বং বিবাহের লগ্নবাজি – পর্ব ১

father reflects on daughter's future

ক’দিন ধরেই সুরেশ কাকুর ঘুম নেই— কন্যা মিঠুর বিয়ে ঠিক হয়েছে, এন আর আই জামাই— মনপসন্দ বর, পাল্টি ঘর। মেয়ে আর হবু জামাইয়ের মোবাইলে থেকে ইটিং আউট সবই নিয়ম মেনে চলছে জোর কদমে, কিন্তু নাওয়া-খাওয়া-ঘুম উঠছে মেয়ের বাপের। দেনা-পাওনার চক্করে নয়— বিয়ে বাড়ি অমিল। এখন নাকি এক বছরের আগে বিয়ের ডেটে বিয়ে বাড়ির বুকিং পাওয়া যায় না। হঠাৎ বিয়ে ঠিক হলে যেমনটা হয়েছে মিঠুর বেলায়; প্রবাসী ছেলে দেশে ফিরে মা-বাবার অনুরোধে দেখা-শোনা মক্স করতে গিয়েছিল— পয়লা চোটেই চার চোখের মিলন আর ছেলের বাবা-মায়ের সামনে মাসেই চারহাত মেলানোর বাসনায় সুরেশ বাবুর ঢেঁকি গেলার অবস্থা।

শুধু সুরেশ কাকুই নয়, এই সমস্যা এখন শহরে তো বটেই, মফস্বলেও বেশ গেঁড়ে বসেছে। সাবেকি সেই প্যান্ডেল বেঁধে বিয়ের অনুষ্ঠান ধীরে ধীরে ইতিহাসের পাতায় ঠাঁই নিতে চলেছে। শহর-মফস্বলে উঠোনই নেই তায় প্যান্ডেল। ফ্ল্যাট কমপ্লেক্সের এক চিলতে কমিউনিটি স্পেস যদিও বা ক্বচিৎ কদাচিৎ মেলে, তাতে হ্যাপি বার্থডে কিংবা হ্যাপি অ্যানিভার্সারি মানানো হয়তো যায়— বিয়ে বাড়ি; পাগলেও ভাবে না। অগত্যা অনুষ্ঠান বাড়ি ছাড়া গতি নেই।

আর এখানেই কবি কেঁদেছেন— হাউ হাউ করে কেঁদেছেন। ক্রমাগত জনসংখ্যা বাড়ছে— আমাদের মতো তৃতীয় বিশ্বের দেশে এজ পিরামিডে যুবক-যুবতীর সংখ্যাধিক্য, অর্থাৎ বিবাহযোগ্য পাত্র-পাত্রীর সংখ্যা জনসংখ্যার অনুপাতে বেশ বেশি। এবার ভাবুন অবস্থা— বিবাহযোগ্য পাত্র-পাত্রীর সংখ্যা একদিকে বাড়ছে হু হু করে, অন্যদিকে বিবাহের দিন-লগ্ন সেই মান্ধাতার আমল থেকেই প্রায় ফিক্সড, সঙ্গে বাড়তি পাওনা ১২ মাসে দুই মাস মলমাস অর্থাৎ বিবাহাদি শুভকার্য নিষিদ্ধ। দিনে দিনে এই সংকট বাড়বে বই কমবে না। একটু খেয়াল করলেই দেখবেন বিয়ের মরশুমে একটা বিয়ের ডেটে একটা নেমতন্ন প্রায় অমিল, একই দিনে খানকতক নেমতন্ন বাঁধা; পরিবারের লোকজনকে ভাগ ভাগ হয়ে রক্ষা করতে হয় কিংবা কোথাও ঝাঁকি দর্শন সেরেই অন্য কোথাও পাত পাড়তে হয়। এই সংকট নিরসনের উপায়?

নানাবিধ ভাবনা-চিন্তা চলতেই পারে। প্রথমেই একটা ডেপুটেশনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে— রাজেন্দ্র কিংবা গুপ্ত প্রেসে। বাবুগণ, মাসের মধ্যে বিবাহের দিনক্ষণ কিছু বাড়াও, জনসংখ্যা বাড়ছে। হে পাঁজি কর্তাগণ, গণ উল্টোবাগে ভাবো, মাসের মধ্যে কোন কোন দিনে বিবাহ নিষিদ্ধ তা পাঁজিতে উল্লেখ করো, এখনকার মতো বিবাহসিদ্ধ দিনের উল্লেখ পাঁজিতে আর রাখারই দরকার নেই। খানিক কাঞ্চন মূল্যে আধসিদ্ধ দিনকে সিদ্ধ দিনে পরিবর্তন করলেও আপত্তি নেই। একইভাবে শরৎ কিংবা শীতের দুটো বিবাহের পক্ষে উপযুক্ত আবহাওয়া যুক্ত মাস যেমন আশ্বিন ও পৌষকে মলমাস দেগে দিয়ে বৃথা যেতে দিয়ো না; মূল্য ধরে দিয়ে মল মাসকে অমল মাসে পরিবর্তিত করার আচরণক্রিয়া উদ্ভাবনে ব্রতী হও। এতে সমস্যার সমাধান খানিক হলে ভালো, নইলে নামাতে হবে ধর্মাচার-লোকাচার ডিসোসিয়েশন ক্রিয়া। সেটা কী?

উঁহু, সেটা পরের এপিসোডের জন্য রইল তোলা। আজ তবে এই অবধি— অলবিদা, গুড নাইট এন্ড সাম্ভাখ্যায়ের। ভালো থাকুন সবাই।

ক্রমশ


2 thoughts on “বং বিবাহের লগ্নবাজি – পর্ব ১”

  1. বাঃ! বেশ ভালো লাগলো। পরের পর্বের অপেক্ষায় রইলাম।

  2. বং বিবাহের সমস্যার নিরসনের প্রস্তাব খুবই জনপ্রিয় হতে চলেছে, পরের ক্রিয়ার জন্য অপেক্ষারত পাঠকবৃন্দ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top