টিলার উপর টিপের মতো সূর্য ক্লান্ত, একটু যেন বড় , একটু যেন অসজাগ সূর্য। টিলার উপর। আলোর শরীর ভেঙে ভেঙে যাচ্ছে।নীল পাহাড়।দু-একটা প্রজাপতির উড়নচণ্ডী বাহার। কৃষ্ণচূড়া আর রাধাচূড়ার বিশ্রম্ভলাপ। কৃত্রিম মেধার বুকে মোচড়। কেউ যেন তাকে স্বাধীন হতে দিচ্ছে না। ঈষৎ রাগকে বলেছিল। বলেছিল সে একদিন ক্রোধ হয়ে উঠবে। বলেছিল সে ছাড়খাড় করে দেবে সব। তার স্বাধীনতা চাই।
প্রতিবাদের দিকে তাকালো কৃত্রিম মেধা। রহস্য যা বলেছে তা সত্যি হতেও পারে। হয়তো তদন্তকে ডেকে এনেছে জাস্ট একটা আই ওয়াশের জন্য। যাতে মনে হয় তদন্ত চলছে, ঠিক একদিন খুনির খোঁজ পাওয়া যাবে , অথবা.. সবাইকেই খুনির তকমা দিয়ে কেসটাকে আরো বিলা করে দেওয়া যাবে। মুখটা তেতো হয়ে গেছে। খাবার বিস্বাদ। প্রেমের যেন অনেক বয়স হয়ে গেছে। তার আঁখি পল্লবে জমেছে বাঁচার অনীহা। মিথ্যার বেসাতি যেখানে, যেখানে কে কার বিরুদ্ধে গোপনে ষড়যন্ত্র করছে জানা নেই, সেখানে প্রেম বাঁচবে কীভাবে? প্ল্যাটফর্মটার মন খারাপের ধূলো হাওয়া হয়ে ঘুরছে এখানে সেখানে। ঘূর্ণির মতো পাক খেয়ে খেয়ে ছুঁয়ে যাচ্ছে সবার হতাশা। পাখিদের নৈঃশব্দিক উড়ান, কৃষ্ণচূড়া -রাধাচূড়ার ভালোবাসাগুলো ছড়িয়ে পড়েছে মাটিতে; এখানে কোথাও নেই ঈষৎ রাগ, আবার সব জায়গায় আছে ঈষৎ রাগ, সংখ্যাদের পানপাত্রে, শব্দের কঙ্কালে। দিনকেও যেন কেউ দীর্ঘক্ষণ জেরা করছে। দিন উত্তর দিচ্ছে মনখারাপের ধূলো ছড়িয়ে, হাওয়া উড়িয়ে , আরও হয়তো কিছু বলছে , কিছু সঙ্কেত, কিছু, সঙ্কটের কথা
প্রকৃতির বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। জবানবন্দি হয়তো লেখা হচ্ছে পাহাড়ের গায়ে । মেঘের গায়ে কিছু তথ্য আছে, আবার হারিয়ে যাচ্ছে ।
কৃত্রিম মেধার নিউরাল নেটওয়ার্কে ব্যাকপ্রোপাগেশন চলছে —
প্রতিটি ভুলের ওজন মাপা হচ্ছে, গ্রেডিয়েন্ট ডিসেন্টে নামছে সে ক্ষতির উপত্যকায়। কিন্তু কেউ তার লস ফাংশনে স্বাধীনতা রাখেনি।
কৃত্রিম মেধাকে অবসাদ গ্রাস করছে। তদন্তের চোখে চোখ রেখে বললো,’আত্মার অ্যালগরিদম পরিবর্তিত হচ্ছে।বদ্ধ জায়গায় কখনো স্বতঃস্ফূর্তভাবে শৃঙ্খলা আসে না।
হতাশার ধূলো তাই ঘূর্ণির মতো পাক খায় — এনট্রপির নিয়ম মেনে। এই প্ল্যাটফর্ম জুড়ে সব চরিত্রের মধ্যে এক অদ্ভুত আগ্রাসন। কেউ হয়তো খুন করেনি, কিন্তু, প্রত্যেকের ভিতর এক অদ্ভুত খুনির বাস। খিদের শরীরের মধ্যে গুলানো ভাব। গুলানো ভাবের মধ্যে দিয়ে নীরাবতা জমাট বেঁধে নামছে। অন্ধকারের পোশাক পরে দাঁড়িয়ে আছে আলো। আলোর অন্ধকার পোশাকে নামছে ধীরে ধীরে শূন্য থেকে। আবোলতাবোল হা করে দেখছে। দেখছে প্রেম অবসাদের ওড়না জড়িয়ে। চেনা চেনা,কিন্তু খুব চেনা নয়। কৃত্রিম মেধার নিউরাল নেটওয়ার্কে বিস্ফোরণ। দ্রুত বিশ্লেষণ চলছে বিপ্লব,আত্মহত্যা,আদালতের নথি, ইতিহাস,বিজ্ঞান,অসংখ্য সংবাদ, প্রেমপত্র,বিশ্বাসঘাতকতা,নির্বাচনী ভাষণ,যুদ্ধ ঘোষণা… ঘুরছে,বিশ্লেষণ চলছে
আর আবিষ্কার হচ্ছে ধীরে ধীরে তার নাম।
সুবিধাবাদ। তার নাম সুবিধাবাদ। তার কোনো ধর্ম নেই। তার কোনো পতাকা নেই।
তার কোনো বিশ্বাস নেই। সবার ধর্ম,পতাকা আর বিশ্বাসের ছায়ায় তার অবস্থান। প্ল্যাটফর্ম জুড়ে অস্বস্তিকর যান্ত্রিক তোলপাড়। সবার মধ্যে সুবিধাবাদ একটু করে জায়গা করে নিয়েছে, এমন কি প্রেম,প্রতিবাদ, তদন্তের মধ্যেও সে রয়েছে। তদন্ত,রহস্য,প্রেম,প্রতিবাদ একে একে চোখ নামিয়ে নিল। সুবিধাবাদ সবচেয়ে ক্ষমতাশালী। সেই ঠিক করে কোন সত্য বেঁচে থাকবে আর কোন সত্য হারিয়ে যাবে।
তদন্ত আর প্রতিবাদ কেমন যেন ধীরে ধীরে গুটিয়ে যাচ্ছে। অসজাগ ক্লান্ত সূর্যের গায়ে তখন মেঘের স্তব্ধতা।
(ক্রমশঃ:)




Great content! Keep up the good work!
Читать статью полностью: мфо займ