2026

paapparbo20

পাপ -পর্ব ২০

মেজ জ্যেঠাইমা চুপিচুপি বেদেনী বুড়ির থেকে যোগাড় করা শেকড় আর কিছু কালো কালো বড়ি দিয়ে গেল। শেকড় গুলো শরীরের ভেতরে পুঁতে দিলে আমার পাপ গলে গলে বের হয়ে আসবে। বড়ি গুলো এই পাপের আত্মা পর্যন্ত পুড়িয়ে ঝামা করে দেবে। আর কখনো সে কোন বিধবা বা কুমারীর গর্ভে অনধিকার আশ্রয় নেওয়ার সাহস করবে না । সমাজের ব্যাভিচার তো থামবে না । মানুষের কুপ্রবৃত্তি রোখা ভগবানেরও অসাধ্য। 
সকাল থেকেই বাড়িতে করুন সুরে সানাই বাজছে। এ প্রজন্মের শেষ মেয়ে মালতীলতার বিয়ে হচ্ছে। পাত্রের কোন দাবি দাওয়া নেই, কেবলমাত্র পাত্রী সুন্দরী হলেই হবে। যদিও সে একটু খুঁতো … দোজবরে, বিপত্নীক। তা হোক, সোনার আংটির আবার সোজা আর বাঁকা! আইন ব্যবসায়ী ছেলের মাস গেলে রোজগারখানা তো কম নয়। আবার আগের পক্ষের বউ বড়লোক বাড়ির মেয়ে ছিল। তারও মেলা গয়না গাঁটি আছে। শহরের কেন্দ্রে নিজেদের বসত বাড়ি, অভাব তো কিছুই নেই। মেয়ে খেয়ে পড়ে সুখে থাকবে। বড় ভাইরা পৃথগন্ন এবং আলাদা থাকে, শ্বশুর তো অনেক কাল নেই, শাশুড়ী মাগীও হালে মরেছে। বাড়িতে দু দুটো কাজের মেয়ে।

পাপ -পর্ব ২০ Read Post »

কাহিনি, ধারাবাহিক উপন্যাস
poramatirgram7th

পোড়ামাটির গ্রাম- সপ্তম পর্ব

রাস্তা বলে কিছু নেই। একে ঠিক পথও বলা যায় না। দুপাশে মাঠ। শস্যক্ষেত। গ্রামের চাষিরা চাষ করছে। মাথায় গামছার  মতো কাপড় বেঁধে তারা চাষ করছে। এই দৃশ্য বদলায়নি। মৃন্ময় বুঝতে পারল। আজ থেকে হাজার বছর পরে খেতের মাঠে কাজ করার দৃশ্য যেমন, ঠিক তেমনই। বাংলার খেত তেমনই নানারকম সবুজ হয়ে আছে। স্তরে স্তরে এই সবুজের রং বদলে যায়। কখনো গাঢ় সবুজ, কোথায় বা হালকা। দূর দিগন্ত অব্দি দেখতে পাওয়া যায় এই সবুজ। ঠিক যেন কেউ একটা তুলি দিয়ে রঙের বিভিন্ন শেড তৈরি করেছেন। মৃন্ময়ের পাশে নীরবে হেঁটে চলেছেন শান্ত ভিক্ষু। তাঁর কোনও তাড়া নেই। তিনি যেন বা নিজের মধ্যেই বিভোর।

মৃন্ময় তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করেছে সে কোন সময় থেকে এসেছে। আসলে ঠিক কোন সময়ে তাঁর শরীরটা শুয়ে আছে। কিন্তু এই বোঝানোটাই সার হয়েছে। তার পোশাক আশাক, চালচলন এবং কথাবার্তায় অন্তত এইটুকু তিনি বুঝতে পেরেছেন, যে সে অনেক কিছু জানে। সে একটা অন্য জায়গা থেকে এসেছে। সে তাদের মতো ভাষাতেই কথা বলছে। কিন্তু তার বলা কথা, ভাবা বিষয় সবই অন্য।

পোড়ামাটির গ্রাম- সপ্তম পর্ব Read Post »

কাহিনি, ধারাবাহিক উপন্যাস
ayan

শিং, সিংহাসন ও শহর

“শিং নেই তবু নাম তার সিংহ,
ডিম নয় তবু অশ্বডিম্ব—”
গৌরীপ্রসন্ন মজুমদারের লেখা, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সুর। লুকোচুরি ছবিতে কিশোর কুমারের গলায় গানটা বেশ জনপ্রিয় হয়েছিল। গানের কথায় সিংহের নামে ‘শিং’ আছে, কিন্তু মাথায় নেই। অথচ প্রায় সাড়ে চার হাজার বছর আগে মহেঞ্জোদারোর একটা ছোট্ট তামার ফলকে ঠিক উল্টো দৃশ্য দেখি—এক মানুষের মাথায় প্রকাণ্ড শিং, হাতে তির-ধনুক, শরীরে কয়েকটা রেখা, পিছনে লেজের মতো অংশ। তাই নিয়ে কৌতূহল আজও কাটেনি। কয়েকজন গবেষক একে ‘horned archer’ বলেছেন। কিন্তু লোকটি কে? শিকারি? যোদ্ধা? পুরোহিত? দেবতা? না কি কোনও আচার করতে গিয়ে মানুষটি ওই সাজ পরেছিলেন? গবেষকেরা এখনও সিন্ধুলিপি পড়ে উঠতে পারেননি। ফলে মাথায় দুটো শিং আর হাতে ধনুক নিয়ে লোকটি আজও আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে।

শিং, সিংহাসন ও শহর Read Post »

প্রবন্ধ, প্রবন্ধ/আলোচনা
bipasar tire prothom parbo

বিপাশার তীরে -১ম পর্ব

দিগন্তের শেষ সীমা রক্তিম বিদায় জানিয়েছে সূর্য দেবতাকে। বিপাশা নদীর ধারে সোমরাং তখনও বসে অপেক্ষা করছে একটু পরেই হয়তো সে আসবে। ক্লান্ত অবসন্ন চোখে ঘোড়াটার গায়ে হাত রাখবে। তারপর নিজেকে সঁপে দেবে বিপাশার জলে। দীর্ঘ গৌর গাত্রবর্ণ লালচে কালো দেখাবে আকাশের রঙের জন্য। পেশিগুলো যেন পাথর কুঁদে নির্মাণ করেছেন বিধাতা। সে জল থেকে উঠে ভিজে শরীর উন্মুক্ত করে পোষাক বদলাবে তখন সোমরাং নিজেকে বড় পাথরটার নিচে পুরোপুরি লুকিয়ে নেয় তাকানোর সাহস হয় না তার। ঘোড়ার চলার আওয়াজ আসতেই আবার মাথাটা তোলে সে তখন পিছন ফিরে চলে যাচ্ছে সেনা শিবিরের দিকে। সোমরাং এরপর হাঁটা শুরু করে। ওদের গ্রামের আশেপাশে এর আগে কখনো সেনা আসেনি। পাইন গাছে ঘেরা বিপাশার তীরে গ্রামখানি ছবির মত সুন্দর সকলের বাড়িতেই প্রায় রয়েছে সেবফল ও দারিমের গাছ। তবে প্রবদর গাছ সোমরাং এর সবচেয়ে প্রিয়। তাদের বাড়ির চারিপাশে প্রবদরে ঘেরা। বছরের শেষে যখন প্রিয় বসন্তকাল পাহাড়ের কোল জুড়ে ফুলের বাহার তখন প্রবদরের শোভায় মন ব্যাকুল হয়ে ওঠে। সারা উপত্যকা জুড়ে সাদার সাথে হালকা গোলাপি রঙের ফুল। যৌবন যেন উছলে উঠে গ্রামটির। মৃদু খসখস শব্দে সচেতন হয়ে ওঠে সোমরাং। দুহাতে ভর দিয়ে মাথাটা সামান্য উঁচু করে কিন্তু কাউকে দেখতে পায় না। অন্ধকার ঘনিয়ে আসছে পাইনের ঋজু শরীরে। মায়ের কাছে বকুনি জুটবে খুব। বারবার মা বলেছে, শেষ আলো পায়ে নিয়ে ফিরবে না সোম, আগে ফিরবে। শেষের আলোতে বিপদ লুকিয়ে থাকে। মায়ের মন হাজার কু সংস্কারে ভরা। সোমরাং বাবার কাছে পড়ে। ওর বাবা যে পণ্ডিত। পায়ে হেঁটে বহু দূরে দূরে পুজোপাঠ করতে যান ওর বাবা।

বিপাশার তীরে -১ম পর্ব Read Post »

কাহিনি, ধারাবাহিক উপন্যাস
murderonorientexpress18

মার্ডার অন দ্য ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেস (পর্ব – ১৮)

এরকুল: (চোখ মটকে) এই এতক্ষণে মঁসিয়ে বুঁকের মনোবাসনা পূর্ণ হবে। এবার ইতালীয়টির পালা।
ডাক পেয়ে ইতালীয় মি. ফসকারেল্লী এসে হাজির হলেন। সুঠাম চেহারার, চোখেমুখে শিশুর সারল্য, সঙ্গে একমুখ উজ্জ্বল হাসি।
এরকুল: (পাসপোর্ট হাতে নিয়ে) আপনি আন্তোনিও ফসকারেল্লী?
ফসকারেল্লী: ইয়েস স্যার।
এরকুল: আপনি এখন আমেরিকান নাগরিক, তাই না?
ফসকারেল্লী: হ্যাঁ। ব্যবসাসূত্রেই আমেরিকায় থাকা এবং সেই সূত্রেই নাগরিকত্ব।
এরকুল: আপনি ফোর্ড মোটর কোম্পানির একজন সেলস এজেন্ট?
ফসকারেল্লী: হ্যাঁ, আমি সেলস-এর দিকটাই দেখি। এই ইউরোপ এবং এশিয়ার এই দিকটাই আমার এলাকা। একটু বেশি ঘুরতে হয়, কিন্তু বিরাট সাড়া পাচ্ছি। গাড়ির বাজারে এদিকটায় আমরাই একচেটিয়া। কোম্পানিরও লাভ হচ্ছে, সঙ্গে আমারও, বুঝলেন না (বকেই চলতেন হয়তো)।
এরকুল: বেশ বেশ, কত বছর হলো আপনার আমেরিকায়? বছর দশেক?

মার্ডার অন দ্য ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেস (পর্ব – ১৮) Read Post »

অনুবাদ, ধারাবাহিক উপন্যাস
dwanda antardwanda sesh

দ্বন্দ্ব-অন্তর্দ্বন্দ্ব – শেষ পর্ব

স্মৃতি, যন্ত্রণা,আক্রোশ, এনট্রপি বৃদ্ধ, পরিসংখ্যানবিদ সবাই নিরবচ্ছিন্নভাবে বহমান টোড়ীর সুড়ঙ্গে প্রবেশ‌ করেছে।আলাপের প্রকোষ্ঠে খেলা করছে নীলচে গোলাপি আলো। ট্রেনের কামরায় ঝালা শুরু হলো,শুরু হলো সোনালী রূপালীর আলো আলো‌ খেলা। সমস্ত সংলাপ স্তব্ধ হয়ে গেছে, শুধু খেলা করছে অনবদ্য সঞ্চালন । বন্দিশের সুড়ঙ্গে প্রবেশ করে
স্মৃতির সহযাত্রীরা বুঝতে পারছে প্ল্যাটফর্ম খুব দূরে নয়। ক্রমাগত: তারা এক সিঙ্গুলারিটির দিকে এগোচ্ছে। যেখানে অর্থহীন অর্থেরা চেতনাহীন‌ কল্পনার সুরে অবগাহন করে। কথাদের থেমে যাওয়া কোলাহলে আশাবরী নিজস্ব সুরের সুরভি নিয়ে আসে। সমস্ত কামরায় ভৈরবী -টোড়ীর রঙের সুড়ঙ্গে আশাবরী নিয়ে আসে শৈশবের গন্ধমাখা বাতাস। ঝিরঝিরে দুপুর গায়ে মেখে ট্রেন প্ল্যাটফর্মে আসে।

দ্বন্দ্ব-অন্তর্দ্বন্দ্ব – শেষ পর্ব Read Post »

নাট্যগল্পের অন্তর্চলন, নাট্যসাহিত্য
Scroll to Top