ফুলবাড়ীর দেউল

riverside evening 1200x628

সন্ধ্যা নামছে ধীরে, মন্থরে। নদীর জল একটু করে করে কালো হচ্ছে। আঁধারে মিশে যাচ্ছে চারিধার। অন্ধকার আকাশে রুপালি তারার ফুল ফুটছে একটি দুটি করে। পেনেটির নদীঘাটের কাছে ফুলবাড়ীতেও আঁধার নামছে।
পুরোটা যেই আঁধারে ডুববে তখন ফুলবাড়িটা একটু হাত পা টান করবে, ধরে যাওয়া কোমরটা ছাড়ানোর জন্য একটু চিৎ হয়ে শোবে।সকাল থেকেই রাজ্যির লোকের হইচই, ছোটাছুটি চলে। তাই আঁধার হলেই একতলার রান্নাঘর, উঠান, কলতলা একটু দম ফেলে বাঁচে। দোতলার টানা বারান্দা দিয়ে ঘরগুলো নেমে আসে উঠোনে। বৈঠকখানাটা নিচের দালানের মোটা থামগুলোর সাথে গালগপ্প জোরে। সারা বাড়িটার কোণগুলো তখন ফিসফিসিয়ে কথা বলে। বাড়ির বাসিন্দারা সেসব বুঝতে পারে না। ভাবে নদীর বাতাসে বাগানের পাতাদের খসখসানিটা অমন ফিসফিসানোর শব্দ তুলছে। শুধু দেউল জানে ওদের এই ফুলবাড়িটা অন্ধকারে জীবন্ত হয়ে ওঠে।
রাত বাড়লে,আঁধার যত ঘন হয়, ফুলবাড়ি আরো চনমনে হয়ে ওঠে।
ওর তখন রংচটা শরীরে সেই আগের মতো হলদে রং লাগে, জানলা দরজা গুলো সবুজ রং মাখে, পঙ্খের কাজ করা মেঝেগুলো ফাটল বুঁজিয়ে নতুনের মতো চকচকে হয়ে ওঠে।পুরোনো দেওয়াল সব পলেস্তরা ফেলে সাদা রং আর সোনালী বর্ডারে সেজে ওঠে। তখন ছোপ ধরা কালচে মার্বেলের সিঁড়িটাও সাদা ফটফটে হয়ে আঁধারে শ্বেত পদ্মের মতো ফুটে থাকে স্পষ্ট।
দেউল দেখে, শোনে। বাড়িটা দেউলকে কাছে ডাকে, গল্প করে। ওর বুকের ভেতরে ইট চুন সুরকির স্তরে স্তরে জমে থাকা কান্নাগুলো গভীর রাতে গুমরে কাঁদে। শোনে দেউল আধঘুমে। ও জানে ওই কান্নার ভেতরে ওর মার কান্না মিশে আছে, আর আছে ছোটপিসি আলোককণার বুক ফাটা দীর্ঘশ্বাস। এই সব জানতে জানতে বালক দেউল কখন যে তারুণ্য পৌঁছে যায় সে ফুলবাড়ি টেরই পায় না।

ছোটবেলায় সবাই খালি বলত, “দেউল তুই এতো চুপ কেন “?
“তোর গুনগুনানির সুরে এত বিষণ্নতা কোথা থেকে আসে?”
“আচ্ছা দেউল তুই অন্ধকারে সারা বাড়ি এমন করে কি ভাবে ঘুরে বেড়াস?”
“তোর ভয় করে না? কি ভীষণ অন্ধকার, দেখতে পাস কি করে দেউল।”
খালি প্রশ্ন আর প্রশ্ন।সব প্রশ্নের কি উত্তর হয় ? আর হলেই কি সব দিতে আছে? দেউল যদি ফুলবাড়ীর কথা বলে, যদি বলে ওর প্রাণ আছে তাহলে কি কেউ বিশ্বাস করবে, তাই দেউল বোবা আর কালা হয়ে নিজের ঘরে, নিজের মনে ছবি আঁকে, ছাদে উঠে আকাশ দেখে আর রাত হলে কালপুরুষকে খোঁজে। তাও যদি আরো প্রশ্ন ওর আশপাশের সুরেলা নৈঃশব্দকে বারবার ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করে, তখন ওর রোগা ভালো মানুষ বাবার বুকে ও মুখ লুকিয়ে বসে থাকে। বাবার বুকের ভেতরে ধুকপুক শব্দের মধ্যে একটা সুর কেমন ঘুমপাড়ানি সুরের মতো বাজতে থাকে তাই মা মরে গেলে পর ও অমন করে বাবার কোলে বসে ওই সুর শুনতে শুনতে ঘুমোতো। সেই যখন ও সবে দশ পেরোলো সেই তখন থেকে। পরে যখন ও বড় হলো আর বাবা হলো বুড়ো, বাবার পাশে শুয়ে সেই ধুকপুকানি শুনতে গিয়ে দেখল যা এতদিন ওর কাছে ঘুমপাড়ানি সুর ছিল, সেটা আদতে একটা কান্না। ওই কান্নাটাকে বাবা নিজের বুকের ভেতর লুকিয়ে রেখেছিল।

দেউল যখন দশ তখন পশ্চিমের মহলের দোতলা সিঁড়ি থেকে ওর মা সোজা নিচে আছড়ে পড়েছিল ভর দুপুর বেলা। সেই সময় ওখানে কেউ ছিলনা। একমাত্র কোণের ঘরে ছিল আলোককণা। সামনের মহলে বাড়ির বাকি মহিলাদের দল জমিয়ে টিভি দেখছিল, চাকর বাকররা গুলতানি করছিল নিজেদের ঘরে আর বাড়ির পুরুষরা সব বাইরে ছিল।
তাই আসলে কি হলো সে কেউ জানলো না। কিন্তু অনেকেই বললো যে এটা আলোককণার কাজ। কারণ আলোককণা দোতলার সিঁড়ির কাছে দাঁড়িয়েছিল, যখন নিচে কাঁচের বাসনের টুকরোর মধ্যে পড়ে গোলাপবউ শেষ শ্বাস টানছিল আর গাঢ় থকথকে রক্ত ওর চারপাশে নদীর জন্ম দিচ্ছিল। এসব সামনের মহল থেকে দেখেছিল বাড়ির পুরোনো ঝি নন্দা।

আক্রোশ, ঈর্ষা আর বিদ্বেষ মিলে আলোককণার ভেতরটাকে আঁধার করে তুলেছিল। বাড়ির কাউকে ও ভালবাসত না আর গোলাপ বউকে তো ও মোটেই দেখতে পারত না।
ওর ছেনিপড়া পা আর বুক জোড়া শ্বেতী ওর বিয়েতে ব্যাগড়া দিচ্ছিলো। বয়স তারপর আর অপেক্ষা করতে পারল না বলে শেষমেষ ভেতরের সব কষ্ট রাগ নিয়েই আইবুড়ো জীবন কাটাচ্ছিল আলোককণা। তাই সবাই ধরেই নিল ওর বিষাক্ত হিংসেটাই গোলাপ বউকে ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়েছে।
মেয়েটা কত কাঁদল, চিৎকার করল, কতবার করে বললো, ও ধাক্কা দেয় নি গোলাপ বউকে। কিন্তু ওর মা ছাড়া কেউ বিশ্বাস করলো না। ফুল বাড়ি জানত সত্যিটা আর জানতো মরা গোলাপ বউ কিন্তু ওদের কথা কে শুনবে? গোলাপ বউয়ের সব কাজ মিটে যাওয়ার দু’দিন পরে ঐ কোণের ঘরে গলায় দড়ি দিল আলোককণা। ওর খুব ইচ্ছে ছিল বাঁচার। কিন্তু সবাই ওকে ঘেন্না করছে দেখে ও মরাটাই ঠিক করলো।
জোড়া মৃত্যুতে পুরো ফুলবাড়ীটা গভীর বিষাদের অন্ধকারে যেন ঢেকে গেল।সূর্যের আলোও সেই অন্ধকারকে দূর করতে পারল না। পশ্চিমের মহল প্রায় ফাঁকা হয়ে পড়ে থাকে। রাত হলে টিমটিমিয়ে আলো জ্বলে বাড়িটাকে আরো যেন অন্ধকার করে তোলে। মূর্তিমান আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে ফুলবাড়ীর পশ্চিম মহল। বাড়ির লোকগুলোর মন দুঃখ কষ্টে কালো হয়ে থাকে। ফুলবাড়ী থেকে আনন্দের আলো বিদায় নেয় যেন চিরদিনের মতো।

দেউল মাকে খুঁজে পায় ওই পশ্চিমের মহলে। বাগানের গাছপালাগুলো ঘন হয়ে, মহলটাকে স্যাঁতসেঁতে,অন্ধকার করে রাখে দিনের বেলাতেও। তাই ঘরগুলোতে, বারান্দার আনাচ কানাচে জমে থাকা অন্ধকারে লুকোচুরি খেলে গোলাপ বউ ওর ছেলের সাথে। আলোককণাকে বিষণ্ন মুখে সিঁড়িতে বসে থাকতে দেখলো দেউল কতবার। সে কথা বলে না। খালি জল ভরা চোখে বড় করুণ হাসে দেউলকে দেখে। রাতের বেলায় বাড়িটা যখন আড়মোড়া ভেঙে আরো ভালো করে জেগে ওঠে, ছোট্ট দেউলের সামনে তখন সেই দিনের ঘটনাটা প্রায়ই ঘটতে থাকে। গোলাপবউ রোজ দোতলার সিঁড়ি থেকে নিচে পড়ে যায় আর আলোককণা দাঁড়িয়ে দেখে।ফুলবাড়িটা আসলে সেদিন কি হয়েছিল তার ছবিটা দেউলকে দেখাতে চেষ্টা করে, কিন্তু সে খানিকটা বোঝে, অনেকটা বোঝে না। ওর রোগা, শান্ত বাবা সে সব শুনে ভয় পায় আর দেউলকে বুকে জড়িয়ে চোখ মোছে। আরো পাঁচকান হলে সে কথা, অনেক প্রশ্ন এসে দেউলকে খুব জ্বালায়। পশ্চিমের মহলে যেতে দেয় না। তাই দেউল বোবা হয়ে থাকে, কিচ্ছুটি আর বলে না।

রাত হলে ফুলবাড়ীর ছাদ দেউলকে ডাক পাঠায় , “আকাশে কালপুরুষকে দেখা যাচ্ছে।”দেউল তখন খানিকটা বড়ো হয়েছে। পশ্চিম মহলে গোলাপ বউয়ের বন্ধ ঘর খুলে ও সেখানে খানিকটা সময় থাকে,পড়া শোনা করে ,ছবি আঁকে, গান শোনে। অবসরে ফুলবাড়ি নিজের ছোট বেলার গল্প শোনায় ওকে। রাত আরো কালো হলে ছায়াশরীরেরা সব ভীড় জমায়। যবনিকা উঠে কত পুরোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে থাকে দেউলের সামনে।তাদের না বলা অনেক কথা , সুখ দুঃখগুলো দেউলের কানে বিভিন্ন রাগ রাগিনীতে বাজে , ছায়াছবি হয়ে চোখের
সামনে ফুটে ওঠে। এইভাবে দুই কালের সঙ্গে সঙ্গত করতে করতে দেউলের ছোটবেলা বড়ো বেলার দিকে এগোতে থাকে।

মাধ্যমিক পাস করে দেউল গেল কলকাতায় পড়াশোনা করতে। সে থাকবে মামার বাড়ি। বাড়ির সবাই ভয় পাচ্ছিল, ওই ভাঙাচোৱা পশ্চিমের মহল ছেলেটাকে না গিলে খায়। না হলে মাঝরাতে পাগল ছেলেটা তিনতলার ছাদের পাঁচিলে বসে আকাশ দেখতে পারে? দেউল অমাবস্যার নিকষ কালো আকাশে নতুন কিছু তারা খুঁজছিল। ফুলবাড়ি ওকে আগলে রেখেছিল, ছাদ ওকে শক্ত করে ধরেছিল। সেসব বাকিরা বুঝবে কি করে! বাড়ির লোক এসব দেখে ভয় পেল বেজায়।
দেউলের মন খারাপ হলো, ফুলবাড়ী আর তার ঘরদুয়ার সব ওকে স্বান্তনা দিলো,”কটা তো বছর মোটে, ও কেটে যাবে”। বাবার জন্য ওর কষ্ট হচ্ছিল খুব। কিন্তু বাবা বলল, “এখানে থাকলে তোর পড়াশোনা হবে না দেউল।” যাওয়ার দুদিন আগে রাতের বেলায় আবার দেখল দেউল গোলাপ বউ আর আলোককণাকে। ওরা মুক্তি চাইছিল। রোজ এক নাটক করতে করতে ক্লান্ত লাগছিল ওদের। ফুলবাড়ীও পারছিল না সব ধরে রাখতে। ওরও তো বয়স হচ্ছে। দেউল সব দেখলো আর সব বুঝলো। যা এতদিন অন্ধকারে ছিল সে সব স্পষ্ট হলো।বেশি দেরি হলে ওদের যে মুক্তি পাওয়া কঠিন হবে সে কথা বললো ফুলবাড়ী। কিন্তু দেউল সময় নিল কারণ সবাই ওকে এখনো ছোট ভাবে আর সত্যটা বললে কেউ বিশ্বাসই করবেনা।
দেউল যখন কলেজে ঢুকেছে তখন গরমের ছুটিতে ফুলবাড়ীতে এসে আর ফিরে গেলনা কলকাতায়। ও এবার বাড়ির থেকেই কলেজ যাবে।অনেক বাস চালু হয়েছে এখানে ,কত লোক যাচ্ছে রোজ। তাই শুনে বাড়ির লোক সবাই আবার একটু চিন্তা করল ,ভয় পেল । পশ্চিমের পরিত্যক্ত মহলটা ভেঙে ফেলবে বলে ঠিক হয়েছিল সে আর হলো না। কারণ দেউল ফিরে পশ্চিমের মহলে সেই ঘরটাতে থাকতে লাগলো। রাতে ফুলবাড়ী এসে বলে গেল ওরা সবাই খুব খুশি মহলটা ভাঙবে না বলে। ছাদ বলে পাঠালো, “আজকে মঙ্গল পৃথিবীর খুব কাছে আসবে।এসে দেখে যেও লাল গ্রহকে।” ঘুমের সময় মাকে দেখল দেউল। মা জানলার কাছে দাঁড়িয়ে গুনগুনাচ্ছিল।দেউল বলল,” মা, এই মহলের নিচতলায় গানের আর আঁকার স্কুল খোলা হবে। আঁকা আমি শেখাব আর গানটা বয়েজ স্কুলের অঙ্ক স্যারের মেয়ে সুমনা, আমার ছোটবেলার বন্ধু, মনে আছে তোমার? ও শেখাবে। বলে লাজুক হাসল। এই প্রথম আলোককণা দরজার সামনে এসে বলল ,”দেউল রোজ গলায় দড়ি দিয়ে মরতে বড়ো কষ্ট রে। ঘুমের ঘোরে দেউল বলল,
“আর কষ্ট করতে হবে না তোমায় পিসিমনি।” ঘুম চোখে দেখল দেউল গোলাপবৌ আর আলোককণার ছায়াশরীর হেসে হেসে নেচে নেচে আলো শরীর হয়ে বাইরের জোৎস্না ধারায় মিশে যাচ্ছে।
রাতের দিকে মন্দাঝি পশ্চিম মহলের সদর দরজা বন্ধ করে বড়ো গিন্নীকে গিয়ে বলল, “ওদের মিততুর পর এই পেতথম বার ওই মহলে গিয়ে একটুও ভয় কল্লোনি কত্তা মা।”

সকাল বেলার রোদ নরম আলো ছড়াচ্ছিল পুরো পশ্চিমের মহল জুড়ে। বারান্দায় ফরাস পেতে বসেছে সব । দুটো ছবি টেবিলে রেখে ফুলের মালা দিয়ে সাজিয়েছে দেউল। প্রদীপ রেখেছে সামনে। সবাই কাঁদছিল। কেউ ফোঁপাচ্ছিল। শুধু বুড়ো কত্তামা ডুকরে কেঁদে উঠলো মেয়ের নাম ধরে।
মন্দাঝি মাটিতে মাথা ঠুকে ঠুকে কাঁদল। পাড়াশুদ্ধু জানলো, ফোনে জানলো আত্মীয়স্বজন, পা পিছলে সিঁড়ি থেকে পড়ে মারা গিয়েছিল গোলাপ বউ। আলোককণা ওকে ধাক্কা মারে নি।
ছোট্ট দেউল ইস্কুল থেকে ফিরে ঘুমিয়ে পড়ল বলে গোলাপবউ খাবার নিয়ে এলো ঘরে ,ছেলেকে খাওয়াবে বলে। বাসনকোসন নিয়ে নিচের নামার সময় আলোককণা ঝগড়া করল। শোওয়ার ঘরে বিছানায় বসে খাওয়ানো, এঁটো কাঁটা রাজ্যের যত অনাচার এই সব নিয়ে। তর্কবিতর্কে অসাবধানে খানিক খাবার জল চলকে পড়লো মার্বেলের সিঁড়িতে। উত্তেজনার মুহূর্তে পায়ে কাপড় জড়িয়ে কাঁচের বাসন সামলাতে গিয়ে যে ভাবে নিচে পড়ল গোলাপ বউ, সেটাকেই দুর্ঘটনা বলো। আলোককণা তখন বেশ দূরেই দাঁড়িয়েছিল।
এখন দেউলকে সবাই বোঝে। জানে ও অনেক কিছু দেখে,শোনে । সেগুলো যে মিথ্যে নয় সেও জানে। তাই সবাই বিশ্বাস করলো ওর কথা। আসলে ওরাও এমন কিছু বিশ্বাস করতেই চাইছিল ভীষন ভাবে।
মনের ভেতরে সেই ভয়ঙ্কর অন্ধকার, দমবন্ধ আতঙ্কটা সরে গিয়ে আনন্দের আলো জ্বলে উঠল বহুদিন পর।
পুরো ফুলবাড়িটা রং হচ্ছে। পশ্চিমের মহল ভালো করে সারানো হচ্ছে। নিচটাতে গান আর আঁকার স্কুল হবে। দোতলায় আলোককণার কোণের ঘরটাতে সেজ কাকুর মেয়ে রুমকি, বাবলি থাকবে। ওই ঘর থেকে গঙ্গাটা নাকি ভালো দেখা যায়। দেউলের বাবা থাকবে ওর সাথে ছোটবেলার মতো। বাকি ঘরগুলোকে গুছিয়ে রাখা হবে, পিসীমাদের এবারে এলে থাকতে আর কোনো অসুবিধা হবে না। রাতের আঁধারে বাড়িটাকে বড়ো মায়াময় লাগে। টিমটিমে আলোতেও পশ্চিমে মহল কী আলো ঝলমল করে আশ্চর্যজনক ভাবে। ছাদে শুয়েছিল দেউল। ফুলবাড়ী জিগেস করল “তোমাদের ইস্কুলের কি নাম ঠিক করলে গো?”
“আলোকস্মৃতি ভালো না। “
“স্মৃতি বুঝি গোলাপ বউয়ের নাম?”
মাথা নেড়ে পাশ ফিরে শোয় দেউল। হাওয়া ওর চুলে বিলি কাটে। চারপাশ গাঢ় কৃষ্ণবর্ণ অন্ধকারে ডুবে আছে। কালো আকাশে অজস্র হিরের কুচি ছড়িয়ে রাখা। এত অন্ধকার তবুও তার গভীরে ফুটে আছে স্নিগ্ধ আলো। কোথাও কোনো বিষাদ নেই , নেই কোনো ভয়। আঁধার তো সব মনে । তেমন হলে রোদ ঝলমল দিনও তখন অন্ধকার । আর মনে যখন আলো জ্বলে ? ফুলবাড়ী শুধায় দেউলকে।
“তখন বাইরের আঁধারে আর অন্ধকার থাকেনা”। সমস্বরে বলে ওঠে ছাদ ,সিঁড়ি ,আকাশ, নদীবাতাস আর বাগানের প্রাচীন বৃক্ষের দল। ফুলবাড়ীর পুরোনো দিনের গল্প বলা থেকে ছুটি মিলেছে এবার। এখন দেউল ওদেরকে গল্প বলে। ভবিষ্যতের রঙীন সোনালি দিনের গল্প।


2 thoughts on “ফুলবাড়ীর দেউল”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top