তক্ষণ
তোমাকে তক্ষণ করেছি, ওই দস্তার আকাশ আমাকে ডাকে
মনষ্কাম সোনালি ডানা মেলে অগণ্য হীরের কুচিতে উড়ে গেছে
মাতৃরেখা নেমে যায় নৌকোর দেহ বেয়ে
হাওয়ার পরাগ উড়ে এল, স্নানে রতিমুখ পোড়ে
টানো… জাল টানো, অধিদেবতার মতো জলের প্রতিভূ নেই
চাঁদোয়ার অন্ধকারে লাবণ্যের ঘাম পড়ে আছে
অলীক রাত্রির আগুন থেকে কথার শ্বাস প্রবাহিত হয়েছে
দৃশ্যে দূরের রাগিণী, তুমি পার্থিব লবণে জারিত আবার
মাধ্বী ও দিবাভাগ ফিরে গেছে অপরাজিতায়
চায়ের পিপাসা ফিরেছে সন্ধ্যালগ্নে
তমসার জটলা ভেঙে গিয়ে হঠাৎ একটা পাখি যেন চমকিয়ে আমাদের প্রত্যাঘাত থেকে টেনে আনে ভাঙা দুর্গের ভেতর
উতল পশুর চোখ থেকে প্ররোচনাময় ফাঁদের আলো এসে পড়ে
নষ্ট বাকলে গ্রহের ফেটে পড়া খিদে অনিক্স পাথরের সূর্য এঁকেছে একাকী কামুক আতাফলের শাঁস লক্ষ করে উজ্জ্বল দুপুরে
পৃথিবী ফেটে যায়, মনোময় হাওয়ার চাবুক কেটে বসে যায় অন্ধকার চামড়ায়, অবলোকনের ঠান্ডা চাদর ওড়ে
ক্রমবিভাজিত স্বপ্নের অদম্য ফিউশনক্রিয়ায়
ক্ষত ও রাগিণী
তুমি ধাবমান গান, কোরকে পাখি ওড়ে
ধলভূমগড় থেকে এসেছে বিষণ্ণ খনিজেরা
সোনালি ন্যাসপাতিদের ছায়া পড়ে থাকে পৃথিবীতে
ভালবাসা ইঁদুরের দাঁতে কাটা অক্ষরেখা ধরে চলেছে
তুমি মায়াপ্রপঞ্চ থেকে আরও দক্ষিণে দেখ
মাটির উর্বরাশক্তি কমে আসে
পঞ্চম বাহিনীর স্রোত ঢুকে পড়ে বেগুন ক্ষেত মাড়িয়ে
অলাতচক্র ফেঁসে যায়, তার ঘুমে জড়িয়ে গেছে
আমাদের ক্ষত ও রাগিণী
অনিশ্চিত চিহ্নরা গড়িয়ে যায় ছেঁড়া পতাকার নিচে
আগুনে ছোপানো পথ বেঁকে যায়
তার ধুলোয় সূর্যের ছাই উড়ে আসে
দূরের অরণ্য থেকে একটা বিন্দু খসে গেল
তার দেহ জুড়ে প্রাচীন বটের চোখ
ম্যামথের আর্তনাদ ঘন হয়ে আসে
মৎস্যকন্যা আরও একা হতে চেয়েছিল
সে শ্রাবণী-পূর্ণিমা ভালবেসে
তার রক্তে অন্ধ, নীলাভ তারার দল ভেসে আছে
সম্মোহন
আমি উৎক্ষিপ্ত ওই লিবিডোর শ্রম
তোমাকে গাছের অনিদ্রার ভেতরে দেখি
এত ভুল, ওই শাক্য দেহটি ফিরে চলে আরও অন্ধকারে
মিলিত দোঁহার কেন্দ্র ভেঙে পড়ে আমাকে জাগালো
তোমার পথের রক্তে, রক্তের আভা
পানকৌড়ির সীমিত ডানায় ফেননিভ, কালো
গ্রহের স্বাদ বজ্রের প্রহর থেকে এনেছিল
পুঁথিদের ছটফটানো আলো আর
ঘোড়াদের ডাক আরও অন্ধ
কিশোরীর ঘুম থেকে স্নেহ ঝরে পড়ে, দূরে বসে থাকো
ভয় হয়, পাছে মন্ত্রের আখর তোমাকে পায়
এই বারান্দা উন্মন হলে তামাশার অনেক বিভঙ্গি মুছে
কেবল কাচপোকাটির আলো রয়ে যায়
পেছনে আলেয়ার দেহ জ্বলে
হাড়ের সমস্ত বাঁক ঘিরে মাংসপেশী একদিন ক্লান্ত হলে
তুমি ঠোঁটের কষ থেকে অলিভ-বেদনার স্বর মুছে নাও
জ্বরের সম্মোহন ফিরে এল
উদাসী তন্তু জানেনা ছায়া কিভাবে এমন নির্ভার
ঘনানো মেঘের মসলিনে
শলাকাটি স্বপ্নে ভাসে
সে কোনো অলীক ধাতুর তীব্র মর্ষকাম
আমার ভেতরে ঢুকে পড়ে সারারাত্রি ধরে
নষ্ট গিটার
কানকোয় অন্ধকার চুপ, তারপর ভ্রামর
ছকুমাসি নেমে গেল ঘোরানো সিঁড়ি বেয়ে
চাঁপাটি ছিঁড়েছিল ওপাড়ার আভাময়
ফিলোমেল পড়ে আছে একা, তার তন্ত্র সহায়
আনকোরা ড্রাইভার স্টিয়ারিং পেয়েছিল হাতে
মদির ছবিটি নড়ে উঠে স্থির, তার চোখে
মৌমাছিদের স্তব এলোমেলো হয়ে এলে
সান্ধ্য জংশন উড়ে গেল উটের গলার কাছে
কিছু মৃত্যু, কিছু অসময় একে অপরের মধ্যে ঢুকে পড়ে
ড্রামের তালে তালে নেচে ফিরে গেল
তাদের তমসা সহায়
পটচিত্র ডুবে গেলে আঁধার পাগল
আর সব হাজার বছর আরও দূর লহমা নিয়ে গান বাঁধে
তাদের কলারে আলোকবর্ষ থেকে তারাদের রোদ ভেসে এল
তুমিও ঘাড়ের মৃণাল বেঁকিয়ে বলেছিলে—
‘এতদিন পর ওই নষ্ট গিটার আবার জেগেছে তাহলে’
জোয়ার
আহিরীটোলার সিঁড়ি ডুবে গেলে
অন্ধ বালকের ছায়া যেন প্রেত, প্রেতের আলো
আমাকে নিয়ে যায় একটা কালো ত্রিভুজের দিকে
তার চারপাশে রক্তমাখা তাস ওড়ে
জ্যোৎস্নার নিয়মবিধি নিরবধি চেয়েছে ফলের লাল মাংস
মাংসের হ্রস্ব ফুলকারি ধীর লয়ে জ্বলে ওঠে
তার গতি শনাক্ত করেছে যে যাযাবরের দল তারা ক্লান্ত
শাণিত আদরের ভেতর হাওয়া পুড়ে যায়
ওই তোমার জিভের কোরক
একটা দূরত্বের স্তব্ধতা আর শব্দরা গেঁথে যায়
তারা আলোড়িত হতে চেয়ে একদিন স্বাদের জঙ্ঘা পেয়েছিল
জবানের নিচে শুয়ে ছিল নুন ও মরিচে মাখানো রিরংসার কাল
আমার আদিম চোখের তারা
কালো বিড়ালের আকাঙ্ক্ষার মধ্যে ঢুকে দেখে
তার মর্ষকাম একটা মারমেইড-বিকেলের আলোয় খুঁজে পায়
ঠাণ্ডা চিঠির স্তূপ, আর মনোবিকারের তাপ
রক পাইথনের মতো পড়ে আছে খুব কাছেই
তোমার বুকের ভেতর



