ঋ ঘটিত
অ
যে মানুষ ঋণ করার পর নুব্জ নয়
তার ছায়া আয়না অস্বীকার করে।
আ
মহাকাশ থেকে খসে পাড়া উল্কাখন্ড
মানুষের কোন ঋণ গ্রহণ করেনা।
ই
আপনি মিথ্যে বলার আগে কার কাছে ঋণ নিয়েছিলেন মহামান্য যুধিষ্ঠীর।
ঈ
লঙ্গরখানা কারও পোশাক কেচে দেওয়ার আগে জেনে নেয় তার কোন ঋণ আছে কিনা।
উ
দেহ পুজার আগে একমাত্র ঋণ না করা মানুষ
নেউল আর কাঠবেড়ালীর সাত কাজে উপস্থিত
থাকতে পারে।
ঊ
লিচ্ছবি বংশের রাজপুত্র তীরে বিষ মেশানোর আগে কত ঋণ করেছিল কোষাগার জানেনা।
এ
দেউলিয়া ব্যাঙ্ক আধিকারিকের বিবি মাটির পাত্রে ঋণ আগুনে সেঁকে নিচ্ছে।
ঐ
যে বর্ণের মাথায় চন্দ্রবিন্দু নেই তারা ইমরটাল
কিনা কে বলে দেবে।
ও
বনবিহারি বাঘের হাসি ধরার জন্য ফাঁদ পেতে সারাজীবন বসে থাকে কার ঋণ শোধ করার জন্য।
ঔ
ঔষধের কোন ঋণ পাদ্রী টুকে রাখে না।
ঋ
লুথফর রহমানের কবচ কুন্ডল কর্ণের কিনা
তা ইতিহাসের অপরিশোধিত অধ্যায়।
৯
বহু ব্যবহারে না ব্যবহৃত ৯লিকারকে ভাষাবিদ খুঁজেও পাচ্ছে না।
ভাষাদিবসের কবিতা
মুগ্ধতা ও মান্যতার ভেতরে যে নদী তার নাম মাতৃভাষা।
বৈদ্ধিক কর্পোরেটের মায়াবী আলো অনুবাদ করতে এসে যে হেসে গড়িয়ে পড়ছে তার নাম মাতৃভাষা।
জলপরী আর ফেরেস্তাদের মধ্যে যে কথা চলে
তা দাদাঠাকুরের প্রাচীন উত্তরীয়।
রমনার প্রান্তর আর লাক্ষাদ্বীপের মধ্যে
যে নক্ষত্রের চলাচল তার দুগ্ধসর থেকে যে উড়াল দেয় তার নাম বাংলা ভাষা।
আমার মুখেভাতে দাদাঠাকুর যে মুখ ঢাকা কলস উপহার দিয়েছিলেন তার মুখ খুলতেই স্বরবর্ণ আর ব্যঞ্জনবর্ণের পাখিরা উড়াল দিলো প্রবাল দ্বীপে।
প্রতিটা দিন এক একটি হরফে মুদ্রিত হন।
তার পুঁথি আগলে বসে থাকেন মা জননী। তৃষ্ণার্ত কোঁচড়ের প্রতি ভাঁজে ভাঁজে
বাংলা হরফের মৃৎকথনে ভরে উঠছে আমার ভোর।
আমি হরফ আমি পুঁথি আমি কাল
আমি মাতৃগর্ভের আদিম বীজে হেসে ওঠা এ বঙ্গের বিদ্যা বর্ণমালা
হে মূর্ত অবিদ্যা
আচমন আর স্ত্রোত্র পাঠের মধ্য উন্মোচিত দিগন্ত কাঁপিয়ে তিনি নেমে আসেন জাতক একুশে।
এসো উলুধ্বনি এসো।



