সুবিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়

Elegant black and white photo of a barren tree against a clear sky.

গ্রীষ্ম

‘আগুনের অবাক ফোয়ারা’ দিন শেষে 
বিকেল হল শোভাবাজার ঘাটে।
আদ্যশ্রাদ্ধ শেষ করে কাছা পরে কারা 
ফিরে চলেছে মুণ্ডিত মস্তকে। সাদা সাদা অবয়ব।
ফুরফুরে দখিনা বাতাসে একটি দুটি উড়ন্ত উত্তরীয়… 
আশ্চর্য তাকিয়ে আছে প্রেমিকযুগল। 
কিছু পরে একটু সন্ধে সন্ধে হলে 
ওরা উঠে পড়বে ছই দেয়া এক স্থির নৌকোতে।

বর্ষা 

তারপর তারা ছেড়ে ফেলল সব উচাটন। 
পুরনো সরাইখানা নাকি মোটেল যার রান্নাঘরের সমস্ত জানালা গলে ভক্ ভক্ করে কয়লার আঁচের কালো ধোঁয়া বের হয় তার একটা তেতলার ঘরের পূব জানলায় তখন দেখা যাচ্ছে নীল পাহাড়, 
আর অবিরত বৃষ্টিতে ঝাপসা হয়ে আসা কাচের ভেতর দিয়ে দেখলেও দেখা যাবে খাটের ওপর উন্মুক্ত ভারতবর্ষের দুটি মানচিত্র… 
তার নদী, পর্বত, গিরিখাত, বনভুমি নিয়ে বিন্যস্ত। 
কেবল একটা মকরমুখ সোনা বাঁধানো লোহা, হলুদ বাল্বের মরা আলোয় ঝিকিয়ে উঠে কোথায় যেন ছন্দপতন ঘটাচ্ছে বারবার।

শরৎ 

একটা গলিতে ঢুকে পড়ছিলাম আমরা। 
উত্তরতো চিনি না তেমন।
প্রায়ান্ধকার অলিগলি পথ। 
ঠাকুর দেখার বুঝি এই শর্টকাট!
হঠাৎ মাটি ফুঁড়ে এসে এক হাবিলদার 
এ-পথ নয়, এ-পথে নয়, অন্য পথে যাও… 
শরৎ মানে ছাতিম ফুল, কদম তলা আর 
মাটি ফুড়ে আসা এক অর্বাচীন হাবিলদার 
কেবল সতর্ক করে যায় 
এ-পথ নয়, এ-পথে নয়, অন্য পথে যাও!
এত ভুল নিয়ে কেন আসো বার বার 
হে অসমীচীন অকাল বোধনের মাস।

হেমন্ত 

হলুদ খামে ভরে দিলাম শুকনো ছাতিম ফুল
কিছু মরা জোনাকি, ক’টা কালো হয়ে আসা 
ঝিঁঝি পোকার লাশ
আর একটা জ্যান্ত উদ্ভিন্ন যৌবনা গঙ্গা ফড়িং…
মানুষ বর্ষা চেয়েছে বসন্তও
শরতের কাশ আর ঢাক
শীত চেয়ে প্রিয়তমাকে প্রশ্ন করেছেন ভাস্কর সেই কবে
শুধু তুমি অনাকাঙ্ক্ষিত হে পীতাম্বর, চির ধূসর 
যেন বিরাট শরতের প্যান্ডেলে
পুজো পাওয়া ছোট্ট লক্ষ্মী প্রতিমাটি …

শীত 

একটা কবিতা হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়ছে 
আর একটার গায়ে… 
দেখ নিরন্ন শীতকালটা গুঁড়ি মেরে আসছে
সাদার্ন এভিনিউ’র বুলেভার্ড পেরিয়ে। 
পাশেই লেকের সবুজ রেলিং। 
স্বল্প বসনা সুন্দরী সাঁতারু তার সিজন ফুরনো
শেষ চান সেরে উঠে এল জল থেকে
একটা শুকনো আফসোস নিয়ে।

বসন্ত 

তোমার ঔরসে আবার জন্মাবো বলে 
এই দেখো আমি হত্যা করেছি নিজেকে, 
হে ঋতুরাজ! 
লোকে তোমাকে বসন্ত বলে 
আসলে তুমি ম্যাকাও পাখির দুই প্রসারিত ডানা 
ঝাঁকে ঝাঁক ছিটিয়ে চলেছ আকাশে আলো ও পুলক … 
তোমার ঔরসে বার বার, 
বার বার জন্ম নেব, জন্ম নেব বলে 
নিজের হাতে আমি ক্রমাগত 
ছুরিকাহত করেছি নিজেকে।


Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top