কাঞ্জিভরম
চাঁদ ও জানে না চাঁদের আলোয় কার ঘরে কে জন্ম নিচ্ছে… কোথাও জন্ম নিচ্ছে মুক্তি কোথাও বন্ধন।
বাসনা সকলই অস্ফুট শব্দের মত। ধ্বনি খেই হারিয়ে ফেলে রেখে গেছে শুধুই প্রতিধ্বনি। নীল কাঞ্জিভরমে লজ্জারুণ আড়ষ্ট মেয়েটি বসে আছে অচেনা অজানা কতগুলো প্রখর দৃষ্টির সামনে।
যাকে সব দিতে পারত তাকে আর বলা হলো না…
বললে কি নিজে আজ হতো সে ঈশ্বরসম? জানা হল না…
সেদিন ছিল বৃষ্টিভেজা বিকেল,অপেক্ষা ছিল দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর। বেণীতে জুঁই মালা আর নীল কাঞ্জিভরমের সম্মোহনে ভেবেছিল আরাধ্য বাঁধা পড়বে সারা জীবনের মত। যা হবার নয় তা হয়না…
আজ শুধু সে দেখতে পাচ্ছে কাঞ্জিভরমের নীল রঙ বিষধর সাপের মতন তার শরীর পেঁচিয়ে ধরেছে, শরীর ও নীল, শীতল, স্থাণুবৎ… যা হবার তাই হবে
সবুজ ধনেখালি
কী মায়া জীবনে
যতদিন বাঁচবে আষ্টেপৃষ্টে
জড়িয়ে থাকবে সব স্মৃতি।
ওই তো একখানা ধনেখালি
সবুজ রঙা লাল পেড়ে!
কিন্তু ওর মধ্যে মায়ের গন্ধ।
তেল হলুদ কালো জিরে কাঁচা লঙ্কা দিয়ে সকালে মাছের ঝোল
বাবার অফিস যাওয়ার তাড়া
সাদা ফুলস্লিভ শার্ট স্টিল ব্যান্ড এর হাতঘড়ি
গরম সাদা ভাতে মাছের ঝোল
আঁচলে মুখটা মুছে ফ্যানটা বাড়িয়ে দিলো মা
এত নরম শাড়ি!
মায়ের একটুও কষ্ট হচ্ছে না
টকটকে লাল ব্লাউজে কি চমৎকার দেখাচ্ছে আমাদের সুন্দরী মাকে
এখন ন্যাপথালিনের মধ্যে থেকে থেকে দম বন্ধ হয়ে আসছে… জায়গায় জায়গায় পেজে গেছে
অপরে সপরে চোখাচোখি হয়
এত যে সবুজ লাগিয়েছি বাড়ির চারধারে, সমস্তই থরে থরে ব্যথার ব্যাকরণ
অপেক্ষা সব আজ মৃত
কোন ভোরের ট্রেন তোমার
দিকে যায় বলো তো মা ?
লাল বেনারসী
অন্ধ আত্মসমর্পণের মানে
আগুন জানে
টুকটুকে লাল বেনারসী
নিশানায় বিষমাখা তির
যেমন রঙ, তেমনি কাজ
বোঝেনি ভাজা ভাজে এত
লোকের গুনগুন জটলা
কূটনীতি কৌতূক ভাজে ভাজে নিঃসাড়ে পোকার চলাচল
দোকানি বলেনি সে কথা… তুমি যত ভার দিয়েছো সকলি
লাল বেনারসী
না বুঝে উঠে পরা এক
বিপজ্জনক সাঁকো
সুচারু আল্পনামন্ডিত অপমানের ভিজে বাতাস
কান্না গেলা রাতে গলার ফাঁস
টুকটুকে রক্তরঙা আধপোড়া বেনারসীতে
এত আগুন ঝরেছে
গোপন কথাটি রবেনা গোপনে…



