স্নান ঘরের স্মৃতি
তোমার স্নানের অনুবাদ করি, দেখি
স্নান ঘরে তোমার শরীর ব্রহ্মময় হয়ে ওঠে।
একে একে পালক খুলে
তুমি যখন তলিয়ে যাও সুগন্ধি সাবানের
সফেন উৎসবে। কাঁচের সার্সিতে
আড়াল করা ব্রহ্মান্ড। যৌন অক্ষর গুলি
পাখির মতো পাহারা দেয় নির্জন দুপুরের নগ্নতাকে!
অলস বারান্দায় জলোচ্ছ্বাস ঠেলে
ভেসে যায় হলুদ শাড়ির নৌকা খানি।
অদ্ভুত শহরতলীর সারা গায়ে শামুকের গতি
এগিয়ে যেতে যেতে আঁকড়ে থাকে ঘড়ির কাঁটাদের।
জল আলপনার পদচ্ছাপ রেখে
তুমিও বেরিয়ে আসো শূন্য স্নান ঘরে ফেলে
মিশরীয় যুগ পেরিয়ে মল্লভূমের দেশে!
ঘরণী তোমার জন্য
দুখী নদীর তীরে একটি ঘর
মেঘের দেয়াল, আকাশ ছাউনির গম্বুজ!
ওখানেই অপেক্ষায় ছ’পন কড়ি,
গুনতে গুনতে ফুরিয়ে আসবে প্যাপিরাস লিখন!
অর্থহীন নারীর কয়লা কালো হাতে
পৃথিবীর দোলোন ভার তুলে দিয়ে,
ঈশ্বর যেখানে বিশ্রাম নিতে আসেন
মৃত্যুর দিকে একদৃষ্টি চেয়ে থাকে অবুঝ প্রেমিক
আঝোর বৃষ্টির অন্ধত্ব ছড়িয়ে থাকা রাতে,
দেবদারু গাছের পাতায় পাতায় দৃষ্টি জ্বেলে
জোনাকির স্রোত বয়ে যায়। গর্ভবতী জাগে
কোন শূন্যের আড়ালে, শিশুর ভগ্নাংশ নিয়ে!
তেমনই একটি ঘর তোমার জন্য রেখে
আমি পৃথিবীর সব ঘর ভেঙে দিতে চাই!
কৃষক
যারা তোমায় শরীর ভেবে ডুবতে এলো,
তাদের জন্য তোমার কাছে
তেমন কোন হিরণ্ময় ইচ্ছে ছিলো না!
আমি তো এসেছি কৃষকের দেশ থেকে
ধানি জমির নীচে আমার হারনো শবদেহ খুঁজব বলে!
ওই স্বর্ণময়ী আদিগন্ত দোলনের শীষে শীষে
আমার প্রতিদিনে অনাহার লেখা আছে,
তাই এসেছি কৃষকের কঙ্কালে
তোমার মৃত্তিকা প্রণয়ের সাক্ষী হব বলে!
মাংসাশী
ক্যানাইন উঁচিয়ে তুমি হিংস্রতা দেখাও,
আমি সভ্যতা উঁচিয়ে দেখাই তিন- কামরার ঘর!
ব্যালকনিতে রজনীগন্ধার বন্ধুত্ব জ্বেলে
ভোররাতে চাঁদ চোঁয়ানো আলে!
আরো দূরে আহত কৃষ্ণচূড়ার কুয়াশা সিনান!
তুমি এসব আবেগের কাছে ঠোঁট নামিয়ে
কপালে ভাগ্য আঁকো! বলো – ‘ঘর বাঁধার উপকথা!’
আমি তখন অভাগার দেশে বসে
নিজ মাংসে বানিজ্য পসরা সাজাই, তুমি
আবার হিংস্র হতেই পারো!
টহলদার
শীত টহল দিচ্ছে।
আধবুড়ো স্ট্রিট লাইট কুয়াশার ভেতর নগার কনাই
খাদ্য জালে ডেকে আনছে শ্যামা পোকাদের দল!
এতো মলিন হলো মেধা ও বিছানা
তবুও জোনাকি সম্ভবা রাত্রি
এসো চুম্বনের আগে হৈমবতী হও!
ধানের গন্ধ খুঁজে খুঁজে কবেই মাঠের লালন
চলে গ্যাছে তাঁবু ফেলে। গান পড়ে আছে হিমাঙ্ক ছুঁয়ে।
বুকে নিয়ে একটা নির্জন
রেল স্টেশন বসে আছি, প্রহরী চলে গেলে
একটা বাসন্তীরঙ ট্রেন আসবে বলে গ্যাছে কেউ!



