কমলিকা ভট্টাচার্যর কবিতা

cosmic liberation

শিল্পীর জাত

শিল্পী, তুমি কোনো দাগ টানা সীমার ভেতর জন্মাও না—
তোমার জন্ম বিস্ফোরণে,
যেখানে সত্য শব্দ হয়ে দেয়াল ভাঙে।
তোমার ঠিকানা বাতাসে—
যেখানে রং উড়ে গিয়ে আকাশে নাম লেখায়।

তোমাকে বহুবার ডাকা হয়েছে সভায়, সভ্যতায়,
পৃষ্ঠপোষকের রঙিন প্রাসাদে বসাতে চেয়েছে সোনার খাঁচায়,
কিন্তু তুমি তো নদী—
পোষ মানা তোমার অভিধানে নেই,
তোমার কলম কেবল নিজের স্রোত চেনে।

তোমাকে ডাকা হয় দরবারে,
তোমার কাঁধে চাপাতে চায় পতাকা, পরিচয়, আনুগত্য—
কিন্তু তুমি ঝড়,
তোমাকে বাঁধতে গেলে ঘর উড়ে যায়।

তোমার শিল্প কখনো মুদ্রায় মাপা যায় না,
কারণ তা বাজারের দাঁড়িপাল্লায় ওঠে না।
তোলাবাজির খাতায় তোমার নাম থাকে না বলে
অনেকে তোমাকে মূল্যহীন ভাবে—
ঠিক যেমন আকাশকে কেউ কেনে না বলে
তার দাম বোঝে না।

মনে রেখো—
তোমার শিল্প কারও প্রমোশনের পোস্টার নয়,
কারও মুখোশ ঢাকার রং নয়,
কারও ক্ষমতার মঞ্চসজ্জা নয়।
তোমার শিল্প কোনো পতাকার বিজ্ঞাপন নয়,
তা কেবল সত্যের উচ্চারণ।

শিল্পীর কোনো জাত নেই—
সে আগুন হলে সকলকে আলো দেয়,
সে বৃষ্টি হলে ভিজিয়ে দেয় সব মাটি,
সে বাতাস হলে নিঃশ্বাস দেয় নির্বিশেষে।

তোমার সৃষ্টি-ই তোমার পরিচয়,
তোমার কণ্ঠস্বরই তোমার বংশলতিকা।
যেদিন তোমার শিল্প
নিজের স্বার্থের বেড়া টপকে
মানুষের উপকারে নিঃশব্দে দাঁড়ায়,
সেদিনই তুমি প্রকৃত শিল্পী হয়ে ওঠো।

কারণ শিল্পী মানে—
নিজেকে পুড়িয়ে প্রদীপ হওয়া,
নিজেকে ভেঙে সেতু হওয়া,
নিজেকে মুছে পথ দেখানো।

শিল্পীর জাত একটাই—
রক্ত মাংসের
সৃষ্টিকর্তা।


3 thoughts on “কমলিকা ভট্টাচার্যর কবিতা”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top