আমাদের কথা…
বহুস্বর আমাদের। ভাষার লাবণ্যে আড়াল হয় ক্রূরতা। এই যে দু-চার পাতার সাহিত্য-কথা—এর উদ্দেশ্য ব্যক্ত করতে গিয়েও আমরা জটিলতায় ভুগি। আত্মবোধ না জনচেতনা? ব্যক্তিগত না যূথবদ্ধ চেতনা?
বহুস্বর আমাদের। ভাষার লাবণ্যে আড়াল হয় ক্রূরতা। এই যে দু-চার পাতার সাহিত্য-কথা—এর উদ্দেশ্য ব্যক্ত করতে গিয়েও আমরা জটিলতায় ভুগি। আত্মবোধ না জনচেতনা? ব্যক্তিগত না যূথবদ্ধ চেতনা?
মেজ জ্যেঠাইমা চুপিচুপি বেদেনী বুড়ির থেকে যোগাড় করা শেকড় আর কিছু কালো কালো বড়ি দিয়ে গেল। শেকড় গুলো শরীরের ভেতরে পুঁতে দিলে আমার পাপ গলে গলে বের হয়ে আসবে। বড়ি গুলো এই পাপের আত্মা পর্যন্ত পুড়িয়ে ঝামা করে দেবে। আর কখনো সে কোন বিধবা বা কুমারীর গর্ভে অনধিকার আশ্রয় নেওয়ার সাহস করবে না । সমাজের ব্যাভিচার তো থামবে না । মানুষের কুপ্রবৃত্তি রোখা ভগবানেরও অসাধ্য।
সকাল থেকেই বাড়িতে করুন সুরে সানাই বাজছে। এ প্রজন্মের শেষ মেয়ে মালতীলতার বিয়ে হচ্ছে। পাত্রের কোন দাবি দাওয়া নেই, কেবলমাত্র পাত্রী সুন্দরী হলেই হবে। যদিও সে একটু খুঁতো … দোজবরে, বিপত্নীক। তা হোক, সোনার আংটির আবার সোজা আর বাঁকা! আইন ব্যবসায়ী ছেলের মাস গেলে রোজগারখানা তো কম নয়। আবার আগের পক্ষের বউ বড়লোক বাড়ির মেয়ে ছিল। তারও মেলা গয়না গাঁটি আছে। শহরের কেন্দ্রে নিজেদের বসত বাড়ি, অভাব তো কিছুই নেই। মেয়ে খেয়ে পড়ে সুখে থাকবে। বড় ভাইরা পৃথগন্ন এবং আলাদা থাকে, শ্বশুর তো অনেক কাল নেই, শাশুড়ী মাগীও হালে মরেছে। বাড়িতে দু দুটো কাজের মেয়ে।
রাস্তা বলে কিছু নেই। একে ঠিক পথও বলা যায় না। দুপাশে মাঠ। শস্যক্ষেত। গ্রামের চাষিরা চাষ করছে। মাথায় গামছার মতো কাপড় বেঁধে তারা চাষ করছে। এই দৃশ্য বদলায়নি। মৃন্ময় বুঝতে পারল। আজ থেকে হাজার বছর পরে খেতের মাঠে কাজ করার দৃশ্য যেমন, ঠিক তেমনই। বাংলার খেত তেমনই নানারকম সবুজ হয়ে আছে। স্তরে স্তরে এই সবুজের রং বদলে যায়। কখনো গাঢ় সবুজ, কোথায় বা হালকা। দূর দিগন্ত অব্দি দেখতে পাওয়া যায় এই সবুজ। ঠিক যেন কেউ একটা তুলি দিয়ে রঙের বিভিন্ন শেড তৈরি করেছেন। মৃন্ময়ের পাশে নীরবে হেঁটে চলেছেন শান্ত ভিক্ষু। তাঁর কোনও তাড়া নেই। তিনি যেন বা নিজের মধ্যেই বিভোর।
মৃন্ময় তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করেছে সে কোন সময় থেকে এসেছে। আসলে ঠিক কোন সময়ে তাঁর শরীরটা শুয়ে আছে। কিন্তু এই বোঝানোটাই সার হয়েছে। তার পোশাক আশাক, চালচলন এবং কথাবার্তায় অন্তত এইটুকু তিনি বুঝতে পেরেছেন, যে সে অনেক কিছু জানে। সে একটা অন্য জায়গা থেকে এসেছে। সে তাদের মতো ভাষাতেই কথা বলছে। কিন্তু তার বলা কথা, ভাবা বিষয় সবই অন্য।
পোড়ামাটির গ্রাম- সপ্তম পর্ব Read Post »
কাহিনি, ধারাবাহিক উপন্যাস“শিং নেই তবু নাম তার সিংহ,
ডিম নয় তবু অশ্বডিম্ব—”
গৌরীপ্রসন্ন মজুমদারের লেখা, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সুর। লুকোচুরি ছবিতে কিশোর কুমারের গলায় গানটা বেশ জনপ্রিয় হয়েছিল। গানের কথায় সিংহের নামে ‘শিং’ আছে, কিন্তু মাথায় নেই। অথচ প্রায় সাড়ে চার হাজার বছর আগে মহেঞ্জোদারোর একটা ছোট্ট তামার ফলকে ঠিক উল্টো দৃশ্য দেখি—এক মানুষের মাথায় প্রকাণ্ড শিং, হাতে তির-ধনুক, শরীরে কয়েকটা রেখা, পিছনে লেজের মতো অংশ। তাই নিয়ে কৌতূহল আজও কাটেনি। কয়েকজন গবেষক একে ‘horned archer’ বলেছেন। কিন্তু লোকটি কে? শিকারি? যোদ্ধা? পুরোহিত? দেবতা? না কি কোনও আচার করতে গিয়ে মানুষটি ওই সাজ পরেছিলেন? গবেষকেরা এখনও সিন্ধুলিপি পড়ে উঠতে পারেননি। ফলে মাথায় দুটো শিং আর হাতে ধনুক নিয়ে লোকটি আজও আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে।
শিং, সিংহাসন ও শহর Read Post »
প্রবন্ধ, প্রবন্ধ/আলোচনাদিগন্তের শেষ সীমা রক্তিম বিদায় জানিয়েছে সূর্য দেবতাকে। বিপাশা নদীর ধারে সোমরাং তখনও বসে অপেক্ষা করছে একটু পরেই হয়তো সে আসবে। ক্লান্ত অবসন্ন চোখে ঘোড়াটার গায়ে হাত রাখবে। তারপর নিজেকে সঁপে দেবে বিপাশার জলে। দীর্ঘ গৌর গাত্রবর্ণ লালচে কালো দেখাবে আকাশের রঙের জন্য। পেশিগুলো যেন পাথর কুঁদে নির্মাণ করেছেন বিধাতা। সে জল থেকে উঠে ভিজে শরীর উন্মুক্ত করে পোষাক বদলাবে তখন সোমরাং নিজেকে বড় পাথরটার নিচে পুরোপুরি লুকিয়ে নেয় তাকানোর সাহস হয় না তার। ঘোড়ার চলার আওয়াজ আসতেই আবার মাথাটা তোলে সে তখন পিছন ফিরে চলে যাচ্ছে সেনা শিবিরের দিকে। সোমরাং এরপর হাঁটা শুরু করে। ওদের গ্রামের আশেপাশে এর আগে কখনো সেনা আসেনি। পাইন গাছে ঘেরা বিপাশার তীরে গ্রামখানি ছবির মত সুন্দর সকলের বাড়িতেই প্রায় রয়েছে সেবফল ও দারিমের গাছ। তবে প্রবদর গাছ সোমরাং এর সবচেয়ে প্রিয়। তাদের বাড়ির চারিপাশে প্রবদরে ঘেরা। বছরের শেষে যখন প্রিয় বসন্তকাল পাহাড়ের কোল জুড়ে ফুলের বাহার তখন প্রবদরের শোভায় মন ব্যাকুল হয়ে ওঠে। সারা উপত্যকা জুড়ে সাদার সাথে হালকা গোলাপি রঙের ফুল। যৌবন যেন উছলে উঠে গ্রামটির। মৃদু খসখস শব্দে সচেতন হয়ে ওঠে সোমরাং। দুহাতে ভর দিয়ে মাথাটা সামান্য উঁচু করে কিন্তু কাউকে দেখতে পায় না। অন্ধকার ঘনিয়ে আসছে পাইনের ঋজু শরীরে। মায়ের কাছে বকুনি জুটবে খুব। বারবার মা বলেছে, শেষ আলো পায়ে নিয়ে ফিরবে না সোম, আগে ফিরবে। শেষের আলোতে বিপদ লুকিয়ে থাকে। মায়ের মন হাজার কু সংস্কারে ভরা। সোমরাং বাবার কাছে পড়ে। ওর বাবা যে পণ্ডিত। পায়ে হেঁটে বহু দূরে দূরে পুজোপাঠ করতে যান ওর বাবা।
বিপাশার তীরে -১ম পর্ব Read Post »
কাহিনি, ধারাবাহিক উপন্যাসএরকুল: (চোখ মটকে) এই এতক্ষণে মঁসিয়ে বুঁকের মনোবাসনা পূর্ণ হবে। এবার ইতালীয়টির পালা।
ডাক পেয়ে ইতালীয় মি. ফসকারেল্লী এসে হাজির হলেন। সুঠাম চেহারার, চোখেমুখে শিশুর সারল্য, সঙ্গে একমুখ উজ্জ্বল হাসি।
এরকুল: (পাসপোর্ট হাতে নিয়ে) আপনি আন্তোনিও ফসকারেল্লী?
ফসকারেল্লী: ইয়েস স্যার।
এরকুল: আপনি এখন আমেরিকান নাগরিক, তাই না?
ফসকারেল্লী: হ্যাঁ। ব্যবসাসূত্রেই আমেরিকায় থাকা এবং সেই সূত্রেই নাগরিকত্ব।
এরকুল: আপনি ফোর্ড মোটর কোম্পানির একজন সেলস এজেন্ট?
ফসকারেল্লী: হ্যাঁ, আমি সেলস-এর দিকটাই দেখি। এই ইউরোপ এবং এশিয়ার এই দিকটাই আমার এলাকা। একটু বেশি ঘুরতে হয়, কিন্তু বিরাট সাড়া পাচ্ছি। গাড়ির বাজারে এদিকটায় আমরাই একচেটিয়া। কোম্পানিরও লাভ হচ্ছে, সঙ্গে আমারও, বুঝলেন না (বকেই চলতেন হয়তো)।
এরকুল: বেশ বেশ, কত বছর হলো আপনার আমেরিকায়? বছর দশেক?
মার্ডার অন দ্য ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেস (পর্ব – ১৮) Read Post »
অনুবাদ, ধারাবাহিক উপন্যাস
স্মৃতি, যন্ত্রণা,আক্রোশ, এনট্রপি বৃদ্ধ, পরিসংখ্যানবিদ সবাই নিরবচ্ছিন্নভাবে বহমান টোড়ীর সুড়ঙ্গে প্রবেশ করেছে।আলাপের প্রকোষ্ঠে খেলা করছে নীলচে গোলাপি আলো। ট্রেনের কামরায় ঝালা শুরু হলো,শুরু হলো সোনালী রূপালীর আলো আলো খেলা। সমস্ত সংলাপ স্তব্ধ হয়ে গেছে, শুধু খেলা করছে অনবদ্য সঞ্চালন । বন্দিশের সুড়ঙ্গে প্রবেশ করে
স্মৃতির সহযাত্রীরা বুঝতে পারছে প্ল্যাটফর্ম খুব দূরে নয়। ক্রমাগত: তারা এক সিঙ্গুলারিটির দিকে এগোচ্ছে। যেখানে অর্থহীন অর্থেরা চেতনাহীন কল্পনার সুরে অবগাহন করে। কথাদের থেমে যাওয়া কোলাহলে আশাবরী নিজস্ব সুরের সুরভি নিয়ে আসে। সমস্ত কামরায় ভৈরবী -টোড়ীর রঙের সুড়ঙ্গে আশাবরী নিয়ে আসে শৈশবের গন্ধমাখা বাতাস। ঝিরঝিরে দুপুর গায়ে মেখে ট্রেন প্ল্যাটফর্মে আসে।
দ্বন্দ্ব-অন্তর্দ্বন্দ্ব – শেষ পর্ব Read Post »
নাট্যগল্পের অন্তর্চলন, নাট্যসাহিত্যদূর দিগন্ত থেকে যখন অশ্বারোহীরা আসে, তখন আলাদা করে চেনা যায় না, তারা মারাঠা না সুলতান না রাষ্ট্রকূট বংশের। একটা ধোঁয়ার কুণ্ডলী এগিয়ে আসতে থাকে। বাড়ির চারপাশে মাটির মধ্যে ক্রমাগত একটা গুড়গুড় ধ্বনি। গাছগুলিও কাঁপতে থাকে। শস্যখেত বিমর্ষ হয়ে যায়। কারণ যে কোনও মশালের ফুলকি গোটা খেত পুড়িয়ে নষ্ট করে দিতে পারে। কত খেত যে জ্বলে গেছে, কত মাটিকে যে ওরা অনুর্বর করে দিয়েছে, কত প্রাকৃতিক বাঁধ যে এরা ভেঙে দিয়ে প্লাবিত করে দিয়েছে খেত- ভাবলেই বুকের মধ্যে একটা ফাঁকা জায়গা তৈরি হয়। একটা শূন্যতার জায়গা তৈরি হয়। কিন্তু এখন এই অঞ্চলে আর কারাই বা আসবে। কেনই বা আসবে। আসছে নিশ্চয় মুসলমান শাসকের সেনা। এই তো গোয়ালপাড়ার যুদ্ধে নিজের বাবা সিকান্দর শাহকে হত্যা করে মসনদে বসেছে ইলিয়াস শাহী রাজবংশের শাসক গিয়াসউদ্দিন আজম শাহ। লোকে বলে ইনি নাকি সবচেয়ে শক্তিশালী সম্রাট। এই সময়ে তিনি চিনের মিং সাম্রাজ্যের সঙ্গে কথাবার্তা বলছেন। চুক্তি করছেন। বাংলা কি তবে পুরোপুরি ভাবে মুসলিম শাসকদের আওতাতেই চলে গেল।
পোড়ামাটির গ্রাম – ষষ্ঠ পর্ব Read Post »
কাহিনি, ধারাবাহিক উপন্যাসমেজ জ্যেঠাইমা চুপিচুপি বেদেনী বুড়ির থেকে যোগাড় করা শেকড় আর কিছু কালো কালো বড়ি দিয়ে গেল। শেকড় গুলো শরীরের ভেতরে পুঁতে দিলে আমার পাপ গলে গলে বের হয়ে আসবে। বড়ি গুলো এই পাপের আত্মা পর্যন্ত পুড়িয়ে ঝামা করে দেবে। আর কখনো সে কোন বিধবা বা কুমারীর গর্ভে অনধিকার আশ্রয় নেওয়ার সাহস করবে না । সমাজের ব্যাভিচার তো থামবে না । মানুষের কুপ্রবৃত্তি রোখা ভগবানেরও অসাধ্য।
দীপক হালদার বিশ শতকের সত্তরের দশকের কবি। তাঁর কবিতা আপাতদৃষ্টে সহজবোধ্য মনে হলেও, তার গভীরে প্রোথিত আছে অস্থির সময়ের দর্পণ এবং অস্তিত্ববাদের জটিল রসায়ন। কবিতার মধ্যে তিনি মানুষকে কেবল একটি জৈবিক সত্তা হিসেবে দেখার পরিবর্তে, বরং তাকে দেখেছেন শ্রম, সংকল্প, প্রকৃতি এবং মহাজাগতিক শূন্যতার এক সন্ধিক্ষণ হিসেবে। কবিতার পাতায় মানুষের অস্তিত্বের পদচিহ্ন ও যৌবনের উত্তাপ মাখা শরীরী উপস্থিতিকে দৃশ্যমান দৃঢ়তায় যিনি বাঁধতে পেরেছেন, তাঁর কবিতার দার্শনিক ভিত্তি তো অনেক গভীরে প্রোথিত থাকবে এটাই স্বাভাবিক। দর্শনের সেই বোধ থেকেই দীপক হালদার মানুষের কথা লিখে ফেলতে পারেন, ‘মানুষ’ শীর্ষক কবিতাতেই,
দীপক হালদারের কবিতা : আত্ম-মন্ময়তার পাঠ Read Post »
প্রবন্ধ, প্রবন্ধ/আলোচনাট্রেনের দুলুনিতে কখন যে ঘুম এসে গেছে মৃন্ময়ের, তা সে নিজেই জানে না। ঘুম ভাঙতেই তার মনে হল, এ কোথায় সে এসেছে, কেনই বা এসেছে। কারণ যেখানে সে পড়ে আছে, তা একটা খেতের আলপথ। তবে কি ট্রেন থেকে তাকে ছুঁড়ে ফেলা হয়েছে? এমন তো হওয়ার কথা নয়। সে তো ঘুমিয়েই পড়েছিল স্বপ্ন দেখবে বলে। স্বপ্নের মধ্যে সূত্রধর পাল এসে তাকে বলত, আর সে সেখানে নেমে যেত। ডাক তো সে শুনতে পেয়েছিল। কিন্তু এখানে তো ট্রেনের চিহ্নমাত্র নেই।
পোড়ামাটির গ্রাম – পঞ্চম পর্ব Read Post »
ধারাবাহিক উপন্যাসপৃথিবীটা এখন ভাঙা কাচের মতো। যেখানে তার হাত রাখি, সেখানে শব্দ চিরে যায়; যেখানে পা ফেলি, সেখানে স্মৃতি খসে পড়ে। টুকরো টুকরো হয়ে যাচ্ছে সব – দূরত্ব, মুখ, সকাল এমনকি আশ্বাসের অভিধানও। আর সেই ভাঙাচোরা জিনিসগুলোর মধ্যে আমি দাঁড়িয়ে আছি – বুকের ভেতর একখানা অনন্ত ব্যথা। কাঁধের ওপর এমন এক ভার, যার কোনো নাম নেই, তবু ওজন আছে; যার কোনো ভাষা নেই, তবু শ্বাস আটকে দেয়।
এরকুল: আপনি ইস্তাম্বুল থেকে প্যারিস যাচ্ছেন?
হার্ডম্যান: ঠিক তাই।
এরকুল: কারণটা জানতে পারি?
হার্ডম্যান: প্লেন অ্যান্ড সিম্পল ব্যবসা।
এরকুল: আপনি কি বরাবর ফার্স্ট ক্লাসেই যাতায়াত করেন?
হার্ডম্যান: অবশ্যই। কোম্পানির পয়সায়—পরের ধনে। ওরাই যাতায়াতের খরচ বহন করে কি না।
এরকুল: আচ্ছা মি. হার্ডম্যান, গতকাল রাতের ঘটনা সম্পর্কে আপনি কি জানেন?
হার্ডম্যান: কিছুই না।
এরকুল: গতকাল রাতে ডিনারের পর থেকে আপনি ঠিক কী করেছিলেন একটু যদি বলেন। না না, এটা রুটিন, আমরা সবার কাছ থেকেই জানতে চাইছি।
হার্ডম্যান: (একটু অপ্রস্তুতভাব দেখিয়ে) উত্তর দেওয়ার আগে যদি কিছু মনে না করেন, আপনাদের পরিচয় জানতে পারি?
এরকুল: অবশ্যই। ইনি মঁসিয়ে বুঁ, এই রেল কোম্পানির অন্যতম ডিরেক্টর। আর (ডাক্তারের দিকে নির্দেশ করে) উনি ডা. কনস্টানটাইন। উনিই প্রথম লাশটিকে পরীক্ষা করেছিলেন।
হার্ডম্যান: আর আপনি?
মার্ডার অন দ্য ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেস- পর্ব – ১৭ Read Post »
অনুবাদ, ধারাবাহিক উপন্যাস