পাপ- পর্ব ৮
কঙ্কার কথা শুনে আমি যেন আকাশ থেকে পড়লাম, “সে কী! ওঁর বিয়ে হয়েছে?”
কঙ্কার কথা শুনে আমি যেন আকাশ থেকে পড়লাম, “সে কী! ওঁর বিয়ে হয়েছে?”
“এদিকে নয়, এদিকে নয় গো হুই কোনে রাখ দেখি, আবার মন্ডা মেঠাই আনা ক্যানো বাপু!
শরীরের কলকব্জাগুলো সবার ক্ষেত্রেই সমানভাবে কাজ করে। বিধাতা পুরুষ বোধহয় এতোটাও করিতকর্মা নন যে সধবা আর বিধবার শরীর আর মন আলাদাভাবে গড়বেন। সেটা হতো যদি বিধবাদের তিনি নিজে আলাদাভাবে সৃষ্টি করতেন, তারা সমাজের দ্বারা সৃষ্ট না হতো।
খুব ধীরে পরিবর্তনের হাওয়া গ্রামগুলোতে ছড়িয়ে পড়ছিল। তিন্নি আর বিন্নিকে ওদের মামার বাড়ি পাঠানো হল ইস্কুলে পড়াশোনা শেখানোর জন্য।
একদিন নতুন বউ চুপিচুপি আমাকে ডেকে বলল, “একটা জিনিস তোমাকে দেখাব, কাউকে কিন্তু বোল না।
বাড়ির অসংখ্য মানুষের মধ্যে এই নতুন মানুষটা কেমন করে যেন আমার মন একটু একটু করে দখল করতে শুরু করেছিল।
এ পোড়ার দেশে বিধবারা একটা আলাদা জাত। ছাই ফেলতে ভাঙা কুলো বলে একটা কথা আছে না? আমরা বিধবারা হলাম গিয়ে তাই। সেই শৈশব থেকে থেকে দেখছি এই সমাজ মাঙ্গলিক কোনো আচার থেকে শত হস্ত দূরে রাখলেও গায়ে গতরের খাটনি গুলো সবাই বেশ করিয়ে নিত। মাথার সিঁদুর খুইয়ে কত গুলো বর্ণহীন জীবনের মানুষের সঙ্গে এক সারিতে দাঁড়িয়ে পড়েছিলাম।
বেশ কয়েকটা যুগ পার হয়ে গেল তোমাদের হিসেবে। প্রথম দিকে বিনির সঙ্গে দেখা হতো কিন্তু ও আর আসে নাকো। হয়তো বা নতুন কারো ঘরে গেছে নতুন করে বাঁচবে বলে কিন্তু আমার যে কেন কোন গতি হয় না কে জানে। বিনি … আমাদের বিনি, চিরটা কাল মেয়েটা দাপিয়ে বাঁচার চেষ্টা করেছে।