পাথর জন্ম
উত্তরে পাহাড়ি-হাওয়ায় দোলে— তেলরংয়ে আঁকা তোমাদের-বাড়ি…। কঞ্চির—
বেড়াঘেরা। সীমান্তের গ্রাম। খাপরা-টালিতে ছাওয়া এককামরা ঘর… গোবরে
নিকোনো উঠোন; নামমাত্র ভাই থাকে সেনাছাউনিতে… দুগ্গা-লাল টকটকে শাড়ি
কে পরে বাড়িতে! মা’র বিবাহের তাঁত— এতদিনে তোমার জিম্মায়; কাল কোনো
স্পেশাল-ডে, ছিল বুঝি— তাই অত লালরং দুলছে উঠোন-দাঁড়ে খুশির হাওয়ায়…
কে যে কবে, উত্তরের-পাহাড় হয়ে যান…। —হে দেবি, মন্ত্রে বলা নেই
জন্মহাত
জীর্ণ মোকামে পড়ে, দুবলা হাতখানি; এইখানে লুকিয়ে আছে কর্ণের জন্মজরুল।
আমাদের শীত আসে— গ্রীষ্ম যায় ; দুবলা-পাতলা ওই মায়া পড়ে থাকে জন্মভিটেয়;
পালস্ খুঁজে পেতে দুর্দিনে ছুঁয়ে ফেলি— হারানো সুরের-রিড : বৃন্দগান বেজে ওঠে
জন্মতিথির, বিয়ের আনন্দনাড়ু…
সামান্য একটা হাইফেন হয়ে বসে থাকে ওই হাত— আমাদের, গ্রীষ্ম ও শীতে…
সাইলেন্ট কিলার
ধড়ে প্রাণ নেই। ঘরে ভাত সেই— দু’মুঠো খুদের কণা। নেই গোছা
গোছা কাশের দোলন; কুশের দঙ্গল… আর বৃদ্ধ ছাতিম— চারহাত দূরেও
কেউ দেয় না সঙ্গত্। ‘অসংগত কেন হবে…’ যদি থাকত নদীভরা জল
আর নৌকাটিও ‘— সত্যি কেউ পাশে বসত ঘন হয়ে বেশ…!’ যেমন অশ্বত্থ-বটের
দল… থাকে। পাতার বাতাস দেয় রগচটা-পাশটিতে বসে…; পাখি দেয় কুহুতান
মৌমাছির গুঞ্জন…
জ্ঞানশূন্য দিগ্ বিদিক— বহুতল বহুতল… ক্লাসরুম— ছাত্র নেই নেই।…
ছাঁটাই : ডাক্তার, উদয়নপন্ডিত— অসংখ্য-অগণন…
ছটপরব’২৫
কয়েকটা কুচি-আলোয় নেচে উঠেছে তোমাদের কুঁড়েঘর… ওই তো! কেউ বা
সূর্যাস্ত দ্রষ্টব্য ভেবে তাকিয়ে আছে অপলক : গোধূলিরঙের স্বপ্নের দেশটিকে…
ইঞ্চিকয় সেলাই-জীবন : গোটা-কলারকাঁদি, এবারও কেনা হল না তোমার
‘পাপা’-র; হাত পুড়ে গেল নারকেলেও… ভাই-বোনে মিলে, কলিচুনে রাঙিয়েছ
তবু— কালো রাত্রি-দেয়াল… এসো শব্দ নিশিভোর। আরও দু-ইঞ্চি বেশি মুড়তে
গিয়ে মনে হচ্ছে— ঠেকুয়া বিস্বাদ হয়ে যাবে, অগণিত সুরজ-এর মুখে…
কাঠের রেডিয়ো
চায়ের লিকার থেকে সুগন্ধি ধোঁয়ায় ভেসে যায় মানিনী নূপুর… কাঠের মারফি
রেডিয়ো বেজে চলে। দৃকপাতহীন কবিগুরু ; অভিসারের গানে তাঁর, পায়ের
পাসুলী বেঁধে নেমেছেন রাধিকা…। পথ অভিমান হয়ে পড়ে আছে; পা পিছলে…
এনে দেয় : ‘কি কহব রে সখি আজুক আনন্দ ওর’। …কবেকার বোষ্টমি রেডিয়ো
গেয়ে যায় : ‘চিরদিনে মাধব মন্দিরে মোর’।



