বাংলা সংস্কৃতি ও সাহিত্য অন্বেষণ করুন

paap18

পাপ -পর্ব ১৮

চিঠিটা শেষ পর্যন্ত লিখতে পেরেছিলাম অনেক কষ্টে। অশৌচ বাড়ি বলে পুরুষ মানুষেরা একটা ঘরে বিচালি বিছিয়ে তার ওপর কম্বল পেতে এক সঙ্গে শুচ্ছিল। জায়েরা তো আমাকে গ্রহণ করতে পারছিল না , তাই আমি আর ওদের সঙ্গে একসঙ্গে বসে গল্পে যোগ দিচ্ছিলাম না। সেদিনের পর আর ওদের সঙ্গে কথা বলার প্রবৃত্তি হয়নি। খুব কেজো কথা ছাড়া ওরাও আমার সঙ্গে কথা বলতে আগ্রহী হয়নি। এক সুযোগে দুপুরে সবার অলক্ষ্যে শৈলেন বাবুর ঘরে ঢুকে একটা নীল রঙের চিঠির কাগজ আর পোষ্ট কার্ড নিয়ে এলাম । হব্যিষ‍্যি দিতে আসা এক প্রতিবেশিনীর হাতে দিয়ে অনুরোধ করেছিলাম যেন সেটা ডাক বাক্সে দেওয়া হয়। পরে জেনেছিলাম সে চিঠি ঠিকানায় পৌঁছায় নি। হয়তো অতি কৌতূহল বসত আঠা খুলে পড়ে দেখতে গিয়ে সেখানা আর পাঠানোর যোগ্য ছিল না।

পাপ -পর্ব ১৮ Read Post »

কাহিনি, ধারাবাহিক উপন্যাস
poramatir gram 4th

পোড়ামাটির গ্রাম – চতুর্থ পর্ব

দুপুরের নীরবতা ভেদ করে কোথা থেকে যেন কুবোপাখির ডাক ভেসে আসছে। নিরন্তর ডাক। যেন এক দীর্ঘ অন্তর্গত কথোপকথন। কার সঙ্গে সে কথা বলে চলেছে, তা কেউ জানে না। আরও গভীরে, খেতের আল থেকে পশ্চিম দিকে যে রাস্তাটা গভীর জঙ্গলের মধ্যে এঁকেবেঁকে অদৃশ্য হয়েছে, সেই রাস্তা ধরে একটু এগিয়ে গেলেই এমন এক রহস্যাবৃত জঙ্গল, যেখানে দিনে, রাতে সবসময় ঝিঁঝিঁ পোকার এক সঙ্গীতময় আকুল কান্না শুনতে পাওয়া যায়। ঝোপের পাশে যে ঝিম ধরা ঠান্ডা বাতাস ছুটে আসে, সেই শ্যাওলাগন্ধের বাতাসে ঘোর লেগে যায়। দুপুর হলেও, বাংলার এই গভীর জঙ্গলের মদহ্যে তার রোদ্দুরের একফালিও এসে পড়ে না। অথব হয়তো পড়ে, অনেক উচ্চে, বনস্পতির পত্ররাশির উপর।

পোড়ামাটির গ্রাম – চতুর্থ পর্ব Read Post »

কাহিনি, ধারাবাহিক উপন্যাস
murderonorientexpressparbo16

মার্ডার অন দ্য ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেস- পর্ব-১৬

রকুল: মেসিয়ে বুঁ-র দিকে তাকিয়ে, মাই ডিয়ার ডিরেক্টর, একটু ধৈর্য ধরুন। আগে ফার্স্ট ক্লাসেরগুলো শেষ হোক, তারপর না হয়। এখন কর্নেল আর্বাথনটকে ডাকা যেতে পারে।
কিছুক্ষণ পরেই কর্নেল আর্বাথনট প্রবেশ করলেন ডাইনিং কোচে।
কর্নেল ফরাসি ভাষায় তেমন স্বচ্ছন্দ নন, ইংরেজিতেই কথাবার্তা শুরু হলো। নাম, ধাম, বয়স ইত্যাদির পর জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলেন।
এরকুল: ইন্ডিয়া থেকে দেশে ফিরছেন, ছুটিতে?
আর্বাথনট: হ্যাঁ।
এরকুল: জাহাজে না ফিরে এই পথে?
আর্বাথনট: দেখুন, সেটা আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার।
এরকুল: ইন্ডিয়া থেকে সোজা এখানে আসছেন?
আর্বাথনট: বাগদাদ হয়ে, সেখানে একটা কাজ ছিল। (একটু বিরক্ত হয়ে) ব্যক্তিগত ব্যাপার তবু বলছি, বাগদাদে আমার এক পুরনো বন্ধুর কাছে দিন তিনেক কাটিয়ে আমি লন্ডন রওনা দিয়েছি।
এরকুল: বাগদাদে তিনদিন ছিলেন। ঐ ইংলিশ লেডি মিস্ ডেবেনহ্যামের সঙ্গে কি বাগদাদে আলাপ?
আর্বাথনট: না। ওনার সঙ্গে আমার আলাপ ট্রেনে। কিরকুক থেকে নিসবিন যাওয়ার পথে।
এরকুল: কিছু যদি মনে না করেন। মিস্ ডেবেনহ্যামের সম্পর্কে আপনার ধারণা কেমন?

মার্ডার অন দ্য ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেস- পর্ব-১৬ Read Post »

অনুবাদ, ধারাবাহিক উপন্যাস
paap 17

পাপ – পর্ব ১৭

বেলা বাড়তে না বাড়তে বাড়িতে পাড়ার লোক ভেঙে পড়লো। মৃতার শরীর একটা শীতল পাটিতে করে তুলসী তলায় নামানো হয়েছে, মাথার কাছে মাটি সুদ্ধু তুলসী চারা। যত্ন করে চন্দনের ফোঁটা দিয়ে কপাল সাজিয়ে দিয়েছে কেউ। চোখের ওপর তুলসী পাতা। পাড়ার ছেলেরা বাঁশ কেটে চালা তৈরী করছে। শব দেহের দুর্গন্ধ চাপা দেয়ার জন্য অগরু ছড়ানো হচ্ছে, গোছা গোছা ধুপকাঠি ধরানো হয়েছে। 
বাড়ির বড় আর মেজ ছেলেরা খবর পেয়ে তড়িঘড়ি নিজের নিজের পরিবার নিয়ে চলে এসেছে। দেহ ঘর থেকে বের করার আগে মৃতাকে গঙ্গা জল খাওয়ানোর হিড়িক পড়ে গেল । শেষ সময় কে ছিল, মুখে জল দেওয়া হয়েছিল কিনা। অবস্থা এত খারাপ তাও কেন খবর দেওয়া হয় নি … এসব দোষারোপ চলতেই থাকলো। পাড়ার মহিলারাও তাতে যোগ দিল । আমি ওখান থেকে সরে এসে নিজের ঘরে দোর বন্ধ করে মেঝেতে বসলাম । উঠোনে সমস্বরে চিৎকার করে কান্নাকাটি শুরু হয়েছে, রোদনকারীনিদের কারও গলা আমার পরিচিত নয়।

পাপ – পর্ব ১৭ Read Post »

কাহিনি, ধারাবাহিক উপন্যাস
poramatir gram 3rd

পোড়ামাটির গ্রাম – তৃতীয় পর্ব

নিজের স্বপ্নকে তাড়া করে যে এভাবে ঘর ছেড়ে বেরোতে পারবে কোনোদিন, সে কথা মৃন্ময় বুঝতেই পারেনি প্রথমে। আসলে এ কথা বোঝা যায় না। কথায় বলে, যখন ডাক আসে, তখন একমাত্র বোঝা যায় সে ডাক কেমন। সে ডাক নাকি মনের ভিতরে এমন এক টান দেয়, যখন তাকে আর অগ্রাহ্য করা যায় না। মৃন্ময়ের প্রতিটি স্বপ্নে সুত্রধর পাল যখন তখন আসত, আসত সেই অপরূপ সুন্দরী শালভঞ্জিকা। কিন্তু শালভঞ্জিকা কোনও কথা বলত না। শুধু তাকিয়ে থাকত। একটি মূর্তি হিসেবে নয়, বরং এক জীবন্ত অস্তিত্ব হিসেবেই তার এই আকাশের মতো তাকিয়ে থাকা।

পোড়ামাটির গ্রাম – তৃতীয় পর্ব Read Post »

কাহিনি, ধারাবাহিক উপন্যাস
poramatir 2nd parbo

পোড়ামাটির গ্রাম – দ্বিতীয় পর্ব

হৈমন্তীদের কুটির থেকে পুকুরের দূরত্ব আধ কিলোমিটারের মতো। বাড়ি থেকে বেরিয়ে একটা কাঁচা মাটির রাস্তা। এই রাস্তা ধরে যেতে হৈমন্তীর খুব ভালো লাগে। তার কারণ রাস্তাটার দুপাশেই ক্ষেত। যখন ও কলসি কাঁখে এই রাস্তা দিয়ে হাঁটে, ওর মনে হয়, কেউ যেন ওকে অনুসরণ করছে। কিন্তু পিছন ফিরে দেখলে, হৈমন্তী কাউকে খুঁজে পায় না। প্রথম প্রথম হৈমন্তীর মনে ভয় ভয় করত। কিন্তু দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে একইরকম অনুভূতি নিয়ে চলতে চলতে হৈমন্তীর আর ভয় লাগে না। বরং মনে হয়, যে দেখছে, যে অনুসরণ করছে, সে হয়তো তার রূপেই মুগ্ধ। হৈমন্তী নিজে যেমন এই দুপাশের ক্ষেতের রূপে মুগ্ধ। কেন যে এমন ভাবে তাকিয়ে থাকতে ভালো লাগে, কে জানে! ভোরের তাজা সূর্যের আলো শিশিরভেজা বাংলার ক্ষেতের উপর এসে পড়লে, সব গাছগুলি যেন কেমন ঝিকঝিকিয়ে ওঠে। তরুণীর ডবকা হয়ে ওঠার ইচ্ছের মতো, কিশোরীর প্রমত্তা হয়ে ওঠার ইচ্ছের মতো, প্রকৃতির মধ্যে এক যৌবনের ডাক। হৈমন্তীর মনে পড়ে যায়, চন্দনের কথা। কী সব যে বিড়বিড় করে ওঠে। বলে, বাংলায় লেখা পদ্য। অবশ্য সে নিজে লেখে কিনা জানা নেই। তবে সে সেদিনই এই ক্ষেতের ধারে হৈমন্তীকে মুগ্ধ হয়ে ক্ষেতের দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখে বলে উঠল, এক গুরুর কবিতা মনে হচ্ছে শোনাও। শুনবে?

পোড়ামাটির গ্রাম – দ্বিতীয় পর্ব Read Post »

কাহিনি, ধারাবাহিক উপন্যাস
whatsapp image 2026 07 13 at 5.32.58 pm (2)

ভয়, হাতি ও মানুষের অন্তর্লোক‘হাওয়াভূত আর হাতির গল্প’-এর পাঠ

গত শুক্রবার, ১০ তারিখে গিরিশ মঞ্চের আলো-আঁধারি থেকে বেরিয়ে আসার পরেও আমার মাথার ভেতর অনেকক্ষণ একটা অবশ হাওয়া অদ্ভুতভাবে ঘুরপাক খাচ্ছিল। কারণ গিরিশ মঞ্চে ‘হাওয়াভূত আর হাতির গল্প’ নাটকটি দেখার পর আমাদের নিজেদের সময়েরই এক অলীক রূপকথা যেন নির্মম আয়নার সামনে এসে থমকে দাঁড়িয়েছে। আমি স্বীকার করি, আনন্দপুর ‘গুজব’ প্রযোজিত এই নামটি আমাকে কবিতার মতো এক স্বপ্নময় বিষণ্নতার দিকে নিয়ে যায়। আর নাটকের ভেতরের কাব্যময়তা, বাস্তব ও অবাস্তব, লোককথা ও রাজনৈতিক রূপক, শিশুমন ও প্রাপ্তবয়স্কের নির্মম অভিজ্ঞতাকে এক অদ্ভুত মিশ্রণে শেষ পর্যন্ত মিলেমিশে যায়।

ভয়, হাতি ও মানুষের অন্তর্লোক‘হাওয়াভূত আর হাতির গল্প’-এর পাঠ Read Post »

নাটক, নাট্যসাহিত্য
mujjafparpur image

মুজঃফরপুরের দিনগুলো (পর্ব চোদ্দ)

মাঝেমাঝে দিগন্তে একটা ধুলো পাক খেয়ে উড়ে ঘূর্ণির মতো এগিয়ে আসে, আর মুজঃফরপুর থেকে মোতিহারির রাস্তার মাঝখানে কচিকাঁচার দল, কোনো কোনো বৃদ্ধ চোখের ওপর হাতের আড়াল করে ওই ঘূর্ণি দেখতে থাকে। বৃদ্ধরা বলাবলি করে এরপর ভয়ঙ্কর শুখা মরসুম আসতে চলেছে। এ নাকি তারই পূর্বলক্ষণ।

আমি ওই ঘূর্ণি মাঠের ওপর খুব কাছ থেকে দেখেছি। শুকনো বাতাস ধুলো উড়িয়ে উঠে যায় ওপরে। বাতাসের ঘূর্ণিতে উড়তে থাকে ঘাস পাতা, আর মনে হতে থাকে এক অতিকায় লাট্টু পাক খেতে খেতে এগিয়ে চলেছে।

ওই পথের মাঝখানে এক চায়ের দোকান। বিড়ি, সিগেরেট, খৈনি ইত্যাদি পাওয়া যায়। আমি গিয়ে বাঁশের বাতার বেঞ্চের ওপর বসলে খাতির করে গুড়ের চা এগিয়ে দেয়। মন্দ লাগে না।

কথায় কথায় জেনেছিলাম চায়ের দোকানির নাম রামবাবু রায়। এদিকে রায় মানে গোয়ালা। এরা বলে “আহির।” একটা বিখ্যাত রাগের নাম “আহির ভৈরব।” ভোর তিনটের রাগ। যতদূর জানি গোয়ালারা দুধ দুইতে দুইতে এই সুর গুনগুন করত, সেখান থেকেই এই রাগের উৎপত্তি। ওস্তাদ আলি আকবর খাঁ সাহেবের আহির ভৈরব শুনে বেগম আখতার বলেছিলেন “উসে শুননেকে বাদ সাত রোজ মেরে আঁখোকা পানি বন্ধ নহি হুয়াথা।”

মুজঃফরপুরের দিনগুলো (পর্ব চোদ্দ) Read Post »

গদ্য, ব্যক্তিগত গদ্য
Scroll to Top