিছু নিয়েছে ভিনদেশী মানুষ দুজনের। তাদের সাথে ভীম নামক স্থানীয় লোকটিও রয়েছে। কিছুদূর যাবার পর ভীমকে পারিশ্রমিক দিয়ে তারা বিদায় জানাল। এদের ভাষা আকেশের জানা। মহারাজ জগৎ সিংহ দিল্লীশ্বর ঔরঙ্গজেবকে সহায়তা করতে মাঝেমাঝেই সৈণ্য প্রেরণ করেন। একবার আকেশ গিয়েছিল যুদ্ধে। মাসখানেক থাকার সময় এই প্রদেশের ভাষা তার জানা হয়েছে কিছুটা। গঙ্গানদীর তীরে শস্যশ্যামল এই প্রদেশেই রয়েছে কালীমাতার প্রাচীন মন্দির বহু মানুষ এখানে আসে, মুক্তির আশায়। মিষ্টি, মাছ বড় প্রিয় এখানকার মানুষের আর তেমন সাহস। আকেশ শোনে অপহৃত মেয়েটির স্বামী রাগত স্বরে বন্ধুকে তীব্র ভাষায় আঘাত করতে উদ্যত।

বিপাশার তীরে – ২য় পর্ব Read Post »

কাহিনি, ধারাবাহিক উপন্যাস
paapparbo20

পাপ -পর্ব ২০

মেজ জ্যেঠাইমা চুপিচুপি বেদেনী বুড়ির থেকে যোগাড় করা শেকড় আর কিছু কালো কালো বড়ি দিয়ে গেল। শেকড় গুলো শরীরের ভেতরে পুঁতে দিলে আমার পাপ গলে গলে বের হয়ে আসবে। বড়ি গুলো এই পাপের আত্মা পর্যন্ত পুড়িয়ে ঝামা করে দেবে। আর কখনো সে কোন বিধবা বা কুমারীর গর্ভে অনধিকার আশ্রয় নেওয়ার সাহস করবে না । সমাজের ব্যাভিচার তো থামবে না । মানুষের কুপ্রবৃত্তি রোখা ভগবানেরও অসাধ্য। 
সকাল থেকেই বাড়িতে করুন সুরে সানাই বাজছে। এ প্রজন্মের শেষ মেয়ে মালতীলতার বিয়ে হচ্ছে। পাত্রের কোন দাবি দাওয়া নেই, কেবলমাত্র পাত্রী সুন্দরী হলেই হবে। যদিও সে একটু খুঁতো … দোজবরে, বিপত্নীক। তা হোক, সোনার আংটির আবার সোজা আর বাঁকা! আইন ব্যবসায়ী ছেলের মাস গেলে রোজগারখানা তো কম নয়। আবার আগের পক্ষের বউ বড়লোক বাড়ির মেয়ে ছিল। তারও মেলা গয়না গাঁটি আছে। শহরের কেন্দ্রে নিজেদের বসত বাড়ি, অভাব তো কিছুই নেই। মেয়ে খেয়ে পড়ে সুখে থাকবে। বড় ভাইরা পৃথগন্ন এবং আলাদা থাকে, শ্বশুর তো অনেক কাল নেই, শাশুড়ী মাগীও হালে মরেছে। বাড়িতে দু দুটো কাজের মেয়ে।

পাপ -পর্ব ২০ Read Post »

কাহিনি, ধারাবাহিক উপন্যাস
poramatirgram7th

পোড়ামাটির গ্রাম- সপ্তম পর্ব

রাস্তা বলে কিছু নেই। একে ঠিক পথও বলা যায় না। দুপাশে মাঠ। শস্যক্ষেত। গ্রামের চাষিরা চাষ করছে। মাথায় গামছার  মতো কাপড় বেঁধে তারা চাষ করছে। এই দৃশ্য বদলায়নি। মৃন্ময় বুঝতে পারল। আজ থেকে হাজার বছর পরে খেতের মাঠে কাজ করার দৃশ্য যেমন, ঠিক তেমনই। বাংলার খেত তেমনই নানারকম সবুজ হয়ে আছে। স্তরে স্তরে এই সবুজের রং বদলে যায়। কখনো গাঢ় সবুজ, কোথায় বা হালকা। দূর দিগন্ত অব্দি দেখতে পাওয়া যায় এই সবুজ। ঠিক যেন কেউ একটা তুলি দিয়ে রঙের বিভিন্ন শেড তৈরি করেছেন। মৃন্ময়ের পাশে নীরবে হেঁটে চলেছেন শান্ত ভিক্ষু। তাঁর কোনও তাড়া নেই। তিনি যেন বা নিজের মধ্যেই বিভোর।

মৃন্ময় তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করেছে সে কোন সময় থেকে এসেছে। আসলে ঠিক কোন সময়ে তাঁর শরীরটা শুয়ে আছে। কিন্তু এই বোঝানোটাই সার হয়েছে। তার পোশাক আশাক, চালচলন এবং কথাবার্তায় অন্তত এইটুকু তিনি বুঝতে পেরেছেন, যে সে অনেক কিছু জানে। সে একটা অন্য জায়গা থেকে এসেছে। সে তাদের মতো ভাষাতেই কথা বলছে। কিন্তু তার বলা কথা, ভাবা বিষয় সবই অন্য।

পোড়ামাটির গ্রাম- সপ্তম পর্ব Read Post »

কাহিনি, ধারাবাহিক উপন্যাস
bipasar tire prothom parbo

বিপাশার তীরে -১ম পর্ব

দিগন্তের শেষ সীমা রক্তিম বিদায় জানিয়েছে সূর্য দেবতাকে। বিপাশা নদীর ধারে সোমরাং তখনও বসে অপেক্ষা করছে একটু পরেই হয়তো সে আসবে। ক্লান্ত অবসন্ন চোখে ঘোড়াটার গায়ে হাত রাখবে। তারপর নিজেকে সঁপে দেবে বিপাশার জলে। দীর্ঘ গৌর গাত্রবর্ণ লালচে কালো দেখাবে আকাশের রঙের জন্য। পেশিগুলো যেন পাথর কুঁদে নির্মাণ করেছেন বিধাতা। সে জল থেকে উঠে ভিজে শরীর উন্মুক্ত করে পোষাক বদলাবে তখন সোমরাং নিজেকে বড় পাথরটার নিচে পুরোপুরি লুকিয়ে নেয় তাকানোর সাহস হয় না তার। ঘোড়ার চলার আওয়াজ আসতেই আবার মাথাটা তোলে সে তখন পিছন ফিরে চলে যাচ্ছে সেনা শিবিরের দিকে। সোমরাং এরপর হাঁটা শুরু করে। ওদের গ্রামের আশেপাশে এর আগে কখনো সেনা আসেনি। পাইন গাছে ঘেরা বিপাশার তীরে গ্রামখানি ছবির মত সুন্দর সকলের বাড়িতেই প্রায় রয়েছে সেবফল ও দারিমের গাছ। তবে প্রবদর গাছ সোমরাং এর সবচেয়ে প্রিয়। তাদের বাড়ির চারিপাশে প্রবদরে ঘেরা। বছরের শেষে যখন প্রিয় বসন্তকাল পাহাড়ের কোল জুড়ে ফুলের বাহার তখন প্রবদরের শোভায় মন ব্যাকুল হয়ে ওঠে। সারা উপত্যকা জুড়ে সাদার সাথে হালকা গোলাপি রঙের ফুল। যৌবন যেন উছলে উঠে গ্রামটির। মৃদু খসখস শব্দে সচেতন হয়ে ওঠে সোমরাং। দুহাতে ভর দিয়ে মাথাটা সামান্য উঁচু করে কিন্তু কাউকে দেখতে পায় না। অন্ধকার ঘনিয়ে আসছে পাইনের ঋজু শরীরে। মায়ের কাছে বকুনি জুটবে খুব। বারবার মা বলেছে, শেষ আলো পায়ে নিয়ে ফিরবে না সোম, আগে ফিরবে। শেষের আলোতে বিপদ লুকিয়ে থাকে। মায়ের মন হাজার কু সংস্কারে ভরা। সোমরাং বাবার কাছে পড়ে। ওর বাবা যে পণ্ডিত। পায়ে হেঁটে বহু দূরে দূরে পুজোপাঠ করতে যান ওর বাবা।

বিপাশার তীরে -১ম পর্ব Read Post »

কাহিনি, ধারাবাহিক উপন্যাস
poramatir6th

পোড়ামাটির গ্রাম – ষষ্ঠ পর্ব

দূর দিগন্ত থেকে যখন অশ্বারোহীরা আসে, তখন আলাদা করে চেনা যায় না, তারা মারাঠা না সুলতান না রাষ্ট্রকূট বংশের। একটা ধোঁয়ার কুণ্ডলী এগিয়ে আসতে থাকে। বাড়ির চারপাশে মাটির মধ্যে ক্রমাগত একটা গুড়গুড় ধ্বনি। গাছগুলিও কাঁপতে থাকে। শস্যখেত বিমর্ষ হয়ে যায়। কারণ যে কোনও মশালের ফুলকি গোটা খেত পুড়িয়ে নষ্ট করে দিতে পারে। কত খেত যে জ্বলে গেছে, কত মাটিকে যে ওরা অনুর্বর করে দিয়েছে, কত প্রাকৃতিক বাঁধ যে এরা ভেঙে দিয়ে প্লাবিত করে দিয়েছে খেত- ভাবলেই বুকের মধ্যে একটা ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়। একটা শূন্যতার জায়গা তৈরি হয়। কিন্তু এখন এই অঞ্চলে আর কারাই বা আসবে। কেনই বা আসবে। আসছে নিশ্চয় মুসলমান শাসকের সেনা। এই তো গোয়ালপাড়ার যুদ্ধে নিজের বাবা সিকান্দর শাহকে হত্যা করে মসনদে বসেছে ইলিয়াস শাহী রাজবংশের শাসক গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ। লোকে বলে ইনি নাকি সবচেয়ে শক্তিশালী সম্রাট। এই সময়ে তিনি চিনের মিং সাম্রাজ্যের সঙ্গে কথাবার্তা বলছেন। চুক্তি করছেন। বাংলা কি তবে পুরোপুরি ভাবে মুসলিম শাসকদের আওতাতেই চলে গেল।

পোড়ামাটির গ্রাম – ষষ্ঠ পর্ব Read Post »

কাহিনি, ধারাবাহিক উপন্যাস
paap19

পাপ – পর্ব ১৯

মেজ জ্যেঠাইমা চুপিচুপি বেদেনী বুড়ির থেকে যোগাড় করা শেকড় আর কিছু কালো কালো বড়ি দিয়ে গেল। শেকড় গুলো শরীরের ভেতরে পুঁতে দিলে আমার পাপ গলে গলে বের হয়ে আসবে। বড়ি গুলো এই পাপের আত্মা পর্যন্ত পুড়িয়ে ঝামা করে দেবে। আর কখনো সে কোন বিধবা বা কুমারীর গর্ভে অনধিকার আশ্রয় নেওয়ার সাহস করবে না । সমাজের ব্যাভিচার তো থামবে না । মানুষের কুপ্রবৃত্তি রোখা ভগবানেরও অসাধ্য। 

পাপ – পর্ব ১৯ Read Post »

কাহিনি, ধারাবাহিক উপন্যাস
poramatir gram 5th

পোড়ামাটির গ্রাম – পঞ্চম পর্ব

ট্রেনের দুলুনিতে কখন যে ঘুম এসে গেছে মৃন্ময়ের, তা সে নিজেই জানে না। ঘুম ভাঙতেই তার মনে হল, এ কোথায় সে এসেছে, কেনই বা এসেছে। কারণ যেখানে সে পড়ে আছে, তা একটা খেতের আলপথ। তবে কি ট্রেন থেকে তাকে ছুঁড়ে ফেলা হয়েছে? এমন তো হওয়ার কথা নয়। সে তো ঘুমিয়েই পড়েছিল স্বপ্ন দেখবে বলে। স্বপ্নের মধ্যে সূত্রধর পাল এসে তাকে বলত, আর সে সেখানে নেমে যেত। ডাক তো সে শুনতে পেয়েছিল। কিন্তু এখানে তো ট্রেনের চিহ্নমাত্র নেই।

পোড়ামাটির গ্রাম – পঞ্চম পর্ব Read Post »

ধারাবাহিক উপন্যাস
paap18

পাপ -পর্ব ১৮

চিঠিটা শেষ পর্যন্ত লিখতে পেরেছিলাম অনেক কষ্টে। অশৌচ বাড়ি বলে পুরুষ মানুষেরা একটা ঘরে বিচালি বিছিয়ে তার ওপর কম্বল পেতে এক সঙ্গে শুচ্ছিল। জায়েরা তো আমাকে গ্রহণ করতে পারছিল না , তাই আমি আর ওদের সঙ্গে একসঙ্গে বসে গল্পে যোগ দিচ্ছিলাম না। সেদিনের পর আর ওদের সঙ্গে কথা বলার প্রবৃত্তি হয়নি। খুব কেজো কথা ছাড়া ওরাও আমার সঙ্গে কথা বলতে আগ্রহী হয়নি। এক সুযোগে দুপুরে সবার অলক্ষ্যে শৈলেন বাবুর ঘরে ঢুকে একটা নীল রঙের চিঠির কাগজ আর পোষ্ট কার্ড নিয়ে এলাম । হব্যিষ‍্যি দিতে আসা এক প্রতিবেশিনীর হাতে দিয়ে অনুরোধ করেছিলাম যেন সেটা ডাক বাক্সে দেওয়া হয়। পরে জেনেছিলাম সে চিঠি ঠিকানায় পৌঁছায় নি। হয়তো অতি কৌতূহল বসত আঠা খুলে পড়ে দেখতে গিয়ে সেখানা আর পাঠানোর যোগ্য ছিল না।

পাপ -পর্ব ১৮ Read Post »

কাহিনি, ধারাবাহিক উপন্যাস
poramatir gram 4th

পোড়ামাটির গ্রাম – চতুর্থ পর্ব

দুপুরের নীরবতা ভেদ করে কোথা থেকে যেন কুবোপাখির ডাক ভেসে আসছে। নিরন্তর ডাক। যেন এক দীর্ঘ অন্তর্গত কথোপকথন। কার সঙ্গে সে কথা বলে চলেছে, তা কেউ জানে না। আরও গভীরে, খেতের আল থেকে পশ্চিম দিকে যে রাস্তাটা গভীর জঙ্গলের মধ্যে এঁকেবেঁকে অদৃশ্য হয়েছে, সেই রাস্তা ধরে একটু এগিয়ে গেলেই এমন এক রহস্যাবৃত জঙ্গল, যেখানে দিনে, রাতে সবসময় ঝিঁঝিঁ পোকার এক সঙ্গীতময় আকুল কান্না শুনতে পাওয়া যায়। ঝোপের পাশে যে ঝিম ধরা ঠান্ডা বাতাস ছুটে আসে, সেই শ্যাওলাগন্ধের বাতাসে ঘোর লেগে যায়। দুপুর হলেও, বাংলার এই গভীর জঙ্গলের মদহ্যে তার রোদ্দুরের একফালিও এসে পড়ে না। অথব হয়তো পড়ে, অনেক উচ্চে, বনস্পতির পত্ররাশির উপর।

পোড়ামাটির গ্রাম – চতুর্থ পর্ব Read Post »

কাহিনি, ধারাবাহিক উপন্যাস
paap 17

পাপ – পর্ব ১৭

বেলা বাড়তে না বাড়তে বাড়িতে পাড়ার লোক ভেঙে পড়লো। মৃতার শরীর একটা শীতল পাটিতে করে তুলসী তলায় নামানো হয়েছে, মাথার কাছে মাটি সুদ্ধু তুলসী চারা। যত্ন করে চন্দনের ফোঁটা দিয়ে কপাল সাজিয়ে দিয়েছে কেউ। চোখের ওপর তুলসী পাতা। পাড়ার ছেলেরা বাঁশ কেটে চালা তৈরী করছে। শব দেহের দুর্গন্ধ চাপা দেয়ার জন্য অগরু ছড়ানো হচ্ছে, গোছা গোছা ধুপকাঠি ধরানো হয়েছে। 
বাড়ির বড় আর মেজ ছেলেরা খবর পেয়ে তড়িঘড়ি নিজের নিজের পরিবার নিয়ে চলে এসেছে। দেহ ঘর থেকে বের করার আগে মৃতাকে গঙ্গা জল খাওয়ানোর হিড়িক পড়ে গেল । শেষ সময় কে ছিল, মুখে জল দেওয়া হয়েছিল কিনা। অবস্থা এত খারাপ তাও কেন খবর দেওয়া হয় নি … এসব দোষারোপ চলতেই থাকলো। পাড়ার মহিলারাও তাতে যোগ দিল । আমি ওখান থেকে সরে এসে নিজের ঘরে দোর বন্ধ করে মেঝেতে বসলাম । উঠোনে সমস্বরে চিৎকার করে কান্নাকাটি শুরু হয়েছে, রোদনকারীনিদের কারও গলা আমার পরিচিত নয়।

পাপ – পর্ব ১৭ Read Post »

কাহিনি, ধারাবাহিক উপন্যাস
Scroll to Top