মেঘবাসনা

A woman's hand delicately touches flowing water, capturing tranquility and reflection in black and white.

শিকার

বৃষ্টিহীন বালুচরে —আমি বসে আছি
কত জন্ম ঠিক মনে নেই।
এই বালুচর থেকে—
সোহিনী, তোমাকে আমি লিখে দিচ্ছি—
কলিজা আমার।
সোহিনী, তোমাকে আমি লিখে দিচ্ছি—
আমার চেতনা।
ক্ষুধার্ত শৃগাল হয়ে মারো দেখি ডুব;
চোখ বুজে ছিঁড়ে ফেলো— বেকুব কলিজা
দেখা যায় তোমারই কি মুখ?

আগুন

তুমি আমি কথা বলি— স্মৃতি থেকে—
বাক্যব্রহ্ম চিকচিক করে।
পাওয়া ও না-পাওয়াগুলি
পরস্পর চকমকি হয়ে
নেচে নেচে ওঠে।
মনে পড়ে, একদিন— সন্ধ্যা-বুদ্বুদ
ফস্ করে জ্বলেছিল ঠোঁটের বারুদ।

জল

বিপুল অনন্ত জল—
দূরে তার নীল পরিপাটি।
লবণ লবণ শুধু—
কাটা ত্বক চেটে দেওয়া জ্বালা।
শরীরে লাফিয়ে ওঠে—
জাতিস্মর যত কাটাকুটি।

স্পর্শ

হাতে ছুঁয়ে দেখেছিলে—
তাপ আর শীতল কামনা।
বোঝোনি কীভাবে কেন—
রয়েছে সাজানো।
স্পর্শে মন ঢেলে দিয়ে বোঝা যেত, জানো!

সুর

বাতাস আসলে সুর— ঢেউ সুর, কেউ কেউ জানে।
ধমনীর অন্তরে ভেসে থাকে সুর।
সুর তৃষ্ণা, সুর রিপু, সুরও স্বভাব
জিজ্ঞেস করে দেখো, তোমার আঙুল জানে—
এ-শরীর দিনে-রাতে মনে মনে কতটা রবাব।

সন্ধ্যা

সূর্য নিভে গেলে পরে —আগুনের পাশে
একটানা বসে বসে, মনে হয়, ফাঁদ।
দূরে চলে যেতে যেতে—
আজ তুমি কীরকম আকস্মিক চাঁদ।

তাঁবু

হাওয়ার ভিতর ঘর—
ছাদে আঁকা তারকাসমুহ।
রাত্রিগুলি বুকে নিয়ে রাত পারাপার।
জীবনে সকাল এলে—
মানুষই তাঁবুর ছাদ, মানুষই সফল কোনও গৃহ।


Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top