2026

murder on the orient express19

মার্ডার অন দ্য ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেস

এরকুল: (পরের পাসপোর্ট হাতে নিয়ে) দেখা যাক। ধৈর্য আমাদের ধরতেই হবে। এবার মিস ডেবেনহ্যামের পালা।
​মেরি ডেবেনহ্যাম ডাইনিং কোচে প্রবেশ করলেন। এক কথায় সুন্দরী, কিন্তু হাবভাব ও পোশাকে উগ্রতা নেই। ব্যক্তিত্বশালিনী। এরকুল ও মঁসিয়ে বুঁ উলটোদিকের চেয়ারে বসলেন। প্রাথমিক সম্ভাষণের পালা শেষ হলো।
​এরকুল: আপনি মেরি হারমিয়ন ডেবেনহ্যাম, বয়স ছাব্বিশ?
ডেবেনহ্যাম: (সম্মতিসূচক ঘাড় নেড়ে) হ্যাঁ।
এরকুল: ব্রিটিশ?
ডেবেনহ্যাম: হ্যাঁ।
এরকুল: দয়া করে যদি এই কাগজটায় আপনার নাম-ঠিকানাটা একটু লিখে দেন।
​ডেবেনহ্যাম কাগজ টেনে নিয়ে লিখলেন, হাতের লেখাও বেশ চমৎকার।
​এরকুল: সবাইকেই জিজ্ঞাসা করছি, সেই কারণেই আপনাকে—গতকাল রাত্রে ডিনারের পর কোথায় কোথায় ছিলেন এবং কী কী করছিলেন, সে সম্পর্কে যদি বলেন?
ডেবেনহ্যাম: তেমন কিছুই নয়। ডিনার শেষ করে নিজের কামরায় ফিরে যাই এবং শুয়ে পড়ি।
এরকুল: আচ্ছা ম্যাডাম, আপনি যে ট্রেনে ট্রাভেল করছেন, সেই ট্রেনে গতকাল রাত্রে একটা খুন হয়ে গেল। ব্যাপারটা বেশ ভয়ের না?
ডেবেনহ্যাম: (একটু থমকে গিয়ে) আপনার প্রশ্নটা ভালো বুঝলাম না।
এরকুল: আমি বলতে চাইছি, ট্রেনে এমন একটা ভয়ংকর খুনের ঘটনায় আপনি কি কোনওরকম নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন?
ডেবেনহ্যাম: না না, এই দিক থেকে ব্যাপারটা আমি ভাবিইনি। তবে এটুকু বলতে পারি, আমি তেমন নিরাপত্তার অভাব বোধ করছি না।
এরকুল: খুনের মতো একটা ব্যাপার, সেটাও আপনার কাছে অস্বাভাবিক তেমন কিছু মনে হচ্ছে না?
ডেবেনহ্যাম: না না, ব্যাপারটা খুবই সাংঘাতিক ও বীভৎস।
এরকুল: আপনি দেখছি এক্কেবারে পাক্কা ইংরেজ, অযথা আবেগে ভেসে যান না।
ডেবেনহ্যাম: (একটু হেসে) না না, তেমনটা নয়। তবে কোনও ব্যাপার নিয়েই হইচই করে পাড়া মাথায় করাটা আমার ঠিক পোষায় না। আর তাছাড়া কথাতেই আছে, জন্মিলে মরিতে হবে—
এরকুল: স্বাভাবিক মৃত্যু আর খুন দুটো তো আর এক হতে পারে না।
ডেবেনহ্যাম: হ্যাঁ হ্যাঁ, সে অবশ্য বটেই।

মার্ডার অন দ্য ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেস Read Post »

অনুবাদ, ধারাবাহিক উপন্যাস
poramatir gram8th

পোড়ামাটির গ্রাম – অষ্টম পর্ব

‘আব্বাকে আমি মেরে ফেলতে চাইনি।‘ বিড়বিড় করে করে বলতে থাকলেন গিয়াসউদ্দিন। বাইরে সন্ধ্যা নেমে এসেছে। এই সন্ধ্যাটিকে সন্ধ্যা না বলে রাত বলাই বরং ভাল। চারপাশে কোথাও এক বিন্দু আলো জ্বলছে না। এতটাই দূরে, জঙ্গলের মধ্যে চলে এসেছেন, যে  মনে হচ্ছে, সভ্যতা থেকে অনেক দূরে তাঁদের আর কেউই খুঁজে পাবে না। এখানে আসার উদ্দেশ্য আসলে শিকার করা নয়। শিকার করতে তিনি পছন্দ করেন না। নিরীহ জন্তুদের মেরে কার যে কী আনন্দ হয়, তা তিনি জানেন না। তিনি জঙ্গলে ঘুরে বেড়ান নিজের মনের সঙ্গে নিজেই কথা বলার জন্য। সুফি কবি হাফিজ যেমন বলেন, নিজের মনের মধ্যেই আছে এই জন্নত। তার সঙ্গে দেখা করো, সে তোমায় দেবে অধরা মাধুরী। আহা কী কথা। গিয়াসউদ্দিন পানপাত্রখানি পাশে রেখে। তাঁবুর বাইরে চলে এলেন। রক্ষীরা একটু দূরে দাঁড়িয়ে আছে। তাদের আসলে বলা আছে তাঁবুর চেয়ে একটু দূরেই দাঁড়াতে। কারণ গিয়াসউদ্দিন তাঁর এই একলা থাকাটা উপভোগ করতে চান। অনেকটা ঘুরে তাঁরা এসে পড়েছেন জঙ্গলের এক প্রান্তে। হরিণীর কথা বারবার মনে পড়ছে তাঁর। মনে আছে, এক অপূর্ব কবি এসে তাঁর রাজসভায় প্রথম হাফিজের কবিতা শুনিয়েছিল। হাফিজের কবিতা যেন রুমির কবিতার এক পুনর্জন্ম। আহা কী সে কবিতা, তিনি প্রথমে শুনেছিলেন—“ হে হাফিজ! তোমার বক্ষে ধারণকৃত এই কুরআনের চেয়ে/সুন্দর ও সুমিষ্ট বাণী আর কিছুই দেখি নি।”

পোড়ামাটির গ্রাম – অষ্টম পর্ব Read Post »

কাহিনি, ধারাবাহিক উপন্যাস
bipasar tire dwityo parbo

বিপাশার তীরে – ২য় পর্ব

সৈন্য শিবির থেকে আকেশ বেরিয়ে পড়েছে যখন তখন আকাশে নরম আলো। আজ তার পরনে সাধারণ পোষাক। জঙ্গলের রাস্তা পেরিয়ে দ্রুত গ্রামের দিকে আসে। বিপাশার তীর ছুঁয়ে এই গ্রামের শুরু, যেন এক নব যৌবনবতী। গৃহস্ত বাড়িতে মেয়েরা সাংসারিক কাজে মগ্ন। আকেশ চোখ কান খোলা রেখে এগোতে থাকে। সহসা চোখ যায় একটি বাড়ির উঠোনে সভা মতো বসেছে। চুপচাপ ভীড়ের ভিতর বসে পড়ে আকেশ। পরিস্থিতি সবটুকু নিঃশব্দে অনুভব করে। মুগ্ধ হয়ে দেখতে থাকে সোমরাংকে। ওর কাঁধের উপর উজ্জ্বল নীল রঙের পাত্তু যেন গোটা উপত্যকার আকাশকে জড়িয়ে রেখেছে।নির্ভয়ে সকলের সামনে কথা বলে চলছে। ওর অনুভূতি প্রবণ মন যেন প্রবদর গাছের মতোই সুন্দর। সকলে যখন বেরিয়ে আসছে ওদের বাড়ি থেকে তখন আকেশে উঠে পড়ল। তবে ধর্মরাজ মানুষটিকেও তার বেশ লেগেছে। সোমরাং তার পিতাজির যথার্থ প্রতিচ্ছবি। ওদের বাড়ি থেকে বেরিয়ে সে পিছু নিয়েছে ভিনদেশী মানুষ দুজনের। তাদের সাথে ভীম নামক স্থানীয় লোকটিও রয়েছে। কিছুদূর যাবার পর ভীমকে পারিশ্রমিক দিয়ে তারা বিদায় জানাল। এদের ভাষা আকেশের জানা। মহারাজ জগৎ সিংহ দিল্লীশ্বর ঔরঙ্গজেবকে সহায়তা করতে মাঝেমাঝেই সৈণ্য প্রেরণ করেন। একবার আকেশ গিয়েছিল যুদ্ধে। মাসখানেক থাকার সময় এই প্রদেশের ভাষা তার জানা হয়েছে কিছুটা। গঙ্গানদীর তীরে শস্যশ্যামল এই প্রদেশেই রয়েছে কালীমাতার প্রাচীন মন্দির বহু মানুষ এখানে আসে, মুক্তির আশায়। মিষ্টি, মাছ বড় প্রিয় এখানকার মানুষের আর তেমন সাহস। আকেশ শোনে অপহৃত মেয়েটির স্বামী রাগত স্বরে বন্ধুকে তীব্র ভাষায় আঘাত করতে উদ্যত।

বিপাশার তীরে – ২য় পর্ব Read Post »

কাহিনি, ধারাবাহিক উপন্যাস
chandranath seth

কমলিকা ভট্টাচার্যের তিনটি কবিতা

যদি না থাকে প্রেম, নাই বা থাকুক,
তবু তোমার মিথ্যেটুকু
তাকে একটু বাঁচিয়ে রাখুক।

কমলিকা ভট্টাচার্যের তিনটি কবিতা Read Post »

কবিতা, কাব্য
Scroll to Top