মার্ডার অন দ্য ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেস
এরকুল: (পরের পাসপোর্ট হাতে নিয়ে) দেখা যাক। ধৈর্য আমাদের ধরতেই হবে। এবার মিস ডেবেনহ্যামের পালা।
মেরি ডেবেনহ্যাম ডাইনিং কোচে প্রবেশ করলেন। এক কথায় সুন্দরী, কিন্তু হাবভাব ও পোশাকে উগ্রতা নেই। ব্যক্তিত্বশালিনী। এরকুল ও মঁসিয়ে বুঁ উলটোদিকের চেয়ারে বসলেন। প্রাথমিক সম্ভাষণের পালা শেষ হলো।
এরকুল: আপনি মেরি হারমিয়ন ডেবেনহ্যাম, বয়স ছাব্বিশ?
ডেবেনহ্যাম: (সম্মতিসূচক ঘাড় নেড়ে) হ্যাঁ।
এরকুল: ব্রিটিশ?
ডেবেনহ্যাম: হ্যাঁ।
এরকুল: দয়া করে যদি এই কাগজটায় আপনার নাম-ঠিকানাটা একটু লিখে দেন।
ডেবেনহ্যাম কাগজ টেনে নিয়ে লিখলেন, হাতের লেখাও বেশ চমৎকার।
এরকুল: সবাইকেই জিজ্ঞাসা করছি, সেই কারণেই আপনাকে—গতকাল রাত্রে ডিনারের পর কোথায় কোথায় ছিলেন এবং কী কী করছিলেন, সে সম্পর্কে যদি বলেন?
ডেবেনহ্যাম: তেমন কিছুই নয়। ডিনার শেষ করে নিজের কামরায় ফিরে যাই এবং শুয়ে পড়ি।
এরকুল: আচ্ছা ম্যাডাম, আপনি যে ট্রেনে ট্রাভেল করছেন, সেই ট্রেনে গতকাল রাত্রে একটা খুন হয়ে গেল। ব্যাপারটা বেশ ভয়ের না?
ডেবেনহ্যাম: (একটু থমকে গিয়ে) আপনার প্রশ্নটা ভালো বুঝলাম না।
এরকুল: আমি বলতে চাইছি, ট্রেনে এমন একটা ভয়ংকর খুনের ঘটনায় আপনি কি কোনওরকম নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন?
ডেবেনহ্যাম: না না, এই দিক থেকে ব্যাপারটা আমি ভাবিইনি। তবে এটুকু বলতে পারি, আমি তেমন নিরাপত্তার অভাব বোধ করছি না।
এরকুল: খুনের মতো একটা ব্যাপার, সেটাও আপনার কাছে অস্বাভাবিক তেমন কিছু মনে হচ্ছে না?
ডেবেনহ্যাম: না না, ব্যাপারটা খুবই সাংঘাতিক ও বীভৎস।
এরকুল: আপনি দেখছি এক্কেবারে পাক্কা ইংরেজ, অযথা আবেগে ভেসে যান না।
ডেবেনহ্যাম: (একটু হেসে) না না, তেমনটা নয়। তবে কোনও ব্যাপার নিয়েই হইচই করে পাড়া মাথায় করাটা আমার ঠিক পোষায় না। আর তাছাড়া কথাতেই আছে, জন্মিলে মরিতে হবে—
এরকুল: স্বাভাবিক মৃত্যু আর খুন দুটো তো আর এক হতে পারে না।
ডেবেনহ্যাম: হ্যাঁ হ্যাঁ, সে অবশ্য বটেই।
মার্ডার অন দ্য ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেস Read Post »
অনুবাদ, ধারাবাহিক উপন্যাস










