কতক্ষণ হবে জানে না; কিন্তু আজ বহুকাল পর, অনেক্ষন ধরে আকাশের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে রৌনক। দেখছে কেমন যেন একটা খেয়ালি রং আজ গোটা আকাশ জুড়ে। সদ্য আটত্রিশ বছর পেরিয়ে এসে আজ হঠাৎ করেই একটা কবিতা লিখতে ইচ্ছে হলো ওর। রবিবারের দুপুর। রাজারহাটে ওদের এই বসুন্ধরা এপার্টমেন্টের অধিকাংশ বাসিন্দারাই আজ কোনো একটা কারণে নেই। আর যারা রয়ে গেছেন তাঁদের অস্তিত্ব সেভাবে পাওয়া যাচ্ছে না। কোনো শব্দ নেই। ভীষণ শান্ত চারিপাশ। রৌনক ভাবলো, ডক্টর রয়-এর পরামর্শে প্রায় বছর দেড়েক আগে সিগারেট আর চিল্ড-বিয়ার খাওয়াটা ছেড়ে না দিলে, এমন মরসুমকে ও অন্তত এরকম নিরামিষ হতে দিতো না।
রৌনক চোখ নামিয়ে ওর ফ্ল্যাটের এক চিলতে ব্যালকণি থেকে মাস্টার বেড-রুমে এলো। অগোছালো বিছানার ওপরে রাখা ল্যাপটপ অন করে সোজা নিজের মেইল-বক্সে চলে গেলো। তারপর, ভীষণ চেনা মেইল-আইডি বসিয়ে রৌনক ছন্দবদ্ধ গতিতে টাইপ করতে শুরু করলো,- ‘জানো! আজ একটু আগে; ওই মোটামুটি সোয়া-বারোটা নাগাদ, এই একাকিত্বে ভরা ব্যক্তিগত শব্দহীনতার শহরে আমার কবিতা লিখতে ইচ্ছে করছিল ভীষণ। তুমি নেই বলে পারলাম না। সেভাবে দেখতে গেলে, কতকিছুই তো পারি না আজকাল। ঠিক যেমন- তুমি নেই বলে, রাতের পর রাত ঘুমাতে পারি না, যাবতীয় উৎসব-উদযাপনের দিন আর রাতগুলোয় কৈফিয়ত দেবার ভয়ে চেনা ভিড়ে মিশে যেতে পারি না। উফফ! দম-বন্ধ হয়ে আসে আমার। প্লিজ বলো! আমি কি তবে আস্তে-আস্তে উন্মাদ হয়ে যাচ্ছি? এখন কেন আমার এই এপার্টমেন্টটাকে পাগলা-গারদ আর এখানকার ফ্ল্যাটগুলোয় যাতায়াত করা সকল মহিলা-পরিচারিকাদের স্রেফ স্টাফ নার্স বলে মনে হয়? এনিওয়েস, একমাত্র এই মেইল-আইডি ছাড়া সব জায়গায় আমায় ব্লক করে রেখেছো বলে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই তোমায়! পরিস্থিতি যাই হোক, নিজের খেয়াল রেখো। ভালো থেকো।’
তারপর কাঁপা-কাঁপা হাতে পাঠিয়ে দিলো,- ‘rounaksarkar1988@gmail.com’ -এ!




সুন্দর গল্প
Thank you for your feedback!
খুব ভালো লাগলো 👏
একটি নতুন মাত্রার অণুগল্প পড়লাম। ভবিষ্যতে এমন গল্প আরও পড়ার ইচ্ছে রইলো। লেখক কে জানাই ধন্যবাদ।