আবর্ত
মনে কি পড়ে আজও?
অসম্পূর্ণ কথার কোলাজ আর
সুস্পষ্ট যৌন ইঙ্গিতের মাঝে
দ্যাখো!
পেন্ডুলামের মতো ঝুলে আছে
আমাদের সেইসব ভাঙাচোরা দিন
মুখচোরা হারানো বিকেল
এই জনসমুদ্রের ভিড়ে হাঁটতে-হাঁটতে,
রাত্রি দুটো বেজে তিন-মিনিটে সুইগি করতে-করতে,
ক্যাব বুকিং করতে-করতে,
কেউ পড়বে না জেনেও কবিতা লিখতে-লিখতে,
আমি শুধু তোমাকেই পেতে চেয়েছিলাম…
আমাদের কথা
আপনি বলুন প্লিজ,
আমাদের ব্যাপারে কি ভাবছেন আপনি?
বিগত দেড়-ঘন্টা ধরে আপনি
কোল্ড-কফি নিয়ে বসে আছেন।
ম্যাকবুকের স্ক্রিন থেকে একবার চোখ সরিয়ে দেখুন,
আমাদের বুকে কত অজস্র ক্ষতের পাহাড়, আর-
মিটিং-মিছিল-প্রতিবাদের জমানো ফাইল!
জীবন বাবু! আপনি প্লিজ বলুন,
আর কতযুগ রাস্তার ধারে পড়ে থাকা
পুরোনো হোর্ডিংয়ের মতো
বাতিল জীবন কাটাতে হবে আমাদের!
ইওর টাইম স্টার্টস নাউ…
ঘরোয়া কবিতা পাঠের আসর
”-আসুন, বসুন, আপনি আমন্ত্রিত!”
ইতস্তত পায়ে এগিয়ে বসি।
”-কুড়ি জন কবি,
প্রত্যেকে তিন মিনিট করে কবিতা পাঠ করবেন।
যাবার আগে কফি খেয়ে যাবেন!”
প্রতি কবিতার শেষে ”সাধু! সাধু!” বলে ওঠেন
কয়েকজন সুন্দরী আর পুরু গোঁফওয়ালা লোক!
এসব কিছুই চাইনি আমি।
এক ঘরোয়া কবিতা পাঠের আসর থেকে
অন্য কবিতা পাঠের আসরে
চেনা-অচেনা মুখ আর মুখোশের ভিড়ে
আজও আমি তোমাকেই খুঁজে বেড়াই…
ডিসেম্বরের শহরে
ডিসেম্বরের শহরে
লিরিক হারিয়ে ফেলে জীবন,
কিংবা ফেলে না।
ডিসেম্বরের শহরে
মেক-আপ-আর্টিস্ট রীতিমা দত্তের প্লে-লিস্ট জুড়ে
‘মেট্রো ইন দিনো’ কিংবা পাতাঝরার শব্দ!
ডিসেম্বরের শহরে
আপনার কবেকার রেঁস্তোরা বিলাস
কিংবা চুম্বন সন্ধ্যা!
ডিসেম্বরের শহরে
আপনি একজন, ভালো মানুষ
কিংবা ঢ্যামনা কবি!
খসড়া
বহুকাল হলো দাঁড়িয়ে আছি
দাঁড়িয়ে আছি কলেজ গেটে
মেঘ কুয়াশায় অচল জীবন-
তোমায় পেলেই যাবে কেটে
আজও ভাবছি আসবে ফিরে
আসবে ফিরে ফুচকা বিকেল
তোমায় নিয়ে কবিতা লিখি-
সকলেই পাশ! আমিই ফেল?
জিততে গিয়ে হেরে গেছি
হেরে গেছি নিজের কাছেই
জড়ানো ঘুমে খসড়া লিখি-
ফ্লাইট আছে কাল সকালেই…




রাজেশ চট্টোপাধ্যায়ের গুচ্ছ কবিতা অসাধারণ লাগল। কবির আরো গুচ্ছ কবিতা পড়ার ইচ্ছা থাকল।
রাজেশ চ্যাটার্জী এর কবিতা বেশ লাগলো
❤️❤️❤️
কবিতাগুলো আমার বেশ অন্যরকম লাগলো। এরকম আরও পড়তে চাই আগামীদিনে।