বাংলা সংস্কৃতি ও সাহিত্য অন্বেষণ করুন

amader kotha

আমাদের কথা…

বহুস্বর আমাদের। ভাষার লাবণ্যে আড়াল হয় ক্রূরতা। এই যে দু-চার পাতার সাহিত্য-কথা—এর উদ্দেশ্য ব্যক্ত করতে গিয়েও আমরা জটিলতায় ভুগি। আত্মবোধ না জনচেতনা? ব্যক্তিগত না যূথবদ্ধ চেতনা?

আমাদের কথা… Read Post »

আমাদের কথা
bipashar tire 3rd issue

বিপাশার তীরে – ৩য় পর্ব

দশটা দিনে বিপাশা দিয়ে বহু জল গড়িয়ে গিয়েছে। চন্দ্রাবলীর স্বামী রাজার আইন বিভাগের প্রধানের জেরার কাছে পুরোপুরি ভেঙে পড়ে স্বীকার করেছে যে চন্দ্রাবলীকে সে ছেড়ে দিলে তার পিতার সম্পত্তিতে ভাগ পেত না কিন্তু দুর্ঘটনা বা অপঘাতে চন্দ্রাবলীর মৃত্যু হলে সেই অর্থ পেতে অসুবিধা হত না। তার প্রচুর অর্থ প্রয়োজন। ইংরেজ বণিকদের সাথে যোগাযোগ হয়েছে তার। জাহাজ কিনে নতুন ব্যবসা করতে চায়। চন্দ্রাবলীকে বহুবার বলা সত্ত্বেও সে বিদেশী বণিকদের বিশ্বাস করতে রাজি নয়। তাছাড়া দেশভ্রমণ, গরীব দুঃখী প্রতিপালন, দুঃস্থ আত্মীয়দের সাহায্য এসব করে তার স্ত্রী প্রচুর অর্থ নষ্ট করে তাই পথের কাঁটা দূর করার দারুণ সুযোগ সে পেয়েছিল দেশ ভ্রমণে আসার অছিলায়। কিন্তু প্রতিবারই অলৌকিক ভাবে বেঁচে গিয়েছে সে। আকেশের মুখে এসব শুনে রূপচাঁদ, সোমরাং, চামেলি হতবাক হয়। মানুষ এত নিষ্ঠুর হতে পারে? বন্দী করা হয়েছে সেই শয়তানকে। কিন্তু ওকে সাহায্য করতে চেয়েছিল যারা তাদের খোঁজ পাওয়া যায়নি এমনকি ভীম শর্মাও গায়েব। রূপচাঁদ আশঙ্কা প্রকাশ করেছে আকেশের কাছে।

বিপাশার তীরে – ৩য় পর্ব Read Post »

কাহিনি, ধারাবাহিক উপন্যাস
rajesh golpo

অণুগল্প – মেইল-বক্স

কতক্ষণ হবে জানে না; কিন্তু আজ বহুকাল পর, অনেক্ষন ধরে আকাশের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে রৌনক। দেখছে কেমন যেন একটা খেয়ালি রং আজ গোটা আকাশ জুড়ে। সদ্য আটত্রিশ বছর পেরিয়ে এসে আজ হঠাৎ করেই একটা কবিতা লিখতে ইচ্ছে হলো ওর। রবিবারের দুপুর। রাজারহাটে ওদের এই বসুন্ধরা এপার্টমেন্টের অধিকাংশ বাসিন্দারাই আজ কোনো একটা কারণে নেই। আর যারা রয়ে গেছেন তাঁদের অস্তিত্ব সেভাবে পাওয়া যাচ্ছে না। কোনো শব্দ নেই। ভীষণ শান্ত চারিপাশ। রৌনক ভাবলো, ডক্টর রয়-এর পরামর্শে প্রায় বছর দেড়েক আগে সিগারেট আর চিল্ড-বিয়ার খাওয়াটা ছেড়ে না দিলে, এমন মরসুমকে ও অন্তত এরকম নিরামিষ হতে দিতো না।

অণুগল্প – মেইল-বক্স Read Post »

কাহিনি, গল্প
murder on the orient express19

মার্ডার অন দ্য ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেস

এরকুল: (পরের পাসপোর্ট হাতে নিয়ে) দেখা যাক। ধৈর্য আমাদের ধরতেই হবে। এবার মিস ডেবেনহ্যামের পালা।
​মেরি ডেবেনহ্যাম ডাইনিং কোচে প্রবেশ করলেন। এক কথায় সুন্দরী, কিন্তু হাবভাব ও পোশাকে উগ্রতা নেই। ব্যক্তিত্বশালিনী। এরকুল ও মঁসিয়ে বুঁ উলটোদিকের চেয়ারে বসলেন। প্রাথমিক সম্ভাষণের পালা শেষ হলো।
​এরকুল: আপনি মেরি হারমিয়ন ডেবেনহ্যাম, বয়স ছাব্বিশ?
ডেবেনহ্যাম: (সম্মতিসূচক ঘাড় নেড়ে) হ্যাঁ।
এরকুল: ব্রিটিশ?
ডেবেনহ্যাম: হ্যাঁ।
এরকুল: দয়া করে যদি এই কাগজটায় আপনার নাম-ঠিকানাটা একটু লিখে দেন।
​ডেবেনহ্যাম কাগজ টেনে নিয়ে লিখলেন, হাতের লেখাও বেশ চমৎকার।
​এরকুল: সবাইকেই জিজ্ঞাসা করছি, সেই কারণেই আপনাকে—গতকাল রাত্রে ডিনারের পর কোথায় কোথায় ছিলেন এবং কী কী করছিলেন, সে সম্পর্কে যদি বলেন?
ডেবেনহ্যাম: তেমন কিছুই নয়। ডিনার শেষ করে নিজের কামরায় ফিরে যাই এবং শুয়ে পড়ি।
এরকুল: আচ্ছা ম্যাডাম, আপনি যে ট্রেনে ট্রাভেল করছেন, সেই ট্রেনে গতকাল রাত্রে একটা খুন হয়ে গেল। ব্যাপারটা বেশ ভয়ের না?
ডেবেনহ্যাম: (একটু থমকে গিয়ে) আপনার প্রশ্নটা ভালো বুঝলাম না।
এরকুল: আমি বলতে চাইছি, ট্রেনে এমন একটা ভয়ংকর খুনের ঘটনায় আপনি কি কোনওরকম নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন?
ডেবেনহ্যাম: না না, এই দিক থেকে ব্যাপারটা আমি ভাবিইনি। তবে এটুকু বলতে পারি, আমি তেমন নিরাপত্তার অভাব বোধ করছি না।
এরকুল: খুনের মতো একটা ব্যাপার, সেটাও আপনার কাছে অস্বাভাবিক তেমন কিছু মনে হচ্ছে না?
ডেবেনহ্যাম: না না, ব্যাপারটা খুবই সাংঘাতিক ও বীভৎস।
এরকুল: আপনি দেখছি এক্কেবারে পাক্কা ইংরেজ, অযথা আবেগে ভেসে যান না।
ডেবেনহ্যাম: (একটু হেসে) না না, তেমনটা নয়। তবে কোনও ব্যাপার নিয়েই হইচই করে পাড়া মাথায় করাটা আমার ঠিক পোষায় না। আর তাছাড়া কথাতেই আছে, জন্মিলে মরিতে হবে—
এরকুল: স্বাভাবিক মৃত্যু আর খুন দুটো তো আর এক হতে পারে না।
ডেবেনহ্যাম: হ্যাঁ হ্যাঁ, সে অবশ্য বটেই।

মার্ডার অন দ্য ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেস Read Post »

অনুবাদ, ধারাবাহিক উপন্যাস
poramatir gram8th

পোড়ামাটির গ্রাম – অষ্টম পর্ব

‘আব্বাকে আমি মেরে ফেলতে চাইনি।‘ বিড়বিড় করে করে বলতে থাকলেন গিয়াসউদ্দিন। বাইরে সন্ধ্যা নেমে এসেছে। এই সন্ধ্যাটিকে সন্ধ্যা না বলে রাত বলাই বরং ভাল। চারপাশে কোথাও এক বিন্দু আলো জ্বলছে না। এতটাই দূরে, জঙ্গলের মধ্যে চলে এসেছেন, যে  মনে হচ্ছে, সভ্যতা থেকে অনেক দূরে তাঁদের আর কেউই খুঁজে পাবে না। এখানে আসার উদ্দেশ্য আসলে শিকার করা নয়। শিকার করতে তিনি পছন্দ করেন না। নিরীহ জন্তুদের মেরে কার যে কী আনন্দ হয়, তা তিনি জানেন না। তিনি জঙ্গলে ঘুরে বেড়ান নিজের মনের সঙ্গে নিজেই কথা বলার জন্য। সুফি কবি হাফিজ যেমন বলেন, নিজের মনের মধ্যেই আছে এই জন্নত। তার সঙ্গে দেখা করো, সে তোমায় দেবে অধরা মাধুরী। আহা কী কথা। গিয়াসউদ্দিন পানপাত্রখানি পাশে রেখে। তাঁবুর বাইরে চলে এলেন। রক্ষীরা একটু দূরে দাঁড়িয়ে আছে। তাদের আসলে বলা আছে তাঁবুর চেয়ে একটু দূরেই দাঁড়াতে। কারণ গিয়াসউদ্দিন তাঁর এই একলা থাকাটা উপভোগ করতে চান। অনেকটা ঘুরে তাঁরা এসে পড়েছেন জঙ্গলের এক প্রান্তে। হরিণীর কথা বারবার মনে পড়ছে তাঁর। মনে আছে, এক অপূর্ব কবি এসে তাঁর রাজসভায় প্রথম হাফিজের কবিতা শুনিয়েছিল। হাফিজের কবিতা যেন রুমির কবিতার এক পুনর্জন্ম। আহা কী সে কবিতা, তিনি প্রথমে শুনেছিলেন—“ হে হাফিজ! তোমার বক্ষে ধারণকৃত এই কুরআনের চেয়ে/সুন্দর ও সুমিষ্ট বাণী আর কিছুই দেখি নি।”

পোড়ামাটির গ্রাম – অষ্টম পর্ব Read Post »

কাহিনি, ধারাবাহিক উপন্যাস
bipasar tire dwityo parbo

বিপাশার তীরে – ২য় পর্ব

সৈন্য শিবির থেকে আকেশ বেরিয়ে পড়েছে যখন তখন আকাশে নরম আলো। আজ তার পরনে সাধারণ পোষাক। জঙ্গলের রাস্তা পেরিয়ে দ্রুত গ্রামের দিকে আসে। বিপাশার তীর ছুঁয়ে এই গ্রামের শুরু, যেন এক নব যৌবনবতী। গৃহস্ত বাড়িতে মেয়েরা সাংসারিক কাজে মগ্ন। আকেশ চোখ কান খোলা রেখে এগোতে থাকে। সহসা চোখ যায় একটি বাড়ির উঠোনে সভা মতো বসেছে। চুপচাপ ভীড়ের ভিতর বসে পড়ে আকেশ। পরিস্থিতি সবটুকু নিঃশব্দে অনুভব করে। মুগ্ধ হয়ে দেখতে থাকে সোমরাংকে। ওর কাঁধের উপর উজ্জ্বল নীল রঙের পাত্তু যেন গোটা উপত্যকার আকাশকে জড়িয়ে রেখেছে।নির্ভয়ে সকলের সামনে কথা বলে চলছে। ওর অনুভূতি প্রবণ মন যেন প্রবদর গাছের মতোই সুন্দর। সকলে যখন বেরিয়ে আসছে ওদের বাড়ি থেকে তখন আকেশে উঠে পড়ল। তবে ধর্মরাজ মানুষটিকেও তার বেশ লেগেছে। সোমরাং তার পিতাজির যথার্থ প্রতিচ্ছবি। ওদের বাড়ি থেকে বেরিয়ে সে পিছু নিয়েছে ভিনদেশী মানুষ দুজনের। তাদের সাথে ভীম নামক স্থানীয় লোকটিও রয়েছে। কিছুদূর যাবার পর ভীমকে পারিশ্রমিক দিয়ে তারা বিদায় জানাল। এদের ভাষা আকেশের জানা। মহারাজ জগৎ সিংহ দিল্লীশ্বর ঔরঙ্গজেবকে সহায়তা করতে মাঝেমাঝেই সৈণ্য প্রেরণ করেন। একবার আকেশ গিয়েছিল যুদ্ধে। মাসখানেক থাকার সময় এই প্রদেশের ভাষা তার জানা হয়েছে কিছুটা। গঙ্গানদীর তীরে শস্যশ্যামল এই প্রদেশেই রয়েছে কালীমাতার প্রাচীন মন্দির বহু মানুষ এখানে আসে, মুক্তির আশায়। মিষ্টি, মাছ বড় প্রিয় এখানকার মানুষের আর তেমন সাহস। আকেশ শোনে অপহৃত মেয়েটির স্বামী রাগত স্বরে বন্ধুকে তীব্র ভাষায় আঘাত করতে উদ্যত।

বিপাশার তীরে – ২য় পর্ব Read Post »

কাহিনি, ধারাবাহিক উপন্যাস
chandranath seth

কমলিকা ভট্টাচার্যের তিনটি কবিতা

যদি না থাকে প্রেম, নাই বা থাকুক,
তবু তোমার মিথ্যেটুকু
তাকে একটু বাঁচিয়ে রাখুক।

কমলিকা ভট্টাচার্যের তিনটি কবিতা Read Post »

কবিতা, কাব্য
paapparbo20

পাপ -পর্ব ২০

মেজ জ্যেঠাইমা চুপিচুপি বেদেনী বুড়ির থেকে যোগাড় করা শেকড় আর কিছু কালো কালো বড়ি দিয়ে গেল। শেকড় গুলো শরীরের ভেতরে পুঁতে দিলে আমার পাপ গলে গলে বের হয়ে আসবে। বড়ি গুলো এই পাপের আত্মা পর্যন্ত পুড়িয়ে ঝামা করে দেবে। আর কখনো সে কোন বিধবা বা কুমারীর গর্ভে অনধিকার আশ্রয় নেওয়ার সাহস করবে না । সমাজের ব্যাভিচার তো থামবে না । মানুষের কুপ্রবৃত্তি রোখা ভগবানেরও অসাধ্য। 
সকাল থেকেই বাড়িতে করুন সুরে সানাই বাজছে। এ প্রজন্মের শেষ মেয়ে মালতীলতার বিয়ে হচ্ছে। পাত্রের কোন দাবি দাওয়া নেই, কেবলমাত্র পাত্রী সুন্দরী হলেই হবে। যদিও সে একটু খুঁতো … দোজবরে, বিপত্নীক। তা হোক, সোনার আংটির আবার সোজা আর বাঁকা! আইন ব্যবসায়ী ছেলের মাস গেলে রোজগারখানা তো কম নয়। আবার আগের পক্ষের বউ বড়লোক বাড়ির মেয়ে ছিল। তারও মেলা গয়না গাঁটি আছে। শহরের কেন্দ্রে নিজেদের বসত বাড়ি, অভাব তো কিছুই নেই। মেয়ে খেয়ে পড়ে সুখে থাকবে। বড় ভাইরা পৃথগন্ন এবং আলাদা থাকে, শ্বশুর তো অনেক কাল নেই, শাশুড়ী মাগীও হালে মরেছে। বাড়িতে দু দুটো কাজের মেয়ে।

পাপ -পর্ব ২০ Read Post »

কাহিনি, ধারাবাহিক উপন্যাস
poramatirgram7th

পোড়ামাটির গ্রাম- সপ্তম পর্ব

রাস্তা বলে কিছু নেই। একে ঠিক পথও বলা যায় না। দুপাশে মাঠ। শস্যক্ষেত। গ্রামের চাষিরা চাষ করছে। মাথায় গামছার  মতো কাপড় বেঁধে তারা চাষ করছে। এই দৃশ্য বদলায়নি। মৃন্ময় বুঝতে পারল। আজ থেকে হাজার বছর পরে খেতের মাঠে কাজ করার দৃশ্য যেমন, ঠিক তেমনই। বাংলার খেত তেমনই নানারকম সবুজ হয়ে আছে। স্তরে স্তরে এই সবুজের রং বদলে যায়। কখনো গাঢ় সবুজ, কোথায় বা হালকা। দূর দিগন্ত অব্দি দেখতে পাওয়া যায় এই সবুজ। ঠিক যেন কেউ একটা তুলি দিয়ে রঙের বিভিন্ন শেড তৈরি করেছেন। মৃন্ময়ের পাশে নীরবে হেঁটে চলেছেন শান্ত ভিক্ষু। তাঁর কোনও তাড়া নেই। তিনি যেন বা নিজের মধ্যেই বিভোর।

মৃন্ময় তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করেছে সে কোন সময় থেকে এসেছে। আসলে ঠিক কোন সময়ে তাঁর শরীরটা শুয়ে আছে। কিন্তু এই বোঝানোটাই সার হয়েছে। তার পোশাক আশাক, চালচলন এবং কথাবার্তায় অন্তত এইটুকু তিনি বুঝতে পেরেছেন, যে সে অনেক কিছু জানে। সে একটা অন্য জায়গা থেকে এসেছে। সে তাদের মতো ভাষাতেই কথা বলছে। কিন্তু তার বলা কথা, ভাবা বিষয় সবই অন্য।

পোড়ামাটির গ্রাম- সপ্তম পর্ব Read Post »

কাহিনি, ধারাবাহিক উপন্যাস
ayan

শিং, সিংহাসন ও শহর

“শিং নেই তবু নাম তার সিংহ,
ডিম নয় তবু অশ্বডিম্ব—”
গৌরীপ্রসন্ন মজুমদারের লেখা, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সুর। লুকোচুরি ছবিতে কিশোর কুমারের গলায় গানটা বেশ জনপ্রিয় হয়েছিল। গানের কথায় সিংহের নামে ‘শিং’ আছে, কিন্তু মাথায় নেই। অথচ প্রায় সাড়ে চার হাজার বছর আগে মহেঞ্জোদারোর একটা ছোট্ট তামার ফলকে ঠিক উল্টো দৃশ্য দেখি—এক মানুষের মাথায় প্রকাণ্ড শিং, হাতে তির-ধনুক, শরীরে কয়েকটা রেখা, পিছনে লেজের মতো অংশ। তাই নিয়ে কৌতূহল আজও কাটেনি। কয়েকজন গবেষক একে ‘horned archer’ বলেছেন। কিন্তু লোকটি কে? শিকারি? যোদ্ধা? পুরোহিত? দেবতা? না কি কোনও আচার করতে গিয়ে মানুষটি ওই সাজ পরেছিলেন? গবেষকেরা এখনও সিন্ধুলিপি পড়ে উঠতে পারেননি। ফলে মাথায় দুটো শিং আর হাতে ধনুক নিয়ে লোকটি আজও আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে।

শিং, সিংহাসন ও শহর Read Post »

প্রবন্ধ, প্রবন্ধ/আলোচনা
bipasar tire prothom parbo

বিপাশার তীরে -১ম পর্ব

দিগন্তের শেষ সীমা রক্তিম বিদায় জানিয়েছে সূর্য দেবতাকে। বিপাশা নদীর ধারে সোমরাং তখনও বসে অপেক্ষা করছে একটু পরেই হয়তো সে আসবে। ক্লান্ত অবসন্ন চোখে ঘোড়াটার গায়ে হাত রাখবে। তারপর নিজেকে সঁপে দেবে বিপাশার জলে। দীর্ঘ গৌর গাত্রবর্ণ লালচে কালো দেখাবে আকাশের রঙের জন্য। পেশিগুলো যেন পাথর কুঁদে নির্মাণ করেছেন বিধাতা। সে জল থেকে উঠে ভিজে শরীর উন্মুক্ত করে পোষাক বদলাবে তখন সোমরাং নিজেকে বড় পাথরটার নিচে পুরোপুরি লুকিয়ে নেয় তাকানোর সাহস হয় না তার। ঘোড়ার চলার আওয়াজ আসতেই আবার মাথাটা তোলে সে তখন পিছন ফিরে চলে যাচ্ছে সেনা শিবিরের দিকে। সোমরাং এরপর হাঁটা শুরু করে। ওদের গ্রামের আশেপাশে এর আগে কখনো সেনা আসেনি। পাইন গাছে ঘেরা বিপাশার তীরে গ্রামখানি ছবির মত সুন্দর সকলের বাড়িতেই প্রায় রয়েছে সেবফল ও দারিমের গাছ। তবে প্রবদর গাছ সোমরাং এর সবচেয়ে প্রিয়। তাদের বাড়ির চারিপাশে প্রবদরে ঘেরা। বছরের শেষে যখন প্রিয় বসন্তকাল পাহাড়ের কোল জুড়ে ফুলের বাহার তখন প্রবদরের শোভায় মন ব্যাকুল হয়ে ওঠে। সারা উপত্যকা জুড়ে সাদার সাথে হালকা গোলাপি রঙের ফুল। যৌবন যেন উছলে উঠে গ্রামটির। মৃদু খসখস শব্দে সচেতন হয়ে ওঠে সোমরাং। দুহাতে ভর দিয়ে মাথাটা সামান্য উঁচু করে কিন্তু কাউকে দেখতে পায় না। অন্ধকার ঘনিয়ে আসছে পাইনের ঋজু শরীরে। মায়ের কাছে বকুনি জুটবে খুব। বারবার মা বলেছে, শেষ আলো পায়ে নিয়ে ফিরবে না সোম, আগে ফিরবে। শেষের আলোতে বিপদ লুকিয়ে থাকে। মায়ের মন হাজার কু সংস্কারে ভরা। সোমরাং বাবার কাছে পড়ে। ওর বাবা যে পণ্ডিত। পায়ে হেঁটে বহু দূরে দূরে পুজোপাঠ করতে যান ওর বাবা।

বিপাশার তীরে -১ম পর্ব Read Post »

কাহিনি, ধারাবাহিক উপন্যাস
murderonorientexpress18

মার্ডার অন দ্য ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেস (পর্ব – ১৮)

এরকুল: (চোখ মটকে) এই এতক্ষণে মঁসিয়ে বুঁকের মনোবাসনা পূর্ণ হবে। এবার ইতালীয়টির পালা।
ডাক পেয়ে ইতালীয় মি. ফসকারেল্লী এসে হাজির হলেন। সুঠাম চেহারার, চোখেমুখে শিশুর সারল্য, সঙ্গে একমুখ উজ্জ্বল হাসি।
এরকুল: (পাসপোর্ট হাতে নিয়ে) আপনি আন্তোনিও ফসকারেল্লী?
ফসকারেল্লী: ইয়েস স্যার।
এরকুল: আপনি এখন আমেরিকান নাগরিক, তাই না?
ফসকারেল্লী: হ্যাঁ। ব্যবসাসূত্রেই আমেরিকায় থাকা এবং সেই সূত্রেই নাগরিকত্ব।
এরকুল: আপনি ফোর্ড মোটর কোম্পানির একজন সেলস এজেন্ট?
ফসকারেল্লী: হ্যাঁ, আমি সেলস-এর দিকটাই দেখি। এই ইউরোপ এবং এশিয়ার এই দিকটাই আমার এলাকা। একটু বেশি ঘুরতে হয়, কিন্তু বিরাট সাড়া পাচ্ছি। গাড়ির বাজারে এদিকটায় আমরাই একচেটিয়া। কোম্পানিরও লাভ হচ্ছে, সঙ্গে আমারও, বুঝলেন না (বকেই চলতেন হয়তো)।
এরকুল: বেশ বেশ, কত বছর হলো আপনার আমেরিকায়? বছর দশেক?

মার্ডার অন দ্য ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেস (পর্ব – ১৮) Read Post »

অনুবাদ, ধারাবাহিক উপন্যাস
dwanda antardwanda sesh

দ্বন্দ্ব-অন্তর্দ্বন্দ্ব – শেষ পর্ব

স্মৃতি, যন্ত্রণা,আক্রোশ, এনট্রপি বৃদ্ধ, পরিসংখ্যানবিদ সবাই নিরবচ্ছিন্নভাবে বহমান টোড়ীর সুড়ঙ্গে প্রবেশ‌ করেছে।আলাপের প্রকোষ্ঠে খেলা করছে নীলচে গোলাপি আলো। ট্রেনের কামরায় ঝালা শুরু হলো,শুরু হলো সোনালী রূপালীর আলো আলো‌ খেলা। সমস্ত সংলাপ স্তব্ধ হয়ে গেছে, শুধু খেলা করছে অনবদ্য সঞ্চালন । বন্দিশের সুড়ঙ্গে প্রবেশ করে
স্মৃতির সহযাত্রীরা বুঝতে পারছে প্ল্যাটফর্ম খুব দূরে নয়। ক্রমাগত: তারা এক সিঙ্গুলারিটির দিকে এগোচ্ছে। যেখানে অর্থহীন অর্থেরা চেতনাহীন‌ কল্পনার সুরে অবগাহন করে। কথাদের থেমে যাওয়া কোলাহলে আশাবরী নিজস্ব সুরের সুরভি নিয়ে আসে। সমস্ত কামরায় ভৈরবী -টোড়ীর রঙের সুড়ঙ্গে আশাবরী নিয়ে আসে শৈশবের গন্ধমাখা বাতাস। ঝিরঝিরে দুপুর গায়ে মেখে ট্রেন প্ল্যাটফর্মে আসে।

দ্বন্দ্ব-অন্তর্দ্বন্দ্ব – শেষ পর্ব Read Post »

নাট্যগল্পের অন্তর্চলন, নাট্যসাহিত্য
Scroll to Top