বালিতে বিদেশ দর্শন – পর্ব ৩

নুসা পেনিডার হোটেল থেকে সাগরে সূর্যোদয়।

নুসা পেনিডা

উলুওয়াতুর বাঁদর-উপদ্রুত অঞ্চল থেকে বেরিয়ে এসে আমরা চারজন (আদি সহ) একটা রেস্তোরাঁতে গলা ভেজানোর জন্য ঢুকলাম। চারটে বিশালাকার ডাব নেওয়া হলো। একেকটার দাম ৪০,০০০ ইন্দোনেশিয়ান রুপি। কম-বেশি দেড় লিটার করে জল একেকটাতে। মাম যথারীতি পুরোটা খেতে পারল না। আমাকে শেষ করতে হলো। তারপর সেই ডাব কেটে তার ভেতরের মাখনের মতো শাঁস। আহা! কী অপূর্ব স্বাদ। আমি নিশ্চিত, স্বর্গীয় সুখ বলে যদি কিছু থাকে তাহলে তা এটাই, তা এটাই। খাওয়া হলে আদি বলল, “মাই লাঞ্চ কমপ্লিট”। আমাদেরও তাই একপ্রকার। ওখান থেকে আমাদের বন্দরে যেতে হবে। তিনটায় আমাদের বোট ছাড়বে আরেক দ্বীপ নুসা পেনিডায় যাওয়ার জন্য। আদি একটা পেট্রোল পাম্পের কাছে নিয়ে গিয়ে আমাদের অন্য একটা গাড়িতে তুলে দিল। ওখানে বোটের জন্য পিক-আপ করার গাড়ি আলাদা। আমরা নুসা পেনিডার একদিন-দু’রাতের জন্য জামা-কাপড় নিয়ে বাকি সব আদির গাড়িতে রেখে দিলাম। বলা হয়নি, উলুওয়াতু যাওয়ার সময় আমরা হোটেল পাত্র থেকে চেক-আউট করে গিয়েছিলাম।

বোট ছাড়তে ১৫ মিনিট মতো দেরি হলো। এমন কিছু দূরে নয় নুসা পেনিডা। পঁয়তাল্লিশ মিনিট মতো লাগল। যাওয়ার পথে ঘন নীল জলের ওপর ঢলে পড়া সূর্যের ছটায় চোখ ধাঁধিয়ে যাচ্ছিল। এ যেন এক রকমের হিপনোটিজম। চোখে ধাঁধা লাগছে, অথচ চোখ ফেরাতে পারছিলাম না। যাই হোক, ওখানে পৌঁছানো মাত্রই ওখানকার পিক-আপ করার লোককে পাওয়া গেল। আমরা চললাম হোটেল অ্যাঙ্গকালের উদ্দেশ্যে। রাস্তা কখনও সমুদ্রের সাথে এক সমতলে, কখনও অনেক ওপরে। আমরা সমুদ্রের সাথে লুকোচুরি খেলতে খেলতে চললাম। হোটেলটা একদম সমুদ্রের গায়ে। যথারীতি এখানেও সমুদ্র অনেকটা নীচে। তবে একটা কথা বলতেই হয়। নুসা পেনিডা বালির প্রশাসনের মধ্যে হলেও এখানকার রাস্তা বালির মতো নয়। খুব খারাপ। রাস্তায় পিচ নেই বললেই চলে। আমাদের গ্রামীণ রাস্তার সাথে অনেকটাই মিল। যাক্ বাবা, শান্তি! তবুও কিছু তো আমাদের মতো পেলাম!

সেদিন আর আমাদের কোনো প্রোগ্রাম ছিল না। নিজেদের কটেজে ঢুকে আগে চান করার জন্য তৈরি হলাম। বাথরুমে ঢুকেই চমক। ও হরি! এ তো ওপেন-এয়ার বাথরুম! কমোড, বেসিন, শাওয়ার সব আধুনিক ব্যবস্থা আছে। শুধু মাথার ওপর ছাদ নেই। একদম খোলা আকাশের নীচে। কনসেপ্টটা দারুণ লাগল। রাতে স্টিকি রাইস উইথ স্লাইসড ম্যাঙ্গো খেলো মাম। আমরা যথারীতি নাসি গোরেং। তবে এখানকার নাসি গোরেংয়ের প্রিপারেশনটা একটু অন্য রকম। মাম জানালো আগামীকাল ন’টা নাগাদ আমরা নুসা পেনিডার বিভিন্ন বিচ দেখতে বেরুব। সারাদিন বেশ ধকল গেছে। আমরা ঝটাপট শুয়ে পড়লাম।

পরদিন সকালে একটু দেরিতেই ঘুম ভাঙল। চোখের সামনে সমুদ্রের জল স্তরের একটু ওপরেই দেখলাম সূর্যদেব বিরাজমান। মানে, সমুদ্রের ভেতর থেকেই সূর্যের আবির্ভাব হয়েছে। ইস্, মিস করলাম। আগামীকাল নিশ্চয়ই দেখব তাঁর উদয়। ব্রেকফাস্টে নুডুলস্, ফল আর ব্ল্যাক কফি খেয়ে বেরিয়ে পড়লাম। প্রথমেই যাওয়া হবে ডায়মন্ড বিচ এবং তার পাশের আতু বিচ। দুটো বিচেই যেতে গেলে প্রায় আড়াইশ’ সিঁড়ি দিয়ে নীচে নামতে হয়। সুতরাং, ওপর থেকেই বিচের সৌন্দর্য উপভোগ করতে হলো। বলতে বাধা নেই, নীচে সোজাসাপটা বিচের ওপরে দাঁড়িয়ে থাকলে বিচটা এত সুন্দর লাগত কি না সন্দেহ! ওপর থেকে বিচ, সমুদ্র আর আকাশ একসাথে দেখে একটা কথাই মুখে আসবে, “অ..পূ..র্ব”। জলের রঙের বাহার এবং ক্ষণে ক্ষণে তা পাল্টে যাওয়া যে কী দারুণ লাগছিল তা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। যেখানে সূর্যের আলো পড়ছিল সেখানকার জলের রং একদম ময়ূরের গলার রঙের মতো। সূর্যের আলো সরে গেলেই তা ঘন নীল। আমরা দুটো বিচের দিকে হাঁ করে তাকিয়ে থেকে প্রচুর সময় নষ্ট করে ফেললাম।

একটু দূরেই একটা ফটো তোলার পয়েন্ট এবং ট্রি-হাউস আছে। ফটো তোলার পয়েন্ট টা যেতে গেলে শ’খানেক সিঁড়ি বেয়ে নামতে হবে। আর ট্রি-হাউসে যেতে গেলে আরো আড়াইশ’। মাম ট্রি-হাউস পর্যন্ত গেলেও আমাদের কোমরের দাক্ষিণ্যে ফটো তোলার জায়গায় থেমে যেতে হলো। ওখানেও টাকা দিয়ে ফটো তোলার অনুমতি নিতে হয়। কয়েকশ’ ফটো তোলার পর মাম ট্রি-হাউসের দিকে নেমে গেল। আমরা দুজন ওখানেই থেমে গেলাম। তাতে লাভ বই ক্ষতি হলো না। মিনিটে মিনিটে দেদার ছবি তুললাম দুজনে আর প্রতি পলে পাল্টে যাওয়া সমুদ্রের জলের রং দেখলাম। বুঝলাম, প্রকৃতির এই বিশাল রূপভাণ্ডারের সবকিছু হয়ত দেখার সৌভাগ্য হবে না, কিন্তু যে টুকু দেখার সুযোগ হবে, তা হৃদয়ভরে দেখে নেওয়াই ভাল।

ক্লিংকিং, ব্রোকেন এবং অ্যাঞ্জেল’স বিলাবং

মাম ট্রি-হাউস থেকে ফিরে এলো প্রায় ঘণ্টাখানেক পরে। যথারীতি খুব হাঁপাচ্ছিল সে। আমরা আরো কিছুক্ষণ ওখানে বসলাম। তারপর ধীরে ধীরে ওপরে উঠতে লাগলাম। মাম জানালো, এমন কিছু আহামরি নয় ট্রি-হাউস টা। আসলে পর্যটকদের ফটোর লোভ দেখিয়ে অর্থ উপার্জনের একটা ফাঁদ এটা। তার জন্য সবাইকে এত সিঁড়ি ভাঙানোর কোনো মানে হয়? আমরা ওখানেই এত সময় নষ্ট করে ফেললাম যে অন্য জায়গা গুলোতে যাওয়া নিয়ে সমস্যা দেখা দিলো। আমরা জানতাম, যে এজেন্সি আমাদের গাড়ি দিয়েছে তাদেরকে যে যে জায়গা গুলো দেখানোর কথা বলা হয়েছে সেগুলো সব দেখাবে। তাতে সময় যাই লাগুক না কেন! লাঞ্চও প্যাকেজের মধ্যেই ধরা ছিল। সুতরাং ড্রাইভারের কথামত আমরা লাঞ্চ সেরে নিলাম। আহামরি কিছু নয়। তিন জনেই নাসি গোরেং খেয়ে নিলাম। তবে রেস্তোরাঁটা খুব সুন্দর। একটা সরু ক্যানেল আর ধানজমির পাশে ছোট ছোট খড়ের ছাউনি দেওয়া চারদিক খোলা ঘর। তার ভেতরে বাঁশের টেবিল আর চেয়ার।

লাঞ্চ সেরেই আমরা ছুটলাম ক্লিংকিং বিচের দিকে। এই বিচ আর ব্রোকেন বিচ নিয়ে মামের উত্তেজনা সবচেয়ে বেশি। গাড়ি রাখার জায়গা থেকে বেশ কিছুটা হেঁটে যেতে হয় ক্লিংকিং বিচে। কিছুটা হেঁটে যাওয়ার পরই আমার কোমর এবং ডান পা জবাব দিলো। আমি সঙ্গে নিয়ে যাওয়া ফোল্ডিং টুল খুলে এক জায়গায় বসে গেলাম। মেয়ে এবং তার মা এগিয়ে গেল। মিনিট দুই-এক বসার পর একটু ধাতস্থ হয়ে আবার এগিয়ে চললাম। অনেকটা নীচে বিচটা। প্রচুর ভিড়। ভিড় ঠেলে এগিয়ে গিয়ে নীচের দিকে তাকানোর চেষ্টা করলাম। সত্যিই সুন্দর। বিচ বরাবর ওপরের এই ভূমি এমনভাবে এগিয়ে গেছে, যেন একটা ডায়নোসর শুয়ে আছে।

সিঁড়ি বেয়ে নীচে নামা যায়। প্রায় সাতশো মতো সিঁড়ি। নীচে নামার জন্য কারোরই ফুসফুসের তেমন জোর দেখলাম না। বিচটা একাকী, নিঃসঙ্গ অবস্থায় শুয়ে রইল।

ওখান থেকে গাড়ি ছাড়ার আগেই ড্রাইভারের সাথে আমাদের বচসা শুরু হলো। তখন সাড়ে তিনটে বাজে (ওখানকার সময় অনুযায়ী)। আমাদের হোটেলে যেতে ঘণ্টা দেড়েক লাগবে। সুতরাং ড্রাইভার আমাদের আর কোথাও নিয়ে যাবে না। পাঁচটায় তার নাকি সময় শেষ। মাম এজেন্সির সাথে কথা বলল। তারা ড্রাইভারকে বলতে তবে সে রাজি হলো। যাই হোক, আমরা “অ্যাঞ্জেল’স বিলাবং” এবং “ব্রোকেন বিচ” দেখতে চললাম।

অ্যাঞ্জেল’স বিলাবং-এর সমুদ্র খুব একটা নীচে নয়। ঘন নীল জল আছড়ে পড়ছে উঁচু ভূমির পায়ের কাছে। সাদা ফেনার সৃষ্টি হয়ে তা ছড়িয়ে যাচ্ছে বাতাসে। দূরে, সুদূরে ঘন নীল জলের রাশি। এ দৃশ্য দেখার জন্য জন্মান্তরেও যাওয়া যায়। একটু দূরেই সমুদ্রের গা ঘেঁষে একটা স্ট্যাচু। এটা না তৈরি করলেই মনে হয় ভাল হতো। কী প্রয়োজন? প্রকৃতি যেখানে উদার, অকৃপণ সেখানে মানুষ কেন যে হস্তক্ষেপ করে! আমাদের হাতে সময় কম। সুতরাং ব্রোকেন বিচ দেখতে এগিয়ে গেলাম। পায়ে হেঁটে এক কিলোমিটারের থেকে সামান্য কম দূরত্ব হবে। এখানেও প্রকৃতি কী অপূর্ব খেলায় মেতেছে। মনে হচ্ছে একটা পাথরের ব্রিজের নীচে দিয়ে মাথা গলিয়ে সমুদ্র একটা গোলাকার জায়গায় লুকোচুরি খেলতে এসেছে। ব্রিজটা কিন্তু কেউ তৈরি করেনি। জমি আর সমুদ্রের লড়াইয়ে জমি হার মেনে সমুদ্রকে এগিয়ে যাওয়ার রাস্তা করে দিয়েছে। নীল জল আসছে, সূর্যের আলোয় নীলকণ্ঠের রূপ ধারণ করছে, তারপর মাটির দেওয়ালে ধাক্কা খেয়ে সাদা ধবধবে ফেনায় পরিণত হয়ে যাচ্ছে। এ রূপ দেখলে, আমি নিশ্চিত, অতি সাধারণ মানুষও কবিতা লিখতে শুরু করবে। এখান থেকে ফিরে যেতে মন চাইছিল না। কিন্তু উপায় নেই! একরাশ মন খারাপ নিয়ে আমরা ফিরে এলাম হোটেলে। আমাদের হোটেলে নামিয়েই ড্রাইভার তাকে এক লাখ টাকা (ইন্দোনেশিয়ার টাকা) দিতে বলল। সময়ের দাম। মাম জানালো, টাকা যা দেওয়ার এজেন্সি দেবে। শুনে সে বাবুর কী রাগ! আগামীকাল সকালে আমাদের বন্দরে যাওয়ার জন্য সে আসবে না জানিয়ে চলে গেল। বালি ট্যুরে এই প্রথম কারোর থেকে আমরা খারাপ ব্যবহার পেলাম।

প্রত্যাবর্তন বালি

খুব সকালেই আমাদের হোটেল ছেড়ে নুসা পেনিডার বন্দরে চলে যেতে হবে। আটটায় বোট ছাড়বে। হোটেল থেকে বন্দর পঁয়তাল্লিশ মিনিট মতো লাগে। সুতরাং সাত টায় আমাদের বেরিয়ে পড়তেই হবে। গতকালের সারথি আসবে না বলেই গিয়েছিল। মাম এজেন্সিকে জানাতে তারা অন্য ড্রাইভার পাঠাবে বলেছিল। অতএব, নো চিন্তা। গতকালই বুঝেছিলাম, এখানে সূর্যের আবির্ভাব বেশ ভাল হবে। আজ তাই ভোরে উঠে আমাদের কটেজের বারান্দার সোফায় গ্যাঁট হয়ে বসে গেলাম। আস্তে আস্তে পূর্ব দিকের আকাশ কমলা রঙের হতে শুরু করতেই সহধর্মিণী এবং মেয়েকে ডেকে দিলাম। আকাশ কমলা থেকে লাল হয়ে উঠল। তারপর হঠাৎই সমুদ্রের গভীর থেকে যেন টুপ করে তিনি বেরিয়ে এলেন। এত অপূর্ব সেই দৃশ্য যে ছবি তোলার কথা মনেই ছিল না। সহধর্মিণী মনে করিয়ে দেওয়ার পর টপাটপ কয়েকটা ছবি তুলে নিলাম।

ভোরের বেলায় ভেবেছিলাম রাস্তা ফাঁকা থাকবে। কিন্তু হায়, বন্দরের কাছাকাছি যাওয়ার পর গাড়ি যেন আর নড়তেই চায় না। এত জ্যাম রাস্তায়। সবাই বন্দরে চলেছে। বালির রাস্তাতেও জ্যাম দেখেছি, কিন্তু এ যেন গাড়ির এক বিশাল অ্যানাকোন্ডা! আমরা এককবারে তার লেজে। ধড়ফড়ানি শুরু হয়ে গেল। যদি বোট ছেড়ে দেয়? সারথি বলল, ‘দোন ওরি। বোত উইল নট লিব।’ কী বলতে চাইছে, অনেক কষ্টে বুঝলাম। সত্যিই তাই, বর্ধমান-আরামবাগ রুটের লোকাল বাসের মতো সব প্যাসেঞ্জার তুলে বোট ছাড়ল সাড়ে আটটায়।

বালিতে বিদেশ দর্শন

বালির (দেনপাসারের) বন্দর থেকে বেরুতেই একজন মোবাইল নিয়ে মামকে দেখাল। তাতে আমাদের তিনজনের ছবি। বুঝলাম আমাদের পিক-আপ করতে এসেছে। এদের সিস্টেমটাই এমন। বোটে তোলার আগে ছবি তুলে যে পিক-আপ করবে তার মোবাইলে পাঠিয়ে দেয়। পিক-আপ ম্যানের চিনতে কোনো অসুবিধাই হয় না। এই সারথি বন্দর থেকে দু-তিন কিলোমিটার দূরে এসে আমাদের আদির গাড়িতে তুলে দিলো। আদির দৌলতে আমি কিছু বালিনিজ কথা শিখেছিলাম। তার প্রয়োগ করে পিক-আপ ম্যানকে বললাম, “তারিমা কাশি” অর্থাৎ ধন্যবাদ। মজার কথা হলো ওখানে দুধকে বলা হয় “সুসু”। আমাদের এখানে সুসু বলতে কী বোঝায় তা আদিকে জানাতে ও হেসে অস্থির হয়েছিল! এরপর যে কোনো জায়গায় “সুসু” লেখা থাকলেই আমাদের দেখায় আর হাসতে থাকে। যাই হোক, আদিকে দেখে আমাদের মনে হলো যেন অনেকদিন পরে কোনো স্বজনকে দেখতে পেলাম। একমুখ হাসি আর নমস্কারের ভঙ্গীতে ও এগিয়ে আসতেই বললাম “সেলামত পাগি, আদি”। ও মাথা ঝুঁকিয়ে বলল, “সুপ্রভাত, পাপা”। বলা হয়নি, আদি আমাকে পাপা আর সহধর্মিণীকে মাম্মি বলে ডাকছিল। ও হ্যাঁ, “সেলামত পাগি” শব্দের অর্থ যে সুপ্রভাত তা নিশ্চয়ই বলার দরকার নেই। আমি আদিকে জানালাম “উই আর অলরেডি লেট, আদি। চিপাত, চিপাত”। (চিপাত মানে, Go Fast)। আদি হেসে বলল, “তিকে পাপা”। “তিকে” মানে “ওকে”। আমার এই বালিনিজ শব্দের ব্যবহার আর ওর সদ্যশেখা বাংলা বা হিন্দি শব্দের ব্যবহারে আমরা সবাই বেশ আনন্দ পাচ্ছিলাম। সবচেয়ে ভাল লাগছিল ওর “আচ্ছা” শব্দের ব্যবহার। “পিকে” সিনেমার আমির খানের বিভিন্ন রকমের “আচ্ছা” শব্দের উচ্চারণ ওকে মাম শিখিয়েছিল। আদি সেটাই নকল করছিল সবসময়। আনন্দে ভরপুর হয়ে আমরা চললাম উলুম দানু মন্দিরের (বালির সবচেয়ে বিখ্যাত মন্দির) দিকে। আজ আমাদের প্রথম গন্তব্য। অবশ্য তার আগে ব্রেকফাস্ট কিছু করতেই হবে।

বালিতে বিদেশ দর্শন – পর্ব ২

(চলবে)


Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top