অর্ঘ্য রায় চৌধুরী

mujjafparpur image

মুজঃফরপুরের দিনগুলো (পর্ব চোদ্দ)

মাঝেমাঝে দিগন্তে একটা ধুলো পাক খেয়ে উড়ে ঘূর্ণির মতো এগিয়ে আসে, আর মুজঃফরপুর থেকে মোতিহারির রাস্তার মাঝখানে কচিকাঁচার দল, কোনো কোনো বৃদ্ধ চোখের ওপর হাতের আড়াল করে ওই ঘূর্ণি দেখতে থাকে। বৃদ্ধরা বলাবলি করে এরপর ভয়ঙ্কর শুখা মরসুম আসতে চলেছে। এ নাকি তারই পূর্বলক্ষণ।

আমি ওই ঘূর্ণি মাঠের ওপর খুব কাছ থেকে দেখেছি। শুকনো বাতাস ধুলো উড়িয়ে উঠে যায় ওপরে। বাতাসের ঘূর্ণিতে উড়তে থাকে ঘাস পাতা, আর মনে হতে থাকে এক অতিকায় লাট্টু পাক খেতে খেতে এগিয়ে চলেছে।

ওই পথের মাঝখানে এক চায়ের দোকান। বিড়ি, সিগেরেট, খৈনি ইত্যাদি পাওয়া যায়। আমি গিয়ে বাঁশের বাতার বেঞ্চের ওপর বসলে খাতির করে গুড়ের চা এগিয়ে দেয়। মন্দ লাগে না।

কথায় কথায় জেনেছিলাম চায়ের দোকানির নাম রামবাবু রায়। এদিকে রায় মানে গোয়ালা। এরা বলে “আহির।” একটা বিখ্যাত রাগের নাম “আহির ভৈরব।” ভোর তিনটের রাগ। যতদূর জানি গোয়ালারা দুধ দুইতে দুইতে এই সুর গুনগুন করত, সেখান থেকেই এই রাগের উৎপত্তি। ওস্তাদ আলি আকবর খাঁ সাহেবের আহির ভৈরব শুনে বেগম আখতার বলেছিলেন “উসে শুননেকে বাদ সাত রোজ মেরে আঁখোকা পানি বন্ধ নহি হুয়াথা।”

মুজঃফরপুরের দিনগুলো (পর্ব চোদ্দ) Read Post »

গদ্য, ব্যক্তিগত গদ্য
mujjaffarpur 13

মুজঃফরপুরের দিনগুলো (পর্ব তেরো)

কাল রাতে ওই রহস্যময় গাছটার কাছে গেছিলাম। বিরাট, মহীরুহ বলাই ভালো। আগের পর্বে ওই গাছটার কথা কিছুটা বলেছি।

বন জঙ্গল ভেঙে যেতে হলো, হাতে একটা সদ্য কেনা টর্চ, এদিকে এখন মনসার চেলা চামুণ্ডারা কিছু হলেই ফোঁস করে উঠছেন, কাজেই পদভারে মেদিনী প্রকম্পিত করে চলাফেরা করতে হয়। প্রায়ই ঘনঘোর বৃষ্টিতে সব ভিজে আছে, ঘাস বেড়ে উঠেছে, এদিকে ওদিকে নানান ঝোপঝাড়, বনের গন্ধ।

মুজঃফরপুরের দিনগুলো (পর্ব তেরো) Read Post »

গদ্য, ব্যক্তিগত গদ্য
ekhonkar dinguli

মুজঃফরপুরের দিনগুলো ( পর্ব ১২ )

এক কোলিগের নেপালে ব্যবসা, মাঝেমাঝেই যেতে হয়। কাঠমাণ্ডুতে বাড়িও আছে। আমার নেপাল যাওয়ার ইচ্ছা শুনে প্রস্তাব দিলেন কোনো এক ছুটিতে বেড়িয়ে পড়ার। আমি সঙ্গেই সঙ্গেই রাজি হয়ে গেলাম। তবে শর্ত একটাই, আমার ঘুরে বেড়ানো এবং বাড়িতে আসার ব্যাপারে কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করা চলবে না। ভদ্রলোক হেসে বললেন যে আমাকে উনি কিছুটা চিনেছেন, কানাঘুষোও কিছু কানে এসেছে, আমার কবিতার বইয়ের কথাও তিনি জানেন, অতএব নেপালে আমি চাইলে নেপালিদের মতো করেই ঘুরে বেড়াতে পারি। উনি সে ব্যবস্হাও করে দেবেন।

মুজঃফরপুরের দিনগুলো ( পর্ব ১২ ) Read Post »

গদ্য, ব্যক্তিগত গদ্য
arghya roy chowdhury

মুজঃফরপুরের দিনগুলো ( পর্ব ১০ )

আজকের দিনটা খুব নিস্তরঙ্গ কাটল। স্কুল এবং বাড়ি, তারপর ছাদে বসে সুজিত সিংয়ের সাথে আড্ডা। সুজিতও সাউথ অ্যাফ্রিকায় থাকে, ওখানে পা ভেঙে গেছিল বলে বাড়ি চলে এসেছে।

সুজিতের সঙ্গে দেশ বিদেশের নানান খবর নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল, তারপর আমার কাছে বাড়ির বাচ্চারা তারা চিনতে এল। ওদের দেখালাম ধ্রুব, কালপুরুষ, সপ্তর্ষিমণ্ডল, লুব্ধক, ধনু রাশি একটু দূরে।

মুজঃফরপুরের দিনগুলো ( পর্ব ১০ ) Read Post »

গদ্য, ব্যক্তিগত গদ্য
relaxed rural conversation under the tree

মুজঃফরপুরের দিনগুলো পর্ব ৯

এখানে আমাদের একটা ঠেক তৈরি হয়েছে। সামনেই একটা ক্ষেত পার করে, এদের বিরাট গোয়াল, তার চারপাশে সবুজ, ওখানে একটা লিচু গাছের ঘন ছায়ায় মাচা বাঁধা হয়েছে, কলকাতার ঠেকের মতো নিয়মিত না হলেও, ছুটিছাটার দিনে ওখানে আমারই কাছাকাছি বয়সের কিছু ছেলে জড়ো হয়।

মুজঃফরপুরের দিনগুলো পর্ব ৯ Read Post »

গদ্য, ব্যক্তিগত গদ্য
ekhankar dingulo

মুজঃফরপুরের দিনগুলো পর্ব ৮

এখানে এসে আলাপ হয়েছে গগন দোসাদের সঙ্গে। অন্ত্যজ শ্রেণির বলে উচ্চবর্ণদের কাছে জল অচল। আমিও ওর সঙ্গে মেলামেশা করছি বলে উচ্চবর্ণদের আপত্তি ছিল, কিন্তু আমাকে এসব করে আটকাতে পারবে না। আমি যার সঙ্গে ইচ্ছা মিশব, যেখানে খুশি যাব, যা ইচ্ছা খাব, যেখানে খুশি শোব, গাছতলা হলেও সেখানে যদি ভালো লাগে সেখানেই শুয়ে পড়ব। এসব যদি না করতে পারি, আমি এখানে থাকবই না। ওরা বুঝে গেছে আমাকে আটকাতে পারবে না।

মুজঃফরপুরের দিনগুলো পর্ব ৮ Read Post »

গদ্য, ব্যক্তিগত গদ্য
golden hour in a bustling market street

মুজঃফরপুরের দিনগুলো পর্ব ৭

এখানকার কাছাকাছি টাউনটার নাম ‘কেশরিয়া’। নামকরণের কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে বেরোলো, কেশরনাথ শিব মন্দিরের অবস্থান থেকেই জায়গাটার এই নাম।

মুজঃফরপুরের দিনগুলো পর্ব ৭ Read Post »

গদ্য, ব্যক্তিগত গদ্য
chasing the blue bull in golden light

মুজঃফরপুরের দিনগুলো পর্ব ৬

এখানকার এই জগৎ শহুরে জগতের সঙ্গে মেলে না। এখানকার রুক্ষ প্রকৃতি, মানুষ—সবই চড়া সুরে বাঁধা, এর সঙ্গে সামান্য মিল পাই সহ্যাদ্রির গভীর অরণ্যের। ওখানেও বর্ষার কয়েক মাস ছাড়া প্রকৃতি রুক্ষ, কখনো কখনো নির্মম।

মুজঃফরপুরের দিনগুলো পর্ব ৬ Read Post »

গদ্য, ব্যক্তিগত গদ্য
rainy night reflection by the window

মুজঃফরপুরের দিনগুলো ৫ম পর্ব

আজ সকাল থেকেই বৃষ্টি, যদিও বৃষ্টি শুরু হলো ভোর তিনটে থেকে। আমার ঘরে খাটের পাশেই বিরাট একটা জানলা আছে, জানলা দিয়ে আকাশ দেখা যায়, জ্যোৎস্না এসে বিছানায় পড়ে, আমি জ্যোৎস্নার চাদর পেতে শুয়ে থাকি।

মুজঃফরপুরের দিনগুলো ৫ম পর্ব Read Post »

গদ্য, ব্যক্তিগত গদ্য
morning calm at the ashram

মুজঃফরপুরের দিনগুলো ৪র্থ পর্ব

এখানে এক বাঙালি সাধক ছিলেন। একটু দূরে নির্জন জায়গায় আশ্রম। তপোবনের মতোই শান্ত। লিচুগাছে ছাওয়া, মূল মন্দিরকে ঘিরে তিনটে ঘর। মন্দিরে হর-পার্বতী।

মুজঃফরপুরের দিনগুলো ৪র্থ পর্ব Read Post »

গদ্য, ব্যক্তিগত গদ্য
মুজফরপুরের দিনগুলো 4

মুজ:ফরপুরের দিনগুলো ৩য় পর্ব

এখানে একটা নদী আছে, ‘মলি বেলোয়ার’। বাংলার মতো বিশালতা তার নেই, কিন্তু একটা স্নিগ্ধ সৌন্দর্য আছে।

মুজ:ফরপুরের দিনগুলো ৩য় পর্ব Read Post »

গদ্য, ব্যক্তিগত গদ্য
Scroll to Top