পিঠের চোখ
আমার পিঠের দিকে নাকি চোখ আছে।
পিঠে চোখ হয়! নিজের জন্মে শুনিনি।
পিঠ কেন আমাদের পেছনে?সামনে থাকলে
ক্ষতি কি হতো! পেটে খেলে নাকি পিঠে সয়।
বুকেও তো সয়! তাহলে প্রবাদটা ওরকম হলো
কেন? –সওয়ানো ব্যাপারটায় মনের ভূমিকা।
বুকে, পিঠে, তফাৎ কি! বাদ দিন।
এরকম অনেকগুলো “বাদ দিন” নিয়ে চালিয়ে
খেলতে হয় আমাদের। চালালেই চলবে, পেট্রোল
বা ডিজেলে, এরকম কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
ছোট একটাকার কয়েন যেমন। কেউ নেয়। কেউ
নেয় না। সরকার কিছু বলেছে? বলেনি তো?
তাহলে পাঁয়তাড়া কিসের! কয়েন কয়েন।
তার আবার ছোট বড় কি! চালালেই চলবে।
চলছেও তো। তাবলে পিঠ বুক জায়গা বদলালে
চাপ আছে বস! ফুসফুস বিদ্রোহ করবে। এতোটা
ঘুরে শ্বাসনালীতে আসা সম্ভব নয়।খরচ বাড়ে।
রিস্ট্রাক্চারিং বডিতে! টোটাল অ্যানাটমি ঝান্ডা
হাতে রাস্তায় নামবে। মুখ, নাক, কান, মেরুদণ্ড,
কেউ মানবে পিঠের পীঠস্থান-বদল ! মানবে না
স্যার। মানা ব্যাপারটাতেই তো হাজারটা মানা
বসে আছে। সোনামানা বলে আদর করে সরাতে
গেলেও দেখবেন, পিঠের চোখ আছে!
আমার বাবা কথায় কথায় বলতো, আমার পিঠের
দিকেও দুটো চোখ আছে, বুঝলে বাবু! খুব ছোটতে
ভাবতাম, কিভাবে সামনের চোখ পেছনে সেটিং
করতো! নাকি চারচোখ বলে সেজন্যই। দেবতাদের
জেনেছিলাম ত্রিনয়ন আছে। একটা এক্সট্রা হয়তো
বাবা বলে! পিতা হি পরমন্তপ –সেজন্যই হয়তো।
বড় হয়ে বুঝলাম, ওটা প্রতীকী কথা। এক্সট্রা
চোখদুটো দায়িত্বশীল বিচক্ষণতার।
আমার হবে? হলে ওতে জল জমবে? অশ্রু?
ক্রোধবর্ণ?
পিঠের দিকে চোখ প্যাসিভ। সামনের চোখের সাথে
তো চোখাচোখিও হয় না।রিলেট করবে কিকরে
স্নায়ুকর্ম!
এখন আমি বাবা। সন্তানের দিকে রাখার মতো চোখ
আছে বলে মানি। নিজেই মানি। কিন্তু সেটা সামনের।
পিঠের দিকেও চোখ কিভাবে হবে? ভাবাচ্ছে ব্যাপারটা!
তবে যে ওরা বলছে আমার পিঠের চোখ নিয়ে!
পিঠোপিঠি চোখ! সত্যিই কি আমার পিঠে চোখ
অনুভূত হচ্ছে। ওখানে জল জমছে? অশ্রু?
ক্রোধানল? কে জানালো সবাইকে। ছেলে?
নাকি আপনাদের ছেলেরাও!
আমি তো কই বুঝছি না। শুধু মাঝেসাঝে পিঠবুক
এক হয়ে যায় অ্যাসিড হলে। চোখেরও ওরকম
বদহজম হয়! চিকিৎসা বা ওষুধ আছে?
জানেন?
বালিশের পাশে
বালিশের পাশে বিছানার মতো থাকতে চেয়েছি।
কখনও নিজেকে পেতে , কখনও স্বপ্নে যেতে।
মগজ কখনও মাথা রেখেছে ঘুমের ভূমিকায়।
কখনও বিশ্রামের। শ্রমের কোনো মেদ নেই।
মেদিনী নেই বৈভবের।ঘাম থাকার মধ্যে ঝরে ,
কখনও শিশিরের মতো বা অনাহারজনিত
বৃষ্টির দৈনতাচূর্ণ।
তুমি তাকিয়ে ছিলে অনন্তকাল। চোখ হরপ্পা হয়ে
গেছিল, জীবনে মৃত্যুকে সমাধি দিয়ে, মোম
জ্বালিয়ে উপরিভাগে।নিম্নে বালিশ থাকে রাখলেই,
মগজে মাথার দিনলিপি। বিছানায় বিছানা করা
চাদরের শ্বাসে।
আমি এক অনন্ত বালিশ নিয়ে ছুটছি, বালুকাময়
ঘুমের ভেতর, উটের পিঠে স্বপ্ন, লোম খামচে
স্বপ্নের পড়ে যাওয়ার ক্যানভাস, তাতে ছবি,
ভয় ও সন্ত্রাসের হেরে যাওয়ার।
হেরে যাওয়ারও বালিশ থাকে, মেদহীন তুলোর
ভাঁজে ভাঁজে স্নায়ুও, রক্ত ভাঁজ করা বিকল্প ইস্ত্রির
নিমিত্ত-যান।
প্রাণায়ম উঠে আসে সূর্যের, ঘুমকে খুন করে,
ধরা না পড়ার স্মারক, স্বপ্নের আজ ও কালকের,
না করা নালিশে।
হাঁ করে মরে গ্যাছে সৌন্দর্য
হাঁ করে মরে গ্যাছে সৌন্দর্য।হাঁ মুখটা বন্ধ করে
দেয়নি কেউ সময় থাকতে। ফলে রাইগার মর্টিস
মনে হয়। ভেতরে ঢুকে অযাচিত বাতাস ঘূর্ণি
সাজাচ্ছে। টাকরা শুকিয়ে কাঠ, আলজিব বিবর্ণ,
দেখাও যাচ্ছে যতটা যায় চোখ। কপালের নীচে
দুপাশে সাজানো দুটো চোখও, কপাল ছিল সৌন্দর্যের।
এভাবে ভাবেনি সে বেঁচে থাকতে। এখন হয়তো
ভাবছে তার বিদেহী আত্মা, সেটাই।
কপালের জোরে সৌন্দর্য, না সৌন্দর্যের জোরে
কপাল খোলে! এভাবে তো কাপালিকও বোধহয়
ভাবে না। ভাবা আর নাভাবার মাঝে হয়তো গলি
থাকে, লেন বা বাইলেন, নস্যি টানার মতো নাকের
ছিদ্রের ছিদ্রান্বেষী আড়ালে বসে, কচি -পাকা চুল
ছিঁড়ে শান দেয় বিশ্লেষণী ছুরি। হাতলে কাঁচা রঙ
লেগে আছে যার মোহে।
সৌন্দর্য ভাবে, সেও কি মোহ ছিল, জীবিত মোহ,
জীবিত অবস্থায়। মৃত্যুর পরেও হাঁ করে পড়ে আছে
কেটে ফেলা গাছগুলোর মতো সৌন্দর্যের তৃষ্ণায়!
কি চায়,জল না বায়ু! অস্থির আয়ুর চোখের জল
অশ্রু নয় সৌন্দর্যের। ওটা শিশির। প্রকৃতিও জানে
সৌন্দর্য জন্মানোর আগেই। প্রকৃতির হত্যা-রহস্য।
আমরা কি সৌন্দর্যকে চুল্লিতে দেবো না কবরে !
সিমেট্রি না সহমরণে!
প্ল্যানচেটে কি জানার চেষ্টা হবে, কিভাবে সে ফিরবে
জাতিস্মরে, নাকি কম্পুটারাইজড স্পেসযানে,
আগামী প্রত্নজীবি চেনাতে।



