রুদালী
তুমি বলো কষ্ট খুঁজে দেখতে, আমি দেখি।
কিন্তু আমার চোখের জলে দু’কলম লেখার বেশি কিছু হয় না।
ওদের পেটে ভাত জোটে না, যুদ্ধের আগুন নেভে না, রোগ শরীর ছেড়ে যায় না, মৃত্যু পথ ভোলে না কোনোদিন।
ওদের কাছে গিয়ে দাঁড়ালে প্রথমে আমার হাতের দিকে চায়
তারপর ওদের চোখ নিঃশব্দে জিজ্ঞেস করে—
“ভালুক খেলা দেখতে এসেছিস?”
আমি মাথা নিচু করি।
ওরাই তখন সান্ত্বনা দেয়—
“মন খারাপ করিস না, পরের বার এলে সঙ্গে দুটো রুটি আনিস।”
তারপর আবার আবর্জনার স্তূপে নেমে পড়ে জীবনের হারানো টুকরো খুঁজতে।
আমি দাঁড়িয়ে থাকি, আমার সমস্ত শব্দ, সমস্ত কান্না, সমস্ত কবিতা নিয়ে।
কারণ ওদের শোকে, রুদালী ভাড়া করার বিলাসিতা নেই।
কেন শেখালে?
মৃত্যুর কাছে হেঁটে গেছি,
তুমি হাত বাড়িয়ে ফিরিয়ে এনেছ।
তারপর তুমি ফিরে গেছ,
আমি জন্মের অধিকারের দায় বয়ে বেড়াই।
বারবার ঠিক ভেবে যা করেছি,
সময় তাকে মিথ্যা করে গেছে।
শুধু তোমার করা ঠিকটুকুকে
আজও মিথ্যা করতে পারি না।
তাই মাঝে মাঝে প্রশ্ন জাগে—
কেন শেখালে জীবনকে ভালোবাসতে,
মৃত্যুর সুখটুকু পরখ করে দেখার ইচ্ছাতো আমারও ছিল …
***””
তোমার শহরে যখন বৃষ্টি নেমেছিল
তোমার শহরে যখন বৃষ্টি নেমেছিল,
আমার শহরে তখন শুধু মেঘ।
ঝরবে বলে এসেও
নিঃশব্দে ফিরে গেল।
আমি ডেকে বললাম—
“এভাবে না ঝরেই চলে যাচ্ছ যে?”
সে মৃদু হেসে বলল—
“ভেবেছিলাম,
কোনো সাজানো বাগানের ওপর
রিমঝিম সুর হয়ে নামব।
এখানে তো মরুভূমির তৃষ্ণা—
এ তেষ্টা মেটানোর সাধ্য নেই আমার।
আমি শহুরে বাবুর মেঘ,
ক্ষণিকের উল্লাস বিলিয়ে দিতেই আমার অভ্যাস।
তোমার মতো অভিমানে পোড়া জমিকে
ভিজিয়ে দেওয়ার মতো গভীরতা
পাব কোথায়?”




তিনটে কবিতায় খুব সুন্দর।
খুব সুন্দর লেখা। কবির মন “ওদের” জন্য ভাবে এটাই তো ওদের প্রাপ্তি। ওরা অবশ্য তা জানতেও পারে না। কবিতার বাস মেঘলোকে। ওদের বাসা রোজ ভেঙে টুকরো হয়ে যায়। তবুও কবি একটু ভাবলেন। ওরা সার্থক হলো।
খুব সুন্দর লেখা। কবির মন “ওদের” জন্য ভাবে এটাই তো ওদের প্রাপ্তি। ওরা অবশ্য তা জানতেও পারে না। কবিতার বাস মেঘলোকে। ওদের বাসা রোজ ভেঙে টুকরো হয়ে যায়। তবুও কবি একটু ভাবলেন। ওরা সার্থক হলো।
থ্যাঙ্ক ইউ
তিনটে তিন ধরণের কবিতা। তবে প্রথম ও তৃতীয় টা বেশি ভালো লাগে গভীরতার জন্য।