শতাব্দী চক্রবর্তীর একটি কবিতা

intimate moment by candlelight

উনিশে এপ্রিলের রাত


আজ উনিশে
সদ্য আঠারো পেরিয়ে এপ্রিলের মাসটি সাবালক হল।
সাবানের ফেনায় যেমন করে নীরার শরীর 
যতনে ধুইয়ে ছিল এক কবি 
রাস্তার কোলাহল থেকে দূরে, 
নির্জনে নির্মাণ করেছিল তাদের একাকী
কবিতাময় দিনগুলি রাতগুলি গান্ধর্ব রীতিতে।  
ভেঙে চৌচির করে দিতে চাই তেমন করেই 
এই রাতের নিষিদ্ধ মৌতাত!

জরুরী কথাগুলি বলে দেব ব্রীড়া সরিয়ে রেখে। 

আরেকটু এগিয়ে এসো, 
গ্রীবা জড়িয়ে আগুনের শিখা জ্বালাই
কানের ভেতর উষ্ণ চিৎকার আর
গুনগুন এই রাতেই তমসা জর্জরিত
কুহকিনীর গলায় ঝুলিয়ে দেবে চেতনার মালা? 
আমিও চাই ক্লীবত্ব দূর হোক 
দৈন্য একপেশে জীবনের।
তুমি আছ উনিশের রাতটিতে
একান্ত আমাকে গিলে ফেলতে
এই আশ্বাসেই 
মৃত্যুফুল শুকিয়ে যাবে দীর্ঘ অবসাদের। 

২.
 এ রাত্রি কেটে যাবে ঠিক হয়তো
 ঘুচবে না দুরূহ ব্যবচ্ছেদের ক্ষয়
ক্লান্ত গা রেখে দেব ঘুমের বালিশে ওদের মতো
তোমার বুকের ভেতর থেকে উঠে আসে ঠিক তখনই
রৌদ্রজ্জ্বল একটি থালা।
যেখানে বেড়ে রাখা ছাইয়ের বদলে 
ফুটে ওঠে ভাত, আমার দু’হাত ভরে। 
ভাতের ভেতর খিদের উল্কি আঁকা
পরশুরামের হাতে লেগে থাকা কুঠারের মতো 
ভাত এক হাহাকার নিয়ে সেজে ওঠে অশ্রু উপাসনায়।
এ উন্মাদ, এ পরাশর, এ অভুক্ত তলপেট, 
এসব দুঃখ জঞ্জালের উপকথাগুলি রাত্রি জানে খুব। 
তুমিও হয়তো… . 


উন্মুখ ফণায় চোখের কোণে অপেক্ষা
চুপ করে বসে থাকে
মুখ থেকে নির্বাসন নেয় ঝুঁকিপূর্ণ হাসির ঝুরি। 
আসলে তুমি এলে তোমার বুক আসে
তোমার বুক এলে ভাত আসে 
পাঁজরের ভেতর থেকে। 


তারপর তোমার বুকেই ঘুমিয়ে যাবার আহ্লাদে
শরীর সাজিয়ে গুছিয়ে রেখে দিই
রোজ রাতে তোমার পাশেই লবণ হ্রদের থৈ থৈ জলে। 
কখন তোমার আরাধনা করার ইচ্ছা হবে, 
দেবী মৃন্ময়ী হবে আলুলায়িত, 
আকাশ থেকে নেমে আসবে পুষ্প বৃষ্টি
খাঁচা ভেঙে বেরিয়ে আসবে আমোদ
আশ্রয় গ্রহণে পেতে দেব জাগতিক পিঁড়ি। 


খিদে ঘুম ক্লান্তি উল্লাস শেষে 
পথ হাঁটা শুরু হয় ভোরের দিকে 
অন্তহীন অন্তহীন অন্ধকার বিসর্জন করে। 
এক গোছা দূর্বা গজিয়ে ওঠে রাতের বুকে, 
ভোরের শিশিরের অপেক্ষায়। 
এসব এপ্রিলের রাতে তোমার জন্যই বসে থাকি 
জীর্ণ সেলাই কলের পাশে 


2 thoughts on “শতাব্দী চক্রবর্তীর একটি কবিতা”

  1. কবিতার যেটা ভালো লাগল, একঘোরে লেখা। বানানো নয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top