পরের দিন এরকুল লাঞ্চে এলেন একটু দেরি করেই। ঘুম যদিও ভেঙেছিল সকাল সকালই। সকালে ব্রেকফাস্টের পরে লন্ডনের একটি মামলার নথি নিয়ে বসেছিলেন। সেটা নাড়াচাড়া করতেই সকালটা কেটে গেল। মঁসিয়ে বুঁ র সাথে ট্রেনে সকালের দিকে আর দেখা হয়নি। ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেসের ডাইনিং কোচে ঢুকতেই হাতের ইশারায় মঁসিয়ে বুঁ এরকুলকে ডেকে নিলেন, যেন তাঁর জন্যই অপেক্ষা করছিলেন।
ট্রেনের খানাপিনার ব্যবস্থা বেশ চমৎকার। দুজনে তাড়িয়ে তাড়িয়ে সেই খাবার উপভোগ করতে লাগলেন। ইতিমধ্যে ট্রেন ছুটে চলেছে তুরস্কের পথ ছাড়িয়ে বলকানের পথে। ট্রেনের জানলা দিয়ে দৃশ্যমান প্রকৃতি অত্যন্ত মনোরম। সেদিকে তাকিয়ে মঁসিয়ে বুঁর মধ্যে একটা দার্শনিক ভাব এসে হাজির হলো।
বুঁ — (জানলা দিয়ে হাত বাড়িয়ে) আহা, দেখছেন কি অপূর্ব দৃশ্য! যদি বালজাকের মতো আমার কলমের জোর থাকত, তবে এই দৃশ্যকে কাব্যে বাঁধিয়ে রাখতাম।
এরকুল পয়োরোর এই ধরনের লোকেদের সম্বন্ধে অভিজ্ঞতা যথেষ্ট। পেটে ভালোমন্দ পড়লে, বিশেষ করে দু-পাত্তর চড়লে এরকম একটা কবি-কবি ভাব আসে।
এরকুল — (নিরাসক্তভাবে) হুঁ। বাঁধিয়ে রাখার মতোই দৃশ্য বটে।

বুঁ — (বলেই চলেছেন) আর এই যে ধরুন ট্রেন, আমরা তার ক্ষণিকের অতিথি মাত্র, দু-দিন বৈ তো নয়। কত বিভিন্ন ধরনের মানুষ দেখুন — বিভিন্ন বয়সের, বিভিন্ন জাতির, বিভিন্ন শ্রেণির, একে অপরের হয়তো একেবারেই অপরিচিত, কিন্তু আগামী তিনদিন এরা একই ছাদের তলায় থাকবেন, খাবেন, কাটাবেন — একেই হয়তো বলে বিবিধের মাঝে মিলন। এরপর তারা গন্তব্যে পৌঁছে ব্যস্ত হয়ে পড়বে যে যার জগতে, যে যার মতো করে।
এরকুল — (ঠাট্টার সুরে) কিন্তু মশাই, ট্রেন যদি কোনো দুর্ঘটনায় পড়ে, ফাঁসবে সকলেই।
বুঁ — (কপট রাগ দেখিয়ে) থামুন তো মশাই। এমন একটা পরিবেশে, এই সময় এসব অলক্ষুণে কথা কি না বললেই নয়?
এরকুল — না, ব্যাপারটা তা নয়। আপনার কথাতেই বলি, সত্যিই এই ট্রেন একটি চলমান পান্থশালা, জাতি-দেশ সবকিছুতেই এত ভিন্নতা, কিন্তু একটাই সবার ক্ষেত্রে নিত্য, তা হলো মৃত্যু। হঠাৎ মাথায় এই চিন্তাটাই এলো।
বুঁ — বুঝেছি, এইসব খুন-রাহাজানি ঘেঁটে ঘেঁটে আপনার মাথাটা গেছে। আপনার আরও একটু কড়া ড্রিংকসের প্রয়োজন। তবে হজমের গোলমালে বায়ুপিত্তের প্রকোপ বাড়লেও লোকের এই ধরনের চিন্তাভাবনা মাথায় আসে। কাল রাত্রে হজমের কিছু গণ্ডগোল হল নাকি?
এরকুল — না, না, কাল রাত্রে নয়, তবে সিরিয়ায় খাওয়াদাওয়াটা তেমন সহ্য হচ্ছিল না।
মঁসিয়ে বুঁ নিজের গ্লাসের সঙ্গে এরকুলের গ্লাসেও খানিকটা ওয়াইন ঢেলে দিলেন। হাতে ওয়াইন নিয়ে চেয়ারে হেলান দিয়ে এরকুল তাঁর ফেবারিট হবি যাত্রীজরিপে মনোযোগী হলেন।
এরকুল — মঁসিয়ে, আপনি ঠিকই বলেছেন, ভিন্ন ভিন্ন দেশের মানুষের কি বিচিত্র সমাবেশ! দেখুন, আমাদের ঠিক উল্টো দিকে ঐ যে বড়সড় চেহারার, নিঃসন্দেহে ইতালীয়, লাঞ্চ শেষ করে টুথপিক দিয়ে দাঁত খোঁচাচ্ছেন। পাশেরটা ইংরেজ, ভাবলেশহীন মুখ, কোনো ফার্স্ট ক্লাস যাত্রীর ব্যক্তিগত চাকর বোধহয়। ঐ টেবিলের তিন নম্বরটা আমেরিকান, সাজপোশাকে পাকা সেলসম্যান।
বুঁ — বাকিগুলো সম্পর্কে বলতে পারব না, তবে তিন নম্বরটা সম্বন্ধে মনে হয় আপনার আন্দাজই সঠিক। তবে লোকগুলো একে অপরের অপরিচিতই, দেখছেন না, কথাবার্তা চলছে কিন্তু আড্ডার এখনও আড় ভাঙেনি।
এরকুলের চোখ ডাইনিং কোচে ঘুরতে লাগল। চোখ গিয়ে পড়ল একটু দূরে একটা ছোট টেবিলে। নজর আটকে গেল এক মধ্যবয়সি ভদ্রমহিলায়। এত কুৎসিত দেখতে মহিলা সম্ভবত আগে কখনো এরকুলের চোখে পড়েনি, কিন্তু কী অমোঘ আকর্ষণ! বেঁটে, মোটা, মুখের চামড়া বেশ অমসৃণ খসখসে, কিন্তু গোটা শরীর দামি অলংকারে মোড়া। হাতে অগণিত আংটি, পরনের কোট অজস্র মূল্যবান পাথরের সেটিংয়ে ঝলমল করছে। ডাইনিং কোচের একজন অ্যাটেন্ডেন্টের সঙ্গে তার কথোপকথনও কানে এলো। গলার স্বর বেশ চড়া এবং কর্তৃত্বব্যঞ্জক।
মহিলা — এখনই আমার কুপে মিনারেল ওয়াটার এবং একটা অরেঞ্জ জুসের একটা করে বোতল দিয়ে আসবে। আর হ্যাঁ — ডিনারে আমার চিকেনে এক ফোঁটা সস যেন না থাকে — বেকড ফিসের একটা প্রিপারেশনও ডিনারে আমার লাগবে।
অ্যাটেন্ডেন্ট — ঠিক আছে ম্যাডাম, আমি এখনই বোতল দুটো আপনার কুপে পাঠিয়ে দিচ্ছি, আর ডিনার — চিকেন উইদাউট সস অ্যান্ড বেকড ফিস — ওকে, ওকে।
ভদ্রমহিলা টেবিল ছেড়ে উঠে দাঁড়ালেন। এরপর বুঁ ও এরকুলের টেবিলের দিকে এক ঝলক আলগা দৃষ্টিপাত করে ডাইনিং কোচ ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন।
বুঁ — (ফিসফিস করে) চিনতে পারলেন কি? উনিই রাজকুমারী দ্রাগোমিরফ, রাশিয়ান। বলশেভিক বিপ্লবের আগেই ওনার স্বামী ধনসম্পত্তি সব বিদেশে পাচার করে দিতে পেরেছিলেন। অগাধ ধনসম্পদের মালিক এখন, নানান দেশেই যাতায়াত, তবে প্যারিসেই থাকেন বেশি।
এরকুল — (মাথা নেড়ে) নাম শুনেছি, তবে আগে কখনো দেখিনি।
বুঁ — রূপ না থাকলে কী হবে, ব্যক্তিত্ব দেখেছেন, নজরে পড়বেই।
এরকুল — সেটাই ভাবছিলাম, এই ব্যক্তিত্ব ইগ্নোর করা অসম্ভব।
এর পর নজরে এলো একটা বড় টেবিল। সেটায় মেরি ডেবেনহ্যাম অন্য দুজন মহিলার সঙ্গে শেয়ার করেছেন। দুজনেই মধ্যবয়সি — প্রথম জন শান্তশিষ্ট, সাদাসিদে এবং চুপচাপ, অন্য জন বকবক করেই চলেছেন। ভাব-ভঙ্গি-পোশাক-আশাকে বোঝা যায় বকবক করা মহিলা এক সময়ে ডাকসাইটে সুন্দরী ছিলেন। বকবকানির স্রোত মূলত মেরি এবং চুপচাপ ভদ্রমহিলার উপর দিয়েই যাচ্ছে, কিছু কিছু পয়োরোদের টেবিল পর্যন্তও এসে পৌঁছচ্ছে।
ভদ্রমহিলা — আমার মেয়ে বলে, আমেরিকার ব্যবস্থা যতই ভালো হোক, তা সব জায়গাতেই সমানভাবে চলবে, এমনটা নাও হতে পারে। ওদেরই যেমন অন্য কয়েকজন ফ্যাকাল্টি আছে, তারাও ভালোই করছে। আমার মেয়ে পরিষ্কার বক্তব্য —
এই সময়ই ট্রেনটি একটি টানেলের মধ্যে ঢোকে, ভদ্রমহিলার গলার স্বর আর শোনা গেল না।
একটু দূরে মেরিদের টেবিলের পিছনেই এক ছোট টেবিল দখল করে আছেন কর্নেল, এক দৃষ্টিতে মেরি দিকেই তাকিয়ে।
এরকুল — (স্বগতোক্তি করে) যা: বাবা, একসঙ্গে বসলেই তো পারে। কী জানি, এই খেলার হয়তো এটাই নিয়ম, মাঝেমধ্যে ছেড়ে খেলতে হয়।
একেবারে কোণের একটি টেবিলে মধ্যবয়সি একাকি এক সাদাসিধে মহিলা, সম্ভবত জার্মান, কারুর ব্যক্তিগত চাকরানি হবে হয়তো, ভাবলেশহীন মুখে বসে আছে।
অন্য কোণের টেবিলটা দখল করেছে এক কপোত-কপোতী। মুখোমুখি বসা, কিন্তু ডিনারের থেকে মাথা নিচু করে গুঞ্জরণেই বেশি ব্যস্ত। ইংলিশ পোশাক-আশাক থাকলেও পিছন থেকে ছোকরাকে ঠিক ব্রিটিশ বলে মনে হচ্ছে না, দেহের গঠনে মধ্য ইউরোপিয়ান ছাপ স্পষ্ট। মেয়েটি কিন্তু অসামান্য রূপবতী। ড্রেস সেন্সও খুবই উঁচু মানের। চোখ-মুখ ও অঙ্গভঙ্গিমায় চৌষট্টি কলার ছলছল।
এরকুল — এদের জন্যই এই ধরনের ট্রেনযাত্রাগুলো এখনও তেমন ক্লিশে হয়ে যায়নি। তবে দুজনকে মানিয়েছে খাসা, বোধহয় নববিবাহিত।
বুঁ — আরে, এ সবও আপনার নজরে পড়ে দেখছি। ঠিকই ধরেছেন, নিউলি ম্যারেড — হাঙ্গেরিয়ান দূতাবাসের ডিপ্লোম্যাটিক পাসপোর্টধারী।
আর বাকি রইলেন দুজন — একজন পোয়ারোর কুপমেট ম্যাককুইন এবং অন্য জন তার মনিব মিঃ রাশেট। রাশেট পোয়ারোদের দিকেই মুখ করে বসেছিলেন। হাঙ্গেরিয়ান যুগলের পর পোয়ারোদের নজরে এলো রাশেট ও ম্যাককুইন। পোয়ারোর রাশেট বীক্ষণ দেখেই বুঁ-এর গলায় ঠাট্টার সুর বেজে উঠল।
বুঁ — আপনার ঐ নরাধমে নতুন কিছু আর আবিষ্কার করতে পারলেন?
এরকুল — চোখ। চোখ দুটো দেখুন, ভদ্র-সভ্য পোশাকের আস্তরণ ভেদ করে মনের ভাব প্রকাশ করে ফেলছে, ঐ নিষ্ঠুর চাহনি কখনো ভালো হতে পারে না।
ইতিমধ্যে আর এক প্রস্থ কফি এসে হাজির হল। মঁসিয়ে বুঁ আগে লাঞ্চে এসেছিলেন, মূলত সঙ্ দেবার জন্য এতক্ষণ বসেছিলেন। পোয়ারো কফি নিলেন, টেবিল ছেড়ে উঠলেন।
বুঁ — ওহ্, অনেকক্ষণ হল, আমি নিজের কুপে যাচ্ছি, আড্ডার ইচ্ছে থাকলে আসতে পারেন।
এরকুল — ঠিক আছে, আপনি চলুন, আমি কিছুক্ষণের মধ্যেই আসছি।
প্রায় সকলেরই লাঞ্চ শেষ হয়ে গিয়েছিল। বেয়ারাকে বিল কালেকশনের বাক্স নিয়ে টেবিলে টেবিলে ঘুরতে দেখা গেল। এই সময় সেই আমেরিকান মহিলার বকবকানির পারদ এক ধাপ চড়ল।
মহিলা — আমার মেয়ে বলে কী জান তো, টিকিটের সঙ্গেই ফুডের ব্যাপারটা থাকা উচিত, তা নয় আবার আলাদা করে দাম দাও — যত্তোসব ঝামেলা! শুধু খাবারের দাম দিলেই হবে না, টিপস্-টাও মজুত রাখতে হবে, নইলে জল চেয়ে মরে গেলেও পাবে না।
শান্ত মহিলা — তাও যদি জলটাও ঠিকঠাক দিত। সবই মনে হচ্ছে লোকাল জিনিস।
আমেরিকান মহিলা — শুধু কি জল, খাবারেরও ছিরিছাঁদ দেখ, কী যে চ্যাট্টি রাবিশ নামিয়ে গেল, মুখে দেওয়া দায়। আমার মেয়ে বলে —
এই সময় দেখা গেল মেরিকে উঠে দাঁড়াতে। অল্প ঝুঁকে বাকিদের থেকে বিদায় নিয়ে রওনা দিল। আর্বাথনটকে দেখা গেল মেরির পিছু পিছু ডাইনিং কোচ ছাড়তে।
কালেকশন বাক্সে টাকা জমা করে আমেরিকান মহিলা এর পর কোচ ছেড়ে গেলেন, সঙ্গে অন্য মহিলাও।
ক্রমে ডাইনিং কোচ ফাঁকা হয়ে গেল, শুধু রইলেন মিঃ রাশেট ও তার ব্যক্তিগত সহকারী ম্যাককুইন।
মিঃ রাশেট ম্যাককুইনকে কিছুটা নির্দেশ দিলেন, ম্যাককুইন উঠে দাঁড়ালেন এবং কোচ ছেড়ে বেরিয়েও গেলেন।
মিঃ রাশেটকেও টেবিল ছাড়তে দেখা গেল, কিন্তু কোচ না ছেড়ে এরকুলের টেবিলে উল্টো দিকের বুঁ-এর ছেড়ে যাওয়া চেয়ারটা দখল করলেন।
রাশেট — এক্সকিউজ মি, আপনার লাইটারটা একটু পেতে পারি? আমি রাশেট।
এরকুল পকেট থেকে একটা ম্যাচবক্স বের করে রাশেটের হাতে দিলেন। ধূমপানের থেকে কথা বলাতেই রাশেটের বেশি আগ্রহ লক্ষ্য করা গেল।

রাশেট — খুব যদি ভুল না করি, আমি সম্ভবত মিঃ এরকুল পয়োরোর সঙ্গে কথা বলছি।
এরকুল — (চোখের ভ্রূ অল্প কুঁচকে আবার সোজা করে) হ্যাঁ, আমার ব্যাপারে আপনি সঠিক তথ্যই পেয়েছেন।
রাশেট — দেখুন, আমরা আমেরিকান সরাসরি কাজের কথা আসতেই বেশি পছন্দ করি। আমি আপনাকে একটা কেসে দায়িত্ব দিতে চাই।
এরকুল — (চোখে-মুখে একটু বিরক্তিভরা আগ্রহ ফুটিয়ে) তাই নাকি? কিন্তু আমার হাতে এখন সময় এত কম যে, সব কেস নিতেও পারি না।
রাশেট — সেটাই স্বাভাবিক, আপনার মতো মানুষরা তো ব্যস্ত থাকবেনই, কিন্তু এই অ্যাসাইনমেন্টে আমি বড় অ্যামাউন্ট অফার করতেও রাজি আছি — বেশ বড় অ্যামাউন্ট।
এরকুল — (বেশ খানিক চুপ থেকে) কী ধরনের কেস, একটু খুলে বলুন, শুনি।
রাশেট — দেখুন, মি. পয়োরো, আমি একজন বিজনেস ম্যাগনেট, কোটিপতি। এই ধরনের লোকজনের শত্রু থাকতেই পারে, আমারও একজন জুটেছে।
এরকুল — শুধু একজন?
রাশেট — বুঝলাম না, কী বলতে চাইছেন?
এরকুল — বলছি, আপনার মতো কোটিপতির শুধুমাত্র একজন শত্রু? আমার অভিজ্ঞতা বলে আপনার মতো লোকেদের একাধিক শত্রু থাকাটাই স্বাভাবিক।
রাশেট — (একটু হালকা হলেন মনে হল) ঠিকই ধরেছেন হয়তো, আসলে আমি শত্রু নিয়ে চিন্তিত নই, শত্রু এক বা একাধিক হতেই পারে, আমি চিন্তিত আমার নিরাপত্তা নিয়ে।
এরকুল — নিরাপত্তা?
রাশেট — একদম তাই। দেখুন, আমি নিজের নিরাপত্তা নিতে পারার পক্ষে একেবারে অনুপযুক্ত — এমনটা ভাববেন না, এই দেখুন — (পকেট থেকে একটা স্বয়ংক্রিয় রিভলভার বের করে টেবিলে নামালেন)। কেউ হঠাৎ করে আমায় কিডন্যাপ করে নেবে, তেমন ভয়ও আমি পাচ্ছি না। তবুও হুমকি যখন আছে, সাবধানের তো মার নেই — সেই কারণেই যদি আপনি দায়িত্ব নেন। অ্যামাউন্টটা কোন ব্যাপারই নয়, ওটা আমার উপর ছাড়ুন।
এরকুল — (ভাবলেশহীন মুখ নিয়ে বেশ কিছুক্ষণ রাশেটের দিকে তাকিয়ে থেকে) মিঃ রাশেট, আমি আপনাকে সাহায্য করতে পারছি না, আমি দুঃখিত।
রাশেট — আরে, এসবে টালবাহানার কী আছে? বলুনই না, কেসটা কতয় নেবেন?
এরকুল — আপনি ব্যাপারটা ভুল বুঝছেন, টাকাটা কোন ব্যাপারই নয়। আমি এখন আর সব কেস নিই না। চিন্তাভাবনার খোরাক না থাকলে তো কেস নেওয়ার কোন প্রশ্নই নেই। দেখুন, আমি আমার পেশা নিয়ে যথেষ্ট স্যাটিসফায়েড, তাছাড়া টাকা-পয়সার প্রয়োজনও আমার তেমন নেই। সুতরাং —
রাশেট — ওকে, ওকে, আপনার বার্গেন করার ক্ষমতার প্রশংসা করতেই হয়। দেখুন, সোজাসুজিই বলছি, আমি ২০ হাজার ডলার এই কেসটার জন্য ঢালতে রাজি আছি, এবার রাজি তো?
এরকুল — না, আমি এতেও রাজি নই।
রাশেট — ২০ হাজার ডলার কম হলে তাহলে অ্যামাউন্টটা বলুন, আমি বলছি তো ওটা কোন সমস্যাই নয়।
এরকুল — আমি আসলে বলতে চাইছি —
রাশেট — হ্যাঁ, বলুন, আমি জানতেই চাইছি —
এরকুল — (উঠে দাঁড়ালেন) সত্যটা শুনলে হয়তো দুঃখ পাবেন, কিন্তু যখন শুনতেই চাইছেন, তবে শুনুন। আমি আপনার কেসটা নেব না, কারণ আপনার মুখটা আমার একদমই পছন্দের নয়।
পয়োরো আর কোন কথা না শুনেই দ্রুত ডাইনিং কোচ ছেড়ে বেরিয়ে গেলেন।
ক্রমশ
মার্ডার অন দ্য ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেস-পর্ব ২



