একদিন নতুন বউ চুপিচুপি আমাকে ডেকে বলল, “একটা জিনিস তোমাকে দেখাব, কাউকে কিন্তু বোল না। তোমার দাদা মানা করে দিয়েছে বলতে। এই তোমাকেই বিশ্বাস করে বলছি।”
হলুদ আর লাল রঙে রাঙানো নতুন তোরঙ্গ খুলে অনেকগুলো বই-খাতা বের করে পালঙ্কে রাখলো। আজকাল রোজই ও আমাকে টেনে নিয়ে এসে গল্প করে। আমিও যাই। হয়তো বাপের বাড়ির জন্য ওর মন খারাপ লাগে, তাই নানান গল্পে নিজেকে ভুলিয়ে রাখতে চায়।
—এই বইটা দেখ, ঠাকুরঝি, এটা ইতিহাস বই, এইখানা ভূগোল। গণিত শিখেছো ঠাকুরঝি? সুদকষা কিংবা ভগ্নাংশ?
ওর কথা শুনে আমি হেসে ফেললাম, “নারে বউ, জীবনে কোনো অঙ্ক শিখিনি রে। আমার জীবনের সব অঙ্ক শুরুতেই সেলেট থেকে মুছে গেছে।”
মুখটা করুন করে নতুন বউ বলল, “ও সব কথা বলো না ঠাকুরঝি, ও যা হওয়ার হয়ে গেছে। আমি তোমাকে শেখাব, যতটুকু নিজে শিখেছি। জানো, আমার না একা একা পড়তে একদম ভালো লাগে না, রোজ দুপুরে আসবে তুমি? জানো তো, আমাদের দিদিমণি বলেন, লেখাপড়ার মতো বন্ধু আর হয় না। তোমার দাদা বলেছেন, আমাকে ম্যাট্রিক পরীক্ষা দেওয়াবে, কলেজে পড়াবে। এখন কাউকে বোলো না কিন্তু।”
ওর গা থেকে এখনো গায়েহলুদের গন্ধ যায়নি। নতুন ভালোবাসা, শ্বশুরবাড়ির থেকে দূরে স্বাধীনভাবে ঘর বাঁধা, স্বপ্নপূরণের স্বপ্ন দু-চোখে মাখা। ওর আলো-মাখা স্বপ্নবিষ্ট মুখের দিকে মুগ্ধ হয়ে চেয়েই ছিলাম। চমক ভাঙল বিনির ডাকে,
“পুঁটি, এই পুঁটি! বলি, কোথায় গেলি হতচ্ছাড়ি?”
ধড়মড় করে পালঙ্ক থেকে নেমে পড়লাম, বিনি এসেছে। বউয়ের মুখখানা দু-হাতে ধরে বললাম, “আজ আসি বোন, আমার সই এসেছে।”
বউ বলল, “ওমা, সেকি! তোমার সই এসেছেন! তাঁকেও ডাকো না গো?”
ওর গালে হাত বুলিয়ে বললাম, “আজ থাক বউ, পরে নাহয় ওর সঙ্গে আলাপ করবি, গপ্পো করবি।”
রেশমের ঘিয়ে রঙের হালকা পর্দা সরিয়ে ওর ঘর ছেড়ে বেরিয়ে এলাম। মাঝ-উঠোনে বিনি দু-হাত কোমরে রেখে কটমটিয়ে চেয়ে আছে। আমাকে দেখে ভ্রু কুঁচকে বলে উঠল, “কী লো পুঁটি, নতুন সই পেলি বুঝি? ওই বিদ্যেধরি বুঝি আমার চেয়েও আপন হলো? মরণ আর কি!”
খুব মিঠে লাগলো ওর হিংসেটুকু, বড় ভালো লাগলো।
সারাদিনের অজস্র কাজের মধ্যে ভেতর থেকে একটু একটু করে বদলে যাওয়া নিজের মধ্যে ঘুমিয়ে থাকা মানুষটাকে আমি আর শুধুমাত্র ‘মেয়েমানুষ’ বলে চিনতে পারছিলাম না। মেয়েমানুষের জন্য বেঁধে দেওয়া নির্দিষ্ট গণ্ডির বাইরে কখন যেন নিঃশব্দে পা রেখেছিলাম। তবে তা একার ক্ষমতায় নয়। বাপের বাড়ির সহায়তায় নতুন বউ নিজেই সে গণ্ডি অতিক্রম করেছিল অনেক আগেই। যারা প্রকৃত আলোর সন্ধান পান, তাঁরা কখনোই সে উজ্জ্বল অথচ স্নিগ্ধ আলো নিজের ক্ষুদ্র পরিসরে বেঁধে রাখতে, কুক্ষিগত করে রাখতে পারেন না, করতে চান না। নতুন বউয়ের চোদ্দো বছরের জীবনখানি শিক্ষার আলোয় আলোকিত হচ্ছিল। কিভাবে আমার হৃদয়ের শূন্যতা তাকে স্পর্শ করেছিল, কে জানে! সে সেই জাদুকাঠির ছোঁয়া আমার মনে বুলিয়ে দিয়ে গেল।
রোজের জীবন যেমন চলছিল, চলতে লাগল। সংসারের হাজার কাজের মধ্যে ডুবে থেকেও আমি বদলে যাচ্ছিলাম। অপেক্ষা করে থাকতাম নতুন বউয়ের জন্য, কখন সে দুপুরবেলায় ডাক দেয়। সব কাজ ফেলে আমি শিখতাম সিঁড়িভাঙা অঙ্ক, সুদকষা। শিখতাম ইংরেজি, ভূগোল, ইতিহাস, এমনকি বিজ্ঞান পর্যন্ত। সংসারে এ নিয়ে গোল বেধেছিল বৈকি! কিন্তু তা ধোপে টেকেনি ছোটদার জন্য। সে কলকাতা থেকে বেশ রোজগার করছে। কে না জানে, রোজগেরে মানুষকে সমীহ করতে হয়। ছোটদা নতুন বউয়ের কাছে আমার লেখাপড়া শেখা শুধু সমর্থন করল না, কলকাতা থেকে দুজনের জন্য বই-খাতা কিনে আনত। এই দুজন মানুষের সাহায্যে দু-বছরে আমি অনেক কিছু শিখে ফেলেছিলাম। ক্ষুধার্ত প্রাণী যেমন গোগ্রাসে আহার করে, আমিও সময় পেলেই পড়তাম, লিখতাম। নতুন বউ প্রশংসা করে বলত, “তুমি খুব মেধাবী ঠাকুরঝি। মাথা খুব পরিষ্কার। পড়াশোনা চালিয়ে গেলে তোমার অনেক উন্নতি হবে। গণিত আর বিজ্ঞানে এমন মেধা সচরাচর দেখা যায় না।”
তখন খুব খুশি হলেও পরে ব্যাপারটা ভেবে খুব হাসি পেত। নতুন বউ তো তখন কিশোরী মাত্র। জগতের কতটুকুই বা সে দেখেছে? তবে সবকিছুর মধ্যে আমাকে আকর্ষণ করত কাব্য। আরও স্পষ্ট করে বলতে গেলে বলতে হয়, রবিঠাকুরের সৃষ্টিগুলো। আমার দিন-রাতগুলো আনন্দে ডুবে থাকত। নতুন বউয়ের চেহারায় শিক্ষার যে সৌন্দর্য ফুটে উঠত, সে সৌন্দর্য আমার চেহারাতেও আলো ছড়িয়েছিল। এ রূপ গায়ের রঙের বা চোখ-নাক-মুখের নয়। আমার রূপ ওর সপ্রশংস দৃষ্টিতে দেখে নিতাম, বড় ভালো লাগত।
বটবৃক্ষের মতো কিছু প্রাচীন থাকেন, শারীরিকভাবে সক্ষম না হলেও তাঁদের নির্দেশেই সংসারের চাকাটা সচল থাকে। কিন্তু সাধারণত তাঁরা কেউই মেয়েমানুষ নন। কারণ জগৎ মেয়েমানুষের কাছে কোনো পরামর্শ চায় না, বুদ্ধি তাদের ঘটে থাকে না। রান্নাবান্না করা, আচার দেওয়া, নাড়ু-মুড়কি বানানো, বছর বছর বাচ্ছা বিয়ানো আর কোন্দল করা ছাড়া তাদের দ্বারা কোন কাজটা হয়? মেয়েমানুষের অস্তিত্ব ধর্তব্যের মধ্যে রাখা হয় না। তাই পিসি-ঠাকুমা যখন ভোররাতে নিঃশব্দে চলে গেল, আমি ছাড়া আর কেউ জানতে পারলো না। কার্তিক মাসে বাড়িতে কালীপুজোর ভারী-ভারী বাসন-কোসন সিন্দুক থেকে বের করতে গিয়ে মাথা ঘুরে, সেই যে পরে গিয়েছিল, আর ওঠতে পারেনি। বিধবা মানুষ, তাই তার দায়িত্ব আর এক শক্তসমর্থ বিধবা ছাড়া কে নেবে? খুব সামান্য খাওয়া-পরার বিনিময়ে যে মানুষটা সারাটা জীবন সংসারে দান করলো, তার কোনো অভাব কেউই বোধ করলো না। তিক্ত ও কটুভাষিণী বলে কারও চোখে জল এলো না। অনেক কষ্টে শ্বশুরবাড়ির এক শ্রাদ্ধাধিকারীকে ডেকে এনে মুখাগ্নি ও পারলৌকিক কাজ করানো হলো কিছু অর্থের বিনিময়ে। কোনো পক্ষেরই তাতে শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার ছিটেফোঁটাও ছিল না। সবাই জানত যে পিসি-ঠাকমার ফেলে যাওয়া অপ্রয়োজনীয় জায়গাটা শূন্য থাকবে না।
কিন্তু এই ঘটনার পর বাড়িতে যেন মৃত্যুমিছিল শুরু হয়ে গেল। প্রথমে মা, তারপর ছয়মাস পর বাবামশাই গেলেন। ঠিক তার দেড় বছরের মাথায় বড়জেঠামশাই চলে গেলেন। বড়জেঠামশায়ের মৃত্যু এই একান্নবর্তী পরিবারের ভিত নড়বড়ে করে দিল। যে জীর্ণ মানুষটা এতগুলো মানুষকে শাসনে বেঁধে রেখেছিলেন, তার বাঁধন যে কত মজবুত ছিল, সেটা এবার বোঝা গেল।
পিসি ঠাকুমা বিছানায় পড়ার পর তার সেবাযত্ন আমিই করতাম। মানুষটার জ্ঞান ছিল না। আতপ চালের ভাত অনেক জল দিয়ে ফুটিয়ে-ফুটিয়ে লেই করে অনেক কষ্টে ছোট ছেলেদের ঝিনুকে করে খাওয়ানোর চেষ্টা করতাম। তিন-চার ঝিনুক খাওয়াতেই অনেক সময় লাগত। এ তো গেল দিনের বেলা খাওয়ানোর কথা। রাতে দুধ-খই কেমন করে খাওয়াবো ভেবে না পেয়ে শুধু দুধই দিতাম। আমার চোখের সামনে মানুষটা ক্ষীণ হতে হতে তোষকে মিশে গেল। একদিন সন্ধেবেলায় হেঁচকি তুলতে-তুলতে চোখ খুলে আমার মুখের দিকে তাকালেন। যেন সম্পূর্ণ জ্ঞান ফিরে এল। আমি মুখের কাছে প্রদীপ ধরে বললাম, “ও পিসি ঠাকমা, কিছু বলবে? তোমার খুব কষ্ট হচ্ছে?”
ক্ষীণ কিন্তু স্বাভাবিক গলায় বললেন, “কষ্ট হচ্ছে, কিন্তু আর হবে না। ওরা আমাকে নিতে এসেছে।”
আমি ঘাড় ঘুরিয়ে চারপাশ দেখে বললাম, “কই, কারা এসেছে? কেউ তো নেই!”
পিসি ঠাকমা যেন একটু লজ্জা পেল, বলল, “ওই যে উনি এসেছেন, সাত জন্মের বাঁধন কিনা! বাবামশাই এসেছে, মা এসেছে…”
পিসি ঠাকমা জড়ানো গলায় অনেকের নাম বলে যাচ্ছিলেন, কিন্তু তাদের নাম আমি আগে কখনো শুনিনি। মানুষগুলোকে আমি আদৌ চিনি না। বুঝলাম, তারা সবাই মৃত।
একা ঘরে এবার আমি ভয় পেলাম, তারপর খানিকটা সময় পার হলে আমার স্বাভাবিক বুদ্ধি ফিরে এল। বুঝলাম, বিকারের ঘোরে এমন কথা বলছেন। প্রদীপটা ঘরে রেখে ছুটে উঠোনে বেরিয়ে গেলাম। এখুনি কবরেজকে খবর দেওয়ার দরকার। বাবা আর জেঠামশায়েরা উঠোনে বসে গল্প করছিলেন। আমার কথা শুনে সবাই এল, ছোট্ট ঘরটায় ভিড় জমে গেল। কেউ একজন কবরেজ ডেকে আনল। তিনি এসে নাড়ি দেখে মাথা নেড়ে উঠলেন। সবাই একে একে মুখে গঙ্গাজল দিতে শুরু করল। মানুষটা হয়তো আরও কিছু বলতে চেয়েছিল। হয়তো তা বিকারের ঘোরেই, কিন্তু গঙ্গাজলের ঠেলায় তা আর বলা হল না। যারা কোনোদিন অসুস্থ মানুষটার ঘরে উঁকি দিয়েও দেখত না, তারাও তাদের শেষ কর্তব্য সুচারুরূপে সম্পন্ন করল। ঠোঁটের পাশ দিয়ে গঙ্গাজল গড়িয়ে পড়ে রোগীর বালিশ-বিছানা ভিজে গেল। অবশ্য বেশিক্ষণ তাঁকে এ অত্যাচার সইতে হল না। ভোর হওয়ার আগেই কোনো সময় শেষ নিঃশ্বাস বেরিয়ে গেল, কেউ বুঝতে পারল না, নিঃশব্দে এক যুগের অন্ত হল।
বেশ কিছুদিন হয়েছিল নতুন বউকে ছোটদা কলকাতায় নিয়ে গিয়েছিল। সেবার ফিরে যাওয়ার সময় বউ নিজের সব বইগুলো আমাকে দিয়ে যেতে চেয়েছিল। আমি শুধুমাত্র গীতাঞ্জলিটা চেয়ে নিয়ে ছিলাম। পরে দু-একবার এসে আমাকে বঙ্কিমচন্দ্র, শরৎচন্দ্র আর রবিঠাকুরের কিছু উপন্যাসও দিয়ে গেছে। ও যখনই শ্বশুরবাড়ি আসে, সবার জন্য কোনো-না-কোনো উপহার আনে, কিন্তু আমার জন্য কেবলমাত্র বই।
আমাদের বাড়িতে একজনের ঠাঁই হয়েছিল, সেও পূর্ববঙ্গ থেকে পালিয়ে এসেছিল, নাম প্রভাস সাহা। ও নাকি ডাক্তারি পড়তো, কিন্তু ভাগ্যবিপর্যয়ে পড়া শেষ করতে পারেনি। এ গাঁয়ে এসে আত্মীয়ের বাড়িতে উঠেছিল, কিন্তু তারাই বা কতদিন বসিয়ে খাওয়াবে। শেষে আমাদের বাড়ির ছোট-ছোট ছেলেপুলেদের জন্য তাকে থাকা-খাওয়া দিয়ে মাস্টার রাখা হলো। সঙ্গে জমি-জিরেতের আর খাজনার হিসাব-পত্রের কাজও করিয়ে নেওয়া হতো। মাইনে নগদ সাত টাকা। কখনো-কখনো পুকুরে যাওয়ার রাস্তায় তাকে দেখতে পেতাম, শশব্যস্তে রাস্তা ছেড়ে দাঁড়াতো। প্রথমে ভাবতাম সে নিচুজাত, তার ওপর আমি তার অন্নদাতার পরিবারের লোক, সেই কারণেই বুঝি অমন ধারা করতো। কিন্তু পরে ভুল ভেঙেছিল, তার স্বভাবই এমন… সে শিক্ষিত এবং ভদ্র।
খুব ভোরে ওঠা আমার বরাবরের অভ্যাস। শীত-গ্রীষ্ম সব ঋতুতেই ভোরে উঠে প্রাতঃকৃত্য সেরে একেবারে পুকুরে ডুব দিয়ে ঘরে আসতাম। একদিন স্নান করব বলে পুকুরের কাছে এসে শুনলাম কেউ রবিঠাকুরের ‘নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ’ ভরাট গলায় আবৃত্তি করছে—
“আজি এ প্রভাতে রবির কর
কেমনে পশিল প্রাণের পর,
কেমনে পশিল গুহার আঁধারে
প্রভাতপাখির গান!”
এমন মানুষ আমি প্রথম দেখলাম, যিনি রবিঠাকুরের কাব্য প্রণামের মন্ত্র হিসেবে উচ্চারণ করছেন। ভোরের আকাশে সবে লাল রং লেগেছে, পাখিদের কলকাকলিতে চরাচর জেগে উঠছে। বউ আমাকে কবিতাটা পড়া শিখিয়ে দিয়েছিল, নিজের অজান্তেই মুখ থেকে বেরিয়ে গেল— না জানি কেন রে এত দিন পরে জাগিয়া উঠিল প্রাণ…
সেই ব্যক্তি পেছন ফিরলো… প্রভাস মাস্টার! আগে কখনো তাঁর দিকে ভাল করে চেয়ে দেখিনি। গৌরবর্ণ, সুন্দর সুগঠিত শরীর। মুখখানাও সুন্দর, বড়-বড় টানা-টানা চোখে মুগ্ধ দৃষ্টি। সদ্য স্নাত, ভেজা গামছাটা গায়ে জড়ানো, আর চোখে-মুখে বিস্ময়।
—“এ আপনি জানলেন কী করে?”
পরক্ষণেই নিজেকে সামলিয়ে বললেন, “দুঃখিত, ক্ষমা করবেন, আসলে আমি আশা করিনি।”
কোনো উত্তর না দিয়ে ঘোমটাটা ভালো করে টেনে নিয়ে ঘাটে নেমে গেলাম। ছিঃ ছিঃ, ভাগ্যে কেউ দেখে ফেলেনি! চান করে কলসি কাঁখে উঠে তাঁকে আর দেখতে পেলাম না, রাস্তাতেও ছিলেন না। ঘরে ফিরে ভিজে থান ছেড়ে চৌকির ওপর বসে পড়লাম, সমস্ত শরীর থরথর করে কাঁপছে… নিজের মনের দিকে চাইবার আর সাহস হচ্ছিল না। বালিশটা বুকে জড়িয়ে ধরে নিঃশব্দে কেঁদে ফেললাম… তুই কোথায় রে বউ! এ আমার কী সর্বনাশ হলো রে!
ক্রমশ



