অরণি বসুর কয়েকটি কবিতা

Abstract art depicting a silhouette diver leaping from an open head, symbolizing imagination.

বোঝা না–বোঝার বাইরে দাঁড়িয়ে আছি—
সামনে ওলটপালট খাচ্ছে সমুদ্র, আর
হাওয়ায় হাওয়ায় পতপত করে উড়ছে
                                        হরিনাম সংকীর্তনের পতাকা।

এই অস্থিরতা, এই কালশিটে, এই দুর্বোধ্যতা পেরিয়ে
আমি কি আবার ফিরে আসতে পারব নিজের পৃথিবীতে?
মাছ ভাজার কটু গন্ধ।
ঝাউয়ের মর্মরধ্বনি শুনতে পাই,
প্রেমিকযুগলের হুল্লোড় দেখতে পাই,
ঘোড়া ছুটিয়ে চোখের ওপর দিয়ে চলে যায় উৎসাহী টুরিস্ট।

আমিই কি শুধু ভুল হিসেবের ছেঁড়াফাটা রিফু করছি?

একা মেয়ে নির্নিমেষ তাকিয়ে দূর সমুদ্রের দিকে,
সেও কি আমার মতো বোঝা না–বোঝার বাইরে?

উড়ে উড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে মানুষ। 
উড়তে উড়তে ফুলকুমার ফুলকুমারীকে উপহার দিচ্ছে
                   মুঠো মুঠো ভালোবাসা। 
ভার নেই, ভবিষ্যৎ নেই শুধু ভেসে থাকা। 

আমারও মনে হয় আর পথে পথে নয়, 
উড়ে উড়ে ঘুরে বেড়াবো তোমাদের বিষণ্ণ শহরে, 
মেঘেদের ছুঁয়ে ছুঁয়ে যাব আর 
উড়তে উড়তে দেখব নাগরিক জানালায় জানালায়
আশ্চর্য সব সিনেমা—
রাগ-দুঃখ-আনন্দ-অভিমান-বরাভয়।  

তোমার আকাশ ছোঁব বলে সেই কোন ছোটোবেলায় বেরিয়ে পড়েছিলাম
তারপর কত-কতদিন পথে-পথে, রোদে-জলে, হাসি-কান্নায়—
এখন রক্তে চাপ ও চিনি,
এখনও কত কিছু সম্পূর্ণ অচেনা।
মেঘে মেঘে বেলা হল অনেক।
এখনও হাঁটছি। জানি না কোনোদিন…

মাঝে মাঝে জিরিয়ে নিই আর তাকিয়ে থাকি তোমার আকাশের দিকে।

বারবার পড়ে যাই, বারবার উঠে দাঁড়াই।
ধাক্কা লাগে হাঁটুতে, মনে, বিশ্বাসে— 
মনে হয় একা একা বেরিয়ে পড়ি পথে,
                                বেরিয়ে পড়ি সমুদ্রসৈকতে
যেখানে উল্টানো ডিঙি ঘিরে পরীরা নাচে,
যেখানে জ্যোৎস্নার আলোকসম্পাত আর
আবহসংগীতে মেতে ওঠে ঝাউবন, সমুদ্রগর্জন।

বারবার মুখ থুবড়ে পড়ে যাই,
বারবার টলমল পায়ে উঠে দাঁড়াই।
বেরিয়ে পড়া হয় না কোথাও—
আহত হাঁটু, রক্তাক্ত মন আর ভাঙা বিশ্বাস নিয়ে
সংসারের চৌহদ্দির মধ্যেই চক্কর কাটি।

বারবার পড়ে যাই, বারবার উঠে দাঁড়াই। দাঁড়াতেই হয়।


1 thought on “অরণি বসুর কয়েকটি কবিতা”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top