ছোট্ট জীবন

lonely walk through a misty town

মস্তিষ্ক যতক্ষণ বিকল না হয়, কেউ হারায় না, কিছু হারায় না। থেকে যায় ঠিক কোনো না কোনো প্রকোষ্ঠে— সময়ের ধুলো জমতে থাকা স্মৃতির অ্যালবামে। কোনো এক অবসরে মনে পড়ে। আজ যেমন অনেক বছর পর এমনই এক পড়ন্ত বিকেলে শেষ দেখা হওয়া দীপু মামাকে মনে পড়ল। মনে আছে, সেদিনও বাতাসে ছিল বসন্তের কলতান; আর আকাশে ছিল অনির্বচনীয় এক রক্তিম আভা…

আমি তখন বেশ ছোট। দীপু মামারা ভাড়া এল আমাদের পাড়ায়। মা, বাবা, দিদি এবং দীপু মামা— এই ছিল তাদের ছোট্ট সংসার। দিদি অনেকটা বড়ো ছিল। শুনেছি সৎ দিদি। ভারি লাবণ্যময়ী ছিল দীপু মামার দিদি। ভারি কোমল শ্যামলা মুখ তার। কোমর পর্যন্ত একঢাল ঘন কালো চুল ছিল! সে যখন হেঁটে যেত, এক অদ্ভুত মাধুর্য ছড়িয়ে পড়ত বাতাসে! দীপু মামার প্রতি তার ভালোবাসা ছিল অকল্পনীয়। মায়ের থেকেও গভীর ছিল সেই মমতা। দীপু মামার বয়স তখন কত হবে! পনেরো-ষোলো! মামা ডাকতাম, কেননা ছোটমামার বন্ধু ছিল।

আমার শৈশবে দীপু মামা ছিল এক জীবন্ত ধাঁধা। সে বয়সে সবটা বুঝতে না পারলেও আজ উপলব্ধি করতে পারি— ওর ছোট্ট গড়ন, ছেলেমানুষি আচরণ আর অবিশ্বাস্য সরলতাই এক অদ্ভুত আকর্ষণ তৈরি করেছিল আমার ভিতর। দীপু মামার বয়স বাড়লেও ওর ভিতর এক শিশুসুলভ পবিত্রতা ছিল, যা আমাকে একদিকে যেমন বিস্মিত করত, অন্যদিকে ওর প্রতি এক অজানা স্নেহে ভরিয়ে তুলত আমার মন। ওর হাঁটাচলা, খেলাধুলায় অংশগ্রহণ আর ওর প্রতিদিনের জীবনযাপন— সবই যেন অন্যদের থেকে আলাদা! মনে হত, আমাদের চারপাশের স্বাভাবিকতার মধ্যে ওকে যেন প্রকৃতি ইচ্ছা করেই এমন বানিয়েছে। তখনও বুঝতে পারিনি এই ‘অন্যরকম’ হওয়ার পিছনেই ছিল দীপু মামার জীবনের নিদারুণ টুইস্ট।

সেই প্রথম একটি নতুন শব্দের সাথে পরিচিত হলাম— ‘বামুন’। দীপু মামার এই আলাদা রকম হওয়াটাকে বলে বামুন। অর্থাৎ দীপু মামা বামুন, জানলাম। প্রথম প্রথম চাপা স্বরে এ নিয়ে হাসিঠাট্টা হলেও পরে সে আর সীমায় থাকে নি। ঘরের কোণ থেকে সে স্বর ক্রমে ছড়িয়ে পড়ল পাড়ার মোড় পর্যন্ত। আর সেই চাপা স্বরে শুরু হওয়া কথাগুলো দ্রুত বদলে গেল কটূক্তিতে। হাসি, ঠাট্টা, বিদ্রূপ যেন প্রতিদিনের খেলায় পরিণত হল। দীপু মামার প্রতিটি পদক্ষেপ যেন লোকের চোখে নিত্যনতুন ঠাট্টার বিষয় হয়ে দাঁড়াল। ওর বেঁটে গড়ন, অদ্ভুত হাঁটা আর নিজের মধ্যেই চুপসে থাকা স্বভাবটা হাসির খোরাক হয়ে উঠল দিনকে দিন। শিশুমনে তখন ভাবতাম, দীপু মামা কোনো সাধারণ মানুষ নয়। আজ বুঝতে পারি, সে ছিল এক জীবন্ত কিংবদন্তি, যে প্রতিনিয়ত পৃথিবীর নিষ্ঠুরতার মুখে দাঁড়িয়ে বেঁচে থাকার গল্প শোনাতে চাইছে আমাদের! সবচেয়ে বড় বিস্ময় ওর মন। ও কখনো রাগ করত না, কোনো কষ্টের জন্য কাউকে দোষ দিত না। ওর এই সহনশীলতা আমাকে এক অন্যরকম প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিত— একটা মানুষ এত সহজ, এত নিঃস্বার্থ, এত ভালো কীভাবে হতে পারে? আর মানুষই বা কেমন করে আর একটা মানুষকে এমন খেলার সরঞ্জাম বানিয়ে ফেলতে পারে— সেটা বুঝে উঠতে অবশ্য আমাকে আরও একটু বড়ো হতে হয়েছিল। শত বিদ্রূপেও দেখতাম, দীপু মামার ঠোঁটে হাসি লেগেই থাকত। বড়ো হতে হতে বুঝতে পারছিলাম, সেই হাসির আড়ালে লুকিয়ে থাকত ওর চাপা কান্না। বুঝতে পারছিলাম হাসিটা সত্যি হলেও তার গভীরে ছিল এক অদৃশ্য বেদনার ছায়া। এই দ্বৈততা আজও আমাকে হতবাক করে। কীভাবে কেউ নিজের ভেতরের সমস্ত যন্ত্রণা চেপে রেখে এত সহজভাবে বাঁচতে পারে?

দীপু মামার বাবাকে বড়জোর বার তিন-চার দেখেছি। ভিনরাজ্যে কাজ করতেন। কয়েকমাস পরপর বাড়ি আসতেন। একদিন শুনলাম তিনি ট্রেনে কাটা পড়েছেন। সেই প্রথম জানলাম ট্রেনও মানুষকে কেটে দিতে পারে! অন্ধকার ঘন হয়ে নেমে এল ওদের সংসারে। মনে আছে, কাল-অশৌচের মধ্যেই দীপু মামার দিদির বিয়ে হয়ে গেল। পঁচিশ বছরের দিদিকে নিয়ে গেল বাহান্ন বছরের দোয়াজ বর! আজও দীপু মামার দিদির সেই চলে যাওয়া চোখদুটো, চোখ বন্ধ করলেই দেখতে পাই। তার চোখের কোণে জমে থাকা জল আর ভাইয়ের হাত ছাড়তে না চাওয়ার আকুলতা— পাড়ার সবাইকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল।

দীপু মামা যেন একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেল। এক পাহাড়প্রমাণ শূন্যতা ওকে গ্রাস করল অচিরেই। দিদি ছিল দীপু মামার অদৃশ্য বর্ম; ছিল ওর মা, বন্ধু এবং একমাত্র নিরাপদ আশ্রয়। দিদি চলে যাওয়ার পর পাড়ার লোকেরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠল। একের পর এক অপমান, একের পর এক অশ্রদ্ধা আর দিদির অভাব মিলিয়ে দীপু মামা নিজেই নিজেকে গুটিয়ে নিতে লাগল সবার থেকে। ওর সেই নিষ্পাপ হাসি ক্রমশ হারিয়ে যেতে লাগল নীরবতার অন্ধকারে। এমনকি ওর কথা বলার ইচ্ছেটাও যেন ফুরিয়ে গেল। যে দীপু মামা একসময় সবার মাঝে আলোর মতো জ্বলজ্বল করত, সে ধীরে ধীরে একটা ছায়ায় পরিণত হল— অদৃশ্য, অব্যক্ত, এক শূন্যতায় ঢেকে থাকা ছায়া।

সওয়াল পাপি পেট কা! সে তো ‘খালি’ বসে থেকে তোমাকে শোক করার ইজাজত দেবে না! কাজেই কাজের সন্ধানে নেমে পড়তে হল দীপু মামাকে। প্রথমে পাড়ারই এক কাপড়ের দোকানে কাজে ঢুকল। খেলার জগৎ ছেড়ে কর্মজগৎ— দীপু মামার জীবনের পরিধি বাড়ল জগতের, কিন্তু সে জগতের বিস্তার বাড়ল কই! সে আরও সংকুচিত হয়ে উঠল মানুষের নিত্যনতুন কটাক্ষে— কখনো আচরণের তের্যকতায়, আবার কখনো একেবারে নিস্তব্ধ উপেক্ষায়! ওর ছোট উচ্চতা আর সরলতা যেন সহকর্মীদের জন্য এক নির্মম খেলায় পরিণত হয়েছিল। প্রতিদিনের ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ, ঠান্ডা উপহাস আর দোষারোপের ভারে দীপু মামার মন ক্রমে আরও ধসে পড়ছিল। সহ্যের সমস্ত সীমা পেরিয়ে গেলে একদিন কাজ ছেড়ে বাড়ি ফিরে এল দীপু মামা। কিন্তু সে-ই বা কয়দিন! বসে খাওয়ার সৌভাগ্য তো আর ওর জীবনে ছিল না! জীবনের কঠোর বাস্তবতা ওকে সে অধিকার থেকেও বঞ্চিত করেছিল। তাই আবারও ওকে আর-একটা নতুন কাজে ঢুকতে হল। এবং যথারীতি ঘটনার পুনরাবৃত্তি! এ গল্প যে পরিবর্তন হওয়ার নয়! ফলে একের পর এক কাজ বদল হতে লাগল। কখনও মুদির দোকান, চায়ের স্টল, কখনো-বা ঠেলাগাড়িতে ফল বিক্রি। কোথাও শান্তি পেল না মানুষটা। একটা নতুন কাজের জায়গা যেন আর-একটা নতুন র্যাগিংয়ের মঞ্চ! দিনদিন নিজের উপর থেকে বিশ্বাস উঠে যাচ্ছিল ওর। জীবনের প্রয়োজনে কাজ ধরে রাখার লড়াই আর আত্মসম্মান বজায় রাখার ইচ্ছা— দুই-ই দীপু মামার জীবনে একে অপরের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল। এই ঠাট্টা, এই অবহেলা ওকে বুঝিয়ে দিচ্ছিল, পৃথিবীতে ছোট মানুষ শুধু শরীরে হয় না, সম্মানেও তার ছোট হয়ে থাকাই দস্তুর।

দীপু মামার জীবন যেন মানুষের নিষ্ঠুরতার জ্বলন্ত প্রতিচ্ছবি! আর সেই নিষ্ঠুরতা আরও বড় হয় যখন তা সমষ্টিগত হয়ে ওঠে। একদল মানুষ যখন একজোট হয়ে একজনকে ছোট করতে থাকে, তখন সেই ব্যক্তির সামনে একটাই পথ খোলা থাকে— নিজেকে মুছে ফেলা। মানুষের নিষ্ঠুরতা আসলে এক নীরব ঘাতক। তা কোনো রক্তপাত ছাড়াই হত্যা করে। দীপু মামার আত্মবিশ্বাস এবং বেঁচে থাকার আনন্দকে প্রতিদিন এরা একটু একটু করে কেড়ে নিচ্ছিল। আর দীপু মামা এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় কেবল ছুটে বেড়াচ্ছে— যেন কোথাও একটু আশ্রয় খুঁজছে!

খেলার মাঠে ছোটোছুটি করার বয়স তখন আমি পেরিয়ে এসেছি। কৈশোর এসে থাবা বসিয়েছে জীবনে। আগের মতো আর পাড়ার মোড়ে গিয়ে ছোটমামাদের সঙ্গে গল্প করা বা দীপু মামার সঙ্গে সময় কাটানোর অবসর ছিল না। এরই ভিতর দীপু মামার মা-ও চলে গেলেন। শুনেছি টিবি হয়েছিল। মাঝে মাঝে ইচ্ছা হত দীপু মামার পাশে গিয়ে একটু বসি। হয়ে ওঠেনি আর। প্রত্যেকেরই একটা যুদ্ধ থাকে। আমারও ছিল। এবং তাতে এতটাই মগ্ন হয়ে পড়েছিলাম আমি, দীপু মামা ধীরে ধীরে আমার দৃষ্টি থেকে মিলিয়ে যেতে শুরু করেছিল। এবং একদিন কখন যেন খুব নিঃশব্দে দীপু মামা একেবারেই হারিয়ে গেল আমার জীবন থেকে!

বেশ কিছু বছর চলে গেল এমন, যেন সময়ের আকাশে মেঘের মতো সরে যেতে থাকা এক-একটি যুগ। কত কিছু বদলে গেল! কত কিছু স্ফটিকের মতো পরিষ্কার হয়ে গেল, আবার কত কিছু ধোঁয়াশা হয়ে নিকট অতীতে হারিয়ে গেল। একদিন চা খেতে খেতে গল্প করছি মাসিমণির সাথে। হঠাৎ ছোটমামা এসে বলল,

— এই পুচকি, জানিস গড়িয়ার একটা সার্কাস চলছে। অনিমেষদা বলল ওখানে নাকি দীপুকে দেখেছে!

— কী বলছিস! দীপু মানে আমাদের দীপু মামা?

যেন দীর্ঘ হাইবারনেশন শেষের চমক আমার চোখে।

— হ্যাঁ রে, আমাদের দীপু।

— এখন কি তবে সার্কাসে কাজ করছে?

আমি আর মাসিমণি প্রায় একসাথেই বলে উঠলাম।

— তাই তো মনে হল অনিমেষদার কথায়।

— চল না মামা দেখে আসি! এই মাসিমণি, তুইও চল প্লিজ—

আমি যেন বাঁধভাঙা স্রোতের মতো খলবলিয়ে উঠলাম!

— নারে আমার সময় হবে না। তোরা ঘুরে আয়। আমি বরং কাউকে দিয়ে দুটো টিকিট আনিয়ে দেব।

তাই ঠিক হল। এবং যথারীতি সেই রবিবার আমি আর মাসিমণি গেলাম সার্কাস দেখতে।

প্রবল আগ্রহে অপেক্ষা করতে করতে অবশেষে সার্কাস শুরু হল। সানাইয়ের মতো একটা মিউজিক বাজছে। তারই মধ্যে প্রথমেই এল দড়ির ওপর হাঁটার খেলা। এক তরুণী অসম্ভব স্থিরতার সাথে মাথায় কলসি নিয়ে নির্বিকারভাবে দড়ির ওপর হাঁটতে লাগল; দর্শকেরা মুগ্ধ হয়ে দেখছে তাকে! শিরদাঁড়া কাঁপানো ব্যান্ডের তীব্র শব্দের সাথে পরবর্তী পরিবেশনা ছিল আগুনের গোলার ভিতর ঝাঁপ— প্রবল উল্লাসে এক তরুণ এফোঁড়-ওফোঁড় করে চলেছে আগুন, অবিশ্বাস্য গতিতে আগুনের বৃত্ত পার করে চলেছে সে! সেই উত্তেজনা দর্শকদের মধ্যে ঢেউয়ের মতো ছড়িয়ে পড়ছিল! কিন্তু এত কিছুর মধ্যেও আমাদের চোখ কেবল একজনকেই খুঁজছে। এরপর মঞ্চের আলো খানিক ম্লান হল। বাঘের খেলার প্রস্তুতি চলছে। দর্শকদের উত্তেজনা তুঙ্গে। এই অপেক্ষাকালীন মঞ্চ তো আর ফাঁকা রাখা যাবে না! ঠিক তখনই ঘোষকের কণ্ঠে শোনা গেল, “এবার আমাদের সবচেয়ে কৌতুকপূর্ণ পরিবেশনা, আসছে আমাদের টিম ‘কিউটি পাই’।” মঞ্চে ঢুকে পড়ল একদল ছোট মানুষ, রঙিন পোশাক আর মুখে নানা সব রং মাখা। তারা গড়াগড়ি খেয়ে পড়ছে, অদ্ভুত ভঙ্গিতে হাঁটছে। তাই দেখে দর্শকরা হেসে গড়িয়ে পড়ছে। আমরা উত্তেজিত! আমাদের চোখ খুঁজছে শুধু একটাই মুখ। হঠাৎ সেই হাঁটার ভঙ্গি, মাথা চুলকোনো আর এক পাশ থেকে হাত নেড়ে দর্শকদের সালাম জানানো দেখে আমি মন্ত্রমুগ্ধের মতো বলে উঠলাম—

— ওই তো দীপু মামা!

দীপু মামা ওদের খেলা শেষ হতেই মঞ্চ থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে। আমরাও আর এক মুহূর্তও অপেক্ষা না করে দীপু মামার পিছু নিলাম। তাঁবুর যেদিকে গ্রিনরুম, সেদিকে হেঁটে যাচ্ছিল দীপু মামা।

“দীপু”— মাসিমণি ডেকে উঠতেই দলের মাঝে থাকা ছোটখাটো একজন মানুষ থমকে দাঁড়াল। মাথাটা ঘুরিয়ে চেনা ভঙ্গিতে একবার মাথার পাশে হাত তুলল, ঠিক যেমনটা ছোটবেলায় করত দীপু মামা। আমার চোখে জল চলে এল। এতগুলো বছর পর সেই চেনা ভঙ্গি, সেই চেনা মুখ। হ্যাঁ, এ যে দীপু মামাই! কিন্তু আমাদের অবাক করে দিয়ে তৎক্ষণাৎ না চেনার ভান করল দীপু মামা। মুখে এক অদ্ভুত করুণ হাসি মেখে নানা রকম কসরত দেখিয়ে আমাদের হাসাতে চেষ্টা করতে লাগল— যেন আমরা দর্শক! আমি হতভম্ব হয়ে চিৎকার করে উঠলাম,

“দীপু মামা! আমি! আমি পুচকি! তোমার পুচকি!”

কিন্তু কোনো লাভ হল না। দীপু মামা তাকাল একচিলতে হাসি মুখে। কী অসম্ভব যন্ত্রণাকাতর সেই হাসি, যেন অভিমানে টলটল করছে! পরক্ষণেই মুখ ঘুরিয়ে নিয়ে ধীর পায়ে দলের সাথে হেঁটে গেল তাঁবুর দিকে। আমরা দুজন দাঁড়িয়ে রইলাম পাথরের মূর্তির মতো, যেন সময়ও স্থবির হয়ে গেছে আমাদের সাথে।

তাঁবুর পিছন দিকে সূর্যটা তখন অস্ত যাচ্ছিল। গাঢ় লাঞ্ছনার মতো এক আশ্চর্য লাল রং ছড়িয়ে পড়েছিল গোটা আকাশ জুড়ে! সব হাহাকার, সব অপ্রাপ্তি পেরিয়ে দীপু মামা মিলিয়ে যাচ্ছিল সেই রঙের ভিতর খুব শান্ত লয়ে। দীপু মামার জীবনে হার-জিতের গল্প ছিল একরকম অন্তহীন দ্বন্দ্ব, যা বিচার করার ক্ষমতা আমার ছিল না। শুধু এটুকু বুঝেছিলাম— বাকি জীবনটা দীপু মামা মানুষের থেকে পাওয়া সমস্ত হাসি মানুষকে দ্বিগুণ করে ফিরিয়ে দেবে।


Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top