কঙ্কার কথা শুনে আমি যেন আকাশ থেকে পড়লাম, “সে কী! ওঁর বিয়ে হয়েছে?”
সত্যি, আমিও এক উজবুক বটে! শৈলেনবাবু রোজগার করেন, বিয়ের বয়স হয়েছে। এখনও বিয়ে হয়নি কেন—এ প্রশ্ন আমার মাথায় আগেই আসা উচিত ছিল।
কঙ্কা রুটি চিবোতে চিবোতে উত্তর দিল, “দু-বছর আগে। ছোট কত্তা তো বিয়ে করতেই চাইছিলেন না। দেখে-শুনে বড় ঘরের মেয়ের সঙ্গে এরা বিয়ে দিল। বোশেখ মাসে বিয়ে হলো আর পোষ মাসে গলায় দড়ি দিল।”
— “কী সর্বনাশ! কেন?”
— “ছোট দাদাবাবুর সঙ্গে মানাতে পারছিল না। পোষ মাসে শীতের রাত্তিরে দাদাবাবু নিজের ঘর থেকে বের করে দরজায় খিল তুলে দিয়েছিল। তা সে মেয়েমানুষও ঠাঁটার মতো উঠোনে বসে সারা রাত হিম খেল। সকাল হতে ঘর থেকে টাকা-পয়সা নিয়ে পাশের বাড়ির এক ছোট ছেলেকে সঙ্গে করে বাপের বাড়ি চলে গিয়েছিল—তেজ দেখিয়ে। তার দুদিন পর গলায় দড়ি দিল। মাঝে মাঝেই কথা কাটাকাটি হতো। সে হলো গে বড় মানুষের মেয়ে, তার দম্ভই আলাদা। দাদাবাবু নিজে উকিল বলে তারা কায়দা করতে পারেনি কো। তবে তার পর থেকে যত বার বিয়ের ঠিক হয়েছে, তত বার ভাঙচি দিয়ে বিয়ে ভেঙে দিয়েছে।”
— “কিন্তু ছোট বউ মানাতে পারছিল না কেন?”
— “সে আমরা গরিব মানুষ কী করে বলব বলো? তবে ছোট দাদাবাবুর তাকে মোটেই পছন্দ হয়নি। অমন রাজপুত্রের মতো দেখতে, তার সঙ্গে টাকা দেখে অমন মোষের মতো কালো মেয়ের বিয়ে দিয়েছিল। আচ্ছা, ঠিক আছে—বিয়ে যখন হয়েছে, সংসারের এক কোণে মুখ বুজে পড়ে থাক—তা না, কথায় কথায় স্বামীর সঙ্গে তর্ক করত।”
আমি স্তব্ধ হয়ে ওর কথাগুলো শুনছিলাম।
কঙ্কা গলা নামিয়ে চুপিচুপি বলল, “জান সেজ বউ, বড় আর মেজ বউও ওর কানে বিষমন্ত্র ঢালত। আমি এসব কথা তোমাকে বলেছি, সেটা যেন আবার বলে দিও না। পাঁচ কান হলে অনাথ-আতুর বিধবা মানুষ, এই আশ্রয়টুকু হারাব।”
মনটা ভার হয়ে গিয়েছিল। কে সে অভাগিনী, যার কোনো চিহ্ন আর এই বাড়িতে নেই! কত বড় অপরাধী সে, যে শীতের মাঝরাতে ঘর থেকে বের করে দেওয়ার মতো অপমান করা যায়?
বীরের মুখোশের আড়ালে তবে কী কাপুরুষ মুখ লুকিয়ে আছে? স্বামীর ঘর কোনোদিন করিনি, তাই স্বামী-স্ত্রীর মান-অভিমানের ব্যাপারটা আমার কাছে সম্পূর্ণ অজানা।
শোবার আগে সুজনিটা তুলে ফেলে অন্য আরেকটা পেতে বিছানা ঝাড়া-ঝাঁটা দিয়ে টানটান করে দিলাম।
এবার থেকে যেই আসুক না কেন, এ ঘরে আর ঢুকতে দেব না—বাইরেই বসাব।

এক সন্ধেবেলায় পান ছেঁচে শাশুড়ির ঘরে নিয়ে গেছি তাঁকে দেওয়ার জন্য। রান্নাঘরে নিজের কিছু কাজ ছিল, তাই ওঁর ঘরে না বসেই ফিরে আসছিলাম। উনি পেছন থেকে ডাক দিলেন, “সেজ বউ, একটা কথা শুনে যাও! এই কঙ্কা, তুই একটু বাইরে যা দিকিনি… দরজাটা ভেজিয়ে যাবি।”
কঙ্কা একবার আমার মুখের দিকে চেয়ে ঘাড় নাড়ল।
দরজাটা টেনে দিয়ে যাওয়ার পর আধশোয়া অবস্থায় উনি আমার দিকে ফিরলেন, “সেজবউ, এদিকে শোন দেখি।”
বুঝতে পারছি না উনি কী এমন বলবেন। পায়ে পায়ে কাছে গিয়ে বললাম, “আমায় কিছু বলবেন?”
— “বলি, ঘোড়া ডিঙিয়ে ঘাস খেতে শিখেছ কবে থেকে?”
— “কেন মা, আমি কোনো ভুল কাজ করেছি?”
— “আমাদের কালে ভদ্র ঘরের বউরা বড়দের মুখের দিকে চেয়ে কথা কইত না। তুমি তো দেখছি সব শিক্ষা-দীক্ষা বাপের ঘরেই রেখে এসেছ, নাকি এসবের চল নেই সেখানে?”
এ কথার কী উত্তর দেব! উনি অভিযোগ করে যাচ্ছেন, কিন্তু কোন দোষে দোষী হলাম, মাথায় আসছে না।
— “বলি, বড় বউরা যেদিন এলো, মিঠাই কেনার পয়সা কে দিলে তুমি? বাপের ঘর থেকে এক কাঁড়ি টাকা এনেছ বুঝি? কী হলো—মুখ বুজে থাকলে হবে না। মুখে কুলুপ আঁটলে বেঁচে যাবে, তা মনেও ভেবো না।”
— “না মা, আমি আবার টাকা কোথা থেকে পাব? আপনার ছোট ছেলের কাছ থেকে চেয়ে নিয়েছিলাম।”
— “তা হঠাৎ বাইরে থেকে মিঠাই আনার দরকার হলো—আমাকে বুঝিয়ে বল দেখি। তারা তো এ বাড়িরই বউ, কোনো আত্মীয়-কুটুম নয় কো।”
— “কচি ছেলে-মেয়ে এসেছিল, তাই ভাবলাম…”
— “এসেছ তো দুদিন, এর মধ্যেই বাড়ির গিন্নি হতে চাইছ? হ্যাঁ, বিছানাধরা হয়েছি বলে কি আমি মরে গেছি, যে তুমি গিন্নিপনা শুরু করে দিয়েছ? কেন, ওরা কি এ বাড়ির অতিথ, যে এলেই কাঁড়ি কাঁড়ি মণ্ডা-মিঠাই কিনে এনে খাওয়াতে হবে? মানদা নুচি ভেজে দিয়েছিল, তার সঙ্গে একটু হালুয়া করলেই মিটে যেত! শ্বশুর, ভাসুর, দেওর—সবাই পরপুরুষ। এত দিন বাপের বাড়ি পড়ে ছিলে, এ বাড়ির ধরন-ধারণ তো জানো না! ভরা বয়সের সোমত্ত বিধবা… জানি না বাপু, তোমার স্বভাব-চরিত্র ঠিক আছে কিনা! আনার আগে খোঁজখবর নিতে হতো—বড্ড ভুল হয়ে গেছে। বিদ্যেধরী বউ আমার দেওরকে চা করে খাওয়াচ্ছেন, গুচ্ছের পয়সা খরচ করে বইপত্তর কেনাচ্ছেন! সংসারে দেখি বেশ রঙ্গ শুরু হয়েছে। মানে মানে সাবধান হও বাপু, নইলে ঘাড় ধরে বের করে দেব!”
একখানা জ্বলন্ত চ্যালা-কাঠ যেন কেউ সদ্য উনুন থেকে বের করে আমার কানে গুঁজে দিল। কথার বিষের জ্বালায় ছটফট করে উঠলাম। উনিশ বছর বয়স হয়েছে—এতখানি বয়সে কেউ এভাবে অপমান করবে, ভাবিনি। সে বিষের জ্বালার চোটেই আমারও মুখ দিয়ে জ্বলন্ত কয়েকটা কথা বেরিয়ে এল—
“এ ভিটেতে আমার স্বামীরও ভাগ আছে মা। আজ বাপের ঘর থেকে নিজেদের স্বার্থে ডেকে এনে ইচ্ছে হলেই ঘাড় ধাক্কা দেবেন—এমন কিন্তু হবে না। আমাকে আনার সময় অনেক কিছু বলে আনা হয়েছিল; সে সব পাই না পাই, ক্ষতি নেই—কিন্তু প্রাণ থাকতে এ ভিটে ছাড়ব না।”
দরজা খুলে বেরিয়ে আসার সময় দেখলাম, বন্ধ দরজার পেছনে কঙ্কা দাঁড়িয়ে। রাগে, দুঃখে, অপমানে সারা শরীর জ্বলে যাচ্ছিল। এত দিন যার গলার কোনো আওয়াজ শোনা যেত না, কোথায় যে এত জোর পেলেন কে জানে—আমার পেছনে আরও কিছু বিষাক্ত কথা ছুঁড়ে দিলেন—
“ছোট খোকার জন্য মেয়ে দেখছি—আসুক ছোট বউ! সেই তোর বিষদাঁত ভাঙবে, ওই রূপের গুমোর ভাঙবে, অলক্ষী মাগী! তারপর দেখব, কেমন মাসে মাসে টাকা আদায় করতে পারিস রোজগেরে দেওরের কাছ থেকে! আজ আসুক ছোট খোকা—দেখি সে কেমন বিচার করে। মা বড় না…”
কানে আঙুল দিয়ে পালিয়ে গিয়েছিলাম—আর সহ্য করতে পারছিলাম না।

সেদিন ঠাকুরঘরের ঠাকুরের শয্যা, অঙ্গসজ্জা, মালা আর ফুল দিয়ে সাজানো সব শেষ করে চন্দন ঘষছি। হঠাৎ মানদার গলা পেলাম, “ও সেজবউ, বাইরে এসে দেখ গো কারা এয়েছে।” বুকের মধ্যে ধক্ করে উঠলো। নিশ্চয়ই বাপের বাড়ির কেউ আমার খোঁজ নিতে এসেছে! ছোট্ট চন্দনবাটিতে চন্দনটুকু তুলে বাটিটা পুষ্পপাত্রে ফুল, বেলপাতা, দুর্বা ইত্যাদির পাশে রেখে তাড়াতাড়ি বাইরে এলাম। কমদামি ধুতি আর রঙচঙে শার্ট পরা এক গোলগাল কিশোরের হাত ধরে মাঝবয়সী এক বিধবা মাঝউঠোনে দাঁড়িয়ে একরাশ কৌতূহল নিয়ে চেয়ে আছে। এদের তো আমি চিনি না। জীবনে কখনোই দেখিনি। সত্যি কথা বলতে, আমি খুব নিরাশ হলাম।
মানদার খ্যানখ্যানে গলা বেজে উঠলো, “হাঁ করে দেখছো কী? ও সেজবউ, এ হল গে তোমার বড় ননদ। আর এ হল গে তোমার ছোট ভাগ্নে।” অপ্রতিভ ভাব সামলে মাথার ওপর কাপড় তুলে মিষ্টি হেসে বললাম, “আসুন দিদি। হাত-পা ধুয়ে ঘরে গিয়ে বসুন। আমি ঠাকুরঘরের কাজ সেরে এখনই আসছি।”
উনি মুগ্ধ হয়ে আমার দিকে চেয়ে ছিলেন। নিজেকে সামলে বললেন, “না না বউ, তুমি তোমার হাতের কাজ সেরে এসো। আমরা কলঘরে হাত-পা ধুয়ে পথের কাপড় ছেড়ে মায়ের ঘরে গিয়ে বসছি।” তার পর মানদাকে জিজ্ঞেস করল, “হ্যাঁ রে মানদা, মা কেমন আছে? বাতের ব্যথা-বেদনা কি আরও বেড়েছে?”
মানদা হাত-মুখ নেড়ে বলল, “এয়েই তো পড়েছ গো। তার কাছটিতে গিয়ে নিজেই শুধাও না কেন? গিন্নি মায়ের কাছে গিয়ে কঙ্কাকে পাঠিয়ে দিও গো। তোমাদের জন্য দুটো জলখাবারের ব্যবস্থা করতে হবে।”
ছেলেটা উল্লাসে চেঁচিয়ে বলল, “আমি কিন্তু লুচি খাব। লুচি আর হালুয়া খাব।”
বড় ননদ চোখ পাকিয়ে বললেন, “দেখছো ছেলের নোলা! আগে যা হাত-পা ধুয়ে কাপড় ছাড়। ও মানদা, একটু বেশি করে লুচি ভেজ, ছেলেটার আমার বড্ড খিদে।” আমার দিকে চেয়ে একটু লাজুক ভঙ্গিতে হাসলেন। আমিও হেসে ঠাকুরঘরে ঢুকে পড়লাম। পুরুতমশাইয়ের আসার সময় হয়ে গেল, কাজ সারতে হবে।
দুপুরে রান্নাঘরে আমি, কঙ্কা আর বড়দি খেতে বসে এটা-ওটা গল্প করছিলাম। মানুষটা বেশ ভাল। অনেকদিন পর এমন একজনকে পেয়ে আমার খুব ভাল লাগছিল। খাওয়া শেষ হয়ে যাবার পরও এঁটো হাতে গল্প করছিলাম। কঙ্কা উঠে গিয়েছিল। সেই সুযোগেই যেন বড়দি আমায় চুপিচুপি বললেন, “ও সেজবউ, তোমাকে একটা কথা বলি। আমার গোলা বিকেলবেলায় জলখাবারে দুটো ভাত খায়। তুমি বাপু মানদাকে বলে একটু ব্যবস্থা করে দিও।”
বড়দির এই কোলের ছেলেটার খিদে বড় বেশি। সকালে সকাল লুচি-হালুয়া-আলুর ছেঁচকি প্রচুর পরিমাণে খেলেও ইস্কুলে যাওয়ার সময়টাতে তার ভাতের খিদে পায়। দুপুরে পেটভরে খেলেও ইস্কুল থেকে ফেরার সময়টাতে আবার খিদে পায়। সন্ধের সময় খেলাধুলা করে ফিরে এসে খিদে পায়, আবার রাত হতে না হতেই খেয়ে নিয়ে শুতে চায়। দশ-বারো বছরের ছেলে, এখন ওর উঠতি বয়স, খিদে তো পেতেই পারে। ওর খাওয়া নিয়ে ওর মাও খুব সংকুচিত হয়ে থাকে। স্বামী নেই, হয়তো ছেলের বউরা ছোট দেওরের ‘খাই-খাই’ স্বভাব নিয়ে খোঁটা দেয়। মেয়েমানুষের জোর হলো রোজগেরে জীবিত স্বামী; আমার মতো বড়দিরও তা নেই। তাই নিজের বাড়িতে তো বটেই, বাপের বাড়িতেও চোরের মতো থাকতে হয়। বিশেষ করে যদি আর্জি নিয়ে আসতে হয়, যদি বাপের ঘরেও এসে সাহায্যের জন্য হাত পাততে হয়।
শৈলেনবাবুকে দিয়ে খবর পাঠিয়ে ভাসুর আর জায়েদের আসতে বলা হয়েছিল। ভাসুররা এলেন না, ছেলে পিলে নিয়ে জায়েরা এল। শাশুড়ির ঘরেই মজলিস বসলো। বড়দিদি এবার আসল কথাটা ভাঙলেন। তাঁর ছোট মেয়ের বিয়ের ঠিক হয়েছে অঘ্রানে। পাত্রপক্ষ নগদ তিনশ টাকা পন চেয়েছে। সঙ্গে সংসারের সমস্ত সামগ্রী আর বারো ভরি সোনা লাগবে। ছেলেরা বোনের জন্য কষ্টে সৃষ্টে নগদের জোগাড় করলেও সোনা আর দানসামগ্রি জোগাড় করে উঠতে পারছে না। মেয়েটা শুধু কালো নয়, একটু খুঁড়িয়েও হাঁটে। কোন ছোটবেলায় হুটোপাটি করে খেলতে গিয়ে পায়ে চোট পেয়েছিল; কোবরেজি চিকিৎসায় তা সারেনি। লম্বা দোহারা গড়ন, মুখশ্রী সুন্দর, কাজে-কম্মে দড়, সেলাই-ফোঁড়াই ভালো জানে; তবুও শরীরে বড় বড় দুটো খুঁত। অল্প খরচে কি আর সে মেয়ে পাড় হয়! নানা জায়গায় দরদাম করতে করতে মেয়ের বয়স পনেরো পূর্ণ হতে চললো। পাত্র যদিও কুলীন ব্রাহ্মণ পরিবারের নয়, তবুও… এখন ভাইরা যদি একটু সাহায্য না করে, তাহলে এ সম্বন্ধ ভেঙে মেয়ে নিয়ে বড়দিকে গলায় দড়ি দিতে হয়।
শাশুড়ী চিঁচিঁ করে বললেন, তাঁর যত গয়না ছিল সবই মেয়েদের বিয়ে আর বেটার বউদের আশীর্বাদ করতে শেষ হয়ে গেছে। তিনি আর কিছু দিতে পারবেন না। শ্বশুরমশাইয়ের এক সেট সোনার বোতাম আছে, সেটাই দিতে পারেন। আমার দুই জা অনেক দরাদরির পর এক জোড়া কানের ঝুমকো আর ছেলের আংটি দিতে রাজি হলো। এসব পরিবেশে আমার থাকা অস্বস্তিকর, তাই উঠে চলে যাচ্ছিলাম। বড়দি পেছন ডাকলেন, “তুমি কিছু দেবে না, সেজবউ?”

দিন হারিয়ে যায়, কিন্তু কথা থেকে যায় অমর হয়ে। বিশেষ করে অপশব্দগুলো নিজেদের কুৎসিত রূপ নিয়ে মনের মধ্যে অনেকটা জায়গা জুড়ে থেকে যায়। সুখের কথা আর তেমন করে মনে পড়ে কই! খুব আদর করে বড়দি আমায় নিজের মেয়ের বিয়েতে নিয়ে গিয়েছিলেন। যদিও এর পেছনে কৃতজ্ঞতা বোধ ছিল, তবুও এটুকুও যে সংসারের কাছে পেতে পারি, তা ভাবনায় ছিল না।
ক্রমশ



