বাংলা সংস্কৃতি ও সাহিত্য অন্বেষণ করুন

poramatir6th

পোড়ামাটির গ্রাম – ষষ্ঠ পর্ব

দূর দিগন্ত থেকে যখন অশ্বারোহীরা আসে, তখন আলাদা করে চেনা যায় না, তারা মারাঠা না সুলতান না রাষ্ট্রকূট বংশের। একটা ধোঁয়ার কুণ্ডলী এগিয়ে আসতে থাকে। বাড়ির চারপাশে মাটির মধ্যে ক্রমাগত একটা গুড়গুড় ধ্বনি। গাছগুলিও কাঁপতে থাকে। শস্যখেত বিমর্ষ হয়ে যায়। কারণ যে কোনও মশালের ফুলকি গোটা খেত পুড়িয়ে নষ্ট করে দিতে পারে। কত খেত যে জ্বলে গেছে, কত মাটিকে যে ওরা অনুর্বর করে দিয়েছে, কত প্রাকৃতিক বাঁধ যে এরা ভেঙে দিয়ে প্লাবিত করে দিয়েছে খেত- ভাবলেই বুকের মধ্যে একটা ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়। একটা শূন্যতার জায়গা তৈরি হয়। কিন্তু এখন এই অঞ্চলে আর কারাই বা আসবে। কেনই বা আসবে। আসছে নিশ্চয় মুসলমান শাসকের সেনা। এই তো গোয়ালপাড়ার যুদ্ধে নিজের বাবা সিকান্দর শাহকে হত্যা করে মসনদে বসেছে ইলিয়াস শাহী রাজবংশের শাসক গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ। লোকে বলে ইনি নাকি সবচেয়ে শক্তিশালী সম্রাট। এই সময়ে তিনি চিনের মিং সাম্রাজ্যের সঙ্গে কথাবার্তা বলছেন। চুক্তি করছেন। বাংলা কি তবে পুরোপুরি ভাবে মুসলিম শাসকদের আওতাতেই চলে গেল।

পোড়ামাটির গ্রাম – ষষ্ঠ পর্ব Read Post »

কাহিনি, ধারাবাহিক উপন্যাস
paap19

পাপ – পর্ব ১৯

মেজ জ্যেঠাইমা চুপিচুপি বেদেনী বুড়ির থেকে যোগাড় করা শেকড় আর কিছু কালো কালো বড়ি দিয়ে গেল। শেকড় গুলো শরীরের ভেতরে পুঁতে দিলে আমার পাপ গলে গলে বের হয়ে আসবে। বড়ি গুলো এই পাপের আত্মা পর্যন্ত পুড়িয়ে ঝামা করে দেবে। আর কখনো সে কোন বিধবা বা কুমারীর গর্ভে অনধিকার আশ্রয় নেওয়ার সাহস করবে না । সমাজের ব্যাভিচার তো থামবে না । মানুষের কুপ্রবৃত্তি রোখা ভগবানেরও অসাধ্য। 

পাপ – পর্ব ১৯ Read Post »

কাহিনি, ধারাবাহিক উপন্যাস
00fe0e3c 5e60 4fe7 b536 ca27b4753ff0

দীপক হালদারের কবিতা : আত্ম-মন্ময়তার পাঠ

দীপক হালদার বিশ শতকের সত্তরের দশকের কবি। তাঁর কবিতা আপাতদৃষ্টে সহজবোধ্য মনে হলেও, তার গভীরে প্রোথিত আছে অস্থির সময়ের দর্পণ এবং অস্তিত্ববাদের জটিল রসায়ন। কবিতার মধ্যে তিনি মানুষকে কেবল একটি জৈবিক সত্তা হিসেবে দেখার পরিবর্তে, বরং তাকে দেখেছেন শ্রম, সংকল্প, প্রকৃতি এবং মহাজাগতিক শূন্যতার এক সন্ধিক্ষণ হিসেবে। কবিতার পাতায় মানুষের অস্তিত্বের পদচিহ্ন ও যৌবনের উত্তাপ মাখা শরীরী উপস্থিতিকে দৃশ্যমান দৃঢ়তায় যিনি বাঁধতে পেরেছেন, তাঁর কবিতার দার্শনিক ভিত্তি তো অনেক গভীরে প্রোথিত থাকবে এটাই স্বাভাবিক। দর্শনের সেই বোধ থেকেই দীপক হালদার মানুষের কথা লিখে ফেলতে পারেন, ‘মানুষ’ শীর্ষক কবিতাতেই,

দীপক হালদারের কবিতা : আত্ম-মন্ময়তার পাঠ Read Post »

প্রবন্ধ, প্রবন্ধ/আলোচনা
poramatir gram 5th

পোড়ামাটির গ্রাম – পঞ্চম পর্ব

ট্রেনের দুলুনিতে কখন যে ঘুম এসে গেছে মৃন্ময়ের, তা সে নিজেই জানে না। ঘুম ভাঙতেই তার মনে হল, এ কোথায় সে এসেছে, কেনই বা এসেছে। কারণ যেখানে সে পড়ে আছে, তা একটা খেতের আলপথ। তবে কি ট্রেন থেকে তাকে ছুঁড়ে ফেলা হয়েছে? এমন তো হওয়ার কথা নয়। সে তো ঘুমিয়েই পড়েছিল স্বপ্ন দেখবে বলে। স্বপ্নের মধ্যে সূত্রধর পাল এসে তাকে বলত, আর সে সেখানে নেমে যেত। ডাক তো সে শুনতে পেয়েছিল। কিন্তু এখানে তো ট্রেনের চিহ্নমাত্র নেই।

পোড়ামাটির গ্রাম – পঞ্চম পর্ব Read Post »

ধারাবাহিক উপন্যাস
bytha

ব্যথা

পৃথিবীটা এখন ভাঙা কাচের মতো। যেখানে তার হাত রাখি, সেখানে শব্দ চিরে যায়; যেখানে পা ফেলি, সেখানে স্মৃতি খসে পড়ে। টুকরো টুকরো হয়ে যাচ্ছে সব – দূরত্ব, মুখ, সকাল এমনকি আশ্বাসের অভিধানও। আর সেই ভাঙাচোরা জিনিসগুলোর মধ্যে আমি দাঁড়িয়ে আছি – বুকের ভেতর একখানা অনন্ত ব্যথা। কাঁধের ওপর এমন এক ভার, যার কোনো নাম নেই, তবু ওজন আছে; যার কোনো ভাষা নেই, তবু শ্বাস আটকে দেয়।

ব্যথা Read Post »

Uncategorized, গদ্য, ব্যক্তিগত গদ্য
murderonorientexpressparbo17

মার্ডার অন দ্য ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেস- পর্ব – ১৭

এরকুল: আপনি ইস্তাম্বুল থেকে প্যারিস যাচ্ছেন?
হার্ডম্যান: ঠিক তাই।
এরকুল: কারণটা জানতে পারি?
হার্ডম্যান: প্লেন অ্যান্ড সিম্পল ব্যবসা।
এরকুল: আপনি কি বরাবর ফার্স্ট ক্লাসেই যাতায়াত করেন?
হার্ডম্যান: অবশ্যই। কোম্পানির পয়সায়—পরের ধনে। ওরাই যাতায়াতের খরচ বহন করে কি না।
এরকুল: আচ্ছা মি. হার্ডম্যান, গতকাল রাতের ঘটনা সম্পর্কে আপনি কি জানেন?
হার্ডম্যান: কিছুই না।
এরকুল: গতকাল রাতে ডিনারের পর থেকে আপনি ঠিক কী করেছিলেন একটু যদি বলেন। না না, এটা রুটিন, আমরা সবার কাছ থেকেই জানতে চাইছি।
হার্ডম্যান: (একটু অপ্রস্তুতভাব দেখিয়ে) উত্তর দেওয়ার আগে যদি কিছু মনে না করেন, আপনাদের পরিচয় জানতে পারি?
এরকুল: অবশ্যই। ইনি মঁসিয়ে বুঁ, এই রেল কোম্পানির অন্যতম ডিরেক্টর। আর (ডাক্তারের দিকে নির্দেশ করে) উনি ডা. কনস্টানটাইন। উনিই প্রথম লাশটিকে পরীক্ষা করেছিলেন।
হার্ডম্যান: আর আপনি?

মার্ডার অন দ্য ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেস- পর্ব – ১৭ Read Post »

অনুবাদ, ধারাবাহিক উপন্যাস
paap18

পাপ -পর্ব ১৮

চিঠিটা শেষ পর্যন্ত লিখতে পেরেছিলাম অনেক কষ্টে। অশৌচ বাড়ি বলে পুরুষ মানুষেরা একটা ঘরে বিচালি বিছিয়ে তার ওপর কম্বল পেতে এক সঙ্গে শুচ্ছিল। জায়েরা তো আমাকে গ্রহণ করতে পারছিল না , তাই আমি আর ওদের সঙ্গে একসঙ্গে বসে গল্পে যোগ দিচ্ছিলাম না। সেদিনের পর আর ওদের সঙ্গে কথা বলার প্রবৃত্তি হয়নি। খুব কেজো কথা ছাড়া ওরাও আমার সঙ্গে কথা বলতে আগ্রহী হয়নি। এক সুযোগে দুপুরে সবার অলক্ষ্যে শৈলেন বাবুর ঘরে ঢুকে একটা নীল রঙের চিঠির কাগজ আর পোষ্ট কার্ড নিয়ে এলাম । হব্যিষ‍্যি দিতে আসা এক প্রতিবেশিনীর হাতে দিয়ে অনুরোধ করেছিলাম যেন সেটা ডাক বাক্সে দেওয়া হয়। পরে জেনেছিলাম সে চিঠি ঠিকানায় পৌঁছায় নি। হয়তো অতি কৌতূহল বসত আঠা খুলে পড়ে দেখতে গিয়ে সেখানা আর পাঠানোর যোগ্য ছিল না।

পাপ -পর্ব ১৮ Read Post »

কাহিনি, ধারাবাহিক উপন্যাস
poramatir gram 4th

পোড়ামাটির গ্রাম – চতুর্থ পর্ব

দুপুরের নীরবতা ভেদ করে কোথা থেকে যেন কুবোপাখির ডাক ভেসে আসছে। নিরন্তর ডাক। যেন এক দীর্ঘ অন্তর্গত কথোপকথন। কার সঙ্গে সে কথা বলে চলেছে, তা কেউ জানে না। আরও গভীরে, খেতের আল থেকে পশ্চিম দিকে যে রাস্তাটা গভীর জঙ্গলের মধ্যে এঁকেবেঁকে অদৃশ্য হয়েছে, সেই রাস্তা ধরে একটু এগিয়ে গেলেই এমন এক রহস্যাবৃত জঙ্গল, যেখানে দিনে, রাতে সবসময় ঝিঁঝিঁ পোকার এক সঙ্গীতময় আকুল কান্না শুনতে পাওয়া যায়। ঝোপের পাশে যে ঝিম ধরা ঠান্ডা বাতাস ছুটে আসে, সেই শ্যাওলাগন্ধের বাতাসে ঘোর লেগে যায়। দুপুর হলেও, বাংলার এই গভীর জঙ্গলের মদহ্যে তার রোদ্দুরের একফালিও এসে পড়ে না। অথব হয়তো পড়ে, অনেক উচ্চে, বনস্পতির পত্ররাশির উপর।

পোড়ামাটির গ্রাম – চতুর্থ পর্ব Read Post »

কাহিনি, ধারাবাহিক উপন্যাস
murderonorientexpressparbo16

মার্ডার অন দ্য ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেস- পর্ব-১৬

রকুল: মেসিয়ে বুঁ-র দিকে তাকিয়ে, মাই ডিয়ার ডিরেক্টর, একটু ধৈর্য ধরুন। আগে ফার্স্ট ক্লাসেরগুলো শেষ হোক, তারপর না হয়। এখন কর্নেল আর্বাথনটকে ডাকা যেতে পারে।
কিছুক্ষণ পরেই কর্নেল আর্বাথনট প্রবেশ করলেন ডাইনিং কোচে।
কর্নেল ফরাসি ভাষায় তেমন স্বচ্ছন্দ নন, ইংরেজিতেই কথাবার্তা শুরু হলো। নাম, ধাম, বয়স ইত্যাদির পর জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলেন।
এরকুল: ইন্ডিয়া থেকে দেশে ফিরছেন, ছুটিতে?
আর্বাথনট: হ্যাঁ।
এরকুল: জাহাজে না ফিরে এই পথে?
আর্বাথনট: দেখুন, সেটা আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার।
এরকুল: ইন্ডিয়া থেকে সোজা এখানে আসছেন?
আর্বাথনট: বাগদাদ হয়ে, সেখানে একটা কাজ ছিল। (একটু বিরক্ত হয়ে) ব্যক্তিগত ব্যাপার তবু বলছি, বাগদাদে আমার এক পুরনো বন্ধুর কাছে দিন তিনেক কাটিয়ে আমি লন্ডন রওনা দিয়েছি।
এরকুল: বাগদাদে তিনদিন ছিলেন। ঐ ইংলিশ লেডি মিস্ ডেবেনহ্যামের সঙ্গে কি বাগদাদে আলাপ?
আর্বাথনট: না। ওনার সঙ্গে আমার আলাপ ট্রেনে। কিরকুক থেকে নিসবিন যাওয়ার পথে।
এরকুল: কিছু যদি মনে না করেন। মিস্ ডেবেনহ্যামের সম্পর্কে আপনার ধারণা কেমন?

মার্ডার অন দ্য ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেস- পর্ব-১৬ Read Post »

অনুবাদ, ধারাবাহিক উপন্যাস
Scroll to Top