ভেজা বৃষ্টি
আমি যদি বৃষ্টি হয়ে আসি,
তুমি ভিজবে তো?
এই যে শহরটা রোদে পুড়ে
তামাটে হয়ে গেছে,
দুপুর গুলো হাঁসফাঁস করে
জানালার কাঁচে কপাল ঠেকিয়ে বসে থাকে,
গাছের পাতায় জমে থাকে
একফোঁটা হাওয়ার অপেক্ষা—
ঠিক তখনই
আমি যদি কালো মেঘের আঁচল জড়িয়ে
তোমার আকাশে নামি,
তুমি ভিজবে তো?
চারদিকে যখন
গরমের দাপটে মানুষ প্রায় পাগল,
রাস্তার ধুলো উড়ে উড়ে
ক্লান্তির গল্প লেখে,
সূর্য যখন নির্দয় শাসকের মতো
সবুজের উপর জারি করে জরুরি অবস্থা—
আমি যদি হঠাৎ
শীতল এক বর্ষার বিকেল হয়ে
তোমার দরজায় কড়া নাড়ি,
তুমি কি ছাতা বন্ধ করে
আমার হাত ধরবে?
আমি যদি প্রথম বৃষ্টির গন্ধ হয়ে
তোমার নিঃশ্বাসে মিশে যাই,
তুমি কি চোখ বুজে বলবে—
“আর একটু থাকো…”
আমি যদি ঝুমঝুম শব্দে
তোমার সমস্ত অভিমান ধুয়ে দিই,
তুমি কি ভেজা চুলে, ভেজা জামায়
আমাকে জড়িয়ে রাখবে?
এই দগ্ধ পৃথিবীতে
সব প্রেমই তো একরকম বৃষ্টি—
কখনও অঝোর,
কখনও টুপটাপ,
কখনও শুধু মেঘলা প্রতিশ্রুতি।
তাই আবার জিজ্ঞেস করি—
যখন চারদিক আগুনের মতো গরম,
যখন অপেক্ষার মাটি ফেটে চৌচির,
যখন হৃদয় একফোঁটা শীতলতার জন্য
আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকে—
আমি যদি বৃষ্টি হয়ে আসি,
তুমি ভিজবে তো?
নাকি জানালাটা বন্ধ করে
দূর থেকে দেখবে আমার ঝরে পড়া,
আর আমি তোমার চোখের গোপন আকাশে
সারাজীবন
এক অসমাপ্ত শ্রাবণ হয়েই রয়ে যাব।
বলো—
আমি যদি বৃষ্টি হয়ে আসি,
তুমি ভিজবে তো?
বাষ্প-চিঠি
পেয়েছি তোমার একটা আস্ত নদীর উপহার,
পেয়েছি তোমার বাষ্প-চিঠিও।
জানতে চেয়েছ— কবে আসব?
আমি আসবই—
কদমফুলের গোপন বার্তা হয়ে,
দক্ষিণ হাওয়ার চুলে জড়ানো গান হয়ে,
প্রথম বিদ্যুতের ঝলকে
তোমার চোখে বিস্ময় হয়ে।
কিন্তু তার আগে,
কিছু সময় না হোক কাটুক বিরহে।
তুমি তোমার রোদগুলো গুছিয়ে রাখো,
আমি আমার অভিমানী মেঘগুলোকে
আরেকটু ভাসিয়ে নিই আকাশে।
তারপর একদিন
সব মান-অভিমান ভেঙে
ঝরে পড়ব তোমার বুকে—
আর সেদিন
শুধু মাটিই নয়,
ভিজে উঠবে অপেক্ষার প্রতিটি মুহূর্ত,
তোমার দহন আর আমার অভিমান
মিশে যাবে এক অনন্ত ঋতুর নামে।




খুব দুষ্টু মিষ্টি বর্ষার অবিন্যস্ত হাওয়ার মত মন ওড়ানো কবিতা।
প্রথম কবিতাটি একটু অনতিদীর্ঘ হলে আরো চারু হত। পাঠক যখন তৈরী আষাঢ়ের প্রম দিবসে ভিজে জুবজুবে হতে তখন তর সইবে না আর।
বেশ ভালো।
খুব সুন্দর।
সুন্দর প্রেমের দুটো কবিতা।
খুব ভালো লাগলো পড়ে