অচ্ছুত পথ ধরে এক মেয়ে-পুরুষের নিঃশব্দ যাতায়াত 

whatsapp image 2025 12 20 at 12.07.10 am

চাল ধুচ্ছি একটু আয়নায় দেখে নিলাম, আশা গাইছেন আধ ঘন্টা নেচে নিলাম। দাঁত মাজতে মাজতে দুটো চোখ গোলগোল পাকিয়ে নিলাম। ওরা বলে লুডো খেলার সময়ও ছটফট করি। আমার ছক্কা তোদের পুট! খেয়াল করছি কফি খেলেও আজকাল নেশা হচ্ছে। এমন মরশুমে বিয়ে নিয়ে ভাবছি না তা নয় কিন্তু আমি তো পৃথিবী দেখবো। আজ রাতে খাজুরাহ কাল কাশ্মীর। বাসা বাঁধি না শুধু মণ্ডপ সাজাই। অভিযোজন? এক সন্ধ্যায় দশাশ্বমেধ ঘাটে যে রাজপুত্রকে মনে ধরলো, তাঁকে এখন চাই, আজ দুপুরেই চাই। কিন্তু কী করি? ঘাটই তো ফাঁকা! সাধেই বলি, হাড়গোড়ের পৃথিবী?

কফি ফার্স্ট চয়েস। পোড়া গন্ধ শুধু নয়, তেতো স্বাদে আনন্দ। টানটান মাসলের খানখান আমেজ। স্বভাব কি মাথায় থাকে? যা স্বভাব তাই চরিত্র? আ:! এক চুমুক কফি দু চুমুক উত্তেজনা তিন চুমুক আগুন। আমি ভেসে যাচ্ছি, আর তুমি হেসে যাচ্ছ? একটা রাত দেবে আমায়? ল্যাংটো অন্ধকার দেবে? এক মুঠো শরীর, দু’মুঠো বিছানা, তিন মুঠো লজ্জা দেবে আমায়? তোমার পোড়া গন্ধের জ্বলন আমি চুমুকে বুঝবো। বাকি জীবনটা না হয়,একা একাই যুঝবো…

ছোট থেকেই বিশ্বকর্মাকে চেয়ে চেয়ে দেখতাম। চোখ জুড়িয়ে যেত। তখনও সিলেবাসে জনন আসে নি। পুংকেশর গর্ভকেশর চিনেছি মাত্র! খালি গা, সিল্কের ধুতি, পাকানো গোঁফ, ভর্তি চুল, হাতির পিঠে হেলান দিয়ে মারাত্মক হাসি! উঃ! দিনের আলোয় এর বেশি আর কী চাইতে পারি ? ট্রান্সজেন্ডার চরিত্রে দোষ থাকেই। দোষ থাকবেই। দোষ থাকতে বাধ্য। ছোট থেকেই যৌনতার পথটাকে চিনিয়ে দেওয়া হয়। এটা চিনির চেয়েও মিষ্টি ক্রমে মালুম হয়। হালুম করে ঝাঁপিয়ে পড়েছি কিনা মনে নেই, তবে শরীরটাকেই পৃথিবী বলে চিনেছি। তৈরীর সময় দেবশিল্পীর হটাৎ করে আনমনা হয়ে যাওয়াটা বড্ড ভাবায়। তিনিও যে প্রথম জেন্ডার এ কথা ভুলি কী উপায়ে …?

ভুল শরীরে ভুল মানুষ। ঠিকঠাক গড়ে উঠতেই পারিনি। অথচ জঙ্গলে জঙ্গলে বন্দুক হাতে শিকার করা রাশ ভারী বড়ো জেঠুর কাছে আমার মানুষ হওয়া। মেয়ে মানুষ আর পুরুষ মানুষ এই ভবেই তো দুনিয়াকে দেখেছি, সেখানে আমি ফালতু পাগল একটা। ছাব্বিশ দিন ঝড় বয়ে গেলো জীবনটার ওপর দিয়ে। আত্মীয়রা বললে, তুই কি ক্ষেপে গেছিস? তোর এটা নেই, সেটা নেই। তুই কি মেয়ে? ছেলেটা তোকে কেন ভালবাসবে? চলে গেছে যাকগে..! যদি কিছুই না থাকবে তাহলে এত ছেলে অস্থির করে কেন ? ছেলেরা এত জ্বালায় কেন যদি কিছুই না থাকবে? কাউকে বলতে পারি না, মনে মনে বলি। ঠাকুরকে বলি। চাকরি করতে যোগ্যতা লাগে, প্রেম করতেও যোগ্যতা লাগে। মন দিয়ে কিছুই হয় না, সব শরীর! আমার ভাই কিচ্ছু নেই, শুধু মন আছে। অন্যায় করিনি, বন্ধু হতে চেয়েছিলাম। তুমি চিরকাল থাকবে আমার ভাবনায়, দ্বিতীয় কেউ আসবে না কথা দিচ্ছি। আমার ভাবনাকে কাড়বে কার সাধ্য ? একটা গল্প শুরু করেছিলাম মনে আছে? আসলে গল্পটা কবেই ফুরিয়ে গেছে …

প্রাণপণ চিৎকার করছি, আমায় স্তন দাও, যোনি দাও, এক মাথা চুল দাও, আমায় নারীত্ব দাও, কেউ শুনছে না, কোনো কম্পাঙ্কে এই হাহাকার ধরা পড়ছে না।

যে গাছে জল কম, সে গাছের চিৎকার বেশি অথচ সেই কষ্ট কেউ শুনতেই পাচ্ছে না। জলের অভাব, অস্তিত্বে সংকট।  লিপস্টিক গয়না কাজল আঁচলে টিকে থাকা মাত্র। শরীরের  অন্দরে একটা পুরুষ , মনের অন্তরে মেয়ে মানুষ ! সিক্সে ওঠার পর সেক্স বুঝলাম আনন্দ বুঝলাম। ক্ষেত্র তৈরি, শুধু যুদ্ধে নামার অপেক্ষা…

হাড় গোড়ের পৃথিবীতে শরীর ছাড়া আছে কী ? উত্তাল একটা সময় ! পুরুষের লজ্জা দেখবো। পুরুষের আড়াল দেখবো। পুরুষকে বিছানায় নেবো। চোখ গাল ঠোঁট রাঙিয়ে যৌনতার কি হুড়োহুড়ি ! একেই এতদিন নারীত্ব বলে চালিয়ে সামাজিক থাকার কৌশল করেছি ? জানি না। আত্মায় আমি মেয়ে তাহলে কেন এত কাটাছেঁড়া? কেন শরীরকে যন্ত্রণা দেওয়া ? জীবনটা আর যাইহোক আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স নয়। সময় কত অবুঝ করে রাখে আমাদের, আবার একদিন শরীর নয়, মনই বড়ো করে ধরা দেয়। এতদিনে অন্ধকার কাটিয়ে যেন সূর্য উঠলো …

রকম সকম দেখেই মানুষ বুঝে ফেলি। জীবনটার সাথে এত লড়তে হয়েছে না। রাতে মরেছি দিনে বেঁচে ফিরেছি। মানুষ রাস্তায় কুকুর লেলিয়ে দিয়েছে, গালাগাল দিয়ে তছনছ করে দিয়েছে, কনুই দিয়ে বুকে মেরেছে তবু চলছি, বন্দি রাখিনি নিজেকে। যারাই আমায় দেখেছে একলা দেখেছে, কেউ মিশতে চায়নি। কেমন আছি, কী রান্না হলো সব আদিখ্যেতা আড়ালে। চূড়ান্ত অসামাজিক হয়তো। আচ্ছা পাগলের তো মাথার দোষ আর আমাদের যৌনতার দোষ? হরমোন ব্রেইন জিন ক্রোমোজোম এত গরমিলে যাই কোথায়? ডাবল-এক্স আর এক্স-ওয়াই কখন ট্রিপল এক্সে থিতু হবে কে জানতো?

জীবনের ওপর অভিমান। এমন কেন হলাম? আর পাঁচজনের মতো হলে মহাভারত কি অন্যভাবে লেখা হতো? এইটুকু শরীর এত যন্ত্রণা? এইটুকু জীবন এত ঝড়? সব বিপদ একা একা সামাল দিয়েছি। একা তো সবসময়। পুজো, মেলা উৎসব সবসময় একা। সবাই আনন্দ করছে আমি ঘরে বসে আছি । শুনেছি আমাদের ঠাকুরের মাতৃভাব ছিল, রাধা ভাবে ওড়না নিতেন। নারী পুরুষ শরীর ভেদাভেদের ওপরে তিনি অতি মানব অতি আত্মা। আর আমরা অতি ক্ষুদ্র যারা ,জীবনকাল শুধু ভেদাভেদের আবর্তেই ঘুরে চলেছি।

ভালোবাসা পেলে কী করবো ? আনন্দে হয়তো পাগল হয়ে যাবো। সবাইকেই ভালোবাসা যায় না, কাউকে কাউকে যায়। আমার পছন্দের কেউ আছে, যাকে আজও ভালোবাসি, সে আমায় ঘেন্না করে। এখানেই জয়, ঘেন্নাও তো অন্য রকম আকর্ষণ। ওকে নিয়ে। স্বপ্ন দেখি, ভাবনা ভাবি। ভাবনাতে কার্ফু বসাবে কার সাধ্যি? শরীরের আকর্ষনটাই প্রেম অবধি নিয়ে যায় এ জীবন সত্য। আমরা শুধু বিকল্প ব্যবস্থা, আপদকালীন হঠ যোগ …

আসলে জেন্ডারের গণ্ডগোল।  সত্যিকারের মেয়ে জন্মালে প্রেম বলতেন, ঈশ্বর বলতেন, বাহবা দিতেন। আমি তো দেখছি আমার আবেগ উতলা ভালবাসা বেইজ্জত হচ্ছে সারাদিন ধরে। তাতে আমি দুঃখি নই,। একবার যদি তাকাতে একবার যদি ভালবাসতে। তুমি কৃষ্ণ ঠাকুর, তোমার অনেক রাধা। আমি আশায় আশায় ভাসছি ! হায় রে কালা এ কী জ্বালা, বাঁশি শুনে …”  নাচছি গাইছি, সাজছি। আমার হাবভাবই বদলে গেছে, আমি বদলে গেছি, আমার জীবন বদলে গেছে। তোমায় ঘিরে কী প্রচন্ড ঘোর। এ প্রেমের ভবিষ্যত নেই। খুশির অন্ধকারে তলিয়ে যাচ্ছি। হয় মৃত্যু দাও, নয় কৃষ্ণ দাও।

রাজরানী তুই? বল তুই রাজরানী? রানি নাম দিলে ওমনি রানি হয়ে গেলে? হৃদয় জয় করতে পেরেছ? বরং ভালবাসাকে অত্যাচারে নিয়ে গেছ বারবার। ছেলেটা তোকে ভয় দিয়ে চিনবে। পাখি তো পালাবেই। সমাজ তো সুরে গাইছে, শুধু যোনিদ্বারে যাতায়াত। তুই বেসুরে। গর্ভকেশরচক্র বোঝ? কত চক্রের মধ্যে সেই সিংহ দুয়ার! সে অনন্ত বিষ্ময়! পেটের থলে বোঝো? সামনাসামনি যৌনতার আনন্দ জানো? কোনো ছন্দেই তুমি মিলছ না। বুকের ভেতর যে ভালোবাসা তাকে ভ্যানিশ করে দাও, ভোকাট্টা হয়ে যাক, জলে ডুবিয়ে মেরে ফেলো।  মুখপুড়ি “প্রেম” তোর জন্য নয় …!

পৃথিবী থম মেরে আছে, ভেতরে হালচল তীব্র। খেলাম কি খেলাম না, ঘুম এলো কিম্বা এলোই না। ভাব হয়েছে, ভাবনা গেছে। সিল্কের পাঞ্জাবি   প্রথম ওঠা দাড়ি  একমাথা চুল  নরম গোঁফ রেখা, আমার হবু বর যেন, এমন রাজপুত্রের সাথে একটা ছাদনা তলায় ঘুরপাক খাচ্ছি।  সাথে বিসমিল্লার সানাই,  রাঁধছি সাধছি , কাঁদছি না শুধু বাঁধছি। সেই ছোট্টকালে নষ্ট মেয়ে হব বলে যে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম তা ভুল। প্রেমের চেয়ে সুন্দর এ জগতে আর কিচ্ছু নেই। প্রেম নারী পুরুষে হয়, সেই পরাগ মিলন, উলু শঙ্খ ধ্বনি!  আমি কোনো পঙক্তিতে নেই অথচ প্রেমে আছি এ কেমন নোংরামি ?  কোথা থেকে আসে এত প্রেম ? নাকি সবটাই অসুখ? সবটাই শরীর ? ফিলিংকে কিলিং করতে পারলে প্রাণটা বেঁচে যায় । তোমায় খুব ভালোবাসি ডিয়ার,খুব ভালোবাসি কিন্তু তুমি ঘুরেও দেখো না! অথচ রাতের এই দুর্যোগেও তোমার সাথে একটা ছাদনা তলায় একা একাই ঘুরছি … দেখে এসো চারিদিক পেছল অন্ধকার …।

আলোটা নিভিয়ে দি? শরম লাগে না বুঝি ? যাঃ চুরিগুলো সব গেলো! দরজা জানলা সব খুলে ফেললে কেমন হয় ? চারিদিকের হাওয়া আসুক  তবে। এত রাতে সূর্য কোথায় পাবো সখা?  এখান থেকেই আরও একটা গল্পের শুরু। প্রেমহীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে? চাদর সরিয়ে তুমি আদর খুঁজছো, আমি খুঁজছি প্রেম। মন তো সেই কৃষ্ণে! হায় রে কালা এ কী জ্বালা বাঁশি শুনে ঘরে …। আজ থেকে এই অন্ধকার জন্মের মত তাঁকে ভুলিয়ে দিক ! এ শরীর এলিয়ে দিলাম, এ জীবন বিলিয়ে দিলাম …।।

বিয়ে আমি করবো না, যা আছি বেশ আছি। বাবা হনহনিয়ে বারান্দায় চলে গেলো। আমার ওই জবাবে পরিস্থিতি গরম হয়ে গেছে। সুন্দর দেখে একটা মেয়ে দেখি, বিয়ে করে নে, দেখবি সব ভূত ছেড়ে গেছে।  দ্যাখো মা, কত লোক বিয়েই করে না, তাঁরা বেঁচে নেই? তোমরা আমায় বিয়ে দিতে চাও নাকি ভূত ছাড়াতে? মেয়েদের প্রতি কোনো ইন্টারেস্টই নেই আর বিয়ে করে নেব? বাবা আবার বারান্দা থেকে ঘর হয়ে বাইরে বেরিয়ে যাওয়ার মুখে জানিয়ে দিলো, কমিশনারের কাছে যাচ্ছি, জানিয়ে আসছি আমার ছেলে সমকামী। বাবা বেরিয়ে গেলো। মা সিঁড়ি দিয়ে রান্নাঘরে চলে গেলো। দোতলার ঘরটায় আমি একা, আমার ভয় নেই, লজ্জা নেই, দুঃখ নেই কিচ্ছু নেই, লক্ষ্য একটাই, একটাই লক্ষ্য। এতদিন পর  সেদিনের চেহারাটা আজ মনে পড়লে বুক কেঁপে ওঠে। কত নির্দয় ছিলাম আমি!!

বড়ো চুলটা হাতে পাকিয়ে মাথার পেছনে একটা খোঁপা। মেয়ে সাজা বলতে তখন এইটুকুই। ভরা বাজারে হঠাৎ মায়ের সাথে মুখোমুখি হতেই মা বললে, এক্ষুনি বাড়ি যা। দেখলাম মায়ের মুখ লজ্জায় লাল হয়ে গেছে। মেয়ে সাজার লজ্জা তো প্রথমে আমারও ছিলো। লোকে কী বলবে! পাড়ায় ছিঃ ছিঃ পড়ে যাবে। সেদিন মায়ের দোষ ছিল না, আমারও দোষ ছিলো না, সব ভাগ্যের দোষ, সব জীবনের দোষ। জ্বলছি পুড়ছি, খাক হচ্ছি। প্রার্থনা করি, আসছে জন্মে সেই মা’কেই পেতে চাই, সেদিন মিথ্যে নয়, সত্যিকারের মেয়ে জন্ম নিতে পারি যেন …

মেয়েদের দেখি ,রাস্তা ঘাটে ঘাড় উঁচিয়ে সিগারেট ফুঁকছে আর অন্য হাতে চায়ের পেয়ালা। কুছ পরোয়া নেই।  বুকের ভাঁজ যতটা দেখানো যায়, নরম পেট যতটা নামানো যায়, ততটা আধুনিক, আর আমরা যারা এককালে পুরুষ ছিলাম, তাঁরা বুকে ওড়না নিচ্ছি, কপালে টিপ পড়ছি, সিগারেট টানার কথা তো ভাবতেই পারিনা, অবশ্যই শরীরের কারণে। একই পৃথিবীতে কী ভীষণ বৈপরীত্য না? অথচ এই মেয়েরা একদিন মা হবেন, সংসার করবেন, ছেলেদের শিক্ষা দেবেন না এটা নিশ্চিত কারণ বেপরোয়া কালচারেই তাঁরা রপ্ত, বিশ্বাসী।

আমার মাকে দেখেছি, কত যন্ত্রণার মধ্যেও হাজার হাতে সংসার সামলেছে, বাজার করা, রান্না করা, সবাইকে খাওয়ানো, তবেই না সংসারটা টিকে ছিল। আমি পুরুষের সমান, এই ভাবনা থাকলে সংসার থাকে না, বাঁধন থাকে না, ভালোবাসা থাকে না। সব কিছুকেই ব্যক্তি স্বাধীনতা বলে চালিয়ে দিয়ে আমরা একটা অন্ধকারে চলে যাচ্ছি, জীবনটা জীবন, সার্কাস নয়।

সকাল হলেই ভাত পোড়ার গন্ধ। কতকালের অন্ধকার জাপটে এসে এমন আনমনা করে দিলো, ভাতটাই জ্বলে গেলো। এরপর আর ভাত হয়নি, আর দুপুর আসেনি।  ভাত ফোটার  ইচ্ছে নেই, দম নেওয়ার বাতাস নেই, আলোয় থাকার মস্তি নেই। কটা জামপাতা আর গ্যাদালের ঝোপ ভূতের মতো ভ্যাংচায়। যার কেউ নেই তাঁর আকাশ তো আছে? সেই আকাশটা ওই ভাতের মতো পোড়া কালো! এত সবুজ, এত সোনার মত রৌদ্র, এত চুম্বন, এত গরম, এত শরীর, এত বীর্য, এত বিছানা, এত প্রেম … তবু অধরা পৃথিবী। এ মাটিকে আর ছুঁয়েও দেখবো না । এমন জন্ম তো রোজই মরে, তবু জেগে আছি কেন?

শাড়ি গিফট পেয়েছি অনেক। কিন্তু সাথে কেউ না থাকলে? শাড়ি পড়ে একা একা বেড়ানো যায়? যায় না। একা বোকা। বিদঘুটে জিন্দেগি। সম্মান নেই মর্যাদা নেই প্রেম নেই রং নেই আদর নেই কিচ্ছু নেই। বিছানায় কেউ মর্যাদা দেয় না, সে তো অন্ধকারের হিজিবিজি। আমার হাত ধরে পথে পথে ঘুরতে পারবে? মাঠের পর মাঠ পেরিয়ে বিকেলের শেষ রৌদ্রকে সাক্ষী রেখে বলতে পারবে তুমি আমায় ভালোবাসো? হে কৃষ্ণ ঠাকুর তোমায় আমি ভালবাসি, জানি তোমার একটা gf আছে, তবু তোমায় ভালবাসি। জানি তুমি আমার মুখটুকু দেখতে চাও না, তবু তোমায় ভালোবাসি। এই পাগলপনের দাওয়াই নেই । এসো আলো, এসো হে তোমায় সুস্বাগতম। লাইফটা ফেল মেরে গেলো ইয়ার। হেরে গেলাম। প্রাণ টুকুও বইবার ইচ্ছে নেই আর…!

ক্লাস নাইনে থার্ড হয়েছিলাম। ফার্স্ট সেকেন্ড থার্ডকে স্কুল প্রাইজ দিয়েছিল। সাদা খামের ওপর হেড স্যারের সই, তাতে একশ টাকার নোট আর ছোটদের হাসির বই। এত পরিশ্রম করেও থার্ড হওয়াটা কষ্ট দিয়েছিল। ক্লাস নাইনের সেই “থার্ড” একদিন আধার কার্ডেও থার্ড জেন্ডার হয়ে জ্বলজ্বল করবে কে জানতো ? এই ক্লাস আজও পিছু ছাড়েনি। আমি অচ্ছুত ক্লাসে আছি। ডোম মেথরের ছাওয়া মারালে যেমন স্নান করতে হতো, আমাদের জীবন তারই কাছাকাছি কিম্বা তার চেয়েও সাংঘাতিক …

পুঁচকে আমি। রান্না ঘরে আপন খেয়ালে রুটি বেলছি।  চাকির ওপর লেচি রেখে বেলনা দিয়ে ভবিষ্যত নির্মাণ। জেঠিমার কি হাসি! ওগো দেখে যাও, রাজা মেয়েদের মতো কেমন রুটি বেলছে দ্যাখো ! রুটিটা আবার গোল হয়ে ঘুরছে কেমন ! গোল হয়ে ঘুরছে তাই একশোয় একশ! কিন্তু ওই যে মেয়েদের মতো সেটার নম্বর কত ? নিচে চাকি, হাতে বেলনা, রুটি ঘুরছে সময় ঘুরছে মাথা ঘুরছে। এমন গোল করেই তো শূন্য লিখি, আর শূন্যতা কেমন করে আঁকি? আয়নার কপালে গোল করে সিঁদুরের গোল্লা… এবার বলো, আমি পাশ না ফেল ?

সবাই sex চায়, আমি চাই প্রেম, আমি চাই sex … দুনিয়ায় প্রেমের চেয়ে মধুর কিছু হতে পারে? পারে না। প্রেমের স্বীকৃতি প্রেম সম্মান। চটজলদি sex-এ রেশ থাকে না, কখন কে এলো, কখন কে গেলো ! রাত আড়াল অন্ধকারকে রক্তে রক্তে বুঝি।। আজ যে ছেলেটা আমার পিছু নিল সেও sex চায়, কালকে যে ছেলেটা পিছু নেবে সেও sex চাইবে। নরম হলাম, শরম এলো, গরম খেলাম, তবু অধরা ঈশ্বর। এমন জীবনের কোনো মানে হয়? সোহাগী আমি। প্রতি রাতে পেট আগলে বসেই থাকি আর মন্ডপ সাজাই। কুটনো কুটি, বাটনা বাটি, রাঁধি আর বাঁধি তবু অধরা ঈশ্বর। ঈশ্বরই তো প্রেম, প্রেমই ঈশ্বর …

সারাজীবন শুধু অপমান সয়েছি। চোখে চোখে ঘেন্না দেখেছি রাগ দেখেছি। প্রেম করেছি বলে  পাগল শুনতে হয়েছে। তোর শরীরে কী আছে যে লোক তোকে ভালবাসবে? যে পাড়ায় থাকি সেখানেই বা কজন কথা বলে? দু একজন বলে। সেদিন মনাদি আমায় কাঁঠাল দিয়ে গেলো। আমের সময় আম দিয়ে যায়। সব চেয়ে খারাপ লাগে দুর্গা পুজোয়। সবাই ঘুরছে ফিরছে আনন্দ করছে, আর আমি ঘরে চুপ করে বসে আছি। মেলা লোকের মধ্যে একা একা ঘুরতে ভালো লাগে না। ভয়ও লাগে। লোক তো কনুই দিয়ে বুকে গুঁতো মেরে দেখে আসল নাকি নকল। তিন বছর বয়স থেকে মা বাবার ঘর ছাড়া। কত বছর হয়ে গেলো তাঁরাও হারিয়ে গেছে। সেদিন কোলকাতা বাজার মলে গেছি, এটা সেটা দেখছি আর মায়ের কথা মনে পড়ছে। মা আর আমি দুজনে গিয়ে শাড়ি কিনতাম। প্রতিবার মায়ের সেই এক কথা,  তুই কোথায় পাবি? আমায় কম দামের একটা কিনে দে। সেই শাড়ি হাতে মা লাফাতে লাফাতে  কবিরাজ কাকীমাকে দেখাতে যেত, দেখুন রাজা কিনে দিয়েছে …

তিনি চেয়ারে, আমি পায়ের কাছে। ওনার ঠিক পেছনে একটা ক্যালেন্ডার, তাতে এক রূপান্তরকামীর মুখ। খুব সুন্দর ক্যালেন্ডারটা। বললাম  ট্রান্সদের নিয়ে কিছু বলুন না ? জোর দিয়ে বললেন, খুব স্বাভাবিক। এরপর জানলার দিকে  অদ্ভুত ভাবে তাকিয়ে বললেন, এই যে হলুদ ফুল, লাল ফুল, নীল ফুল কত রকমের ফুল, কত বিভিন্নতা তবু সকলেই ফুল। তোমরাও পাঁচজনের মতো মানুষ। আরও কত কিছু বললেন মনে নেই, বিভোর হয়ে ওনার দিকে চেয়ে চেয়ে শুনে গেছি। বিস্কুট খাবো না বলায় স্কেল নিয়ে ওনার শাসন কোনোদিন ভুলবো না। এই ঠান্ডায় চাদর আনিনি কেন ঘুরে ফিরে এক প্রশ্ন। শেষে ব্যাগ থেকে চাদর বের করে বলি, চাদর এনেছি, ট্রেনে ঠান্ডা লাগলে জড়িয়ে নেবো। মহাশ্বেতা দেবী এবার নিশ্চিত হলেন …

সবসময আগুন জ্বলছে। সবসময ঝড় বইছে। এতটা শূন্যতা কাঁপিয়ে দিচ্ছে। উঠোন বারান্দা আয়না টেবিল ফলসার ডালপালা স্তব্ধ চেয়ে থাকে! এক্ষুনি অনিষ্ট হবে? সে পাখি কবেই উড়িয়ে দিয়েছি, যদি ফিরে আসে তবে চকরির সাথে চাঁদ কথা কবে। গরম চাঁদ! হঠাৎ উবে গেলো! কেউ কারোর ব্যাক্তিগত সম্পত্তি নয়। আমি বলছি না, চলচ্চিত্র দেখিয়েছে।  মাঠ খোলা স্বাধীনতা দেবো, ওগো প্রিয়! আমায় তুমি সোহাগ দেবে?

শরীরের অন্দরে যে মন তাঁকেই হন্যে হয়ে খুঁজছি। মন কোথায় ভেসে বেড়ায় তল পাই না। চোখ বুজে আত্মস্থ হলে মনকে ধরা যায়? শুনেছি মন দেওয়া যায়, আবার নেওয়াও যায়? আমি সংসারে নেই তাই অজানা। আমার ঘেরাটোপে শুধু ফুর্তি। এক রাত কালো আকাশ, নিচে আমি। যতদূর দূরত্ব ততদূর ঘনিষ্ঠতা। সূর্য উঠলেই রাত্রি পালাবে, আকাশ আবার বদলে যাবে। এসব সয়ে গেছে। ওলো সই! আমার ভালো লাগা দুনিয়ার সাথে। জলহীন রুক্ষ মাটির ওপর ঘাস পাতা নিয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকা। ছিটেফোঁটা সবুজ, ছোপ ছোপ দুর্যোগ। কেউ জলটুকু বলে নি জানো? ক্যাকটাসের নরম পাতাগুলো কাঁটা হয়ে গেলো একদিন! সে দীর্ঘ পথের অভিযোজন! পাঠ্য বইয়ের জীবনবিজ্ঞান এভাবে জীবনসত্য হয়ে দাঁড়াবে কে জানতো? এতো আনন্দের আড়ে কত কান্না লুকিয়ে আছে হিসেবে নেই …


Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top