গত ৩০ জানুয়ারি মুক্তি পেল ডাক্তারদের বাংলা ছবি “প্রত্যাবর্তন – The Homecoming”। কলকাতা মেডিকেল কলেজের ওপর তৈরি করা এই ছবিতে প্রায় একশো জন কলকাতা মেডিকেল কলেজের ডাক্তার যুক্ত আছেন। এই ছবির গল্পলেখক, পরিচালক, প্রযোজক, অভিনেতা, অভিনেত্রী, গীতিকার, সুরকার, গায়ক, গায়িকা—সবাই কলকাতা মেডিকেল কলেজ থেকে পাশ করা ডাক্তার। ২০২৪ সালের কলকাতা মেডিকেল কলেজের ১৯০তম প্রতিষ্ঠা দিবসে (১৮৩৫ সালে যাত্রা শুরু করে এই কলেজ) কয়েকজন ডাক্তার (ডাঃ শুদ্ধসত্ব চ্যাটার্জি, ডাঃ অভীক ঘোষ, ডাঃ চিন্ময় নাথ প্রমুখ) চিন্তা করেন এমন এক বাংলা ছবির, যাতে ডাক্তারদের পড়াশোনা, সুখ, দুঃখ সব তুলে ধরা যাবে। ডাঃ অভীক ঘোষ একটা কনসেপ্ট তৈরি করে দিলেন। তার ওপর নির্ভর করে ডাঃ চিন্ময় নাথ গল্প লিখে ফেললেন।
কলকাতা মেডিকেল কলেজে পড়ার সময় সাধারণ ঘরের ছেলে প্রসূন ভালোবাসে অনিন্দিতাকে। কিন্তু অনিন্দিতার বড়লোক বাবা এই ভালোবাসাকে মর্যাদা না দিয়ে অনিন্দিতার বিয়ে দিয়ে বিদেশে পাঠিয়ে দেয়। প্রসূনও পরে বিদেশে চলে যায়। বহু বছর পরে প্রসূন দেশে ফেরে। নিজেদের বাড়ি বিক্রি করে সে তার পিসিমাকে নিয়ে বিদেশে চলে যাবে। সেখানে তার স্ত্রী আর দুই সন্তান আছে। দেশে ফিরে পুরনো বন্ধুদের সাথে দেখা হয়। কলকাতা মেডিকেল কলেজে তখন রিইউনিয়ন চলছে। অথচ কলেজে এক্স-স্টুডেন্টদের জন্য কোনো আলাদা রুম নেই। প্রসূন পিসিমাকে নিয়ে বিদেশে ফিরে যায়। নিজেদের বাড়ি কিন্তু সে বিক্রি করে না। এক্স-স্টুডেন্টদের জন্য আলাদা বিল্ডিং হিসাবে দান করে দেয়। নাম দেয় “অনিন্দিতা ভবন”। কিন্তু প্রসূন হঠাৎ “অনিন্দিতা ভবন” নাম দিল কেন? এর উত্তর পাওয়ার জন্য ছবিটা দেখতেই হবে।
শুরু হল ছবি তৈরি করার পিছনের কাজগুলো। ঠিক হল, কলকাতা মেডিকেল কলেজের পাশ-আউটদের নিয়েই এই ছবি তৈরি করা হবে। একে একে সব চরিত্রের জন্য ডাক্তারদের খুঁজে নেওয়া গেল। আটকে গেল এক জায়গায়। নায়িকা অনিন্দিতার চরিত্রের জন্য ডাক্তার খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। এমন এক মাল্টিডায়মেনশনাল চরিত্রে অভিনয় করার জন্য ডাক্তার পাওয়া দুষ্কর হয়ে যাচ্ছিল। অবশেষে পাওয়া গেল গাইনোকলজিকাল সার্জন ডাঃ পৃথা চক্রবর্তীকে। এমনিতে দু’বার বিউটি কনটেস্ট জেতা পৃথা আগে মডেলিং করলেও সিনেমায় অভিনয় এই প্রথম। তাঁর অভিনয় দেখে অবশ্য বোঝার উপায় নেই যে তিনি এই প্রথম অভিনয় করছেন। পরিচালক শুদ্ধসত্ব চ্যাটার্জি নিজে অভিনয় করলেন প্রতিষ্ঠিত প্রসূনের চরিত্রে। ছাত্র প্রসূনের চরিত্রে ডাঃ অয়ন মুখার্জি অভিনয় করতে এগিয়ে এলেন।
শুরু হল শ্যুটিং। সত্যি বলতে কী, নিজেদের পেশার ব্যস্ততা সামলে শ্যুটিংয়ের জন্য সময় দেওয়া সবার জন্যই মুশকিল হচ্ছিল। তবুও সবাই এই ছবিটার জন্য এগিয়ে এসেছিলেন। কারোরই অভিনয় দেখে বোঝার উপায় ছিল না যে এঁরা কেউ পেশাদার অভিনেতা, অভিনেত্রী নন। যে কারণে এই ছবি তা সার্থক হল দর্শকের ভালোবাসায়। তৃতীয় সপ্তাহেও ছবিটা বিভিন্ন হলে চলছে।
তবে কয়েকটা কথা বলা দরকার। ডাক্তারদের নিজেদের গড়ে ওঠার কথা বলা ঠিকঠাক হলেও গল্পের শুরুতে বড় বেশি বর্তমান আর অতীতের মধ্যে ছোটাছুটির কারণে দর্শকের পক্ষে সামঞ্জস্য রাখা মুশকিল। আরো একটা কথা, ছবির আসল সম্পদ প্রসূন আর অনিন্দিতার রসায়ন। এই রসায়নটা আরো বেশি করে দেখালে ভালো হত। বয়স্ক অবস্থার চরিত্রদের চেয়ে তরুণ, তরুণীদের সময়ের কথা আরো বেশি করে বলার দরকার ছিল। অর্থাৎ Doctors in making বলাই যদি এই ছবির মুখ্য উদ্দেশ্য হয় তাহলে বয়স্ক ডাক্তারদের গল্পের চেয়ে তরুণ ডাক্তারদের গল্প বেশি করে বলা দরকার ছিল। যাই হোক, এক কথায় “প্রত্যাবর্তন – The Homecoming” এক অন্য ধারার বাংলা ছবি।
ডাক্তারদের কথা: প্রত্যাবর্তন – The Homecoming




সত্যিই, “প্রত্যাবর্তন – The homecoming” এক অন্য ধারার ছবি। ডাক্তাররা প্রমাণ করলেন, যে রাঁধে সে চুলও বাঁধে।