আজকের দিনটা খুব নিস্তরঙ্গ কাটল। স্কুল এবং বাড়ি, তারপর ছাদে বসে সুজিত সিংয়ের সাথে আড্ডা। সুজিতও সাউথ অ্যাফ্রিকায় থাকে, ওখানে পা ভেঙে গেছিল বলে বাড়ি চলে এসেছে।
সুজিতের সঙ্গে দেশ বিদেশের নানান খবর নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল, তারপর আমার কাছে বাড়ির বাচ্চারা তারা চিনতে এল। ওদের দেখালাম ধ্রুব, কালপুরুষ, সপ্তর্ষিমণ্ডল, লুব্ধক, ধনু রাশি একটু দূরে।
এই বাড়িতে বাচ্চাদের সংখ্যা প্রচুর, গতবার মিঠুদি আর লীনার সাথে ওদের কথা বলিয়ে দিয়েছিলাম। ওরা আমার ঘর এবং খাটটাকে খেলাঘর মনে করে, আমার আয়নাটা মেয়ে শিশুদের সাজার জায়গা, ছেলেগুলো আমাকে ক্রিকেট খেলতে ডাকে।
আসলে ওদের বাবা কাকারা সেই পুরনো দিনেই পড়ে আছে। ছেলেমেয়েদের সঙ্গে অনতিক্রম্য একটা দূরত্ব, মায়ের সঙ্গে বরং ছেলেমেয়েরা সহজ।
এই বাড়িতে বাচ্চাদের সংখ্যা প্রায় দশজন। ওদের মধ্যে সবচেয়ে বড়টা ক্লাস সিক্স, ওর নামই পীযূষ। মাঝেমাঝে আমার ভ্রমণসঙ্গী হয়ে ওও আমবাগান, লিচুবাগান, নদীর ধারে ধারে ঘুরে বেড়ায়। আমি ওকে নানারকমের গল্প বলি। ওকে নিয়ে সাইকেলে করে ঘুরে বেড়াই।
ও আমাকে একদিন ওদের খেলার মাঠে নিয়ে গেছিল। এক অতিকায় অশ্বত্থের ছায়ায় ওই মাঠ, ওখানে ক্রিকেট ফুটবল দুটোই ওরা খেলে, আমি ওকে স্পিন বোলিং শিখিয়েছি। ফুটবল খেলতে ইচ্ছা করে, কিন্তু শরীর ভারী হয়ে গেছে, আর অত ছোটো বাচ্চাদের সাথে খেলা জমবে না। না হলে আমি ফুটবলটাই বেশি খেলতাম, দুয়েকটা মেডেলও জুটেছিল।
এখানকার দিনগুলো, এক অন্য জগত, খোলা ছাদ, আদিগন্ত ক্ষেত, আম আর লিচু বাগান, জানি না এখনো সহ্যাদ্রির মতো অত গভীরে এই জগতটা ছাপ ফেলে যেতে পারবে কি না। আপাতত জীবন এবং আমি আবার মুখোমুখি। একটা খেলা চলছে আবারও, কখনো জীবন তার দান ফেলে, কখনো আমি। এ খেলায় হার জিত নেই, শুধু নানারকম অভিজ্ঞতা আছে, বিচিত্র, আনন্দময়।
( ক্রমশ )
মুজঃফরপুরের দিনগুলো ( পর্ব ৯ )



