আমাদের কথা…

আমাদের কথা

শেষপর্যন্ত একটি অনাবশ্যক খেরোর খাতা আবশ্যকতা প্রাপ্ত হলো। প্রশ্ন করুন আবার কেন? প্রতিটি নতুন পত্রিকার পাতায় সহস্র প্রশ্ন থাকুক। কেন এলেন? এই ধরাধামে সাহিত্যের নামে অনাবশ্যক অবান্তর কিছু কথাবার্তার কি এতই অভাব ছিল? আমরা দলগত অপচেষ্টার মুখগুলিতে মৃদু উত্তর খুঁজতে খুঁজতে অস্বস্তি বিনিময় করব। এই অস্বস্তি আমাদের কারণ। এই অস্বস্তি আমাদের নতুন পত্রিকা। এর কোনো সুস্থিত অবস্থা নেই। অস্থির প্রচেষ্টার আবর্ত যা ক্রমাগত সুস্থির হতে চাওয়ার ভঙ্গিমায় এগোবে। সহস্র প্রশ্ন। কেন? উত্তর নেই। উত্তরের স্পৃহাটিই আমাদের আবর্ত।
ভেবে দেখা গেল আমাদের কথা বলার ভাষা যদি আমাদের কথা না বলে তাহলে আমাদের বলার কিছু থাকে না। অপরের কথাও আমরা তখনই অর্থবহ করে তুলি যখন তা আমাদের কথা বলে। সুতরাং অপরের ক্ষুদ্রতম উচ্চারণটিও মূলত আমিকেন্দ্রিকতা। কথা বলার মুহূর্তে যদি এই ভাবনায় পৌঁছন যায় যে বাক্যের আদি একক অথবা মৌলিক অস্তিত্ব আমিতে কেন্দ্রিভূত তবে সে বাক্যের উপস্থাপনা গুরুত্ব পায়। আমরা এ যাবৎকাল আধ্যাত্মচেতনায় এবং একাত্মবোধের অনুভবে যে বৃহৎ আমির সন্ধান পেয়েছি তা সকলের উপজীব্য নয়। আমি যে বৃহৎ এর অণু পরিমাণ অংশ তাকে এই পার্থিব অস্তিত্বে অনুধাবন করা সহজ নয়। পরিবর্তে যা কিছু অপর, যা কিছু আমার অংশ নয় তার সঙ্গেও যদি আমিকে যুক্ত করি তবে সেকথা আমার কাছে আরও স্পষ্ট হয়। এই মর্মে প্রকাশিত হয় আবর্ত পত্রিকার পাতা। এখানে প্রতিটি লেখকের উপস্থাপনার মধ্যে থেকে ওই ‘আমি’টিকে উদ্ধৃত করার প্রয়াস বাস্তবায়িত হয়েছে। পৃথিবী ঘটনাবহুল এবং সমাজ, জীবনের ক্রম রূপান্তরের কারক। এই ক্রম-রূপান্তরের গ্রাহক আমরা। তাই আমাদের যাবতীয় ক্রিয়াপদ লেখকের জীবনের অভিমুখে। লেখক যা ভাবছেন, লেখক যা করছেন এবং লেখক যে পথে চলছেন সেই পথের সজ্জাবিন্যাস আমাদের কর্তব্য। নির্মাণের বহুমুখী যাতায়াতের পথে কোথাও না কোথাও রয়েছে আপনার অবস্থান, আমার দৃষ্টিভঙ্গিমা। অনুসরণ ছাড়াই আমাদের এই সহাবস্থান। এই সহাবস্থানেই আপনি লেখক এবং আমি আপনার ব্যক্তিগত কলম। আপনি লিখে চলেছেন আমাকেই। আমিও পড়ে চলেছি আপনাকে। আপনি বদল করছেন আমার পথ চলার মানচিত্র আমি আন্দোলিত করছি আপনার হৃদয়ঘটিত বিভ্রাট। এই চলাচলের মধ্যেই উজ্জীবিত হচ্ছে প্রেম ও সম্প্রীতিসঙ্গীত, এর মধ্যেই সংজ্ঞায়িত হচ্ছে গণতান্ত্রিক সংহতি। এই রুটম্যাপের মধ্যেই বিস্তৃত রয়েছে খুন জখম অনৈতিক ব্যবচ্ছেদ এবং প্রতিবাদ। এর মধ্যেই ধ্বনিত আমাদের হাসি কান্না রাগ এবং বিবিধ প্রতিক্রিয়ার নবরস। এই সহাবস্থানের বহুমুখী চলাচলের মধ্যেই আমাদের রাজনীতি। যে কোনো মুহূর্তে আমার জীবনভঙ্গিমা বদল করে দিতে পারেন আপনি। আমিও সূক্ষ্মচালে ব্যহত করতে পারি রক্তচলাচল। আপনার হৃদ-যন্ত্রের লাব-ডুবে বিদ্যুৎ সঞ্চালন করতে পারি আমি। অতএব আমার এবং আপনার সম্মিলিত এই দুরাচার থেকে ইহজগতের মুক্তি নাই। আমাদের কাটাছেঁড়া চলবে। চলবে আমাদের এইসব বকোয়াস। নন্দিত হবে সমালোচনা। নিন্দাই সুলভ। সুলভ সমাগমের নিন্দাই আমাদের পরবর্তী প্রচেষ্টা।


10 thoughts on “আমাদের কথা…”

    1. নিখিল কুমার চক্রবর্তী

      সম্পাদকীয় খুব সুন্দর হয়েছে। বক্তব্য পরিষ্কার।

  1. সৌম্য রায়

    পড়লাম। আবার পড়তে হবে।
    কারন, অনেকটাই বুঝলাম না।

  2. Satabdi Chakraborty

    নিন্দাই সুলভ তবুও তো কাজের দায়িত্ব নিতেই হবে নতুন কিছু তুলে আনার জন্য। খুব ভালো লাগলো সম্পাদকীয়। নতুন নতুন বিষয়ে পড়তে পারব। আবর্ত মানুষের হৃদয়ে ঢেউ তুলুক। অনেক অনেক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন রইল। শুভ হোক পথ চলা।

  3. পৃথা চট্টোপাধ্যায়

    ভালো লাগলো সম্পাদকীয়। স্বাগত আবর্ত।

  4. কে বলে সহজ কথা যায় না বলা সহজে! ভাণভনিতাহীন সহজিয়া সম্পাদকীয়টি খুব পছন্দ হয়েছে। আবর্তের জন্য হার্দিক শুভকামনা। শুভ হোক, মঙ্গল হোক।

  5. মননশীল চিন্তাধারার ফসল এই সম্পাদকীয়। আজকের নবজাতক একদিন প্রাপ্তবয়স্ক হয়ে উঠবে। উঠবেই।

  6. Pijush Kanti Bala

    আবর্তের বাতাস লাগুক প্রাণে, মরমিয়া সুর তুলুক নতুন ছন্দে। অবচেতন হয়ে আছে যত সব ঘুমন্ত চেতনা, সিক্ত হবে নিশ্চয় নব নব কলমের আঁচড়ে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top