অর্ঘ্যকমল পাত্রের তিনটি কবিতা

fragmented face2

ডুব

শরীরি বাঁক মেনে তোমার পিছু করি
ঠোঁটের চাহিদায় মৃত্যু বাজি ধরি
স্তনের কালো তিল চকিতে কাছে ডাকে
আমার পুরুষালী যেভাবে কাদা মাখে
সেভাবে তোমাকেই ধরেছি মুঠো করে
আমার লালারস —রাগের সাথে ভরে
দিয়েছি তোমাকেই তোমার প্রাপ্যটি
কুশল শীৎকারে শরীরে অতিধীর
প্রবেশ মাখামাখি; নিয়ত পৃথিবীর
যেটুকু সুর আছে, যেটুকু গম্ভীর
ছি্ড়েছি কামড়েই! মুঠোয় বাদ্যেরা
ছন্দে বেজে ওঠে এমন প্রেমে ঘেরা
উঠানে এসো আজ, এসো হে বধুঁ, মোর
তপ্ত রৌদ্রে মায়াবী ও কোমর,
আমার করে দাও সমর্পণে মিশে,
আদিম ব্যথা থেকে অশ্রু-মন পিষে,
তুমিও তেজি বাঘ চাবুক পিঠে নাও,
আমার দুঃখকে মুক্ত করে দাও।

ঘোষণা

কোথায় পালাবে আমার কবিতা ছেড়ে?
কোথায় বসবে—কার ডাল ভেঙে দেব?
এতটা সাহস, এতটা বিরুদ্ধতা—
সঠিক সময়ে সবের হিসেব নেব।

সবের হিসেব গুমোট রাগের কাছে
স্থিতির ভাঙন ;উদ্ধত পুরুষালি
সঠিক সময়ে জোয়ার তুলতে জানে
সাগরের ঢেউ ঘেঁটে দেবে কূলে বালি!

ঘেঁটে দেবে বাধা, ঘেঁটে দেব খড়কুটো
আমার কবিতা তোমাকে জড়িয়ে থাকে
অমরতা তুমি আমার হাতেই পাবে
রাগী লাল চোখ ঘুমেও তোমাকে ডাকে

কোথায় পালাবে আমার কবিতা ছেড়ে?
তোমাকে গাঁথব আমার অস্ত্র দিয়ে
তোমার পিঠেতে লিখে যাব স্বরলিপি

সারাটা জীবন লিখব
তোমাকে নিয়েই।

নদীমাতৃক

জলে ডুবে মারা গেছে যারা
আর যারা মরেছে ডুবজলে

প্রবল দু:খের মাঝে
এই দুই পদ্ধতি থেকে
কিছুটা পৃথক হতে চাই

আমার ক্ষয়েরা দু’কুল ছাপিয়ে যদি
মৃত্যুকে অনাবিল দিয়ে ফেলে ডাক

আমি চাই, কূলের মানুষ
প্লাবন শেষের পরে
সেই মাটি সহজেই শস্যে ভরাক


Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top