“For under capitalism, the female, half of the human race, is doubly oppressed. The working woman and the peasant woman are oppressed by capital… The most important step is abolition of the ownership of land and factories. This and this alone opens up the way towards a complete and actual emancipation of woman.”
আজকের দিনে the above excerpt from Lenin’s speech কী ভীষণভাবে প্রাসঙ্গিক!
আমরা জানি এই সময়ে দাঁড়িয়ে capitalism হলো আসলে ‘neo-liberalism or free-market capitalism’.
এই neo-liberalism “শ্রমজীবী” শব্দটিকেই সুচতুরভাবে বাদ দিয়েছে!!!
অথচ এই বিপুল শ্রমজীবী গোষ্ঠীই তো দমন-পীড়ন-শোষণের বিরুদ্ধে গর্জে ওঠে, প্রতিবাদ প্রতিরোধে রাস্তায় নামে, ছিনিয়ে নেয় আপন অধিকার। এই মানুষগুলোর দীর্ঘ লড়াইয়ের মধ্যে দিয়েই মিলেছে নারী দিবসের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, প্রতিষ্ঠিত হয়েছে নারীর অধিকার ও সুরক্ষার আইনানুগ নানান ব্যবস্থা!
আজ ৮ মার্চ, আন্তর্জাতিক নারী দিবস।
নারীর সমানাধিকার, মর্যাদা এবং অসম শ্রম-মজুরির দাবি আদায়ের ক্ষেত্রে এই দিনটির তাৎপর্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
এই দিনটিকে ঘিরে টুকরো টুকরো কিছু ছবি, যাকে জড়িয়ে ইতিহাস ও সমকাল — তা নিয়ে কিছু কথা হোক আজ এখানে।
এক
নারী দিবসের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
১) ১৮৫৭ সালে কর্মজীবী নারীদের শিল্প-কারখানার শ্রম-সময় কমানো, মানবিক আচরণবিধির প্রয়োগ, শ্রম-মজুরির বৈষম্য দূরীকরণ এবং অন্যান্য স্বাধীনতা প্রদানকে কেন্দ্র করে নারী শ্রমিকরা নিউইয়র্কের রাজপথে নেমে আসে।
২) অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে এই ঐক্যবদ্ধ মিছিলে সরকারি বাহিনীর দমন-পীড়ন সারা বিশ্বকে হতবাক করে।
৩) নারীর এই ন্যায্য দাবি এবং বঞ্চনার ইতিহাসে বিক্ষুব্ধ হয় বিভিন্ন দেশের নারী নেত্রীরা এবং এর সঙ্গে অসংখ্য নারী শ্রমিক এই অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে থাকে।
৪) ঘটনার পথপরিক্রমায় কেটে যায় আরও অর্ধশত বছর।
৫) ১৯০৮ সালের ৮ মার্চ, জার্মান কমিউনিস্ট পার্টির এক স্থপতি ক্লারা জেটকিনের নেতৃত্বে, নিউইয়র্কের সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট নারী সংগঠনের পক্ষ থেকে এক বিরাট সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
৬) এরই ধারাবাহিকতায় ১৯১০ সালে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন।
৭) এই সমাবেশে বিশ্বের প্রায় ১০০ জন নারী নেত্রী দাবি জানায় ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস ঘোষণা করার।
৮) পর্যায়ক্রমে ১৯১১ সালের ৮ মার্চ নারীদের সমঅধিকার দিবস পালিত হয়।
৯) এরই অনিবার্য পরিণতিতে ১৯১৪ সালের ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের মর্যাদা দেওয়া হয়।
১০) এ প্রসঙ্গে বলি— রুশ মহিলারাও প্রথমবার ‘শান্তিরক্ষার’ দাবিতে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন করে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল।
দুই
জাতিসংঘের স্বীকৃতি
দীর্ঘ সংগ্রামের ৭৫) পর ১৯৭৫ সালে জাতিসংঘ ৮ মার্চকে ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস’ ঘোষণা করে এবং ১৯৭৭ সালে একে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়।
তিন
দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ৮ মার্চের তাৎপর্য
আশ্চর্যের বিষয় হলো ১৮৫৭-১৯৭৫, এই বিরাট কালপর্বে কাগজে-কলমে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠিত হলেও, বাস্তবে নারীর প্রতি অসাম্য, বঞ্চনা, অত্যাচার, বৈষম্যের মাত্রা তো কমেইনি, বরং তা আরও ঊর্ধ্বমুখী।
এটা তো সত্যি যে শ্রেণি-বিভক্ত সমাজে আধিপত্য বিস্তারকারী মালিকপক্ষ কিন্তু সমাজের “সংক্ষিপ্ত একটি গোষ্ঠী”। হ্যাঁ, এটাই সত্যি। সংক্ষিপ্ত একটি গোষ্ঠী। সিংহভাগ হলো সাধারণ শ্রম-বিনিয়োগ শ্রেণি, যারা পুরো উৎপাদনের মূল চালিকাশক্তি। আর অবাক করার মতো বিষয় হলো এই শ্রমজীবী জনগোষ্ঠীর অর্ধাংশই নারী!!
যদিও উৎপাদনের মূল কর্মক্ষম শক্তি হিসেবে শোষণ আর বঞ্চনার শিকার নারী-পুরুষ উভয়ই, কিন্তু সামাজিক অব্যবস্থার কারণে দুর্বল এবং পিছিয়ে পড়া অংশ হিসেবে নারী বঞ্চনার ক্ষেত্রে অনেকটাই এগিয়ে। ফলে নামমাত্র মজুরির ক্ষেত্রেও নারী-পুরুষের বিভাজন দৃষ্টিকটু এবং অমানবিক।
কাজেই নারী সুরক্ষা, নারীর অধিকার, সম্মান রক্ষা এবং তাদের ন্যায্য পাওনা আদায়ের লক্ষ্যে বিশ্বব্যাপী এই যে সম্মিলিত প্রচেষ্টা— তার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর দিন এই ৮ মার্চ। দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বিশ্বব্যাপী এই যে জোটবদ্ধতা— তার দায়বদ্ধতাকে বহন করে পথচলার অঙ্গীকারের দিন ৮ মার্চ।
চার
নারী দিবসের মূলনীতি ও লক্ষ্য
· লিঙ্গসমতা : নারী-পুরুষের মধ্যে আইনি, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অসমতা দূর করা।
· নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা : প্রজনন অধিকার, শিক্ষা ও কাজের অধিকার নিশ্চিত করা।
· সহিংসতা প্রতিরোধ : নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা ও বৈষম্য দূর করা।
· সমসাময়িক প্রাসঙ্গিকতা : এখনও বিশ্বের বহু দেশে নারীরা আইনগতভাবে পুরুষের সমান অধিকার (মাত্র ৬৪%) পায়নি এবং লিঙ্গবৈষম্য দূর করতে আরও কয়েক শতাব্দী লাগতে পারে, যা ‘নারী দিবস’-এর নিরন্তর প্রয়োজনীয়তা প্রমাণ করে।
পাঁচ
নারী দিবসের তাত্ত্বিক দৃষ্টিভঙ্গি
এই দিবসটি কেবল উদ্যাপনের নয়, বরং পিতৃতান্ত্রিক সমাজকাঠামোতে নারীর অবস্থান পুনর্বিবেচনা করার দিন। এটি দেখায় যে, নারী অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গেই সমাজের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব।
নারী দিবসের তাত্ত্বিক ভিত্তি হলো “সমতা”— যেখানে নারী তার যোগ্য অধিকার ও নিরাপত্তা নিয়ে সমাজে মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারে।
প্রতিদিনের কর্মযাত্রায় নারীরা যদি তাদের সম্মান এবং ন্যূনতম বাঁচার পথকে অবারিত করতে না পারে, তাহলে দিনটির গুরুত্ব হালকা হয়ে যায়। কর্মক্ষেত্রে, সামাজিক ও পারিবারিক প্রেক্ষাপটে নারীদের ন্যায্য দাবি হরণের যে করুণ আখ্যান— তা থেকে তারা যদি বেরিয়ে আসতে না পারে— তাহলে এই দিনটি তার তাৎপর্য হারায়।
আন্তর্জাতিক নারী দিবস (৮ মার্চ) নারীদের রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক সাফল্য উদ্যাপনের পাশাপাশি লিঙ্গসমতা, প্রজনন অধিকার এবং নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধের দাবিতে বিশ্বব্যাপী পালিত একটি তাত্ত্বিক আন্দোলন।
দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক নয়, নারীকে সামনের সারিতে উঠে আসতে হবে— ৮ মার্চ এই সংকল্পের দিন।
সর্বোপরি ৮ মার্চ শপথের দিন।
নিছক ‘মেয়েমানুষ’ হয়ে নয়, পরিপূর্ণ এক ‘মানুষ’ পরিচয়ে, মর্যাদা-অধিকার-সম্মান-এর সঙ্গে বেঁচে থাকার অঙ্গীকারের দিন।
ছয়
রাষ্ট্রের ঘৃণ্য দমন-নীতি
সামাজিক সুরক্ষা ও অধিকার অর্জনের জন্য যখনই সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ, হ্যাঁ অবশ্যই নারী-পুরুষ নির্বিশেষে গর্জে উঠেছে, তখনই শাসক রক্ষকের খোলস ছেড়ে ভক্ষকের ভূমিকায় ঝাঁপিয়ে পড়েছে, চলেছে নির্বিচারে দমন-পীড়ন।
আজ আমি স্মরণ করতে চাই সেইসব নারীদের, যারা রাষ্ট্রের ঘৃণ্য দমন-নীতির শিকার হয়ে বন্দী হয়ে আছেন দেশের বিভিন্ন রাজ্যের কারাগারে। এদের অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং এদের মধ্যে বেশিরভাগ মহিলাকে বছরের পর বছর, কখনো এক যুগ বা তারও বেশি সময় ধরে জেলে পুড়ে রাখা হয়েছে without any trials.
শিক্ষিত, সচেতন, শোষণ-দমনের বিরুদ্ধে কমিটেড, নিজের বিশ্বাস এবং আদর্শের কাছে দায়বদ্ধ… এমন অসংখ্য লড়াকু নারী, যারা আমার দেশের নাগরিক, ভাবতে অবাক লাগে, এদের কথা আমরা জানি না।
আমরা জানি না what they are accused of!
এদের সঙ্গে ঘটতে থাকা রাষ্ট্রীয় অত্যাচারের বিষয়ে আমরা খোঁজ রাখি না।
ঘটা করে নারী দিবস পালনের সময় উচ্চারিত হয় না এইসব নারীদের নাম, যারা অন্যায়ভাবে উগ্রপন্থী/দেশদ্রোহী হিসেবে বন্দী।
এরা কারাগারের অন্ধকার ঘরে বিনা বিচারে কাটিয়ে দিচ্ছেন একের পর এক বসন্ত।
দেশের খুব অল্প সংখ্যক মানুষ এইসব নারীদের কথা জানেন।
বিশাল সংখ্যক মানুষের কাছে এদের কোনো অস্তিত্ব বা existence নেই। They do not exist because we do not know how they look like or what their names are.
কেবলমাত্র তখনই এদের বিষয়ে খবর পাওয়া যায় when a local or a kin talks to someone who brings attention.
অন্যথা এইসব নারী সমাজের বৃহত্তম অংশের কাছে অদৃশ্য, invisible.
এইসব নারীদের বিষয়ে পড়াশোনা করে শিহরিত হয়েছি। মনে হয়েছে নারী দিবসে এদের বিষয়ে দু-চার কথা বলা প্রয়োজন।
Today I will try to bring attention on some of them (as if they are without FACE) in few words:—
১) জ্যোতি জগতাপ (Jyoti Jagtap):
She is an anti-caste cultural activist and associated with Kabir Kala Manch. She was arrested by ATS in 2020, under UAPA. She has been in prison for 931 days and counting.
২) কল্পনা মাইতি (Kalpana Maity):
Born to a middle peasant family in Midnapur, West Bengal. She organised people against (state corporate) extortion and oppression. On December 3, 2010, as she was headed to Kolkata city for her medical treatment, she was arrested by STF, from Howrah Station. She has been a prisoner since then—4113 days and counting.
৩) ঠাকুরমণি মুর্মু (Thakurmoni Murmu):
Born in a poor tribal family in Jhargram, West Bengal. She was arrested in 2016 for being involved in revolutionary politics. She received bail in all but two. She continued to demand rights and dignity for all prisoners, which subjected her to inhuman torture.
৪) আক্কা পোরাবাই পাটেল (Akka Porabai Patel):
A resident of Telangana, arrested in 2012, on the way to Mumbai. She was physically not well that time, needed an operation. She was sent to Alipur Central Jail in Kolkata. She did not receive any medical treatment in the prison. She received barbaric torture and sexual violence. She has no contact with anybody from her family. She has been in prison for 4027 days and counting.
৫) মাসরাত জাহারা (Masrat Zahara):
She is a freelance photojournalist from Kashmir and a member of the Network of Women in Media India (NWMI). In 2020, she won the Peter Mackler Award for Courageous and Ethical Journalism. She has been covering the situation on the ground in Kashmir. She has been booked under UAPA.
৬) অন্নপূর্ণা (Annapurna):
She is a labour rights defender, advocate and an executive member of the PKS, a workers’ union in Andhra Pradesh. In 2020, she was arrested from her house, alleging her links to Maoist fractions. She is being detained at Vishakhapatnam Central Jail for 813 days and counting.
৭) সুধা ভরদ্বাজ (Sudha Bharadwaj):
She has represented Adivasis and activists before the National Human Rights Commission of India and acted as legal representative in several cases of extrajudicial executions of Adivasis. Initially she was placed under home arrest in 2018. Later she was moved to prison in 2021, under UAPA. She has been in prison without a trial for days and counting.
৮) শোভা সেন (Shoma Sen):
She is a member of Women Against Sexual Violence and State Repression. She has been active with workers’ movements, protection of Democratic Rights in their work and in publication of their magazine “অধিকার রক্ষা” (Adhikar Raksha). She was arrested in 2018 under UAPA.
এরকম অনেকেই আছেন, যাদের কয়েকজনের সঙ্গে জাস্ট পরিচয়টুকু করালাম। এদের কেউ কেউ interim bail-এ আছেন, কয়েকজন মুক্তি পেয়েছেন। যেমন Shoma Sen 2018-এ arrest হয়েছিলেন, 2024-এ ছাড়া পেয়েছেন।
কিন্তু bail পেয়ে বা জেল থেকে release হয়ে তারা কেমন আছেন, সে সম্পর্কে এক সিনিয়র সাংবাদিকের লেখা থেকে ছোট্ট একটা অংশ এখানে রাখছি— “…after getting bail or released, they are not getting equal freedom. After releasing, they need to rebuild life from nothing, living in exile from work and home, without a job or financial security, and carrying the stigma of a UAPA case. Sometimes supports from civil society and the legal community help them survive and return to normal work. Yet uncertainty persists, reinforced by strict bail conditions and routine police reporting…”
আজ ৮ মার্চ, ২০২৬, আন্তর্জাতিক নারী দিবস।
এই দিনে আমার কয়েকজন সহনাগরিকের জীবনের গল্পকে জাস্ট ছুঁয়ে গেলাম। কিছু অংশের বাংলা তর্জমার সময় পেলাম না। সেজন্য একটু খারাপ লাগছে বৈকি।
আগামী ৮ মার্চ এদের সবাইকে মুক্ত পৃথিবীতে দেখতে চাই।



