বিপাশার তীরে -১ম পর্ব
দিগন্তের শেষ সীমা রক্তিম বিদায় জানিয়েছে সূর্য দেবতাকে। বিপাশা নদীর ধারে সোমরাং তখনও বসে অপেক্ষা করছে একটু পরেই হয়তো সে আসবে। ক্লান্ত অবসন্ন চোখে ঘোড়াটার গায়ে হাত রাখবে। তারপর নিজেকে সঁপে দেবে বিপাশার জলে। দীর্ঘ গৌর গাত্রবর্ণ লালচে কালো দেখাবে আকাশের রঙের জন্য। পেশিগুলো যেন পাথর কুঁদে নির্মাণ করেছেন বিধাতা। সে জল থেকে উঠে ভিজে শরীর উন্মুক্ত করে পোষাক বদলাবে তখন সোমরাং নিজেকে বড় পাথরটার নিচে পুরোপুরি লুকিয়ে নেয় তাকানোর সাহস হয় না তার। ঘোড়ার চলার আওয়াজ আসতেই আবার মাথাটা তোলে সে তখন পিছন ফিরে চলে যাচ্ছে সেনা শিবিরের দিকে। সোমরাং এরপর হাঁটা শুরু করে। ওদের গ্রামের আশেপাশে এর আগে কখনো সেনা আসেনি। পাইন গাছে ঘেরা বিপাশার তীরে গ্রামখানি ছবির মত সুন্দর সকলের বাড়িতেই প্রায় রয়েছে সেবফল ও দারিমের গাছ। তবে প্রবদর গাছ সোমরাং এর সবচেয়ে প্রিয়। তাদের বাড়ির চারিপাশে প্রবদরে ঘেরা। বছরের শেষে যখন প্রিয় বসন্তকাল পাহাড়ের কোল জুড়ে ফুলের বাহার তখন প্রবদরের শোভায় মন ব্যাকুল হয়ে ওঠে। সারা উপত্যকা জুড়ে সাদার সাথে হালকা গোলাপি রঙের ফুল। যৌবন যেন উছলে উঠে গ্রামটির। মৃদু খসখস শব্দে সচেতন হয়ে ওঠে সোমরাং। দুহাতে ভর দিয়ে মাথাটা সামান্য উঁচু করে কিন্তু কাউকে দেখতে পায় না। অন্ধকার ঘনিয়ে আসছে পাইনের ঋজু শরীরে। মায়ের কাছে বকুনি জুটবে খুব। বারবার মা বলেছে, শেষ আলো পায়ে নিয়ে ফিরবে না সোম, আগে ফিরবে। শেষের আলোতে বিপদ লুকিয়ে থাকে। মায়ের মন হাজার কু সংস্কারে ভরা। সোমরাং বাবার কাছে পড়ে। ওর বাবা যে পণ্ডিত। পায়ে হেঁটে বহু দূরে দূরে পুজোপাঠ করতে যান ওর বাবা।
বিপাশার তীরে -১ম পর্ব Read Post »
কাহিনি, ধারাবাহিক উপন্যাস
