2026

mujjafparpur image

মুজঃফরপুরের দিনগুলো (পর্ব চোদ্দ)

মাঝেমাঝে দিগন্তে একটা ধুলো পাক খেয়ে উড়ে ঘূর্ণির মতো এগিয়ে আসে, আর মুজঃফরপুর থেকে মোতিহারির রাস্তার মাঝখানে কচিকাঁচার দল, কোনো কোনো বৃদ্ধ চোখের ওপর হাতের আড়াল করে ওই ঘূর্ণি দেখতে থাকে। বৃদ্ধরা বলাবলি করে এরপর ভয়ঙ্কর শুখা মরসুম আসতে চলেছে। এ নাকি তারই পূর্বলক্ষণ।

আমি ওই ঘূর্ণি মাঠের ওপর খুব কাছ থেকে দেখেছি। শুকনো বাতাস ধুলো উড়িয়ে উঠে যায় ওপরে। বাতাসের ঘূর্ণিতে উড়তে থাকে ঘাস পাতা, আর মনে হতে থাকে এক অতিকায় লাট্টু পাক খেতে খেতে এগিয়ে চলেছে।

ওই পথের মাঝখানে এক চায়ের দোকান। বিড়ি, সিগেরেট, খৈনি ইত্যাদি পাওয়া যায়। আমি গিয়ে বাঁশের বাতার বেঞ্চের ওপর বসলে খাতির করে গুড়ের চা এগিয়ে দেয়। মন্দ লাগে না।

কথায় কথায় জেনেছিলাম চায়ের দোকানির নাম রামবাবু রায়। এদিকে রায় মানে গোয়ালা। এরা বলে “আহির।” একটা বিখ্যাত রাগের নাম “আহির ভৈরব।” ভোর তিনটের রাগ। যতদূর জানি গোয়ালারা দুধ দুইতে দুইতে এই সুর গুনগুন করত, সেখান থেকেই এই রাগের উৎপত্তি। ওস্তাদ আলি আকবর খাঁ সাহেবের আহির ভৈরব শুনে বেগম আখতার বলেছিলেন “উসে শুননেকে বাদ সাত রোজ মেরে আঁখোকা পানি বন্ধ নহি হুয়াথা।”

মুজঃফরপুরের দিনগুলো (পর্ব চোদ্দ) Read Post »

গদ্য, ব্যক্তিগত গদ্য
dwando antardwando2

দ্বন্দ্ব -অন্তর্দ্বন্দ্ব – পর্ব ১০

গা গুলানো আধময়লা অন্ধকারের ভিতর দিয়ে ধীরে গতিতে সুবিধাবাদ এগিয়ে এল।
ভ্রুভঙ্গে বিদ্রূপের ছোঁয়া, টানা চোখদুটোর বড় বড় আঁখি পল্লবে জেগে আছে স্বার্থপরতার তীব্র নিক্ষেপ। সুবিধাবাদ দেখতে বড় সুন্দর। সুবিধাবাদ দেখতে বড় কুৎসিত। তবু তার মোহে আচ্ছন্ন হয়ে পড়লো গোটা প্ল্যাটফর্ম। ঈষৎ রাগের উগড়ে ফেলা অক্ষর সংখ্যার সামনে নিশ্চুপ হয়ে দাঁড়ালো। তার ঈষৎ কুঁজো অবয়ব, তার ধবধবে সাদা পোশাক ,তার ধারালো নিস্তব্ধ
নিষ্করুণ মুখ কৃত্রিম মেধাকে চঞ্চল করে তুললো।
কৃত্রিম মেধা মুখ শনাক্ত করা শুরু করলো
ম্যাচিং…
ত্রুটি…
ডেটা বিকৃতি…
পরিচয় নিশ্চিত করা যাচ্ছে না…

দ্বন্দ্ব -অন্তর্দ্বন্দ্ব – পর্ব ১০ Read Post »

নাট্যগল্পের অন্তর্চলন, নাট্যসাহিত্য
poramatir gram parbo ek

পোড়ামাটির গ্রাম – প্রথম পর্ব

[পোড়ামাটির মন্দিরের গায়ে শত শত বছর ধরে স্থির হয়ে থাকা নারী, পুরুষ, দেবতা, যোদ্ধা ও অজানা শরীর। কিন্তু সত্যিই কি তারা স্থির? বাংলার শিল্পের দীর্ঘ ইতিহাসের ভিতর দিয়ে এক সময় থেকে অন্য সময়ে যাতায়াত করতে করতে পোড়ামাটির গ্রাম খুঁজে ফেরে কয়েকটি মানুষের জীবন, আকাঙ্ক্ষা ও রহস্যময় যোগসূত্র। প্রাচীন শিল্পীর আঙুলে তৈরি এক নারীমূর্তি, বহু পরে অন্য এক শিল্পীর সামনে এসে দাঁড়ানো এক নারী, এবং বর্তমানের এক মানুষ—যে ক্রমশ আবিষ্কার করে, ইতিহাস কখনও শেষ হয়ে যায় না। পাল-সেন যুগ থেকে ঔপনিবেশিক বাংলা, টেরাকোটার মন্দির থেকে আধুনিক শিল্পের নিঃসঙ্গ স্টুডিয়ো—সময় এখানে সরলরেখায় চলে না। একই মুখ, একই শরীর, একই অসমাপ্ত আকাঙ্ক্ষা কি বারবার ফিরে আসে? নাকি বাংলার মাটি তার শিল্পের ভিতরে গোপন করে রাখে মানুষের এমন এক ইতিহাস, যা কোনও রাজবংশের ইতিহাসে লেখা হয়নি? পোড়ামাটির গ্রাম শিল্প, শরীর, প্রেম, স্মৃতি ও সময়ের ভিতর দিয়ে হারিয়ে যাওয়া এক রহস্যের অনুসন্ধান।]

পোড়ামাটির গ্রাম – প্রথম পর্ব Read Post »

কাহিনি, ধারাবাহিক উপন্যাস
murder on the orient express15

মার্ডার অন দ্য ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেস – ​পর্ব-১৫

পাসপোর্টগুলো নাড়াচড়া করতে করতেই এরকুল পোয়ারো ডেকে পাঠালেন কাউন্ট এবং কাউন্টেস আন্দ্রেনীকে। কাউন্ট কিন্তু একাই এলেন। চেহারা ও বেশভূষায় এক্কেবারে ইংরেজ। ছফুটের মতো হাইট, চওড়া কাঁধ।
​প্রারম্ভিক পারস্পরিক অভিবাদন বিনিময় শেষ হলো।
​কাউন্ট: বলুন, আপনাদের জন্য কী করতে পারি?
​এরকুল: আপনি শুনেছেন হয়তো গতকাল রাত্রে এই ট্রেনে একটা ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড ঘটে গেছে। রেল কর্তৃপক্ষের তরফে সেই হত্যাকাণ্ডের তদন্তের দায়িত্ব আমাকে দেওয়া হয়েছে। সেই কারণেই—
​কাউন্ট: নিশ্চয়ই, তদন্ত তো করতেই হবে। কী নৃশংস হত্যা! তবে আমরা বোধ হয় তেমন কোনো সাহায্যই করতে পারব না। গতকাল রাত্রে আমি ও আমার স্ত্রী একটু তাড়াতাড়িই ঘুমিয়ে পড়েছিলাম।
​এরকুল: আপনি কি নিহত ব্যক্তিটির আসল পরিচয় জানেন?
​কাউন্ট: (কোণের টেবিলের দিকে আঙুল বাড়িয়ে) গতকাল লাঞ্চের সময় ওই কোণের টেবিলে যে আমেরিকান ভদ্রলোক বসেছিলেন, তিনিই কি?
​এরকুল: হ্যাঁ হ্যাঁ, ঠিকই ধরেছেন, তিনিই গত রাতে খুন হয়েছেন। ওনার নামটা কি আপনি জানেন?

মার্ডার অন দ্য ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেস – ​পর্ব-১৫ Read Post »

অনুবাদ, ধারাবাহিক উপন্যাস
paap16

পাপ – পর্ব ১৬

এমন সময়ে যদি দৌড়ে পালিয়ে যাওয়া যায় তাহলে যেন সব দিক রক্ষা করা যায়। কিন্তু আমার পা দুটো যেন পাথরের মতো ভারী হয়ে গেল । দরজাটা সশব্দে খুলে গেল, রুক্ষ গলায় শৈলেন বাবু ধমকে উঠলেন, “কী হয়েছে টা কী?”

প্রায় অস্ফুটে উচ্চারণ করলাম, “মা পড়ে গিয়ে কেমন যেন করছেন। এদিকে কঙ্কাকে কোথাও দেখতে পাচ্ছি না।”

প্রত্যুত্তরে যে বিজাতীয় শব্দ গুলো তাঁর ঝাঁজালো কটু গন্ধ যুক্ত মুখ থেকে বের হয়েছিল সে গুলো আমার চেনা না হলেও বুঝেছিলাম ভদ্র সভ্য কিছু নয়। কিন্তু সেসব আমার উদ্যেশ্যে না নিজের মায়ের উদ্যেশ্যে বর্ষণ হলো কে জানে। মাথা নিচু করে ফিরে আসার সময় দেখলাম এলোমেলো করে কোন রকমে থানটা গায়ে জড়িয়ে ওঁকে প্রায় ঠেলে কঙ্কা বের হয়ে এল। ও ওই অবস্থায় শাশুড়ির ঘরে ঢুকতেই আমি আঙ্গুল তুলে বললাম, “ওঁকে ছোঁয়ার আগে চান করে এসো।”

পাপ – পর্ব ১৬ Read Post »

কাহিনি, ধারাবাহিক উপন্যাস
mujjaffarpur 13

মুজঃফরপুরের দিনগুলো (পর্ব তেরো)

কাল রাতে ওই রহস্যময় গাছটার কাছে গেছিলাম। বিরাট, মহীরুহ বলাই ভালো। আগের পর্বে ওই গাছটার কথা কিছুটা বলেছি।

বন জঙ্গল ভেঙে যেতে হলো, হাতে একটা সদ্য কেনা টর্চ, এদিকে এখন মনসার চেলা চামুণ্ডারা কিছু হলেই ফোঁস করে উঠছেন, কাজেই পদভারে মেদিনী প্রকম্পিত করে চলাফেরা করতে হয়। প্রায়ই ঘনঘোর বৃষ্টিতে সব ভিজে আছে, ঘাস বেড়ে উঠেছে, এদিকে ওদিকে নানান ঝোপঝাড়, বনের গন্ধ।

মুজঃফরপুরের দিনগুলো (পর্ব তেরো) Read Post »

গদ্য, ব্যক্তিগত গদ্য
Scroll to Top