বহিরাগত
শিরোনাম বদলে যাচ্ছে বোধের স্রোতে—
রক্তের গ্রুপে গ্রুপে, ভাঙাঘরের ঠিকানা।
শিশু উদ্যান থেকে দৈত্যের মিছিলে ধন্যবাদ ওড়ে,
মৃত কাগজের সাদা অংশে ছাপা হয় সংবাদ-শোক।
এদিকে আমরা যারা সর্বহারা, শিকড়বিহীন লোক—
স্বপ্নের চোখ ভেঙে ছিনিয়ে আনি সূর্য
আর অরণ্য ছুঁয়ে কুড়িয়ে নিই
যৎসামান্য পাখির পালক
তারপর উড়ে যেতে দেখি ঘুড়ি।
শিরোনাম তর্ক থেকে তখন, মস্তক ছিন্ন হয়
ফুলে ফুলে ভরে ওঠে সন্তানের বিছানা
দেওয়াল জুড়ে লেগে থাকে ভিন্ন প্রতীক
আর একার্ত রক্তশিশির, অপাঙ্ক্তেয়।
নির্বাণ
ঘুরে দাঁড়াও
দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার আগেই।
নির্বাণে না এলে,
খোলা চুলে, ওড়ে না অনির্বাণ—
বাতাসের ব্রাউজারে হীনমন্যতার চেহারা
অশ্রুজলে সাবান গুলে
ফেনা তোমায় দেখব আজ।
যেমন বলি, আত্ম-নিবারণ কিংবা কবিতা—
একবচনে পায় আর বহুবচনে পায়রা।
হৃৎপিণ্ড-গ্রাম
কত কত হাত, কত কত নৈবেদ্য
স্ক্রল করে চলে যায় নিমেষে।
শেষ বিকেলের আলোয় এসে বসে আছি,
এক থালা শূন্যতা নিয়ে।
চারিদিকে হ্যাশট্যাগ শুধু।
পৃথিবীর যে ক্লান্তি নেই, তা বুঝে গেছি—
তোমার বিছানা বদলে যাওয়া দেখে।
কম্পাসে পেন্সিল গেঁথে সমকোণ এঁকেছি।
বিষাদ বিক্রির গোপন গুহা থেকে, বেরিয়ে এসেছে
ঝলসে যাওয়া মৃত-মাথা, মৃত হাত-পা—
লিংকের এই মিথ্যে সভ্যতায়
ছাই-রং বরফের নীচে,
চাপা পড়ে অবশ হয়ে গেছে কত কত হৃৎপিণ্ড-গ্রাম
এযাবৎ
পথের ভেতর পথ যাচ্ছে বেঁকে
ঘুরতেই দেখি দাঁড়িয়ে কাঁদছে কে
আমি থামি, কান্নার নিঃশব্দ কল্লোলে
যেভাবে কৃষক ফলিত ফসল তোলে
সেভাবেই আমি নরম গাল থেকে
কান্না মুছিয়ে, সাদা রুমাল রেখে—
আবারও হেঁটেছি, শত অব্দের মায়ায়
দেখেছি অজস্র চোখ, কান্নার কামনায়
পথের ওপরই আঁকছে বসে নিঃশর্ত পথ
যদিও রাতের আকাশে কান্না ছাড়া
আমি আর দেখতে পাইনি কিছুই, এযাবৎ।
যাতনা-সংগীত
হাসি দিয়ে ঢেকে রাখা রক্ত-যন্ত্রণা—
হৃদয় নিংড়ে দ্যাখো
আবিস্কৃত ফসল।
তল্লাট জুড়ে যাতনা-সংগীত,
দহন তার সর্বৈব অনসূয়া।
তবু কী হ’ল জানি না আজ
পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে
অস্বচ্ছ ঝড়ের রাতে
দীর্ঘ কবিতার মতো বিরল এক ছায়া
লিখে দিয়ে গেলো
ব্যাকুল নির্বাণে—
গ্রহণই পূরণ, গ্রহণেই ক্ষতি
সামলিয়ে উঠো তুমি তার
আকস্মিক বিকৃত ভার।




অসাধারণ