আরণ্যক – ২
মাঠে সর্ষের ক্ষেত
আর কিছু ফুল
যেন ঝোরা ঝরঝর
মঞ্চীর দুল
ভীমদাসটোলা হতে
গান ভাসে লয়ে
হাঁসুলির মতো বাঁকা
চন্দ্র উদয়
আপনি আচরি গীত
রৌদ্রে শেখায়
রোদের মধ্যে যেন
কেউ পুড়ে যায়
স্বামীন নামক বর
বুড়ো করতাল
মেয়েটি তরুণী
তার মত্ত দামাল
স্তন ভরে গাইয়ের
মতন সুবাসে
জঙ্ঘায় পূর্ণিমা
রাস ঘিরে আসে
দোল খায় চুল তার
এলো এলো মুখ
বুড়োর বাউণ্ডুলে
অনর্থ সুখ
বুকে ধরে, ঝিম লাগে
মরণের পায়ে
মঞ্চীর তীর হতে
নীড় ভেঙে যায়
আকুড়া মাকুড়া তিথি
অদৃশ্য তাপ
মেয়েটির ব্যথা বোঝে
দুঃখের সাপ
সকালে অরন্ধন
বিকালে ফকির
আশমানে মেঘ করে
জমে ওঠে ভিড়
সকলে নিশীথ পালে
পেটের ভিতর
বুনোঝাউ কড়ি গোনে
শূন্যের ‘পর
বাতাসে হুতাশ বাজে
বাজে নিশিডাক
ধনুকের মতো বাঁকা
শিউলির ঝাঁক
বসেছে শুভঙ্করী
টোল বসেছে যে
হাওয়ার নিদ্রা আসে
ছাত্রের বেশে
বিদ্যুতে বিদ্যুতে
ফালা হয় ঘর
অরণ্য থেকে ভাসে
পুষ্পের স্বর
মঞ্চী, শরীর তার
অস্ত্রের মতো
রেখেছে সে তূণে ঢেকে
বিধাতার ক্ষত
পালিয়ে পালিয়ে যায়
পায়ের ঘুঙুর
কাঁটায় ছিঁড়িয়া যায়
উদাস সুদূর
অভিসার লাগি নারী
থরথর কাঁপে
আকাশে বাতাসে রুখা
আলোর প্রতাপে
ছুটে চলে কাণ্ড জ্ঞান
ছুটে চলে খেয়া
ফুলকিয়া বইহারে
ফুটে ওঠে কেয়া
ফুলের মতন শিশু
নাগপাশে বাঁধা
রাত্রি তাহার নাম
তাহার বারতা
নিয়ে
ছুটে চলে শূন্যতায়
বি ভূ তি ভূ ষ ণ
আঁধারের রথে ছোটে
ম ঞ্চী র ম ন
মোহনবাঁশির মেয়ে আয়নায় দোলে
গাঙ্গোতার ঘর ভাঙে, শিশুর কানাত
টুলটুলে জল থেকে শৈশব তোলে
মুখে দেয় সিঁদুরের গোগ্রাস ভাত…



