মার্ডার অন দ্য ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেস

murder on the orient express19

এরকুল: (পরের পাসপোর্ট হাতে নিয়ে) দেখা যাক। ধৈর্য আমাদের ধরতেই হবে। এবার মিস ডেবেনহ্যামের পালা।
​মেরি ডেবেনহ্যাম ডাইনিং কোচে প্রবেশ করলেন। এক কথায় সুন্দরী, কিন্তু হাবভাব ও পোশাকে উগ্রতা নেই। ব্যক্তিত্বশালিনী। এরকুল ও মঁসিয়ে বুঁ উলটোদিকের চেয়ারে বসলেন। প্রাথমিক সম্ভাষণের পালা শেষ হলো।
​এরকুল: আপনি মেরি হারমিয়ন ডেবেনহ্যাম, বয়স ছাব্বিশ?
ডেবেনহ্যাম: (সম্মতিসূচক ঘাড় নেড়ে) হ্যাঁ।
এরকুল: ব্রিটিশ?
ডেবেনহ্যাম: হ্যাঁ।
এরকুল: দয়া করে যদি এই কাগজটায় আপনার নাম-ঠিকানাটা একটু লিখে দেন।
​ডেবেনহ্যাম কাগজ টেনে নিয়ে লিখলেন, হাতের লেখাও বেশ চমৎকার।
​এরকুল: সবাইকেই জিজ্ঞাসা করছি, সেই কারণেই আপনাকে—গতকাল রাত্রে ডিনারের পর কোথায় কোথায় ছিলেন এবং কী কী করছিলেন, সে সম্পর্কে যদি বলেন?
ডেবেনহ্যাম: তেমন কিছুই নয়। ডিনার শেষ করে নিজের কামরায় ফিরে যাই এবং শুয়ে পড়ি।
এরকুল: আচ্ছা ম্যাডাম, আপনি যে ট্রেনে ট্রাভেল করছেন, সেই ট্রেনে গতকাল রাত্রে একটা খুন হয়ে গেল। ব্যাপারটা বেশ ভয়ের না?
ডেবেনহ্যাম: (একটু থমকে গিয়ে) আপনার প্রশ্নটা ভালো বুঝলাম না।
এরকুল: আমি বলতে চাইছি, ট্রেনে এমন একটা ভয়ংকর খুনের ঘটনায় আপনি কি কোনওরকম নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন?
ডেবেনহ্যাম: না না, এই দিক থেকে ব্যাপারটা আমি ভাবিইনি। তবে এটুকু বলতে পারি, আমি তেমন নিরাপত্তার অভাব বোধ করছি না।
এরকুল: খুনের মতো একটা ব্যাপার, সেটাও আপনার কাছে অস্বাভাবিক তেমন কিছু মনে হচ্ছে না?
ডেবেনহ্যাম: না না, ব্যাপারটা খুবই সাংঘাতিক ও বীভৎস।
এরকুল: আপনি দেখছি এক্কেবারে পাক্কা ইংরেজ, অযথা আবেগে ভেসে যান না।
ডেবেনহ্যাম: (একটু হেসে) না না, তেমনটা নয়। তবে কোনও ব্যাপার নিয়েই হইচই করে পাড়া মাথায় করাটা আমার ঠিক পোষায় না। আর তাছাড়া কথাতেই আছে, জন্মিলে মরিতে হবে—
এরকুল: স্বাভাবিক মৃত্যু আর খুন দুটো তো আর এক হতে পারে না।
ডেবেনহ্যাম: হ্যাঁ হ্যাঁ, সে অবশ্য বটেই।
এরকুল: এই ভদ্রলোক কি কোনওভাবে আপনার পূর্বপরিচিত?
ডেবেনহ্যাম: না না, এক্কেবারেই নয়। ওনাকে আমি প্রথম দেখি গতকাল ডিনারে।
এরকুল: কেমন মনে হয়েছিল?
ডেবেনহ্যাম: সত্যি কথা বলতে কি, আমি ওনাকে ভালোভাবে লক্ষই করিনি।
এরকুল: লোকটিকে কোনওভাবে আপনার বদলোক বলে মনে হয়েছিল?
ডেবেনহ্যাম: (কাঁধ ঝাঁকিয়ে) তেমন কিছু ভেবেছিলাম বলে তো মনে পড়ছে না।
এরকুল: (ডেবেনহ্যামের দিকে স্থিরদৃষ্টিতে তাকিয়ে) আমার তদন্ত পদ্ধতি সম্ভবত আপনার মনঃপূত হচ্ছে না। সেটাই স্বাভাবিক। কোনও ব্রিটিশ গোয়েন্দা যদি আপনার সাক্ষ্য নিতেন, তিনি হয়তো ঘটনা বা সেই সংক্রান্ত তথ্যের বাইরে বেরোতেন না, কিন্তু আমার পদ্ধতি একটু ভিন্ন। আমি প্রথমে সাক্ষীর চারদিকের বৈশিষ্ট্যের দিকে নজর করি এবং সেইমতো জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করি। এই দেখুন না, আপনার ঠিক আগেই যে ভদ্রলোক বসেছিলেন, কথা শুরু করলে থামতেই চান না। সুযোগ পেলেই এই খুন কি পৃথিবীর সব ঘটনা সম্পর্কেই নিজের মতামত জাহির করতে চান। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় খুনের বিষয়ে তাঁর মতামত জানতেই প্রাণান্তকর অবস্থা হয়ে গিয়েছিল, এত অবান্তর সব বকবক করছিলেন যে, কী আর বলব! আপনি দেখছি ঠিক উলটোটা। গোছানো বিষয়ের বাইরে বেরোতেই চান না, তাও খুবই সংক্ষেপে। সেই জন্যই আপনার জন্য ভিন্ন পদ্ধতি নিয়েছি। ব্যাপারটা আপনার পক্ষে কি অস্বস্তিকর হচ্ছে?
ডেবেনহ্যাম: যদি অপরাধ না নেন, একটা কথা বলতে পারি। অসম্ভব নয়, তবে মনে হচ্ছে এতে অযথা সময় নষ্ট হচ্ছে। খুন হওয়া ভদ্রলোককে আমি পছন্দ করতাম না, ঘৃণা করতাম—তার সঙ্গে খুনি ধরা পড়ার সম্পর্কটা আমার ঠিক বোধগম্য হচ্ছে না।
এরকুল: মি. র‍্যাশেটের আসল পরিচয় কি আপনি জেনেছেন?
ডেবেনহ্যাম: মিসেস হুবার্ডের কল্যাণে সেটা আর কারও জানতে বাকি আছে বলে তো মনে হয় না।
এরকুল: আর্মস্ট্রং ফ্যামিলির ওই ট্র্যাজেডিটা আপনি কীভাবে দেখেন?
ডেবেনহ্যাম: সে কি আর বলার অপেক্ষা রাখে না, নিঃসন্দেহে অত্যন্ত জঘন্য ও ঘৃণ্য ঘটনা।
এরকুল: (একটু চিন্তিত স্বরে) আপনি বোধহয় বাগদাদ থেকে ফিরছেন।
ডেবেনহ্যাম: হ্যাঁ।
এরকুল: বাগদাদে আপনি কী ধরনের কাজ করতেন?
ডেবেনহ্যাম: দুটি বাচ্চার দেখাশোনার ভার ছিল আমার ওপর, গভর্নেসের কাজ করতাম।
এরকুল: ছুটি শেষ হলে কি আবার বাগদাদ ফিরবেন?
ডেবেনহ্যাম: সেটা এখনও ঠিক করিনি।
এরকুল: কারণটা জানতে পারি কি?
ডেবেনহ্যাম: দেখুন, বাগদাদ আমার স্বদেশ নয়। লন্ডনে যদি তেমন উপযুক্ত কোনও কাজ পেয়ে যাই, স্বাভাবিক কারণেই বাগদাদে ফেরার সম্ভাবনা নেই।
এরকুল: খুব শীঘ্রই বোধহয় আপনার বিয়ে, তাই না?
ডেবেনহ্যাম: (চোখ তুলে) ব্যাপারটা একটু অনধিকারচর্চা হয়ে যাচ্ছে না?
এরকুল: (প্রসঙ্গ পরিবর্তন করে) আপনার সহযাত্রী সুইস ভদ্রমহিলাটি কেমন?
ডেবেনহ্যাম: সরল সাদাসিধে।
এরকুল: ওনার ড্রেসিং গাউনের রংটা কী? আপনার কি মনে আছে?
ডেবেনহ্যাম: (অবাক হয়ে তাকিয়ে) ড্রেসিং গাউনের রং? বাদামি উলের।
এরকুল: আর আপনারটা যত দূর মনে করতে পারছি, হালকা মভ কালারের। তাই না? আলেপ্পো থেকে ইস্তাম্বুল আসার পথে সম্ভবত লক্ষ করেছিলাম।
ডেবেনহ্যাম: হ্যাঁ। ঠিক তাই।
এরকুল: আচ্ছা, আপনার কি আর অন্য কোনও কালারের ড্রেসিং গাউন আছে? এই যেমন ধরুন, গাঢ় লাল বা অন্য কিছু?
ডেবেনহ্যাম: না না, ওটা আমার নয়।
এরকুল: (ইঁদুর কলে পড়ছে এমন ভাব নিয়ে) তাহলে ওটা কার?
ডেবেনহ্যাম: আমি জানি না। আপনি এইভাবেই বা জানতে চাইছেন কেন?
এরকুল: দেখুন ম্যাডাম, আমার প্রশ্নের স্বাভাবিক উত্তর ছিল যে ওই রঙের ড্রেসিং গাউন আমার নেই, তা না বলে আপনি বললেন, ‘আমার নয়’—তার মানে আপনি এই রঙের ড্রেসিং গাউন পরা কাউকে দেখেছেন এবং যদি সত্যি কথা না বলেন, ধরে নেব তাকে আড়ালও করতে চাইছেন।
ডেবেনহ্যাম: (ভেঙে পড়ে) হ্যাঁ, ওই রঙের ড্রেসিং গাউন পরা একজনকে আমি এই কোচে দেখেছি।
এরকুল: কাকে?
ডেবেনহ্যাম: বলছি বলছি। আমি সঠিক চিনতে পারিনি। ভোর পাঁচটা নাগাদ আমার ঘুম ভাঙার পর দেখলাম ট্রেন দাঁড়িয়ে আছে, ভাবলাম হয়তো কোনও স্টেশনে এসে দাঁড়িয়েছে। দরজা খুলে মুখ বাড়াতেই দেখলাম একজন গাঢ় লাল ড্রেসিং গাউন পরে করিডর ধরে হেঁটে যাচ্ছে।
এরকুল: আপনি কি চিনতে পারলেন সে কে? লম্বা না বেঁটে, বাদামি না হোয়াইট?
ডেবেনহ্যাম: না না, চেনার প্রশ্নই নেই। পিছন দিক থেকে দেখলাম, মাথায় তার একটা টুপি, আর—
এরকুল: চেহারার গঠন?
ডেবেনহ্যাম: বেশ লম্বা এবং স্লিম। কিমোনোটায় ড্রাগনের এমব্রয়ডারি করা ছিল।
এরকুল: সেই ড্রাগনের এমব্রয়ডারি করা কিমোনো! (স্বগতোক্তি করে) কিছুই বুঝতে পারছি না। কেমন যেন সব গোলমেলে ঠেকছে। কিছু একটা আছেই—(ডেবেনহ্যামের দিকে তাকিয়ে) ওকে ম্যাম, আপনাকে আর আটকে রাখার কোনও মানে হয় না। আপনি এখন আসতে পারেন।
ডেবেনহ্যাম: (একটু দ্রুতই সিট ছেড়ে দরজার দিকে চলে যেতে গিয়ে থমকালেন) দরজা থেকে ফিরে—ওই সুইডিশ ভদ্রমহিলা কিন্তু প্রচণ্ড ভয় পেয়েছেন। যেহেতু উনিই সর্বশেষ জীবিত অবস্থায় র‍্যাশেটকে দেখেন, তাই হয়তো আপনারা ওঁকে সন্দেহ করছেন, এই ভয়েই বেচারি একেবারে ভেঙে পড়েছেন। কিন্তু বিশ্বাস করুন, আমি যত দূর দেখেছি মানুষ মারা তো দূরে থাক, একটা মাছি মারারও মনের জোর ওনার নেই।
এরকুল: মিসেস হুবার্ডের থেকে উনি কখন অ্যাসপিরিন আনতে যান?
ডেবেনহ্যাম: এই ধরুন সাড়ে দশটা।
এরকুল: কতক্ষণের জন্য উনি কামরার বাইরে ছিলেন?
ডেবেনহ্যাম: মিনিট পাঁচেকের বেশি কিছুতেই নয়।
এরকুল: রাত্রে কি আর উনি কামরার বাইরে গেছিলেন?
ডেবেনহ্যাম: না না, এক্কেবারেই না।
এরকুল: (ডাক্তারের দিকে ফিরে) মি. র‍্যাশেটের হত্যা কি এত আগে, অর্থাৎ সাড়ে দশটার আশপাশে হওয়া সম্ভব? আপনার রিপোর্ট কী বলছে?
ডাঃ কনস্ট্যান্টাইন: না না, এত আগে সম্ভবত উনি খুন হননি।
এরকুল: সবই তো শুনলেন। আপনি বরং ওঁকে গিয়ে একটু ভরসা দিন। ওনার চিন্তার তেমন কোনও কারণ নেই।
ডেবেনহ্যাম: অনেক ধন্যবাদ। সাদাসিধে ভদ্রমহিলা, আবার বেশ ভীতুও। এতটা ভেঙে পড়েছেন, তাই আপনাদের জানালাম। (ধীরে ধীরে বেরিয়ে গেলেন)
​মিস ডেবেনহ্যাম বেরিয়ে যেতেই মঁসিয়ে বুঁ তড়বড়িয়ে উঠলেন।
​বুঁ: আপনি ঠিক কী চাইছেন বলুন তো? কিছুই মাথামুণ্ডু বুঝছি না।
এরকুল: ভুল ভুল, কোথাও একটা ভুল হচ্ছে, সেটাই খোঁজার চেষ্টা করছি।
বুঁ: সে তো হচ্ছেই। আপনি সম্ভবত এই ইংরেজ মহিলাটিকে সন্দেহ করছেন। কিছুতেই উনি এমন একটি খুনের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন না। কী ডাক্তার, আপনার কী মত?
ডাঃ কনস্ট্যান্টাইন: আমারও তাই মনে হচ্ছে। ভদ্রমহিলা ঠান্ডা মাথায়, আবেগে ভেসে গিয়ে কিছু একটা ঘটিয়ে ফেলার পাত্রী বলে মনে হলো না। প্রতিহিংসায় খুনখারাপি করে ফেলার থেকে আইন-আদালতের দ্বারস্থ হতেই এ ধরনের মহিলারা বেশি পছন্দ করেন।
এরকুল: ভুলটা হচ্ছে অন্য জায়গায়। আপনাদের দুজনেরই মনে হচ্ছে খুনটা রাগের বশে হঠাৎ করে ঘটে যাওয়া? সেই জন্যই হয়তো আপনারা ওই খুনের সঙ্গে ডেবেনহ্যামের মতো একটি মেয়ের যোগাযোগের কথা ভাবতেও পারছেন না। কিন্তু আমার মনে হচ্ছে হঠাৎ করে ঝোঁকের মাথায় ঘটে যাওয়া এই খুন নয়। এই খুন অত্যন্ত পরিকল্পিত এবং বহুদিন ধরে পরিকল্পিত। তাতে এ ধরনের মহিলার যোগাযোগ থাকাটাই স্বাভাবিক। তাছাড়া আমি সেই টাউরাস থেকে এই ভদ্রমহিলার সঙ্গে আসছি, সঙ্গী ওই ব্রিটিশ কর্নেল। আমি ওদের কিছু কথাবার্তা হঠাৎ করেই আলেপ্পোতে শুনে ফেলি। তখন তার মানে বুঝিনি। এই হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে সেইসব কথার অর্থ নতুন করে আমার কাছে ধরা পড়ছে।
বুঁ: কী শুনেছিলেন? বলা যাবে কি?
এরকুল: ইস্তাম্বুল আসার পথে ট্রেন যখন কোনিয়াতে এসে দাঁড়ায়, হাত-পা ছাড়ানোর জন্য আমি স্টেশনে নামি। একটু দূরে ওই দুজন তখন দাঁড়িয়ে কথা বলছিল। রাত তখন ১১টা হবে। আবার্থনটের কোনও কিছুর প্রস্তাবে আমি ডেবেনহ্যামকে বলতে শুনি, ‘না না লক্ষ্মীটি এখন নয়, আগে ভালোয় ভালোয় সব মিটুক!’ ‘আগে সব ভালোয় ভালোয় মিটুক’ মানে কি এই ক্যাসেটির হত্যাকাণ্ড?
বুঁ: তাহলে তো বলতে হয়, ওই কর্নেলও এর সঙ্গে যুক্ত?
এরকুল: (একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে) তেমনই উঠে আসছে। কিন্তু?
বুঁ: দেখুন, তেমনটা ঘটলে মেরি ডেবেনহ্যামের গতকাল রাতের ডিনারের পরের গতিবিধির সম্পর্কে অ্যালিবাই কর্নেল আবার্থনটের বক্তব্য থেকে উঠে আসা স্বাভাবিক ছিল না? বা উলটোটা, অর্থাৎ কর্নেলের গতিবিধির পক্ষে অ্যালিবাই হিসেবে ডেবেনহ্যামের বক্তব্য, অর্থাৎ একে অপরের হয়ে অ্যালিবাই হয়ে থাকা।
এরকুল: (চিন্তিত হয়ে) তেমনটা সত্যিই ঘটল না। মেরি ডেবেনহ্যাম যে রাত্রে কামরা ছেড়ে নড়েননি, সে ব্যাপারে সুইডিশ মহিলা দেখলাম ১০০ শতাংশ নিশ্চিত। আবার কর্নেল আবার্থনট যে কাল রাত্রে প্রায় দুটো অবধি ম্যাককুইনের সঙ্গে আড্ডায় মেতেছিলেন, সে সম্পর্কে ম্যাককুইন বারে বারে বলছে। ম্যাককুইন আবার কে? না, নিহত ব্যক্তির প্রাইভেট সেক্রেটারি। তাই তো বলছি—মিলছে না, একজনের বক্তব্য অন্যজনের পক্ষে অ্যালিবাই হয়ে দাঁড়াচ্ছে। কিন্তু কেন? কেন? এত সদ্যই বা অপরিচিত, তবুও কেন? সেটাই খুঁজছি।
বুঁ: তবে যা-ই বলুন, আপনি শুধু শুধুই ওই ইংরেজ ভদ্রমহিলাকে সন্দেহ করছেন, উনি এমন কাজ করতেই পারেন না।
এরকুল: আরে না না, আমি ভাবতে চাইছিলাম যে, এই খুন যদি পূর্বপরিকল্পিত হয়ে থাকে, তাতে ডেবেনহ্যামের মতো মেয়ের যুক্ত থাকার সম্ভাবনা কেমন? সেদিক থেকে ভাবতে গেলে আমার মতে এ ধরনের খুনে ওই ধরনের ঠান্ডা মাথার মহিলা অথবা পুরুষের যুক্ত থাকার সম্ভাবনা বেশ বেশিই। সেসব থাক, হ্যাঁ, কে বাকি রইলেন যেন? জার্মান পরিচারিকা মিসেস ইংগ্রিড স্মিথ—তাঁকে এবার ডাকা যেতে পারে।

(ক্রমশ)

আগের পর্বের লিঙ্কঃ murderonorientexpress18


Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top