হোটেল তোকাৎলিয়া, ইস্তাম্বুলের বিখ্যাত হোটেল। সরকারি অতিথি হিসেবে রুম আগাম বুক করাই ছিল। প্রায় ঘণ্টা চল্লিশেকের জার্নি, ফিরেই স্নান সেরে নিলেন। ফ্রেশ হয়ে চিঠিপত্রের খোঁজে গেলেন রিসেপশনে। জরুরি চিঠি বা তারের জন্য লন্ডনে এই হোটেলেরই ঠিকানা দেওয়া আছে।
এরকুল — আমি এরকুল পোয়ারো, কোনো চিঠি বা টেলিগ্রাম?
রিসেপশনিস্ট — হ্যাঁ, এই যে তিনটি চিঠি আর একটি টেলিগ্রামও রয়েছে।
এরকুল — টেলিগ্রাম! (ধীরে ধীরে টেলিগ্রামখানি পড়লেন) ‘কাসনার কেসটা ক্রমশ জটিল হয়ে উঠেছে, আপনার দ্রুত লন্ডনে ফিরে আসাটা জরুরি’। (স্বগতক্তি) এর মানে হল আজই রওনা দিতে হবে। কপালে না থাকলে—সে যাক। (ঘড়ির দিকে তাকালেন এবং রিসেপশনিস্টকে উদ্দেশ্য করে) – শুনছেন, আজই আমায় ফিরতে হবে। সিম্পলন ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেসের টাইম কটায়?
রিসেপশনিস্ট — রাত নটা।
এরকুল — একটা বার্থের ব্যবস্থা হতে পারে?
রিসেপশনিস্ট — এই সময়টাতে ফাঁকাই যায়, হয়ে যাবে; মনে হয় না তেমন কোনো সমস্যা হবে। ফার্স্ট ক্লাস না সেকেন্ড ক্লাস?
এরকুল — ফার্স্ট ক্লাস।
রিসেপশনিস্ট — কোথাকার টিকিট?
এরকুল — লন্ডন।
রিসেপশনিস্ট — লন্ডন, ইস্তাম্বুল-ক্যালে কোচেরই স্লিপিং রিজার্ভেশন লাগবে—দেখছি।
এরকুল — (আবারো ঘড়ির দিকে তাকিয়ে) আটটা বাজতে দশ, ডিনারটা সেরে নেওয়া যেতে পারে।
রিসেপশনিস্ট — সিয়োর স্যার, আপনি ডিনার সেরে গুছিয়ে নিন, আমি এদিকটা দেখছি।
হোটেলের নির্ধারিত বুকিং ক্যানসেল করে এরকুল ডিনারের উদ্দেশ্যে রেস্টুরেন্টের দিকে পা বাড়ালেন। একটা টেবিল দখল করে ডিনারের অর্ডারও দিলেন। হঠাৎ করেই তাঁর কাঁধে একটি হাত এসে পড়ল।
‘আরে কী সৌভাগ্য! আপনাকে তো এখানে আমি আশাই করিনি।’
এরকুল তাকিয়ে দেখলেন, ভারিক্কি চেহারার বছর পঞ্চাশেকের এক ছোটখাটো ভদ্রলোক, মাথার চুল কদমছাঁট, একমুখ হাসি।

এরকুল — মঁসিয়ে বুঁ না! কতদিন পরে দেখা। আপনি এখানে?
বুঁ — আপনি ও ছেড়েছেন, আমি ও বেলজিয়াম পুলিশ ছেড়েছি বহু বছর। এখন এই আন্তর্জাতিক রেলপথের সাথে যুক্ত। ডিরেক্টর হিসাবে কাজ করছি। কিন্তু আপনি এই পথে?
এরকুল — সিরিয়ায় এসেছিলাম, একটা ছোট অ্যাসাইনমেন্টে।
বুঁ — তাহলে এখন কি ফেরার পথে? কবে ফিরছেন?
এরকুল — আজ রাতেই।
বুঁ — চমৎকার। আমি লুসান যাব, ওখানে একটা কাজ আছে। ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেসে নিশ্চয়?
এরকুল — হ্যাঁ, ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেসেই। কদিন এখানে কাটানোর ইচ্ছা ছিল। লন্ডন থেকে তার এসেছে জরুরি তলব, আজই ফিরতে হবে। রিসেপশনে টিকিটের জন্য বললাম।
বুঁ — কাজ, কাজ আর কাজ। অবশ্য আপনি এখন উপরতলার মানুষ, তিষ্ঠোনোর জো আছে!
এরকুল — (বিনয়ের সঙ্গে) আরে না না সে সব কিছু নয়। ওই দু-একটা কাজের জন্য একটু যা নাম ছড়িয়েছে (প্রচ্ছন্ন গর্ব নিয়ে)।
বুঁ — নামের ঠ্যালা সামলান। এখন উঠি, পরে দেখা হচ্ছে।
এরপর এরকুল একটা কঠিন কাজ নিয়ে মেতে রইলেন, পেল্লায় গোঁফ সামলে স্যুপের বাটিতে চুমুক দিলেন। এবার রেস্টুরেন্টের অন্য যাত্রীদের প্রতি মনোযোগ দিলেন। সব মিলিয়ে জনা ছয়েক তখন সেখানে উপস্থিত। এদের মধ্যে দুজন তার দৃষ্টি আকর্ষণ করল। প্রথমজন এক ঝকঝকে বছর ত্রিশেকের আমেরিকান তরুণ, অন্যজন বছর ষাটেকের একজন আমেরিকান প্রৌঢ়। প্রৌঢ়টির চেহারা-পোশাক-আশাক বেশ কেতাদুরস্তই কিন্তু চোখ দুটো একেবারে বিষ, ধূর্ততা ও নৃশংসতায় ভরপুর। ডিনারের ফাঁকেই এরকুল সাথে ভদ্রলোকের একবার চোখাচোখি হল, এতে লোকটি সম্পর্কে এরকুল ধারণা আরো পোক্ত হল। গলার স্বরও বেশ কর্কশ এবং কড়া।

ডিনার শেষে এরকুল লাউঞ্জে বেরিয়ে এলেন। মঁসিয়ে বুঁ এরকুল জন্য ওখানেই অপেক্ষা করছিলেন। আমেরিকান দু’জনকেও লাউঞ্জে দেখা গেল, ওরা স্টেশনের উদ্দেশ্যে রওনা দিচ্ছিল।
দুজন হোটেল ছেড়ে বেরিয়ে গেলে বুঁ-র উদ্দেশ্যে এরকুল — ওই দুটোকে খেয়াল করলেন?
বুঁ — কাদের কথা বলছেন? ওই আমেরিকান দুজন?
এরকুল — হ্যাঁ, হ্যাঁ ওদের কথাই।
বুঁ — ছোকরাটি তো বেশ, চটপটে।
এরকুল — আর অন্যটি?
বুঁ — ওই বুড়োটাও? খুব একটা সুবিধের হয় না। আপনার কী মনে হল?
এরকুল — রেস্টুরেন্টেই লক্ষ্য করেছি। পোশাক-আশাক ভদ্রসভ্যই কিন্তু চাউনিটা কেমন যেন শয়তান টাইপের।
বুঁ — এটা আবার আপনার বাড়াবাড়ি। একবার দেখেই ভদ্রলোক সম্পর্কে ধারণা করে ফেললেন?
এরকুল — লোক তো আর কম চাড়ালাম না। তাছাড়া জানেনই তো, চেহারা দেখে চরিত্র সম্পর্কে ধারণা করাটা আমার একটা বদনেশা।
বুঁ — সে আর জানি না, বেলজিয়ান পুলিশে থাকার সময়ই কত দেখেছি। সে যা হোক, চলুন এবার রওনা দেওয়া যাক। জগতে শয়তানের কী আর অভাব পড়েছে!
এই সময় রিসেপশন থেকে একজন কাঁচুমাচু মুখে এসে খবর দিল—
রিসেপশনিস্ট — কী অদ্ভুত ব্যাপার মঁসিয়ে, ফার্স্ট ক্লাসে একটাও স্লিপার বার্থ পাওয়া গেল না।
বুঁ — বলেন কী! একটাও ফাঁকা নেই, তাও এই শীতের সময়! নির্ঘাত ওই সাংবাদিকরা অথবা পলিটিশিয়ানরা দল বেঁধে কোথাও একটা ঘ্যাঁট পাকাতে চলেছে। যাচ্ছেতাই ব্যাপার মশাই।
রিসেপশনিস্ট — কী করি বলুন দেখি, সত্যিই একটাও ফাঁকা পাওয়া গেল না।
বুঁ — সে আপনি আর কী করবেন। (এরকুলের দিকে অভয়ের ভঙ্গিতে) ঠিক আছে, ব্যবস্থা একটা হয়ে যাবে। আমি আছি যখন। কিছু না পাওয়া গেলেও ষোলো নম্বরটা ফাঁকাই থাকে, কন্ডাক্টরদের জন্য রাখা হয়। (ঘড়ির দিকে তাকিয়ে) আরে, সময় তো হয়ে এলো, চলুন চলুন এক্ষুনি বেরিয়ে পড়ি।
স্টেশনে পৌঁছাতেই ট্রেনের কন্ডাক্টর এগিয়ে এলো। মঁসিয়ে বুঁ -কে স্যালুট করে দাঁড়াল এবং জানাল যে, তাঁর জন্য ইস্তাম্বুল-ক্যালে কোচের এক নম্বর কুপে রেডি করা আছে। ওনার মালপত্রও দ্রুত সেখানে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা হল।

মঁসিয়ে বুঁ কন্ডাক্টরের দিকে ফিরে—
বুঁ — শুনলাম, আজ নাকি ক্যালে কোচের ফার্স্ট ক্লাস স্লিপারে কোনো বার্থ ফাঁকা নেই?
কন্ডাক্টর — অদ্ভুত ব্যাপার। এই সময় এমনটা ভাবাই যায় না। আজ যেন জগৎ শুদ্ধ লোক ঠিক করেছে এই স্লিপার কোচেই ফিরবে, একটাও ফাঁকা নেই।
বুঁ — কিন্তু এই ভদ্রলোকের একটা ব্যবস্থা করতেই হবে, ইনি আমার বিশেষ বন্ধু। কিছু তো একটা—আচ্ছা ষোলো নম্বরের কী খবর?
কন্ডাক্টর — (কন্ডাক্টরদের মধ্যে একটু ইঙ্গিতপূর্ণ নীরব দৃষ্টি বিনিময় হল, এরপর সামান্য হেসে) বলছি কী মঁসিয়ে, সেটাও আজকে ভর্তি।
বুঁ — (একটু বিরক্তিপূর্ণ রাগত স্বরে) এই অসময়ে কী আপদ! কোনো কনফারেন্স-টারেন্স আছে না কী? না কোনো পার্টির মিটিং-টিটিং?
কন্ডাক্টর — সে সব কিছু তো শুনলাম না, হয়ে গেছে কী আর করার! প্যাসেঞ্জার জুটে গেছে।
বুঁ — (চিন্তিত মুখে চুকচুক শব্দ করে) বেলগ্রেডে এথেন্সের কোচটা জুড়বে এবং বুখারেস্টে প্যারিস কোচ, কিন্তু বেলগ্রেড আসতে আসতে আগামীকাল সন্ধ্যা। আজ রাতে— আজ রাতে কী করা যায়? আচ্ছা সেকেন্ড ক্লাসে কোনো ফাঁকা—
কন্ডাক্টর — সেকেন্ড ক্লাস বার্থ একটা ফাঁকা আছে বটে।
বুঁ — গুড, সেকেন্ড ক্লাস ফাঁকা আছে।
কন্ডাক্টর — কিন্তু মঁসিয়ে, ওটা তো লেডিজ বার্থ। ওই কুপের একটি বার্থে অলরেডি একজন জার্মান মহিলা আছেন, সম্ভবত কোনো ফার্স্ট ক্লাসের মহিলা যাত্রীর পরিচারিকা।
বুঁ — তবে তো হয়েই গেল! না-না, ওনাকে ওখানে দেওয়া যাবে না। সেটা দুজনের পক্ষে খুবই অস্বস্তিকর হবে। কিছু তো একটা—
এরকুল — আরে আপনি এত চাপ নেবেন না, আমি জেনারেল কম্পার্টমেন্টেই চলে যেতে পারব।
বুঁ — আরে আমি থাকতে তা কখনো হতে দিতে পারি। একটা ব্যবস্থা—(কন্ডাক্টরের দিকে ফিরে) আচ্ছা, চার্টটা একটু দেখুন তো, সবাই পৌঁছেছে কি না?
কন্ডাক্টর — (চার্ট দেখতে দেখতে) সবাই? না, একজন এখনো পৌঁছান নি।
বুঁ — কত নম্বর?
কন্ডাক্টর — বার্থ নং ৭, সেকেন্ড ক্লাস। ভদ্রলোক এখনো পৌঁছান নি, যদিও নটা বাজতে এখনো মিনিট চারেক বাকি আছে।
বুঁ — কে দেখুন তো?
কন্ডাক্টর — (হাতের চার্টের দিকে চোখ বুলিয়ে) মিস্টার হ্যারিসের নামে বুকিং আছে, একজন ইংলিশম্যান।
এরকুল — পয়া নাম মনে হচ্ছে। চার্লস ডিকেন্স পড়া আছে, হ্যারিসরা সাধারণত গন্তব্যে পৌঁছাতে লেট করেন।
বুঁ — (কন্ডাক্টরের দিকে নির্দেশাত্মক ভঙ্গিতে) আপনি এই ভদ্রলোকের লাগেজপত্র সাত নম্বরে তুলে দিন। ভদ্রলোক যদি এর মধ্যে এসে হাজির হন, বলবেন ট্রেনের নিয়মানুসারে এত দেরি করলে বার্থের রিজার্ভেশন ধরে রাখা যায় না। কোনো ঝামেলা করলে আমার কাছে নিয়ে আসবেন, আমি ব্যাপারটা বুঝে নেব।
কন্ডাক্টর — আপনি যেমনটা বলবেন, মঁসিয়ে।
এর পর কন্ডাক্টর এরকূল পোয়ারোর কুলিকে মালপত্র নিয়ে তাঁকে অনুসরণ করতে বললেন এবং পোয়ারোকে ইঙ্গিত করে—
কন্ডাক্টর — মঁসিয়ে ট্রেনে উঠে পড়ুন, আমার পিছনে পিছনে আসুন। আজ কী যাচ্ছেতাই ভিড় দেখছেন! কোচের একেবারে শেষে যেতে হবে, সাত নম্বরটা শেষের আগেরটায় পড়বে। ট্রেনের করিডর ধরে কন্ডাক্টরের পিছন পিছন কুলি-সহ পোয়ারো ধীরে ধীরে এগুতে লাগলেন। ট্রেন ছাড়ার সময় হয়ে এসেছে প্রায়। প্রায় সব যাত্রীই কুপ ছেড়ে কোচের করিডরে দাঁড়িয়ে আছেন, বিদায়পর্ব চলছে। তার মাঝখান দিয়ে ‘পার্ডন’, ‘এক্সকিউজ মি’ ইত্যাদি করতে করতে পোয়ারো মালপত্র সমেত সাত নম্বর বার্থের কুপে এসে হাজির হলেন। দেখলেন ওখানে তোকাৎলিয়নে দেখা সেই ঝকঝকে আমেরিকান তরুণ। পোয়ারো সেই কুপে ঢুকতেই সেই আমেরিকান তরুণ ভ্রূ কুঁচকে তাকালেন—

আমেরিকান তরুণ — এক্সকিউজ মি, আপনার মনে হয় কিছু একটা ভুল হচ্ছে।
পোয়ারো — আপনি কি মিস্টার হ্যারিস?
তরুণ — না না, আমি ম্যাককুইন। আমি—
সেই সময়ই পোয়ারোর কাঁধের উপর দিয়ে কন্ডাক্টরের মাথা দেখা গেল এবং কন্ডাক্টরের বিনীত গলাও শোনা গেল—
কন্ডাক্টর — (একটু ক্ষমা চাওয়ার সুরে) এই কোচে আর কোনো বার্থ ফাঁকা নেই, নিতান্ত বাধ্য হয়েই এনার এখানে ব্যবস্থা করতে হল।
পোয়ারোর কাছে ব্যাপারটা খুব মজারই লাগছিল। বেচারা কন্ডাক্টরের উপরিটা মাঠে মারা গেল। কুপে অন্য কাউকে আর অ্যালট করা হবে না—এই শর্তে টু-পাইসের একটা ব্যবস্থা ছোকরার সাথে কন্ডাক্টরের হয়েছিল, মাঝখান থেকে কোম্পানি ডিরেক্টরের চোটপাটে তাতে গুড়েবালি পড়ল। পোয়ারোর ব্যাগ কন্ডাক্টর নিজে উপরের সাত নম্বর বার্থে গুছিয়ে দিলেন।
কন্ডাক্টর — (নিরাসক্তভাবে) সব কিছু ব্যবস্থা করে গেলাম, আপনারটা উপরের সাত নম্বর। আর মিনিট খানেকের মধ্যেই ট্রেন ছাড়বে। কন্ডাক্টর কুপ থেকে বেরিয়ে হনহন করে করিডর ধরে চলে গেলেন।
পোয়ারো — দেখেছেন? একেই বলে বড় কর্তার গুঁতো! কেউ কি কোনো দিন শুনেছে কন্ডাক্টর নিজে যাত্রীর মালপত্র গুছিয়ে দেয়?
ম্যাককুইন — (রাগ চেপে দার্শনিকের উদাসীনতায় কাষ্ঠহাসি টেনে) তাই তো দেখছি, কিন্তু সত্যিই আজ ট্রেনে অস্বাভাবিক ভিড়। এই সময় ইঞ্জিন চলার একঘেয়ে আওয়াজ ভেদ করে ট্রেন ছাড়ার তীব্র হুইসেলের শব্দ শোনা গেল।
পোয়ারো — এই ছাড়ল মনে হচ্ছে। শুভযাত্রা।
ম্যাককুইন — ছাড়লই মনে হচ্ছে। শুভযাত্রা। ট্রেন কিন্তু তখনো স্টেশনেই দাঁড়িয়ে, হঠাৎই—
তরুণ — কিছু যদি মনে না করেন, আপনি বয়স্ক, চাইলে লোয়ার বার্থে চলে আসতে পারেন। উপরেরটায় আমার তেমন কোনো অসুবিধাই হবে না।
পোয়ারো — আরে না না, তার কোনো দরকারই নেই।
ম্যাককুইন — ঠিক আছে, আপনি যেমনটা বলবেন।
পোয়ারো — আর তাছাড়া একরাতেরই তো মামলা, বেলগ্রেডে—
ম্যাককুইন — ও! আপনি বেলগ্রেড পর্যন্ত?
পোয়ারো — না তা ঠিক নয়—
এই সময়ই হঠাৎ একটা ঝাঁকুনি দিয়ে ট্রেন গড়াতে শুরু করল। করিডরের জানলা ধরে টাল সামলিয়ে দুজনেই ধীরে ধীরে আলোকিত প্ল্যাটফর্মটাকে পিছনে সরে যেতে দেখতে লাগলেন।
ইউরোপের মধ্যে দিয়ে দ্য ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেসের তিন দিনের যাত্রা শুরু হল।

ক্রমশ
মার্ডার অন দ্য ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেস-পর্ব ১



